নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর | মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | Nodir Bidroho Class 10 Question Answer | WBBSE

নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর: পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিকের দশম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ গল্পগুলির মধ্যে ‘নদীর বিদ্রোহ’ অন্যতম। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই গল্পে নদেরচাঁদের সঙ্গে নদীর গভীর সম্পর্ক, প্রকৃতির স্বাধীনতা এবং মানুষের তৈরি বাধার বিরুদ্ধে নদীর প্রতীকী বিদ্রোহ অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে Nodir Bidroho Class 10 Question Answer সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে। এখানে MCQ, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন এবং রচনাধর্মী প্রশ্নের উত্তর একসঙ্গে দেওয়া হল। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এগুলি ভালোভাবে অনুশীলন করতে পারো।

নদীর বিদ্রোহ গল্পের পরিচয়

গল্প: নদীর বিদ্রোহ
লেখক: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
শ্রেণি: দশম
বিষয়: বাংলা
পরীক্ষা: WBBSE মাধ্যমিক
প্রধান চরিত্র: নদেরচাঁদ
মূল বিষয়: নদীর প্রতি ভালোবাসা, প্রকৃতির স্বাধীনতা ও যান্ত্রিক সভ্যতার সঙ্গে প্রকৃতির সংঘাত


নদীর বিদ্রোহ MCQ প্রশ্ন উত্তর

১. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটির লেখক কে?

ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘ) বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

উত্তর: গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

২. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

ক) প্রাগৈতিহাসিক
খ) হলুদ পোড়া
গ) ফেরিওলা
ঘ) সরীসৃপ

উত্তর: ঘ) সরীসৃপ

৩. গল্পটির কেন্দ্রে কী রয়েছে?

ক) নদেরচাঁদ
খ) রেলস্টেশন
গ) নদেরচাঁদের নদীপ্রেম
ঘ) নদেরচাঁদের প্রকৃতিপ্রেম

উত্তর: গ) নদেরচাঁদের নদীপ্রেম

৪. গল্পে ‘বিদ্রোহ’ শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

ক) শাসন না-মানা
খ) বিপ্লব
গ) আন্দোলন
ঘ) সংগ্রাম

উত্তর: ক) শাসন না-মানা

৫. ‘আমি চললাম হে!’ কথাটি কে বলেছিল?

ক) নতুন সহকারী
খ) নদেরচাঁদ
গ) নিমাইচাঁদ
ঘ) বলাইচাঁদ

উত্তর: খ) নদেরচাঁদ

৬. নদেরচাঁদ কোন ট্রেনটি রওনা করিয়ে দিয়েছিল?

ক) চারটা চল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেন
খ) ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন
গ) সাড়ে পাঁচটার মেইল ট্রেন
ঘ) চারটা পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেন

উত্তর: ক) চারটা চল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেন

৭. “একবার জলে জলময় পৃথিবীর দিকে চাহিয়া বলিল”— কী বলেছিল?

ক) আজ্ঞে না
খ) আজ্ঞে হ্যাঁ
গ) যে আজ্ঞে
ঘ) যে আজ্ঞে হুজুর

উত্তর: ক) আজ্ঞে না

৮. চারটে পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেন রওনা করে নদেরচাঁদ কাকে ডাকল?

ক) ড্রাইভারকে
খ) খালাসিকে
গ) সহকারীকে
ঘ) স্টেশনমাস্টারকে

উত্তর: ঘ) স্টেশনমাস্টারকে

৯. নদীর উপরকার ব্রিজ ধরে নদেরচাঁদ কতটা রাস্তা হাঁটল?

ক) দুই মাইল
খ) চার মাইল
গ) এক মাইল
ঘ) তিন মাইল

উত্তর: গ) এক মাইল

১০. নদেরচাঁদ কোন দিকে হাঁটতে শুরু করেছিল?

ক) কোয়ার্টারের দিকে
খ) খেলার মাঠের দিকে
গ) হোটেলের দিকে
ঘ) নদীর উপরকার ব্রিজের দিকে

উত্তর: ঘ) নদীর উপরকার ব্রিজের দিকে

১১. স্টেশন থেকে নদীর দূরত্ব কত ছিল?

ক) আধ মাইল
খ) এক মাইল
গ) দুই মাইল
ঘ) তিন মাইল

উত্তর: খ) এক মাইল

১২. পাঁচদিন পর বৃষ্টি থেমেছিল কোন সময়ে?

ক) চারদিন পরে
খ) পাঁচদিন পরে
গ) ছয়দিন পরে
ঘ) সাতদিন পরে

উত্তর: খ) পাঁচদিন পরে

১৩. নদেরচাঁদ কতদিন নদীকে দেখতে পায়নি?

ক) চারদিন
খ) পাঁচদিন
গ) ছয়দিন
ঘ) সাতদিন

উত্তর: খ) পাঁচদিন

১৪. পাঁচদিন নদীকে দেখতে না পাওয়ার কারণ কী?

ক) নদেরচাঁদের জ্বর হয়েছিল
খ) নদেরচাঁদ বাইরে ছিল
গ) অবিরাম বৃষ্টি হয়েছিল
ঘ) কাজে ব্যস্ত ছিল

উত্তর: গ) অবিরাম বৃষ্টি হয়েছিল

১৫. গল্পে টানা কতদিন বৃষ্টি হয়েছিল?

ক) দুইদিন
খ) তিনদিন
গ) পাঁচদিন
ঘ) সাতদিন

উত্তর: গ) পাঁচদিন

১৬. নদেরচাঁদের ঔৎসুক্যের কারণ কী ছিল?

ক) আবার বৃষ্টি শুরু হওয়া
খ) পাঁচদিন পরে নদীকে দেখা
গ) নদীর স্রোত কমে যাওয়া
ঘ) নদীকে চিরবিদায় জানানো

উত্তর: খ) পাঁচদিন পরে নদীকে দেখা

১৭. “বৃষ্টি না জানি ____কে আজ কী অপরূপ রূপ দিয়াছে?” শূন্যস্থানে কী হবে?

ক) প্রকৃতিকে
খ) নদীকে
গ) নদেরচাঁদকে
ঘ) সহকারীকে

উত্তর: খ) নদীকে

১৮. নদেরচাঁদ কাকে বোঝাতে পারে না?

ক) অন্যকে
খ) নিজেকে
গ) বড়োদের
ঘ) ছোটোদের

উত্তর: খ) নিজেকে

১৯. “এমনভাবে পাগলা হওয়া কি তার সাজে?” এখানে কার পাগলামির কথা বলা হয়েছে?

ক) স্ত্রীর
খ) ব্রিজের
গ) নদীর
ঘ) নিজের কাজের

উত্তর: গ) নদীর

২০. নদেরচাঁদের বয়স কত?

ক) পঁচিশ বছর
খ) ত্রিশ বছর
গ) পঁয়ত্রিশ বছর
ঘ) চল্লিশ বছর

উত্তর: খ) ত্রিশ বছর

২১. নদেরচাঁদ কী ছিলেন?

ক) পোস্টমাস্টার
খ) হেডমাস্টার
গ) স্টেশনমাস্টার
ঘ) রেলমাস্টার

উত্তর: গ) স্টেশনমাস্টার

২২. “নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে”— এখানে কার কথা বলা হয়েছে?

ক) নদের ঠাকুরের
খ) রাখালের
গ) নদেরচাঁদের
ঘ) সহকারীর

উত্তর: গ) নদেরচাঁদের

২৩. নদেরচাঁদের দেশের নদীটি কেমন ছিল?

ক) ভরা যৌবনা
খ) নৃত্যচঞ্চলা
গ) উচ্ছ্বসিত বেগবতী
ঘ) ক্ষীণস্রোতা নির্জীব

উত্তর: ঘ) ক্ষীণস্রোতা নির্জীব

২৪. নদেরচাঁদের মমতা কোন নদীর প্রতি ছিল?

ক) বর্ষায় উৎফুল্ল নদী
খ) ক্ষীণস্রোতা মৃতপ্রায় নদী
গ) নদীর পাশের খাল
ঘ) নিজের জন্মভূমির নদী

উত্তর: খ) ক্ষীণস্রোতা মৃতপ্রায় নদী

২৫. নদেরচাঁদ কী দেখে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল?

ক) নদীর ক্ষীণ স্রোতধারা
খ) নদীর জল শুকিয়ে যাওয়া
গ) নদীর চাঞ্চল্য
ঘ) নদীর নির্জীব অবস্থা

উত্তর: খ) নদীর জল শুকিয়ে যাওয়া

২৬. নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হয়েছিল কেন?

ক) ট্রেনে দুর্ঘটনা হয়েছিল
খ) রেললাইনে ফাটল দেখা গিয়েছিল
গ) একই লাইনে দুটি ট্রেন এসেছিল
ঘ) পাঁচদিনের বৃষ্টিতে নদী ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল

উত্তর: ঘ) পাঁচদিনের বৃষ্টিতে নদী ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল

২৭. পাঁচদিন আগে নদীর চাঞ্চল্যে কী প্রকাশ পেয়েছিল?

ক) বেদনা
খ) ক্রোধ
গ) প্রবলতা
ঘ) পরিপূর্ণতার আনন্দ

উত্তর: ঘ) পরিপূর্ণতার আনন্দ

২৮. নদেরচাঁদ কর্মস্থলের কাছের নদীটিকে কত বছর ধরে চিনত?

ক) তিন বছর
খ) চার বছর
গ) পাঁচ বছর
ঘ) ছয় বছর

উত্তর: খ) চার বছর

২৯. ব্রিজের ধারকস্তম্ভ কী দিয়ে তৈরি হয়েছিল?

ক) সিমেন্ট, বালি ও খোয়া
খ) ইট, সিমেন্ট ও বালি
গ) ইস্পাত
ঘ) ইট, সুরকি ও সিমেন্ট

উত্তর: ঘ) ইট, সুরকি ও সিমেন্ট

৩০. “আজও সে সেইখানে গিয়া বসিল”— কোথায়?

ক) খেলার মাঠে
খ) নদীর ঘাটে
গ) স্টেশনে
ঘ) নদীর ব্রিজের ধারকস্তম্ভের শেষ প্রান্তে

উত্তর: ঘ) নদীর ব্রিজের ধারকস্তম্ভের শেষ প্রান্তে

৩১. নদেরচাঁদের আমোদ হওয়ার কারণ কী?

ক) ছুটি পেয়েছিল
খ) নদীর জলস্তর হাতের নাগালে চলে এসেছিল
গ) পুরোনো চিঠি পেয়েছিল
ঘ) বৃষ্টি থেমেছিল

উত্তর: খ) নদীর জলস্তর হাতের নাগালে চলে এসেছিল

৩২. স্ত্রীকে পাঁচ পাতার চিঠি লিখতে নদেরচাঁদের কতদিন লেগেছিল?

ক) পাঁচদিন
খ) সাতদিন
গ) একদিন
ঘ) দুদিন

উত্তর: ঘ) দুদিন

৩৩. নদেরচাঁদ স্রোতের মধ্যে কী ছুড়ে দিয়েছিল?

ক) কবিতা
খ) ঠোঙা
গ) বাজে কাগজ
ঘ) স্ত্রীকে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠার চিঠি

উত্তর: ঘ) স্ত্রীকে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠার চিঠি

৩৪. নদেরচাঁদ কোন জিনিসের প্রতি মমতা অনুভব করেছিল?

ক) নদীর প্রতি
খ) টিয়া পাখির প্রতি
গ) স্ত্রীকে লেখা চিঠির প্রতি
ঘ) স্ত্রীর পাঠানো চিঠির প্রতি

উত্তর: গ) স্ত্রীকে লেখা চিঠির প্রতি

৩৫. স্ত্রীকে লেখা চিঠিটির পৃষ্ঠা সংখ্যা কত ছিল?

ক) পাঁচ
খ) তিন
গ) এক
ঘ) দুই

উত্তর: ক) পাঁচ

৩৬. কতক্ষণ পর আবার মুষলধারে বৃষ্টি নামে?

ক) তিন ঘণ্টা
খ) চার ঘণ্টা
গ) পাঁচ ঘণ্টা
ঘ) ছয় ঘণ্টা

উত্তর: ক) তিন ঘণ্টা

৩৭. বেদনাদায়ক চেতনা নদেরচাঁদকে কী করেছিল?

ক) আচ্ছন্ন
খ) দিশেহারা
গ) উন্মাদ
ঘ) রোমাঞ্চিত

উত্তর: খ) দিশেহারা

৩৮. “তারপর সে অতিকষ্টে উঠিয়া দাঁড়াইল”— ‘সে’ কে?

ক) নদেরচাঁদ
খ) সহকারী
গ) সনাতন মিশ্র
ঘ) ইকবাল

উত্তর: ক) নদেরচাঁদ

৩৯. জলপ্রবাহকে নদেরচাঁদের জীবন্ত মনে হয়েছিল কেন?

ক) ক্ষীণ স্রোতের জন্য
খ) প্রবল স্রোতের জন্য
গ) উন্মত্ততার জন্য
ঘ) ফেনোচ্ছ্বাসের জন্য

উত্তর: গ) উন্মত্ততার জন্য

৪০. নদেরচাঁদের ভয় হওয়ার কারণ কী ছিল?

ক) অধিকার
খ) বৃষ্টি
গ) নদীর প্রতিহিংসা
ঘ) নদীর স্ফীতি

উত্তর: গ) নদীর প্রতিহিংসা

৪১. নদীর বিদ্রোহের কারণ নদেরচাঁদ কী মনে করেছিল?

ক) পাঁচদিনের বর্ষণ
খ) নদীর ক্ষীণস্রোতা হয়ে পড়া
গ) নদীর উপর বাঁধ ও ব্রিজ দিয়ে তার স্বাভাবিক গতি রোধ করা
ঘ) মাছের ভেড়ি তৈরি করা

উত্তর: গ) নদীর উপর বাঁধ ও ব্রিজ দিয়ে তার স্বাভাবিক গতি রোধ করা

৪২. অন্ধকারে নদেরচাঁদ কোন দিকে যাচ্ছিল?

ক) বাড়ির দিকে
খ) নদীর দিকে
গ) স্টেশনের দিকে
ঘ) গ্রামের দিকে

উত্তর: গ) স্টেশনের দিকে

৪৩. “এই ভীষণ মধুর শব্দ” বলতে কোন শব্দ বোঝানো হয়েছে?

ক) পাহাড়ি ঝরনার শব্দ
খ) ট্রেনের শব্দ
গ) নদীর প্রবাহ ও বৃষ্টির শব্দ
ঘ) মাদলের শব্দ

উত্তর: গ) নদীর প্রবাহ ও বৃষ্টির শব্দ

৪৪. “এই ভীষণ মধুর শব্দ”-এর এককথার প্রকাশ কী?

ক) অবশ-অবসন্ন
খ) হিংস্র-বিষাক্ত
গ) ভয়ংকর সুন্দর
ঘ) ব্যথাবেদনাময়

উত্তর: গ) ভয়ংকর সুন্দর

৪৫. নদেরচাঁদ চিরদিন কাকে ভালোবেসেছে?

ক) নদীকে
খ) সাগরকে
গ) ব্রিজকে
ঘ) স্ত্রীকে

উত্তর: ক) নদীকে

৪৬. “চিঠি পকেটেই ছিল”— কোন চিঠির কথা বলা হয়েছে?

ক) উপর মহলকে লেখা চিঠি
খ) সহকর্মীকে লেখা চিঠি
গ) স্ত্রীকে লেখা চিঠি
ঘ) নদীকে লেখা চিঠি

উত্তর: গ) স্ত্রীকে লেখা চিঠি

৪৭. “কিন্তু পারিবে কি?”— এখানে কী পারার কথা বলা হয়েছে?

ক) নদীকে আপন করে নেওয়া
খ) নদীকে বাঁধ দেওয়া
গ) চিরকাল স্বাধীনভাবে চলা
ঘ) নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা

উত্তর: গ) চিরকাল স্বাধীনভাবে চলা

৪৮. নদেরচাঁদ এতকাল কী নিয়ে গর্ব করেছিল?

ক) চাকরি নিয়ে
খ) দেশের জন্য
গ) নির্জীব নদীটির জন্য
ঘ) নতুন রং করা ব্রিজটির জন্য

উত্তর: ঘ) নতুন রং করা ব্রিজটির জন্য

৪৯. কোন ট্রেন নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে চলে যায়?

ক) ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার
খ) ৫ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার
গ) ৭ নম্বর আপ প্যাসেঞ্জার
ঘ) ৫ নম্বর আপ প্যাসেঞ্জার

উত্তর: ক) ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার

৫০. নদীকে কীভাবে বন্দি করা হয়েছিল?

ক) ইট-সিমেন্টের ব্রিজের মাধ্যমে
খ) বাঁশের সাঁকোর মাধ্যমে
গ) ধারকস্তম্ভের মাধ্যমে
ঘ) সৌধের মাধ্যমে

উত্তর: ক) ইট-সিমেন্টের ব্রিজের মাধ্যমে

৫১. নদেরচাঁদ কত বছর স্টেশনমাস্টারের দায়িত্বে ছিল?

ক) ৪ বছর
খ) ৫ বছর
গ) ৬ বছর
ঘ) ৭ বছর

উত্তর: ক) ৪ বছর

৫২. নদেরচাঁদের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল?

ক) দুরারোগ্য ব্যাধিতে
খ) বাসের ধাক্কায়
গ) ট্রেনের ধাক্কায়
ঘ) ট্রামের ধাক্কায়

উত্তর: গ) ট্রেনের ধাক্কায়


নদীর বিদ্রোহ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

১. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম কী?

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

২. নদেরচাঁদ সহকারীকে কী বলেছিল?

উত্তর: নদেরচাঁদ তার সহকারীকে বলেছিল, “আমি চললাম হে।”

৩. “আমি চললাম হে!” কথাটি কখন বলা হয়েছিল?

উত্তর: চারটে পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেন রওনা করে দেওয়ার পর নদেরচাঁদ তার সহকারীকে এই কথাটি বলেছিল।

৪. “আর বৃষ্টি হবে না, কী বলো?” কথাটির বক্তা ও শ্রোতা কে?

উত্তর: বক্তা নদেরচাঁদ এবং শ্রোতা তার সহকারী।

৫. নদেরচাঁদ কখন নদীর ব্রিজের দিকে গিয়েছিল?

উত্তর: পাঁচদিনের টানা বৃষ্টির পর বৃষ্টি সাময়িকভাবে থামলে নদেরচাঁদ নদীকে দেখার জন্য ব্রিজের দিকে গিয়েছিল।

৬. বৃষ্টির কারণে নদেরচাঁদ কতদিন নদীকে দেখতে পারেনি?

উত্তর: পাঁচদিন।

৭. নদেরচাঁদ নদীকে দেখার জন্য এত আগ্রহী হয়েছিল কেন?

উত্তর: দীর্ঘদিন নদীকে দেখতে না পাওয়ার কারণে এবং পাঁচদিনের বৃষ্টিতে নদীর নতুন রূপ কেমন হয়েছে তা দেখার প্রবল ইচ্ছায় নদেরচাঁদ অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে উঠেছিল।

৮. “না দেখিলে সে বাঁচিবে না”— এখানে ‘সে’ কে?

উত্তর: এখানে ‘সে’ বলতে নদেরচাঁদকে বোঝানো হয়েছে।

৯. নদেরচাঁদের বয়স কত ছিল?

উত্তর: নদেরচাঁদের বয়স ছিল ত্রিশ বছর।

১০. নদেরচাঁদ কী কাজ করত?

উত্তর: নদেরচাঁদ স্টেশনমাস্টারের চাকরি করত।

১১. নদেরচাঁদের দেশের নদী কেমন ছিল?

উত্তর: তার দেশের নদী ছিল ক্ষীণস্রোতা ও নির্জীব।

১২. অনাবৃষ্টির বছরে নদীটির কী হয়েছিল?

উত্তর: অনাবৃষ্টির কারণে নদীটির জলধারা প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিল।

১৩. নদেরচাঁদ কোথায় বসে নদী দেখত?

উত্তর: নদীর উপর নির্মিত রেলব্রিজের ধারকস্তম্ভের উপর বসে নদেরচাঁদ নদী দেখত।

১৪. নদীর জলস্তর বেড়ে গেলে নদেরচাঁদের কী অনুভূতি হয়েছিল?

উত্তর: নদীর জলস্তর হাতের নাগালে চলে আসায় নদেরচাঁদের মনে আনন্দ ও আমোদ জেগেছিল।

১৫. নদেরচাঁদ স্ত্রীকে কী লিখেছিল?

উত্তর: নদেরচাঁদ তার স্ত্রীকে পাঁচ পৃষ্ঠার একটি বিরহবেদনাপূর্ণ চিঠি লিখেছিল।

১৬. নদেরচাঁদ চিঠির পাতা নদীতে ফেলেছিল কেন?

উত্তর: নদীর সঙ্গে খেলার শিশুসুলভ আনন্দে সে স্ত্রীকে লেখা চিঠির পাতাগুলি ছিঁড়ে নদীর স্রোতে ভাসিয়ে দিয়েছিল।

১৭. নদীকে নদেরচাঁদের জীবন্ত মনে হয়েছিল কেন?

উত্তর: পাঁচদিনের প্রবল বর্ষণে নদীর জলধারা উন্মত্ত ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। সেই উন্মত্ততার কারণেই নদেরচাঁদের কাছে নদীকে জীবন্ত বলে মনে হয়েছিল।

১৮. নদীর বিদ্রোহ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: মানুষের তৈরি ব্রিজ ও বাঁধের মতো বাধা সরিয়ে নদী নিজের স্বাভাবিক গতিতে ফিরে যেতে চাইছে – এই প্রতীকী আকাঙ্ক্ষাকেই নদীর বিদ্রোহ বলা হয়েছে।

১৯. নদী কেন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল?

উত্তর: মানুষের তৈরি ব্রিজ, বাঁধ ও অন্যান্য বাধার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছিল। তাই প্রবল বর্ষণের সময় নদী যেন সেই বাধা ভেঙে স্বাধীনভাবে প্রবাহিত হতে চাইছিল।

২০. নদেরচাঁদের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল?

উত্তর: নদীর কাছ থেকে স্টেশনের দিকে ফেরার সময় ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় নদেরচাঁদের মৃত্যু হয়।


নদীর বিদ্রোহ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

১. “পাঁচদিন নদীকে দেখা হয় নাই।” – পাঁচদিন নদীকে না দেখার কারণ কী?

উত্তর: নদেরচাঁদ নদীকে খুব ভালোবাসত এবং নিয়মিত নদীর কাছে যেত। কিন্তু টানা পাঁচদিন প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় সে কর্মস্থল থেকে নদীর কাছে যেতে পারেনি। এই দীর্ঘ বিরতির কারণেই পাঁচদিন নদীকে দেখা হয়নি। বৃষ্টি কিছুটা থামতেই নদীর নতুন রূপ দেখার জন্য তার মধ্যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়।

২. নদীর জন্য নদেরচাঁদের পাগলামি কেন বেমানান?

উত্তর: নদেরচাঁদ ছিল ত্রিশ বছরের একজন দায়িত্বশীল স্টেশনমাস্টার। তার কাজ ছিল ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু নদীর প্রতি তার আকর্ষণ এত গভীর ছিল যে দায়িত্বশীল পদে থাকা সত্ত্বেও নদীকে দেখার জন্য সে শিশুর মতো ব্যাকুল হয়ে উঠত। তাই নিজের কাছেই এই আচরণকে সে কিছুটা পাগলামি বলে মনে করত।

৩. “নদেরচাঁদ ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল।” – কেন?

উত্তর: নদেরচাঁদ ছোটবেলা থেকেই নদীর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। পাঁচদিনের প্রবল বৃষ্টির কারণে সে নদীকে দেখতে পারেনি। বৃষ্টি থামার পর পাঁচদিনের জলধারায় নদী কী নতুন রূপ নিয়েছে তা দেখার জন্য তার মধ্যে প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়। এই কারণেই তার আচরণ শিশুর মতো হয়ে উঠেছিল।

৪. “নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে।” – পাগলামিটি কী?

উত্তর: এখানে নদেরচাঁদের নদীর প্রতি অস্বাভাবিক আকর্ষণের কথা বলা হয়েছে। নদীকে কয়েকদিন দেখতে না পেলেই সে অস্থির হয়ে উঠত। পাঁচদিন বৃষ্টির পর বৃষ্টি থামতেই নদীর কাছে ছুটে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা তার এই নদীপ্রেমেরই প্রকাশ।

৫. “নদীকে না দেখিলে সে বাঁচিবে না।” – কেন?

উত্তর: নদেরচাঁদের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। তার শৈশব, কৈশোর ও জীবনের বিভিন্ন সময় নদীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাই নদী তার কাছে শুধুমাত্র প্রকৃতির একটি অংশ নয়, বরং আপনজনের মতো। এই গভীর মানসিক সম্পর্কের কারণেই নদীকে না দেখলে তার জীবন অসম্পূর্ণ মনে হতো।

৬. “নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে।” – কৈফিয়ত কী?

উত্তর: নদেরচাঁদের কৈফিয়ত হল নদীর সঙ্গে তার সম্পর্ক জন্ম থেকেই। নদীর তীরেই তার শৈশব ও বেড়ে ওঠা। ফলে নদী তার কাছে সাধারণ কোনো জলধারা নয়। জীবনের দীর্ঘ সময় নদীর সান্নিধ্যে কাটানোর কারণে নদীর প্রতি তার গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল।

৭. নদেরচাঁদের দেশের নদী কেমন ছিল?

উত্তর: নদেরচাঁদের দেশের নদী ছিল ছোট, ক্ষীণস্রোতা ও প্রায় নির্জীব। অনাবৃষ্টির সময় নদীটির জলধারা প্রায় শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এই দুর্বল নদীটিকেও নদেরচাঁদ অসুস্থ আত্মীয়ের মতো ভালোবাসত।

৮. নদেরচাঁদ নদীকে দেখে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল কেন?

উত্তর: ছোটবেলায় নদেরচাঁদের পরিচিত ক্ষীণস্রোতা নদীটি অনাবৃষ্টির কারণে প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিল। নদীর এমন করুণ অবস্থা দেখে তার মনে হয়েছিল যেন কোনো আপনজন অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই তার চোখে জল চলে এসেছিল।

৯. “নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল।” – কেন?

উত্তর: পাঁচদিনের প্রবল বৃষ্টির পর নদী সম্পূর্ণ অন্যরকম রূপ ধারণ করেছিল। নদীর জলধারা ছিল উন্মত্ত, ঘোলা ও ফেনায় পরিপূর্ণ। ব্রিজের ধারকস্তম্ভে আঘাত করে জলরাশি ভয়ংকর আবর্ত তৈরি করছিল। পরিচিত নদীর এই অচেনা রূপ দেখে নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হয়ে যায়।

১০. নদেরচাঁদের নদীর প্রতি ভালোবাসার পরিচয় দাও।

উত্তর: নদেরচাঁদের নদীর প্রতি ভালোবাসা ছিল গভীর ও অকৃত্রিম। পাঁচদিন নদীকে দেখতে না পেয়ে সে অস্থির হয়ে উঠেছিল। বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গে সে নদীর কাছে ছুটে যায়। নদীর তীরে বসে তার সঙ্গে যেন মনের কথা বলত। এমনকি নদীর জলপ্রবাহের মধ্যে সে জীবন্ত সত্তার উপস্থিতি অনুভব করত। তার এই আচরণ প্রমাণ করে নদী তার কাছে অত্যন্ত আপন ছিল।

১১. “নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।” – কেন?

উত্তর: পাঁচদিনের প্রবল বৃষ্টির ফলে নদীর জলস্তর অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল। ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে নদেরচাঁদের মনে হচ্ছিল, একটু হাত বাড়ালেই নদীর জল ছোঁয়া যাবে। নদীর এই নতুন রূপ এবং জলরাশির নৈকট্য তাকে শিশুর মতো আনন্দ দিয়েছিল।

১২. নদীর বিদ্রোহের কারণ কী?

উত্তর: নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের পথে মানুষের তৈরি ব্রিজ ও বাঁধ বাধা সৃষ্টি করেছিল। পাঁচদিনের প্রবল বর্ষণে নদীর জলরাশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তখন সেই জলধারা যেন মানুষের তৈরি বাধা অতিক্রম করে নিজের স্বাভাবিক পথে ফিরে যেতে চায়। এই মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকেই নদেরচাঁদ নদীর বিদ্রোহ হিসেবে উপলব্ধি করেছিল।

১৩. “যে নদী এমনভাবে খেপিয়া যাইতে পারে তাহাকে বিশ্বাস নাই।” – কেন?

উত্তর: প্রবল বৃষ্টিতে নদী ভয়ংকর ও উন্মত্ত রূপ নিয়েছিল। তার জলধারা ব্রিজের ধারকস্তম্ভে প্রচণ্ডভাবে আঘাত করছিল। নদেরচাঁদের মনে হয়েছিল নদী যে কোনো সময় মানুষের তৈরি বাধা ভেঙে ফেলতে পারে। তাই এই অস্বাভাবিক রূপ দেখে নদীকে তার আর নিরাপদ বা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।

১৪. “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।” – নদীর বিদ্রোহ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: নদেরচাঁদের মনে হয়েছিল মানুষ নিজের সুবিধার জন্য নদীর স্বাভাবিক গতিপথে ব্রিজ ও বাঁধ তৈরি করেছে। ফলে নদী তার স্বাধীন প্রবাহ হারিয়েছে। প্রবল বর্ষণের ফলে নদী যেন সেই বাধা অতিক্রম করে নিজের পুরোনো গতিতে ফিরে যেতে চাইছে। এই স্বাভাবিক স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই ‘নদীর বিদ্রোহ’।

১৫. “পারিলেও মানুষ কি তাকে রেহাই দিবে?” – কথাটির গভীর অর্থ কী?

উত্তর: নদী যদি মানুষের তৈরি ব্রিজ ও বাঁধ ভেঙেও ফেলতে পারে, মানুষ নিজের প্রয়োজনের জন্য আবার সেই বাধা তৈরি করবে। অর্থাৎ মানুষ তার সুবিধার জন্য প্রকৃতিকে বারবার নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে। তাই নদী একবার মুক্ত হলেও স্থায়ীভাবে মুক্ত হতে পারবে না – নদেরচাঁদের ভাবনায় এই কথাটিই প্রকাশ পেয়েছে।


নদীর বিদ্রোহ রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর

১. “আমি চললাম হে!” – নদেরচাঁদের এই উক্তি তার জীবনের ক্ষেত্রেও কতটা সত্যি হয়েছিল?

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের প্রধান চরিত্র নদেরচাঁদ ছিলেন একজন স্টেশনমাস্টার। দায়িত্বশীল চাকরিতে থাকলেও নদীর প্রতি তার ছিল গভীর ও অস্বাভাবিক আকর্ষণ।

পাঁচদিনের প্রবল বৃষ্টির কারণে নদীকে দেখতে না পেরে সে অস্থির হয়ে ওঠে। বৃষ্টি সাময়িকভাবে থামতেই সে সহকারীকে দায়িত্ব বুঝিয়ে নদীর দিকে চলে যায়। নদীর ভয়ংকর রূপ দেখে সে একদিকে বিস্মিত হয়, অন্যদিকে নদীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়ে।

নদীর স্রোত, বৃষ্টি ও প্রকৃতির ভয়ংকর শব্দ তাকে গভীরভাবে আচ্ছন্ন করে। শেষ পর্যন্ত স্টেশনে ফেরার সময় অন্ধকার রেললাইনের উপর দিয়ে হাঁটার সময় ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন তাকে পিষে দিয়ে চলে যায়।

তাই শুরুতে বলা “আমি চললাম হে!” কথাটি যেন শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ যাত্রারই ইঙ্গিত হয়ে দাঁড়ায়।

২. “নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে।” – নদেরচাঁদের পাগলামির পরিচয় দাও।

উত্তর: এখানে নদেরচাঁদের নদীর প্রতি গভীর ভালোবাসাকেই তার ‘পাগলামি’ বলা হয়েছে।

নদেরচাঁদ ছোটবেলা থেকেই নদীর সঙ্গে পরিচিত। নদীর তীরে তার বেড়ে ওঠা। তাই কর্মস্থলের কাছের নদীটির সঙ্গেও তার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রতিদিন কাজের ফাঁকে সে নদীর কাছে যেত এবং ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে নদীর দিকে তাকিয়ে থাকত।

টানা পাঁচদিন নদীকে দেখতে না পেরে সে অস্থির হয়ে ওঠে। বৃষ্টি একটু থামতেই নদীর কাছে ছুটে যায়। নদীর জলরাশি, স্রোত ও শব্দ তাকে শিশুর মতো আনন্দ দেয়। এই অস্বাভাবিক আকর্ষণই তার কাছে নিজের ‘পাগলামি’ বলে মনে হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত নদীর প্রতি এই গভীর আকর্ষণের মধ্যেই তার জীবনের মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে।

৩. “নদেরচাঁদ ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করিতে লাগিল।” – নদেরচাঁদ কে? তার ঔৎসুক্যের কারণ ও পরিণতি লেখো।

উত্তর: নদেরচাঁদ ছিলেন একটি ছোট রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার এবং ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের প্রধান চরিত্র।

নদেরচাঁদের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। নদীকে সে নিজের আপনজনের মতো ভালোবাসত। পাঁচদিনের টানা বৃষ্টির কারণে সে নদীর কাছে যেতে পারেনি। তাই বৃষ্টি থামার পর নদীটি কী নতুন রূপ নিয়েছে তা দেখার জন্য তার মধ্যে প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়।

সে নদীর কাছে গিয়ে ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে জলরাশির উন্মত্ত রূপ দেখতে থাকে। নদীর সঙ্গে তার এই আবেগময় সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত তাকে বিপদের মুখে নিয়ে যায়। স্টেশনে ফেরার সময় ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়।

৪. নদীর প্রতি নদেরচাঁদের অকৃত্রিম ভালোবাসার পরিচয় দাও।

উত্তর: নদীর প্রতি নদেরচাঁদের ভালোবাসা ছিল গভীর, স্বাভাবিক এবং আন্তরিক।

নদেরচাঁদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা নদীর তীরবর্তী পরিবেশে। শৈশব থেকে নদীর সঙ্গে তার পরিচয়। তাই নদীকে সে কেবল প্রকৃতির একটি অংশ হিসেবে দেখেনি, বরং আপনজনের মতো অনুভব করেছে।

কর্মস্থলে থাকা নদীটিকেও সে নিয়মিত দেখতে যেত। পাঁচদিন নদীকে দেখতে না পেরে সে অস্থির হয়ে ওঠে। বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গেই নদীর দিকে চলে যায়। নদীর জলস্রোতকে সে জীবন্ত মনে করে এবং নদীর কষ্ট ও বন্দিদশাও উপলব্ধি করতে পারে।

এইভাবেই নদেরচাঁদের নদীপ্রেম গল্পে এক গভীর মানবিক অনুভূতির রূপ পেয়েছে।

৫. “নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে।” – কৈফিয়ত কী? এই ভালোবাসার পরিণতি কী?

উত্তর: নদেরচাঁদের মতে নদীকে ভালোবাসার কারণ ছিল তার সঙ্গে নদীর দীর্ঘ সম্পর্ক। নদীর তীরেই তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের স্মৃতির সঙ্গে নদী জড়িয়ে ছিল। তাই নদী তার কাছে অত্যন্ত আপন হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু এই গভীর ভালোবাসার পরিণতি ছিল মর্মান্তিক। নদীর টানে নদেরচাঁদ নিজের চারপাশের বিপদের কথা ভুলে যায়। নদীর সঙ্গে সময় কাটানোর পর অন্ধকারে স্টেশনের দিকে ফেরার সময় ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়।

৬. “নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।” – কেন?

উত্তর: পাঁচদিনের প্রবল বৃষ্টির পর নদীর জলস্তর অনেকটা বেড়ে যায়। ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে নদেরচাঁদের মনে হয় নদীর জল যেন হাত বাড়ালেই স্পর্শ করা যাবে। নদীর উন্মত্ত জলধারা ও ফেনিল স্রোত তাকে শিশুর মতো আনন্দিত করে।

এরপর সে স্ত্রীকে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠার চিঠির পাতাগুলি ছিঁড়ে নদীর জলে ভাসিয়ে দেয়। পরে আবার বৃষ্টি শুরু হলে নদী ও বৃষ্টির ভয়ংকর শব্দে তার আনন্দের পরিবর্তে ভয় ও অবসন্নতা তৈরি হয়।

৭. “ব্রিজের কাছাকাছি আসিয়া প্রথমবার নদীর দিকে দৃষ্টিপাত করিয়াই নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল।” – কেন?

উত্তর: এখানে নদীর উপর নির্মিত রেলব্রিজের কথা বলা হয়েছে। নদেরচাঁদ সেখানে গিয়ে নদীর সম্পূর্ণ পরিবর্তিত রূপ দেখতে পায়।

পাঁচদিনের বৃষ্টিতে নদী প্রবল ও উন্মত্ত হয়ে উঠেছিল। জলস্রোত ব্রিজের ধারকস্তম্ভে আঘাত করে ফেনিল আবর্ত তৈরি করছিল। নদীর এই ভয়ংকর রূপ দেখে নদেরচাঁদের মনে হয়েছিল, নদী যেন মানুষের তৈরি বাধা ভেঙে নিজের স্বাধীন গতিতে ফিরে যেতে চাইছে।

এই দৃশ্যই তাকে স্তম্ভিত করে দেয়।

৮. “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।” – নদীর বিদ্রোহের কারণ কী?

উত্তর: নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে মানুষের তৈরি ব্রিজ ও বাঁধ বাধা সৃষ্টি করেছিল। ফলে নদী তার স্বাধীন গতিপথ হারিয়েছিল। পাঁচদিনের প্রবল বৃষ্টিতে নদী শক্তিশালী হয়ে ওঠার পর সেই বাধার বিরুদ্ধে যেন প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

নদেরচাঁদের মনে হয়েছিল নদী নিজের স্বাভাবিক গতিতে ফিরে যেতে চাইছে। তাই মানুষের তৈরি ব্রিজ ও বাঁধ ভেঙে মুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকেই সে নদীর বিদ্রোহ হিসেবে বুঝেছিল।

৯. “পারিলেও মানুষ কি তাকে রেহাই দিবে?” – কথাটির গভীর অর্থ কী?

উত্তর: নদেরচাঁদের মনে হয়েছিল নদী যদি মানুষের তৈরি ব্রিজ বা বাঁধ ভেঙেও ফেলে, মানুষ আবার নিজের প্রয়োজনের জন্য সেই বাধা তৈরি করবে।

অর্থাৎ মানুষ নিজের সুবিধার জন্য প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিকে বারবার নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। নদী যতবারই মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করুক, মানুষ আবার তাকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বেঁধে ফেলবে। এই ভাবনার মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও যন্ত্রসভ্যতার সংঘাত ফুটে উঠেছে।

নদীর বিদ্রোহ গল্পের মূল বক্তব্য

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ শুধু একজন মানুষের নদীর প্রতি ভালোবাসার গল্প নয়। এর মধ্যে প্রকৃতির স্বাধীনতা এবং মানুষের তৈরি যান্ত্রিক সভ্যতার সঙ্গে প্রকৃতির সংঘাতও প্রকাশ পেয়েছে।

নদেরচাঁদ নদীকে আপনজনের মতো ভালোবাসে। অন্যদিকে মানুষের তৈরি ব্রিজ ও বাঁধ নদীর স্বাভাবিক গতিকে আটকে দিয়েছে। প্রবল বর্ষণের সময় নদীর উন্মত্ত রূপ যেন সেই বাধার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে।

এই কারণেই গল্পটির ‘নদীর বিদ্রোহ’ নামটি তাৎপর্যপূর্ণ।

পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় বিশেষভাবে নিচের বিষয়গুলি ভালো করে পড়া যেতে পারে:

  1. নদেরচাঁদের নদীর প্রতি ভালোবাসা।
  2. নদীর বিদ্রোহের কারণ।
  3. নদেরচাঁদের পাগলামির পরিচয়।
  4. নদেরচাঁদের দেশের নদীর সঙ্গে কর্মস্থলের নদীর পার্থক্য।
  5. মানুষের তৈরি ব্রিজ ও বাঁধের প্রতীকী তাৎপর্য।
  6. “আমি চললাম হে!” উক্তিটির তাৎপর্য।
  7. “পারিলেও মানুষ কি তাকে রেহাই দিবে?” – বক্তব্যের গভীর অর্থ।
  8. নদেরচাঁদের মর্মান্তিক পরিণতি।

Frequently Asked Questions

নদীর বিদ্রোহ গল্পের লেখক কে?

‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রধান চরিত্র কে?

গল্পের প্রধান চরিত্র নদেরচাঁদ। তিনি পেশায় একজন স্টেশনমাস্টার।

নদেরচাঁদের বয়স কত?

নদেরচাঁদের বয়স ছিল ত্রিশ বছর।

নদেরচাঁদ নদীকে কতদিন দেখতে পারেনি?

টানা পাঁচদিন বৃষ্টির কারণে নদেরচাঁদ নদীকে দেখতে পারেনি।

নদেরচাঁদ নদীর প্রতি এত আকৃষ্ট ছিল কেন?

নদীর সঙ্গে তার শৈশব থেকেই গভীর সম্পর্ক ছিল। নদীর তীরেই তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা হয়েছিল। তাই নদী তার কাছে আপনজনের মতো ছিল।

নদীর বিদ্রোহ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

মানুষের তৈরি ব্রিজ ও বাঁধের বাধা অতিক্রম করে নদীর নিজের স্বাভাবিক গতিতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে ‘নদীর বিদ্রোহ’ বলা হয়েছে।

নদেরচাঁদের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল?

স্টেশনের দিকে ফেরার সময় ৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় নদেরচাঁদের মৃত্যু হয়।

উপসংহার

‘নদীর বিদ্রোহ’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ গল্প, যেখানে নদেরচাঁদের নদীপ্রেমের সঙ্গে প্রকৃতির স্বাধীনতার বিষয়টি সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য এই গল্পের MCQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন এবং রচনাধর্মী প্রশ্নগুলি নিয়মিত অনুশীলন করলে প্রস্তুতি আরও ভালো হবে।

ProshnoUttor.in-এ বাংলা, মাধ্যমিক ও বিভিন্ন শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর, সাজেশন এবং পড়াশোনার নোট সহজ ভাষায় পাওয়ার জন্য নিয়মিত চোখ রাখুন।

Leave a Comment