পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর | Pather Dabi Class 10 Question Answer | WBBSE

মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার জন্য পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত রাজনৈতিক উপন্যাস ‘পথের দাবী’ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় MCQ, অতি সংক্ষিপ্ত, ব্যাখ্যামূলক এবং রচনাধর্মী প্রশ্ন আসতে পারে। তাই এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির উত্তর সহজ ভাষায় একসঙ্গে দেওয়া হল।

পথের দাবী গল্পের পরিচিতি

বিষয়তথ্য
রচনার নামপথের দাবী
লেখকশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
শ্রেণিদশম
বোর্ডWBBSE
বিষয়বাংলা
রচনার ধরনরাজনৈতিক উপন্যাস
প্রধান চরিত্রঅপূর্ব, নিমাইবাবু, রামদাস তলওয়ারকর, গিরীশ মহাপাত্র/সব্যসাচী মল্লিক

পথের দাবী MCQ প্রশ্ন উত্তর

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো: প্রশ্ন মান – ১

১. পুলিশস্টেশনে মোটঘাট নিয়ে কতজন বাঙালি বসেছিল?
ক) জন পাঁচেক
খ) জন ছয়েক
গ) জন সাতেক
ঘ) জন আটেক
উত্তর: খ) জন ছয়েক

২. ‘পথের দাবী’ কোন ধরনের রচনার অংশ?
ক) ঐতিহাসিক উপন্যাস
খ) রাজনৈতিক উপন্যাস
গ) সামাজিক উপন্যাস
ঘ) নাট্যোপন্যাস
উত্তর: খ) রাজনৈতিক উপন্যাস

৩. পুলিশস্টেশনে প্রবেশ করেছিলেন কারা?
ক) নিমাইবাবু ও জগদীশবাবু
খ) গিরীশ মহাপাত্র ও রামদাস তলওয়ারকর
গ) অপূর্ব ও নিমাইবাবু
ঘ) কেউই নন
উত্তর: গ) অপূর্ব ও নিমাইবাবু

৪. ‘পলিটিক্যাল সাসপেক্ট’ কে ছিলেন?
ক) সব্যসাচী মিত্র
খ) সব্যসাচী মৌলিক
গ) সব্যসাচী মল্লিক
ঘ) সব্যসাচী মজুমদার
উত্তর: গ) সব্যসাচী মল্লিক

৫. সব্যসাচী মল্লিকের পেশা কী ছিল?
ক) শিক্ষক
খ) ডাক্তার
গ) পুলিশ
ঘ) কেরানি
উত্তর: খ) ডাক্তার

৬. গিরীশ মহাপাত্রের বয়স কত ছিল?
ক) চল্লিশ-বিয়াল্লিশ
খ) ত্রিশ-বত্রিশের বেশি নয়
গ) পঞ্চাশ-পঞ্চান্ন
ঘ) পঞ্চাশের কাছাকাছি
উত্তর: খ) ত্রিশ-বত্রিশের বেশি নয়

৭. বাবুটির স্বাস্থ্য গেলেও শখ কত আনা বজায় ছিল?
ক) পনেরো আনা
খ) তেরো আনা
গ) দশ আনা
ঘ) ষোলো আনা
উত্তর: ঘ) ষোলো আনা

৮. “কীরূপ সদাশয় ব্যক্তি ইনি” – সদাশয় ব্যক্তিটি কে?
ক) জগদীশবাবু
খ) নিমাইবাবু
গ) অপূর্ব
ঘ) গিরীশ মহাপাত্র
উত্তর: ঘ) গিরীশ মহাপাত্র

৯. ‘কেবল আশ্চর্য’ – আশ্চর্যের বিষয়টি কী?
ক) শক্তিশালী শরীর
খ) দুটি হাতের শক্তি
গ) দুটি চোখের দৃষ্টি
ঘ) বার্নিস করা পাম্পশু
উত্তর: গ) দুটি চোখের দৃষ্টি

১০. পুলিশস্টেশনে বসে থাকা বাঙালিরা কোথায় কাজ করত?
ক) বর্মা জাহাজঘাটে
খ) বর্মা অয়েল কোম্পানিতে
গ) বর্মা কয়লাখনিতে
ঘ) বর্মা চটকলে
উত্তর: খ) বর্মা অয়েল কোম্পানিতে

১১. বর্মা থেকে চাকরি ছেড়ে আসার কারণ কী ছিল?
ক) ইংরেজ পুলিশের অত্যাচার
খ) প্লেগের প্রাদুর্ভাব
গ) জলহাওয়া সহ্য না হওয়া
ঘ) মাইনে কম পাওয়া
উত্তর: গ) জলহাওয়া সহ্য না হওয়া

১২. বর্মা অয়েল কোম্পানি কোথায় অবস্থিত ছিল?
ক) ভামো শহরে
খ) রেঙ্গুনে
গ) উত্তর ব্রহ্মদেশে
ঘ) তিব্বতে
উত্তর: গ) উত্তর ব্রহ্মদেশে

১৩. “বুড়ো মানুষের কথাটা শুনো” – বুড়ো মানুষটি কে?
ক) জগদীশ
খ) অপূর্ব
গ) গিরীশ মহাপাত্র
ঘ) নিমাইবাবু
উত্তর: ঘ) নিমাইবাবু

১৪. “সংসারের মিয়াদ বোধ করি বেশি দিন নাই” – কার মিয়াদ বেশি দিন নেই?
ক) জগদীশবাবুর
খ) নিমাইবাবুর
গ) তলওয়ারকরের
ঘ) গিরীশ মহাপাত্রের
উত্তর: ঘ) গিরীশ মহাপাত্রের

১৫. “ইহারই কোন অতল তলে তাহার ক্ষীণ প্রাণশক্তিটুকু লুকানো আছে” – ‘ইহার’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
ক) সব্যসাচী মল্লিকের দুটি চোখের দৃষ্টিকে
খ) রূপকথার রাজপুরীর দিঘিকে
গ) সমুদ্রের জলরাশিকে
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) সব্যসাচী মল্লিকের দুটি চোখের দৃষ্টিকে

১৬. গিরীশ মহাপাত্রের জামার রং কেমন ছিল?
ক) গেরুয়া
খ) নীল
গ) রামধনু রঙের
ঘ) লাল
উত্তর: গ) রামধনু রঙের

১৭. গিরীশ মহাপাত্রের রুমালে কীসের ছবি ছিল?
ক) বাঘ
খ) সিংহ
গ) রামধনু
ঘ) ফুল
উত্তর: ক) বাঘ

১৮. কোন তেলের গন্ধে থানার লোকেদের মাথা ধরে গিয়েছিল?
ক) বাদাম তেল
খ) নারকেল তেল
গ) সরষের তেল
ঘ) লেবুর তেল
উত্তর: ঘ) লেবুর তেল

১৯. গিরীশ মহাপাত্রের ফুলমোজার রং কী ছিল?
ক) হলুদ
খ) সবুজ
গ) লাল
ঘ) সাদা
উত্তর: খ) সবুজ

২০. গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাঁক থেকে কী বেরিয়েছিল?
ক) একটি টাকা
খ) দুটি টাকা
গ) তিনটি টাকা
ঘ) দশটি টাকা
উত্তর: ক) একটি টাকা

২১. “দয়ার সাগর! পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে” – বক্তা কে?
ক) জগদীশবাবু
খ) নিমাইবাবু
গ) অপূর্ব
ঘ) গিরীশ মহাপাত্র
উত্তর: ক) জগদীশবাবু

২২. অপূর্বর পিতার বন্ধু কে ছিলেন?
ক) জগদীশবাবু
খ) রামদাস
গ) নিমাইবাবু
ঘ) গিরীশ মহাপাত্র
উত্তর: গ) নিমাইবাবু

২৩. “সে যে বর্মায় এসেছে এ খবর সত্য” – কথাটি কে বলেছিলেন?
ক) জগদীশবাবু
খ) নিমাইবাবু
গ) তলওয়ারকর
ঘ) অপূর্ব
উত্তর: খ) নিমাইবাবু

২৪. “এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করবার দরকার নেই” – ‘জানোয়ার’ কাকে বলা হয়েছে?
ক) জগদীশবাবু
খ) গিরীশ মহাপাত্র
গ) অপূর্ব
ঘ) কেউই নন
উত্তর: খ) গিরীশ মহাপাত্র

২৫. “তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন?” – বস্তুটি কী?
ক) সিগারেট
খ) দেশলাই
গ) গাঁজার কলিকা
ঘ) কম্পাস
উত্তর: গ) গাঁজার কলিকা

২৬. সব্যসাচী কোন বিষয়ে অসাধারণ পারদর্শী ছিলেন?
ক) আইনশাস্ত্রে
খ) চিকিৎসাশাস্ত্রে
গ) গণিতশাস্ত্রে
ঘ) ন্যায়শাস্ত্রে
উত্তর: খ) চিকিৎসাশাস্ত্রে

২৭. “আচ্ছা, তুমি এখন যেতে পারো মহাপাত্র” – কথাটি কে বলেছিলেন?
ক) জগদীশবাবু
খ) অপূর্ব
গ) তলওয়ারকর
ঘ) নিমাইবাবু
উত্তর: ঘ) নিমাইবাবু

২৮. নিমাইবাবু জগদীশবাবুকে কোন দিকে নজর রাখতে বলেছিলেন?
ক) বন্দরের দিকে
খ) স্টেশনের দিকে
গ) জাহাজঘাটের দিকে
ঘ) রাতের মেল ট্রেনের দিকে
উত্তর: ঘ) রাতের মেল ট্রেনের দিকে

২৯. জগদীশবাবু পেশায় কী ছিলেন?
ক) পুলিশ
খ) কেরানি
গ) ডাক্তার
ঘ) অ্যাকাউন্ট্যান্ট
উত্তর: ক) পুলিশ

৩০. “এদের যিনি কর্তা তিনি আমার আত্মীয়” – কর্তা কে?
ক) জগদীশবাবু
খ) নিমাইবাবু
গ) রামদাস
ঘ) তলওয়ারকর
উত্তর: খ) নিমাইবাবু

৩১. গিরীশ মহাপাত্র পুলিশস্টেশন থেকে কোন দিকের রাস্তা দিয়ে বেরিয়েছিলেন?
ক) দক্ষিণ
খ) পূর্ব
গ) পশ্চিম
ঘ) উত্তর
উত্তর: ঘ) উত্তর

৩২. অপূর্ব কোন বিষয়ে রাজি হয়েছিল?
ক) সব্যসাচীকে দেখতে যেতে
খ) বর্মা নাচ দেখতে যেতে
গ) রামদাসের স্ত্রীর হাতের তৈরি মিষ্টান্ন গ্রহণ করতে
ঘ) ভামোর অফিসে চলে যেতে
উত্তর: গ) রামদাসের স্ত্রীর হাতের তৈরি মিষ্টান্ন গ্রহণ করতে

৩৩. “তা ছাড়া এত বড়ো বন্ধু” – কাকে ‘এত বড়ো বন্ধু’ বলা হয়েছে?
ক) নিমাইবাবু
খ) রামদাস
গ) খ্রিস্টান মেয়েটি
ঘ) জগদীশবাবু
উত্তর: গ) খ্রিস্টান মেয়েটি

৩৪. যার ঘরে চুরি হয়েছিল তিনি কে?
ক) সব্যসাচী
খ) অপূর্ব
গ) নিমাইবাবু
ঘ) রামদাস
উত্তর: খ) অপূর্ব

৩৫. অপূর্ব জাতিতে কী ছিল?
ক) ব্রাহ্মণ
খ) ক্ষত্রিয়
গ) বৈশ্য
ঘ) শূদ্র
উত্তর: ক) ব্রাহ্মণ

৩৬. “আপনাকেই হয়তো আর একদিন তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে” – কাকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে?
ক) নিমাইবাবুকে
খ) অপূর্বকে
গ) সব্যসাচীকে
ঘ) রামদাসকে
উত্তর: খ) অপূর্বকে

৩৭. রামদাস পেশায় কী ছিলেন?
ক) কেরানি
খ) সাংবাদিক
গ) পেশকার
ঘ) অ্যাকাউন্ট্যান্ট
উত্তর: ঘ) অ্যাকাউন্ট্যান্ট

৩৮. “টিফিনের সময় উভয়ে একত্র বসিয়া জলযোগ করিত” – ‘উভয়ে’ কারা?
ক) অপূর্ব ও রামদাস
খ) অপূর্ব ও আরদালি
গ) অপূর্ব ও তেওয়ারি
ঘ) অপূর্ব ও নিমাইবাবু
উত্তর: খ) অপূর্ব ও আরদালি

৩৯. “তাহার দুই চোখ ছলছল করিয়া আসিল” – কার চোখ?
ক) অপূর্বর
খ) রামদাসের
গ) তেওয়ারির
ঘ) দেশপ্রেমিকের
উত্তর: খ) রামদাসের

৪০. তেওয়ারি বর্মা নাচ দেখতে কোথায় গিয়েছিল?
ক) এনাঞ্জাং
খ) ফয়া
গ) মিক্থিলা
ঘ) ভামো
উত্তর: খ) ফয়া

৪১. “তাকে আপনার নয় বলবার সাধ্য আর যার থাক আমার নেই” – ‘তাকে’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
ক) স্বদেশপ্রেমীদের
খ) নিমাইবাবুকে
গ) জগদীশবাবুকে
ঘ) রামদাসকে
উত্তর: ক) স্বদেশপ্রেমীদের

৪২. রামদাস ও অপূর্বর কথোপকথনের সময় ঘড়িতে কত বাজে?
ক) ১টা
খ) ২টা
গ) ৩টে
ঘ) ৪টে
উত্তর: গ) ৩টে

৪৩. “বুনো হাঁস ধরাই যে এদের কাজ” – কথাটি কে বলেছিলেন?
ক) রামদাস
খ) অপূর্ব
গ) লীলাবতী
ঘ) হরিদা
উত্তর: ক) রামদাস

৪৪. চুরি না করেও সাহায্য করেছিল কে?
ক) তেওয়ারি
খ) রামদাস
গ) অপূর্ব
ঘ) মেয়েটি
উত্তর: ঘ) মেয়েটি

৪৫. ‘বুনো হাঁস’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
ক) রাষ্ট্রদ্রোহীদের
খ) বর্মাবাসীদের
গ) ভারতীয় শ্রমিকদের
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) রাষ্ট্রদ্রোহীদের

৪৬. “বাবাই একদিন এঁর চাকরি করে দিয়েছিলেন” – বক্তার বাবা কাকে চাকরি করে দিয়েছিলেন?
ক) তেওয়ারিকে
খ) নিমাইবাবুকে
গ) জগদীশবাবুকে
ঘ) রামদাসকে
উত্তর: খ) নিমাইবাবুকে

৪৭. “বাবুজি, এ-সব কথা বলার দুঃখ আছে” – কে বলেছিল?
ক) রামদাস
খ) জগদীশবাবু
গ) নিমাইবাবু
ঘ) অপূর্ব
উত্তর: ক) রামদাস

৪৮. “কিন্তু তাই বলে আমার দেশের চেয়ে তো তিনি আপনার নন” – এখানে কাকে দেশের চেয়ে বেশি আপন বলা হয়নি?
ক) নিমাইবাবুকে
খ) জগদীশবাবুকে
গ) সব্যসাচী মল্লিককে
ঘ) রামদাসকে
উত্তর: ক) নিমাইবাবুকে

৪৯. “তোমার মতো সাহস আমার নেই, আমি ভীরু” – ভীরু কে?
ক) জগদীশবাবু
খ) অপূর্ব
গ) নিমাই
ঘ) রামদাস
উত্তর: খ) অপূর্ব

৫০. ‘সুখবর’-টি কী ছিল?
ক) স্টেশনমাস্টার অপূর্বকে স্টেশন থেকে বের করে দিয়েছিলেন
খ) ফিরিঙ্গি ছেলেরা অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল
গ) গিরীশ মহাপাত্র ধরা পড়েনি
ঘ) লাথির চোটে অপূর্বর হাড়-পাঁজর ভাঙেনি
উত্তর: ঘ) লাথির চোটে অপূর্বর হাড়-পাঁজর ভাঙেনি

৫১. “মনে হলে দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যাই” – এখানে কার কথা?
ক) রামদাস
খ) অপূর্ব
গ) তেওয়ারি
ঘ) বেড়াসাহেব
উত্তর: খ) অপূর্ব

৫২. ফিরিঙ্গি ছেলেরা কাকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল?
ক) অপূর্বকে
খ) রামদাসকে
গ) গিরীশকে
ঘ) তলওয়ারকরকে
উত্তর: ক) অপূর্বকে

৫৩. অপূর্বর অন্যমনস্কতা কে লক্ষ্য করেছিল?
ক) রামদাস তলওয়ারকর
খ) তেওয়ারি
গ) নিমাইবাবু
ঘ) জগদীশবাবু
উত্তর: ক) রামদাস তলওয়ারকর

৫৪. অপূর্বর কোথায় এক মুহূর্ত মন টিকছিল না?
ক) বাংলাদেশে
খ) জাপানে
গ) চিনে
ঘ) রেঙ্গুনে
উত্তর: ঘ) রেঙ্গুনে

৫৫. “তোমার চিন্তা নেই ঠাকুর” – ‘ঠাকুর’ বলা হয়েছে কাকে?
ক) অপূর্বকে
খ) ঈশ্বরকে
গ) রামদাসকে
ঘ) তেওয়ারিকে
উত্তর: ঘ) তেওয়ারিকে

৫৬. “কোনো কিছু হলেই আফিসে গিয়ে আমাকে সংবাদ দিয়ো” – ‘আমাকে’ কে?
ক) তেওয়ারি
খ) গিরীশ মহাপাত্র
গ) তলওয়ারকর
ঘ) অপূর্ব
উত্তর: গ) তলওয়ারকর

৫৭. বেড়োসাহেব অপূর্বকে কোথায় পাঠিয়েছিলেন?
ক) ভামোতে
খ) ম্যানডালে
গ) রেঙ্গুনে
ঘ) উত্তর ব্রহ্মদেশে
উত্তর: ক) ভামোতে

৫৮. “আপাতত ভামো যাচ্ছি” – বক্তা কে?
ক) তলওয়ারকর
খ) নিমাইবাবু
গ) বেড়োসাহেব
ঘ) অপূর্ব
উত্তর: ঘ) অপূর্ব

৫৯. অপূর্বর সঙ্গে ভামোতে গিয়েছিল কারা?
ক) আরদালি
খ) একজন ব্রাহ্মণ পেয়াদা
গ) আরদালি ও একজন ব্রাহ্মণ পেয়াদা
ঘ) তেওয়ারি
উত্তর: গ) আরদালি ও একজন ব্রাহ্মণ পেয়াদা

৬০. “ললাটের লেখা তো খণ্ডাবে না” – বক্তা কে?
ক) জগদীশবাবু
খ) রামদাস
গ) গিরীশ মহাপাত্র
ঘ) অপূর্ব
উত্তর: গ) গিরীশ মহাপাত্র

৬১. “আমি বাবু ধর্মভীরু মানুষ” – বক্তা কে?
ক) তেওয়ারি
খ) অপূর্ব
গ) গিরীশ মহাপাত্র
ঘ) জগদীশবাবু
উত্তর: গ) গিরীশ মহাপাত্র

৬২. “আশ্চর্যি নেই হ্যায় বাবু সাহেব” – ‘বাবুসাহেব’ কে?
ক) নিমাইবাবু
খ) সব্যসাচী মল্লিক
গ) তলওয়ারকর
ঘ) বেড়োবাবু
উত্তর: গ) তলওয়ারকর

৬৩. “সে হাত বাড়াইয়া বন্ধুর করমর্দন করিল” – বন্ধুটি কে?
ক) নিমাইবাবু
খ) অপূর্ব
গ) গিরীশ মহাপাত্র
ঘ) জগদীশবাবু
উত্তর: খ) অপূর্ব

৬৪. “কিন্তু এই হাসিতে তলওয়ারকর যোগ দিল না” – কার হাসিতে?
ক) নিমাইবাবুর
খ) সব্যসাচীর
গ) অপূর্বর
ঘ) জগদীশবাবুর
উত্তর: গ) অপূর্বর

৬৫. ভামো যাত্রার সময় অপূর্ব কোন শ্রেণির যাত্রী ছিল?
ক) প্রথম শ্রেণি
খ) দ্বিতীয় শ্রেণি
গ) তৃতীয় শ্রেণি
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: ক) প্রথম শ্রেণি

৬৬. “দুজন বন্ধু লোক আসার কথা ছিল” – কোথা থেকে?
ক) ম্যানডালে
খ) ভামো
গ) মিক্থিলা
ঘ) এনাঞ্জাং
উত্তর: ঘ) এনাঞ্জাং

৬৭. গিরীশ মহাপাত্রের সঙ্গে অপূর্বর পুনরায় কোথায় দেখা হয়েছিল?
ক) পুলিশস্টেশনে
খ) জাহাজঘাটায়
গ) রেলস্টেশনে
ঘ) বিমানবন্দরে
উত্তর: গ) রেলস্টেশনে

৬৮. অপূর্ব ট্রেনে কোন পাত্রে আহার করেছিল?
ক) মাটির পাত্রে
খ) পিতলের পাত্রে
গ) লোহার পাত্রে
ঘ) স্টিলের পাত্রে
উত্তর: খ) পিতলের পাত্রে

৬৯. গিরীশ মহাপাত্র বিদায়ের সময় কী বলেছিল?
ক) ভালো থাকবেন
খ) আবার দেখা হবে
গ) রাম রাম
ঘ) ঈশ্বর মঙ্গল করুন
উত্তর: গ) রাম রাম

৭০. অপূর্বর কামরায় মোট কতজন লোক ছিল?
ক) সে একা
খ) দুজন
গ) তিনজন
ঘ) চারজন
উত্তর: গ) তিনজন

৭১. আরদালি অপূর্বর জন্য আগে থেকে কী রেখে গিয়েছিল?
ক) বদলানোর জামাকাপড়
খ) স্নানের জল
গ) শয্যা
ঘ) জল ও পান
উত্তর: ঘ) জল ও পান

৭২. ভামো যাওয়ার পথে পুলিশ অপূর্বর নাম-ঠিকানা কতবার জিজ্ঞাসা করেছিল?
ক) চারবার
খ) দুইবার
গ) তিনবার
ঘ) একবার
উত্তর: গ) তিনবার

৭৩. “ইচ্ছা করলে আমি তোমাকে টানিয়া নীচে নামাইতে পারি” – কে বলেছিল?
ক) পুলিশ কর্মচারী
খ) নিমাইবাবু
গ) রামদাস
ঘ) স্টেশনমাস্টার
উত্তর: ক) পুলিশ কর্মচারী

পথের দাবী অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন মান – ১

১. “তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন?” – কোন বস্তুটি পকেটে ছিল?
উত্তর: পকেটে থাকা বস্তুটি ছিল গাঁজার কলিকা/গাঁজার কলকে।

২. জগদীশবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে ‘দয়ার সাগর’ বলেছিলেন কেন?
উত্তর: গিরীশ দাবি করেছিল, সে নিজে গাঁজা খায় না, অন্যের জন্য গাঁজা সাজিয়ে দেয়। তার এই অজুহাতকে ব্যঙ্গ করেই জগদীশবাবু তাকে ‘দয়ার সাগর’ বলেছিলেন।

৩. বেড়াবাবু হাসতে শুরু করেছিলেন কেন?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের চুলে লাগানো তীব্র লেবুর তেলের গন্ধে থানার সকলের মাথা ধরে যাওয়ার কথা শুনে তিনি হেসেছিলেন।

৪. গিরীশ মহাপাত্রের পকেট ও ট্যাঁক থেকে কী কী পাওয়া গিয়েছিল?
উত্তর: ট্যাঁক থেকে টাকা ও পয়সা এবং বুকপকেট থেকে কম্পাস, কাঠের ফুটরুল, বিড়ি, দেশলাই ও গাঁজার কলকে পাওয়া গিয়েছিল।

৫. “লোকটি কাশিতে কাশিতে আসিল” – লোকটি কে?
উত্তর: লোকটি গিরীশ মহাপাত্র, যে আসলে ছদ্মবেশী সব্যসাচী মল্লিক।

৬. গিরীশ মহাপাত্রকে ‘সদাশয় ব্যক্তি’ বলা হয়েছিল কেন?
উত্তর: সে দাবি করেছিল, পথে পাওয়া গাঁজার কলকে অন্যের উপকারে লাগতে পারে ভেবে পকেটে রেখেছে। এই কথাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘সদাশয়তা’ বলা হয়েছে।

৭. গিরীশ মহাপাত্রকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলা হয়েছিল কেন?
উত্তর: পকেটে গাঁজার কলকে পাওয়া গেলেও সে নিজে গাঁজা খায় না বলে দাবি করেছিল। জগদীশবাবু তার কথা বিশ্বাস করেননি।

৮. ‘বুড়োমানুষের কথাটা শুনো’ – কী কথা শুনতে বলা হয়েছিল?
উত্তর: নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ায় গাঁজা না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

৯. নিমাইবাবু জগদীশবাবুকে রাতের মেল ট্রেনের দিকে নজর রাখতে বলেছিলেন কেন?
উত্তর: সব্যসাচী মল্লিক বর্মায় এসেছে বলে খবর ছিল। সে রাতের ট্রেনে চলাচল করতে পারে বলে তাকে ধরার জন্য মেল ট্রেনের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছিল।

১০. ‘জানোয়ার’ কাকে বলা হয়েছিল?
উত্তর: জগদীশবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে ‘জানোয়ার’ বলেছিলেন।

১১. পুলিশস্টেশন থেকে ফেরার পর অপূর্ব অন্যমনস্ক হয়েছিল কেন?
উত্তর: সব্যসাচী মল্লিকের কথা তার মনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল। সেই চিন্তায় সে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিল।

১২. তলওয়ারকর অপূর্বকে বাড়ি থেকে চিঠি পেয়েছে কি না জিজ্ঞাসা করেছিল কেন?
উত্তর: অপূর্বর আচরণ দেখে তাকে অত্যন্ত আনমনা মনে হয়েছিল। তাই তলওয়ারকর ভেবেছিল, হয়তো বাড়ি থেকে কোনো চিঠি এসেছে।

১৩. “টিফিনের সময় উভয়ে একত্র বসিয়া জলযোগ করিত” – উভয়ে কারা?
উত্তর: উভয়ে বলতে অপূর্ব ও আরদালিকে বোঝানো হয়েছে।

১৪. “বাবুজি, এ-সব কথা বলার দুঃখ আছে” – কী কথা বলার দুঃখ?
উত্তর: নিমাইবাবু আত্মীয় হলেও অপূর্ব তাঁকে দেশের চেয়ে বেশি আপন মনে করে না, বরং দেশপ্রেমিকদের বেশি আপন মনে করে। এই কঠিন কথা বলার প্রসঙ্গেই রামদাস দুঃখের কথা বলেছিল।

১৫. অপূর্ব কী বিষয়ে রাজি হয়েছিল?
উত্তর: রামদাসের স্ত্রীর হাতে তৈরি খাবার নিয়মিত গ্রহণ করতে অপূর্ব রাজি হয়েছিল।

১৬. অপূর্বর হঠাৎ হাসিতে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল কেন?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত পোশাক ও সাজসজ্জার কথা মনে পড়ে যাওয়ায় অপূর্ব হেসে ফেলেছিল।

১৭. ‘বুনো হাঁস’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ব্রিটিশ পুলিশের সন্দেহভাজন রাজদ্রোহী বা বিপ্লবীদের ‘বুনো হাঁস’ বলা হয়েছে।

১৮. নিমাইবাবুর চাকরি কে করে দিয়েছিলেন?
উত্তর: অপূর্বর বাবা নিমাইবাবুর চাকরির ব্যবস্থা করেছিলেন।

১৯. রামদাস ‘বুনো হাঁস’ প্রসঙ্গে কী বলেছিল?
উত্তর: রামদাস বলেছিল, বুনো হাঁস অর্থাৎ রাজদ্রোহী ধরাই পুলিশের কাজ; সাধারণ মানুষের চোর ধরার জন্য তারা ব্যস্ত নয়।

২০. অফিসের ব্রাহ্মণ পিয়াদা কী বয়ে আনত?
উত্তর: রামদাসের স্ত্রীর তৈরি খাবার সে বয়ে আনত।

২১. “তা ছাড়া এত বড়ো বন্ধু” – বন্ধু বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: অপূর্বর ভাড়াবাড়ির উপরের তলায় থাকা খ্রিস্টান মেয়েটিকে ব্যঙ্গ করে বন্ধু বলা হয়েছে।

২২. “ইত্যবসরে এই ব্যাপার” – কোন ব্যাপারের কথা?
উত্তর: অপূর্বর ঘরে চুরির ঘটনাকে বোঝানো হয়েছে।

২৩. নিমাইবাবু কীভাবে অপূর্বর আত্মীয় ছিলেন?
উত্তর: নিমাইবাবু ছিলেন অপূর্বর বাবার বন্ধু। অপূর্ব তাঁকে কাকাবাবু বলে ডাকত এবং তাঁর চাকরির ব্যবস্থাও অপূর্বর বাবা করেছিলেন।

২৪. “আজ থেকে মাথায় তুলে নিলাম” – কী মাথায় তুলে নেওয়ার কথা?
উত্তর: দেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করা স্বদেশপ্রেমীদের নিজের আপনজন হিসেবে গ্রহণ করার জন্য যে কষ্ট বা পরিণতি আসবে, তা মেনে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

২৫. “কে এ ঘটনা তো আমাকে বলেন নি?” – কোন ঘটনা?
উত্তর: ফিরিঙ্গি ছেলেদের হাতে অপূর্বর অপমানিত হওয়ার ঘটনা এবং স্টেশনমাস্টারের কাছে প্রতিবাদ করেও অপমানিত হওয়ার ঘটনাকে বোঝানো হয়েছে।

২৬. অপূর্ব কোন ঘটনার প্রতিবাদ করেছিল?
উত্তর: বিনা অপরাধে ফিরিঙ্গি ছেলেরা তাকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল। অপূর্ব সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল।

২৭. অন্যায়ের প্রতিবাদ করে অপূর্ব কী ফল পেয়েছিল?
উত্তর: স্টেশনমাস্টারও তাকে সাহায্য না করে দেশি লোক বলে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছিল।

২৮. “এমন তো নিত্য-নিয়তই ঘটচে” – কোন ঘটনা?
উত্তর: পরাধীন ভারতে বিদেশিদের হাতে ভারতীয়দের অপমান ও অত্যাচারিত হওয়ার ঘটনাকে বোঝানো হয়েছে।

২৯. অপূর্ব কেন পুলিশকে খবর দিতে গিয়েছিল?
উত্তর: তার ঘরে চুরি হয়েছিল বলে পুলিশকে জানাতে গিয়েছিল।

৩০. অপূর্বের দুঃখ, লজ্জা ও ঘৃণার কারণ কী?
উত্তর: তাকে অপমান করা হলেও উপস্থিত ভারতীয়রা প্রতিবাদ না করে বরং সে গুরুতর আহত হয়নি বলে খুশি হয়েছিল। এই মানসিকতা তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছিল।

৩১. বড়োসাহেব অপূর্বকে শাখা অফিসগুলিতে পাঠাচ্ছিলেন কেন?
উত্তর: বিভিন্ন শাখা অফিসে গোলযোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাই সেগুলি পরিদর্শন ও পরিস্থিতি সামলানোর জন্য অপূর্বকে পাঠানো হচ্ছিল।

৩২. অপূর্ব সঙ্গে সঙ্গে ভামো যাওয়ার প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল কেন?
উত্তর: রেঙ্গুনে তার মন ভালো লাগছিল না। ভামো যাওয়ার ফলে নতুন জায়গা দেখার সুযোগও হবে বলে সে রাজি হয়েছিল।

৩৩. ভামো যাওয়ার পথে ট্রেনে অপূর্ব বিরক্ত হয়েছিল কেন?
উত্তর: প্রথম শ্রেণির যাত্রী হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ রাতে বারবার তার ঘুম ভাঙিয়ে নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসা করেছিল।

৩৪. ‘সব-কটা আফিস’ বলতে কোন অফিসগুলি বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ভামো, ম্যান্ডালে, শোএবো, মিক্থিলা ও প্রোমের শাখা অফিসগুলিকে বোঝানো হয়েছে।

৩৫. ভামো যাত্রায় অপূর্বর সঙ্গী কে ছিল?
উত্তর: একজন হিন্দুস্থানি ব্রাহ্মণ পিয়াদা ও একজন আরদালি তার সঙ্গে গিয়েছিল।

৩৬. পুলিশ অপূর্বকে রাতে কতবার জাগিয়েছিল?
উত্তর: পুলিশ তাকে প্রায় তিনবার জাগিয়েছিল।

৩৭. অপূর্ব কোন শ্রেণির ট্রেনে ভামো যাচ্ছিল?
উত্তর: সে প্রথম শ্রেণিতে ভ্রমণ করছিল।

৩৮. গিরীশ মহাপাত্রের সঙ্গে অপূর্বর দ্বিতীয়বার কোথায় দেখা হয়েছিল?
উত্তর: রেঙ্গুন রেলস্টেশনে।

৩৯. “আমারও তো তাই বিশ্বাস” – বক্তার বিশ্বাস কী?
উত্তর: ললাটের লেখা বা ভাগ্যকে সহজে বদলানো যায় না – এই ধারণার সঙ্গে বক্তার সম্মতি প্রকাশ পেয়েছে।

৪০. অপূর্বর ‘ভ্রম’ কী ছিল?
উত্তর: প্রথম শ্রেণির যাত্রী হওয়ায় রাতে তার ঘুমের কোনো ব্যাঘাত হবে না বলে অপূর্ব ভেবেছিল। পুলিশ বারবার তাকে জাগানোয় সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়।

৪১. গিরীশ মহাপাত্র অপূর্বকে কোন ভুলের কথা বলেছিল?
উত্তর: প্রথম সাক্ষাতে অপূর্বকে পুলিশকর্মী মনে করার ভুলের কথা বলেছিল।

৪২. তলওয়ারকর অপূর্বর হাসিতে যোগ দেয়নি কেন?
উত্তর: সে গিরীশ মহাপাত্রের মধ্যে সব্যসাচী মল্লিকের পরিচয় সম্পর্কে সন্দেহ করেছিল। তাই বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি করেনি।

৪৩. “ও নিয়ম রেলওয়ে কর্মচারীর জন্য” – কোন নিয়ম?
উত্তর: প্রথম শ্রেণির যাত্রীর ঘুমে কেউ ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে না – এই নিয়মের কথা বলা হয়েছে।

৪৪. “আমি বাবু ধর্মভীরু মানুষ” – বক্তা কে?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্র।

৪৫. “বাবুজি, ম্যয় নে আপকো তো জরুর কঁহা দেখা” – কে বলেছিল?
উত্তর: রামদাস তলওয়ারকর গিরীশ মহাপাত্রকে কথাটি বলেছিল।

৪৬. “আজ্ঞে, তা হলে নমস্কার” – কে কাকে নমস্কার করেছিল?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্র অপূর্বকে নমস্কার করেছিল।

৪৭. গিরীশ মহাপাত্র নিজেকে কেমন মানুষ বলেছিল?
উত্তর: সে নিজেকে ধর্মভীরু মানুষ বলে পরিচয় দিয়েছিল।

৪৮. “আমি তোমাকে টানিয়া নীচে নামাইতে পারি” – কে বলেছিল?
উত্তর: বর্মার এক সাব-ইনস্পেক্টর অপূর্বকে কথাটি বলেছিল।

৪৯. কে নিজের হাসি গোপন করেছিল এবং কেন?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত পোশাক ও সাজসজ্জা দেখে অপূর্ব হাসি গোপন করেছিল।

৫০. পুলিশস্টেশনে অপূর্ব কী দেখেছিল?
উত্তর: সেখানে জনা ছয়েক বাঙালি মোটঘাট নিয়ে বসেছিল এবং তাদের জিনিসপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছিল।

৫১. নিমাইবাবু অপূর্বর দৃষ্টি কোন দিকে আকর্ষণ করেছিলেন?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত সাজসজ্জা ও পোশাকের দিকে।

৫২. নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্র সম্পর্কে কী মন্তব্য করেছিলেন?
উত্তর: তিনি তার কথিত সদাশয়তার কথা উল্লেখ করে ব্যঙ্গ করেছিলেন যে সে নিজে গাঁজা খায় না, অন্যের জন্য গাঁজা সাজিয়ে দেয়।

৫৩. “এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করবার দরকার নেই” – কে বলেছিল?
উত্তর: জগদীশবাবু কথাটি বলেছিলেন।

৫৪. “যাঁকে খুঁজছেন তাঁর কালচারের কথাটা ভেবে দেখুন” – কাকে খোঁজা হচ্ছিল?
উত্তর: সব্যসাচী মল্লিককে খোঁজা হচ্ছিল।

৫৫. “তার আমি জামিন হতে পারি” – কার জামিন হতে পারেন বক্তা?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্র সব্যসাচী মল্লিক নন – এই বিষয়ে অপূর্ব তার জামিন হতে পারে বলে জানিয়েছিল।

৫৬. নিমাইবাবু চুপ করে গেলেন কেন?
উত্তর: অপূর্ব দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিয়েছিল যে গিরীশ মহাপাত্র কোনোভাবেই সব্যসাচী হতে পারে না। এই মন্তব্যের পর নিমাইবাবু চুপ করেছিলেন।

৫৭. গিরীশ মহাপাত্রের বুকপকেটে কী ছিল?
উত্তর: কম্পাস, ফুটরুল, বিড়ি, দেশলাই এবং গাঁজার কলকে ছিল।

৫৮. অপূর্ব গিরীশ মহাপাত্রের কোন বিষয় দেখে মুগ্ধ হয়েছিল?
উত্তর: তার রোগা মুখের গভীর ও অদ্ভুত চোখের দৃষ্টি অপূর্বকে মুগ্ধ করেছিল।

পথের দাবী ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন মান – ৩

১. “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে” – কে, কার সম্পর্কে বলেছেন? কেন বলেছেন?

উত্তর:
বক্তা নিমাইবাবু। তিনি গিরীশ মহাপাত্র সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছেন।

গিরীশের শরীর ছিল অত্যন্ত দুর্বল। সে কাশতে কাশতে এসেছিল এবং তাকে দেখে মনে হচ্ছিল যে তার আয়ু খুব বেশি নয়। কিন্তু শারীরিক দুর্বলতার সঙ্গে তার শৌখিনতার কোনো মিল ছিল না। বিচিত্রভাবে চুল কাটা, চুলে লেবুর তেল, রামধনু রঙের জামা, সবুজ মোজা, লাল ফিতে, বার্নিশ করা পাম্পশু এবং নানা সাজসজ্জা তার শখের পরিচয় দেয়। তাই নিমাইবাবু এমন মন্তব্য করেছিলেন।

২. “বুড়োমানুষের কথাটা শুনো” – বুড়ো মানুষটি কে? কী কথা শুনতে বলেছিলেন?

উত্তর:
‘বুড়োমানুষ’ বলতে নিমাইবাবুকে বোঝানো হয়েছে। তিনি গিরীশ মহাপাত্রকে গাঁজা খেতে নিষেধ করেছিলেন। গিরীশের স্বাস্থ্য অত্যন্ত দুর্বল ছিল এবং তার পকেট থেকে গাঁজার কলকে পাওয়া গিয়েছিল। তাই নিমাইবাবু তার স্বাস্থ্যের কথা ভেবে নেশা থেকে বিরত থাকতে বলেছিলেন।

৩. “আজ্ঞে না মাইরি খাইনে” – কার উক্তি? কেন বলেছিল?

উত্তর:
এটি গিরীশ মহাপাত্রের বক্তব্য। তার পকেট থেকে গাঁজার কলকে পাওয়া গেলেও সে নিজে গাঁজা খায় না বলে দাবি করেছিল। নিজের বিরুদ্ধে থাকা সন্দেহ দূর করার জন্যই সে দৃঢ়ভাবে এই কথা বলেছিল।

৪. “দয়ার সাগর! পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে” – বক্তা কে? কাকে কেন বলেছেন?

উত্তর:
বক্তা জগদীশবাবু। তিনি গিরীশ মহাপাত্রকে ব্যঙ্গ করে কথাটি বলেছেন।

গিরীশের পকেট থেকে গাঁজার কলকে পাওয়া যায়। তার আচরণেও গাঁজা সেবনের লক্ষণ ছিল। কিন্তু সে দাবি করে, অন্যের জন্য গাঁজা সাজিয়ে দিলেও নিজে গাঁজা খায় না। জগদীশবাবু তার এই অজুহাত বিশ্বাস না করে ব্যঙ্গ করে তাকে ‘দয়ার সাগর’ বলেছেন।

৫. “রাত্রের মেল ট্রেনটার প্রতি একটু দৃষ্টি রেখো” – কে, কাকে বলেছে? কেন?

উত্তর:
নিমাইবাবু জগদীশবাবুকে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন। সব্যসাচী মল্লিক বর্মায় এসেছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছিল। সে রাতের ট্রেনে চলাচল করতে পারে বলে তাকে ধরার উদ্দেশ্যে মেল ট্রেনের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছিল।

৬. “বাবাই একদিন এঁর চাকরি করে দিয়েছিলেন” – বক্তা কে? তাঁর বাবা কাকে চাকরি করে দিয়েছিলেন?

উত্তর:
বক্তা অপূর্ব। অপূর্বর বাবা তাঁর বন্ধু নিমাইবাবুর চাকরির ব্যবস্থা করেছিলেন। নিমাইবাবু পুলিশ বিভাগে চাকরি করতেন।

৭. “আমি ভীরু, কিন্তু তাই বলে অবিচারের দণ্ডভোগের অপমান আমাকে কম বাজে না” – বক্তা কাকে বলেছেন?

উত্তর:
অপূর্ব তার বন্ধু রামদাস তলওয়ারকরকে কথাটি বলেছিল। ফিরিঙ্গি ছেলেরা বিনা অপরাধে তাকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল। প্রতিবাদ করতে গিয়ে স্টেশনমাস্টারের কাছ থেকেও সে অপমানিত হয়। এই অন্যায় ও অপমানই তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল।

৮. “মনে হল দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যাই” – কেন এমন মনে হয়েছিল?

উত্তর:
অপূর্ব তার বন্ধু রামদাসের কাছে এই কথা বলেছিল। ফিরিঙ্গিদের হাতে অপমানিত হওয়ার পরও সেখানে থাকা ভারতীয়রা প্রতিবাদ করেনি। বরং অপূর্ব গুরুতরভাবে আহত হয়নি বলে তারা খুশি হয়েছিল। স্বদেশবাসীদের এই নির্লিপ্ততা অপূর্বর মনে তীব্র লজ্জা ও ঘৃণা সৃষ্টি করেছিল।

৯. “এই সুখবরে তারা সব খুশি হয়ে গেল” – কারা এবং কেন খুশি হয়েছিল?

উত্তর:
রেলস্টেশনে থাকা ভারতীয়রা খুশি হয়েছিল। ফিরিঙ্গি ছেলেরা অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিলেও তার হাড়-পাঁজর ভাঙেনি – এটাকেই তারা সুখবর হিসেবে নিয়েছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে এমন ঘটনায় খুশি হওয়া তাদের পরাধীন মানসিকতার পরিচয়।

১০. “ইচ্ছা করিলে আমি তোমাকে টানিয়া নীচে নামাইতে পারি” – তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:
ভামো যাওয়ার পথে অপূর্ব প্রথম শ্রেণির কামরায় যাত্রা করছিল। কিন্তু পুলিশ রাতে বারবার তাকে ঘুম থেকে তুলে নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে। অপূর্ব প্রথম শ্রেণির যাত্রীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটানোর নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করলে এক সাব-ইনস্পেক্টর তাকে এই কথা বলে।

এই বক্তব্য ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতীয়দের প্রতি প্রশাসনের বৈষম্যমূলক আচরণ প্রকাশ করে। প্রথম শ্রেণির যাত্রী হলেও ভারতীয় হওয়ায় অপূর্বকে সমান মর্যাদা দেওয়া হয়নি। তার নাগরিক অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যকে তুচ্ছ করা হয়েছিল।

১১. “ও নিয়ম রেলওয়ে কর্মচারীর জন্য” – কোন নিয়ম? এই কথায় কী প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর:
প্রথম শ্রেণির যাত্রীর ঘুমের ব্যাঘাত করা যাবে না – এই নিয়মের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশকর্মী জানায়, এই সুবিধা রেলওয়ে কর্মচারীদের জন্য। ফলে বোঝা যায়, ঔপনিবেশিক ব্যবস্থায় ভারতীয় সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে ইউরোপীয় বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সমান আচরণ করা হতো না।

১২. “তুমি তো ইউরোপিয়ান নও” – কে কেন বলেছিল?

উত্তর:
ভামো যাওয়ার পথে পুলিশের এক সাব-ইনস্পেক্টর অপূর্বকে কথাটি বলেছিল। প্রথম শ্রেণির যাত্রী হওয়া সত্ত্বেও অপূর্বের ঘুম বারবার ভাঙানোয় সে প্রতিবাদ করেছিল। তখন পুলিশকর্মী তার ভারতীয় পরিচয়কে অজুহাত করে জানায় যে সে ইউরোপিয়ান নয়। এর মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক বর্ণবৈষম্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

পথের দাবী রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন মান – ৫

১. “তাহার পরিচ্ছদের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া মুখ ফিরাইয়া হাসি গোপন করিল” – কে হাসি গোপন করেছিল? কেন?

উত্তর:
অপূর্ব গিরীশ মহাপাত্রের পোশাক দেখে হাসি গোপন করেছিল।

গিরীশ মহাপাত্রের সাজসজ্জার মধ্যে নানা ধরনের অসংগতি ছিল। তার চুলের কাট ছিল অদ্ভুত এবং চুলে তীব্র লেবুর তেল দেওয়া ছিল। পরনে ছিল রামধনু রঙের জাপানি সিল্কের পাঞ্জাবি। বুকপকেট থেকে বাঘ আঁকা রুমাল দেখা যাচ্ছিল। তার পায়ে ছিল সবুজ ফুলমোজা এবং লাল ফিতে। পাম্পশু ছিল বার্নিশ করা এবং তলায় লোহার নাল লাগানো। হাতে ছিল হরিণের শিঙের হাতলযুক্ত বেতের ছড়ি।

তার দুর্বল, রোগা শরীরের সঙ্গে এমন বিচিত্র ও অতিরিক্ত শৌখিন সাজসজ্জার মিল ছিল না। এই অসংগতিই অপূর্বর হাসির কারণ হয়েছিল।

২. “অত্যন্ত গভীর জলাশয়ের মতো কী যে তাহাতে আছে” – কার সম্পর্কে মন্তব্য? প্রসঙ্গ ও তাৎপর্য লেখো।

উত্তর:
এই মন্তব্য গিরীশ মহাপাত্রের চোখের দৃষ্টি সম্পর্কে।

গিরীশ মহাপাত্রকে দেখে মনে হয়েছিল সে অসুস্থ ও অত্যন্ত দুর্বল। তার বয়সও ত্রিশ-বত্রিশের বেশি নয়। কিন্তু তার দুটি চোখের দৃষ্টি ছিল অস্বাভাবিক গভীর ও তীক্ষ্ণ। সেই দৃষ্টির মধ্যে এমন এক প্রাণশক্তি ছিল, যা তার দুর্বল শরীরের সঙ্গে একেবারেই মেলেনি।

গভীর জলাশয়ের তল যেমন সহজে দেখা যায় না, গিরীশের চোখের গভীরতাও তেমন রহস্যময়। অপূর্ব সেই চোখের মধ্যেই সব্যসাচীর প্রকৃত পরিচয়ের আভাস পেয়েছিল।

৩. “যাঁকে খুঁজছেন তাঁর কালচারের কথাটা একবার ভেবে দেখুন” – কে কাকে বলেছে? সব্যসাচীর পরিচয় দাও।

উত্তর:
অপূর্ব নিমাইবাবুকে কথাটি বলেছিল।

ব্রিটিশ পুলিশ যে সব্যসাচী মল্লিককে খুঁজছিল, তিনি ছিলেন অত্যন্ত শিক্ষিত ও প্রতিভাবান ব্যক্তি। চিকিৎসাশাস্ত্রে তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ছিল। তিনি বিদেশে শিক্ষালাভ করেছিলেন এবং বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল শক্তিশালী এবং স্বাতন্ত্র্যপূর্ণ।

অন্যদিকে গিরীশ মহাপাত্রের পোশাক, চালচলন ও শারীরিক অবস্থা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই অপূর্ব বুঝেছিল, এমন হাস্যকর সাজে থাকা মানুষকে সব্যসাচী বলে মনে করা পুলিশের ভুল।

৪. “এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করবার দরকার নেই” – ‘জানোয়ার’ কে? তাকে নজরে রাখার প্রয়োজন নেই কেন?

উত্তর:
‘জানোয়ার’ বলতে গিরীশ মহাপাত্রকে বোঝানো হয়েছে।

গিরীশের অদ্ভুত সাজসজ্জা, রামধনু রঙের পোশাক, সবুজ মোজা, লাল ফিতে, বার্নিশ করা পাম্পশু, তীব্র লেবুর তেলের গন্ধ এবং দুর্বল শারীরিক অবস্থা দেখে তাকে সাধারণ এক শৌখিন যুবক বলেই মনে হয়েছিল। তার মধ্যে কোনো বিপ্লবীর পরিচিতি পুলিশ খুঁজে পায়নি।

কিন্তু প্রকৃত সত্য ছিল অন্য। গিরীশ মহাপাত্র আসলে সব্যসাচী মল্লিকের ছদ্মবেশ। নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করার জন্যই সব্যসাচী সম্পূর্ণ বিপরীত ধরনের চেহারা ও চরিত্র তৈরি করেছিলেন। পুলিশের চোখে এই ছদ্মবেশ এতটাই সফল হয়েছিল যে তারা তাকে সন্দেহই করেনি।

৫. “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে” – বাবুটি কে? তাঁর স্বাস্থ্য ও শখের পরিচয় দাও।

উত্তর:
‘বাবুটি’ হলেন গিরীশ মহাপাত্র।

তার শরীর ছিল রোগা ও দুর্বল। সে কাশতে কাশতে থানায় এসেছিল এবং সামান্য কাশিতেই হাঁপিয়ে উঠছিল। তাকে দেখে মনে হয়েছিল তার আয়ু খুব বেশি নয়।

কিন্তু শখের দিক থেকে সে ছিল অত্যন্ত বিলাসী। চুলের অদ্ভুত ছাঁট, লেবুর তেল, রামধনু রঙের পাঞ্জাবি, বাঘ আঁকা রুমাল, সবুজ মোজা, লাল ফিতে, বার্নিশ করা পাম্পশু, লোহার নাল এবং হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া ছড়ি তার শৌখিনতার পরিচয় দেয়। তার শারীরিক দুর্বলতার সঙ্গে এই সাজসজ্জার তীব্র বৈপরীত্যই চরিত্রটিকে হাস্যকর করে তুলেছে।

৬. “এমন সৌভাগ্যকেও অপূর্বর মন যেন গ্রাহ্যই করিল না” – কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর:
এখানে গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশে থাকা সব্যসাচী মল্লিক পুলিশের হাতে ধরা না পড়ার ঘটনাকে বোঝানো হয়েছে।

ব্রিটিশ পুলিশ সব্যসাচীকে ধরার জন্য মরিয়া ছিল। অথচ সব্যসাচী অসাধারণ বুদ্ধিমত্তায় গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশ ধারণ করে পুলিশের চোখের সামনে দিয়েই বেরিয়ে যায়। পুলিশের পক্ষে এটি ছিল বিরাট ব্যর্থতা।

অপূর্ব গিরীশের চোখের গভীরতা দেখে বুঝতে পেরেছিল যে এই মানুষটি সাধারণ গিরীশ নয়। তাই সে সব্যসাচীর পরিচয় সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। সব্যসাচীর এই সফল আত্মরক্ষাকে অপূর্ব দেশবাসীর জন্য সৌভাগ্য বলে মনে করেছিল।

৭. “তার লাঞ্ছনা এই কালো চামড়ার নীচে কম জ্বলে না” – বক্তা কে? কেন বলেছেন?

উত্তর:
বক্তা অপূর্ব।

ফিরিঙ্গি ছেলেরা বিনা অপরাধে অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে স্টেশনমাস্টারের কাছ থেকেও সে অপমানিত হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ভারতীয়রাও প্রতিবাদ না করে ঘটনাটিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছিল।

এই বর্ণবৈষম্য ও অপমান অপূর্বর মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। তাই সে বলেছিল, এই লাঞ্ছনার জ্বালা তার কালো চামড়ার নিচে প্রবলভাবে অনুভূত হয়। এর মধ্য দিয়ে তার জাতীয়তাবোধ ও আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ পেয়েছে।

৮. “বাবুজি, এ-সব কথা বলার দুঃখ আছে” – বক্তা কে? প্রসঙ্গ ও কারণ লেখো।

উত্তর:
বক্তা রামদাস তলওয়ারকর।

অপূর্বর বাবা নিমাইবাবুর চাকরির ব্যবস্থা করেছিলেন। নিমাইবাবু অপূর্বর বাবার বন্ধু এবং অপূর্বর কাছে আত্মীয়ের মতো। কিন্তু অপূর্ব মনে করত, দেশের স্বার্থের তুলনায় ব্যক্তিগত আত্মীয়তার মূল্য কম। সে স্বদেশপ্রেমীদের, বিশেষ করে সব্যসাচীকে, নিজের কাছে বেশি আপন মনে করেছিল।

অপূর্বর এই বক্তব্য রামদাসকে দুঃখিত করেছিল। কারণ নিমাইবাবু ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের কর্মচারী, আর সব্যসাচী ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী। এই দুই পক্ষের মধ্যে দাঁড়িয়ে অপূর্বর দেশপ্রেমিক অবস্থানটি ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট।

৯. “তিনি ঢের বেশি আমার আপনার” – কে, কার সম্পর্কে বলেছে? কেন?

উত্তর:
অপূর্ব সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে এই কথা বলেছে।

অপূর্ব নিজের জীবনে ইংরেজদের অন্যায় আচরণ প্রত্যক্ষ করেছিল। ফিরিঙ্গি ছেলেরা তাকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল। প্রতিবাদ করতে গিয়ে স্টেশনমাস্টারের কাছ থেকেও সে অপমানিত হয়। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছিল এই কারণে যে সেখানে উপস্থিত ভারতীয়রা প্রতিবাদ করেনি।

এই অভিজ্ঞতা অপূর্বর মনে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয়তাবোধকে আরও শক্তিশালী করে। ফলে দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করা সব্যসাচীর মতো মানুষ তার কাছে ব্যক্তিগত আত্মীয়ের চেয়েও বেশি আপন হয়ে ওঠে।

১০. “বামুনের ছেলে, বাংলা লেখাপড়া, শাস্ত্র-টাস্তর সবই কিছু কিছু শিখেছিলাম” – বক্তা কে? কখন বলেছিল?

উত্তর:
বক্তা গিরীশ মহাপাত্র। ভামো যাওয়ার আগে রেঙ্গুন রেলস্টেশনে অপূর্বর সঙ্গে তার দ্বিতীয়বার দেখা হয়। সেই সময় কথোপকথনের মধ্যে সে নিজের পরিচয় ও শিক্ষার কথা বলতে গিয়ে এই মন্তব্য করেছিল।

প্রথমবার পুলিশস্টেশনে দেখা হওয়ার সময় গিরীশ নিজেকে সাধারণ অসুস্থ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। দ্বিতীয়বার অপূর্বর সামনে এসেও সে নিজের ছদ্মপরিচয় বজায় রাখে। নিজেকে ব্রাহ্মণ, শিক্ষিত ও শাস্ত্রজ্ঞ হিসেবে তুলে ধরার মাধ্যমে সে সন্দেহ দূর করতে চেয়েছিল।

১১. ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশের নিমাইবাবু দ্বান্দ্বিক চরিত্র – আলোচনা করো।

উত্তর:
নিমাইবাবু ছিলেন উচ্চপদস্থ পুলিশকর্মী এবং অপূর্বর বাবার বন্ধু। অপূর্ব তাঁকে কাকাবাবু বলে ডাকত। একই সঙ্গে সব্যসাচী মল্লিককে ধরার দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল।

নিমাইবাবুর চরিত্রে দুটি বিপরীত দিক দেখা যায়। একদিকে তিনি দায়িত্বশীল ব্রিটিশ পুলিশকর্মী। সব্যসাচীর মতো বিপ্লবীকে ধরার জন্য তিনি সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করেন। অন্যদিকে তাঁর মধ্যে মানবিকতা ও স্নেহবোধও প্রবল।

গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে গাঁজার কলকে পাওয়ার পর তিনি তাকে কঠোরভাবে অপমান না করে বরং স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ায় নেশা ছাড়তে পরামর্শ দেন। এতে তাঁর কোমল হৃদয়ের পরিচয় পাওয়া যায়।

আবার সব্যসাচীকে ধরার ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হন। গিরীশের ছদ্মবেশ তিনি বুঝতে পারেননি। ফলে দায়িত্বশীল পুলিশকর্মী হিসেবে তাঁর ব্যর্থতা যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনই মানুষ হিসেবে তাঁর সহানুভূতিশীল মনও প্রকাশিত হয়েছে।

এই কর্তব্যবোধ ও মানবিকতার দ্বন্দ্বই নিমাইবাবুকে একটি দ্বান্দ্বিক চরিত্রে পরিণত করেছে।

১২. ‘পথের দাবী’ নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর:
সাহিত্যকর্মের নামকরণ তখনই সার্থক হয় যখন তার মূল বিষয় ও ভাবনার সঙ্গে নামটির গভীর সম্পর্ক থাকে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ নামটিও তেমনই অর্থবহ।

‘পথের দাবী’ বলতে এখানে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে চলার দাবি বোঝানো হয়েছে। পরাধীন ভারতবর্ষে দেশের মুক্তির জন্য বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও সাহস ছিল সেই পথের প্রধান দাবি।

সব্যসাচী মল্লিক নিজের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছিলেন। ছদ্মবেশ ধারণ করে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার মধ্যেও তাঁর স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।

অন্যদিকে অপূর্বর মধ্যেও ধীরে ধীরে জাতীয়তাবোধ জেগে ওঠে। ইংরেজদের হাতে নিজের অপমান এবং দেশবাসীর নীরবতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ফলে সব্যসাচীর মতো দেশপ্রেমিকের প্রতি তার শ্রদ্ধা জন্মায়।

অতএব, দেশমুক্তি, আত্মত্যাগ, জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করেই রচনাংশের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সেই দিক থেকে ‘পথের দাবী’ নামকরণ যথার্থ ও সার্থক।

১৩. ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশ অবলম্বনে অপূর্ব চরিত্রটি আলোচনা করো।

উত্তর:
অপূর্ব ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তার মধ্যে বুদ্ধিমত্তা, সংবেদনশীলতা, আত্মমর্যাদা, দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং রসবোধের সমন্বয় দেখা যায়।

বুদ্ধিমত্তা:
পুলিশের অভিজ্ঞ কর্মচারীরা গিরীশ মহাপাত্রের প্রকৃত পরিচয় বুঝতে পারেনি। কিন্তু অপূর্ব তার চোখের গভীরতা দেখে বুঝতে পারে যে গিরীশ সাধারণ মানুষ নয়। তার পর্যবেক্ষণশক্তি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ।

সংবেদনশীলতা:
অন্যায়ের ঘটনা অপূর্বর মনে গভীর প্রভাব ফেলে। ফিরিঙ্গিদের হাতে অপমানিত হওয়ার পর সে বিষয়টিকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি।

আত্মমর্যাদাবোধ:
নিজের প্রতি অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করার সাহস তার মধ্যে ছিল। সে স্টেশনমাস্টারের কাছে গিয়ে অন্যায়ের প্রতিকার চেয়েছিল।

দেশপ্রেম:
সব্যসাচীর মতো বিপ্লবীদের প্রতি অপূর্বর গভীর শ্রদ্ধা জন্মেছিল। ব্যক্তিগত আত্মীয়তার চেয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করা মানুষকে সে বেশি আপন মনে করেছিল।

আবেগপ্রবণতা:
সব্যসাচীর চিন্তায় সে এতটাই প্রভাবিত হয়েছিল যে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিল। দেশের পরিস্থিতি তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।

দায়িত্ববোধ:
অফিসের কাজে ভামো যাওয়ার দায়িত্ব সে গ্রহণ করেছিল। নতুন জায়গায় গিয়ে অফিসের সমস্যাগুলি দেখার ব্যাপারেও সে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়।

রসবোধ:
গিরীশ মহাপাত্রের বিচিত্র পোশাক ও সাজসজ্জা দেখে অপূর্ব হাসি গোপন করেছিল। আবার পুলিশের রাজদ্রোহী ধরার চেষ্টাকে ‘বুনো হাঁস ধরার’ সঙ্গে তুলনা করার মধ্যেও তার রসবোধ ফুটে ওঠে।

সব মিলিয়ে অপূর্বকে একজন সৎ, সংবেদনশীল, বুদ্ধিমান, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও ধীরে ধীরে জাগ্রত দেশপ্রেমিক চরিত্র হিসেবে দেখা যায়।

পথের দাবী গল্পের মূলভাব

‘পথের দাবী’ মূলত পরাধীন ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে তুলে ধরে। গল্পের মধ্যে সব্যসাচী মল্লিকের বিপ্লবী পরিচয়, পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার কৌশল এবং অপূর্বর মনে জেগে ওঠা জাতীয়তাবোধ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে ইংরেজদের হাতে ভারতীয়দের অপমান এবং সেই অপমানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অভাবও লেখক তুলে ধরেছেন। ফলে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে অপূর্বর মধ্যে দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।

পথের দাবী থেকে পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

১. লেখক – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
২. রচনার ধরন – রাজনৈতিক উপন্যাস
৩. প্রধান বিপ্লবী চরিত্র – সব্যসাচী মল্লিক
৪. সব্যসাচীর ছদ্মনাম – গিরীশ মহাপাত্র
৫. অপূর্বর পিতার বন্ধু – নিমাইবাবু
৬. অপূর্বর বন্ধু – রামদাস তলওয়ারকর
৭. গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত সাজসজ্জা ছদ্মবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ
৮. অপূর্বর মধ্যে জাতীয়তাবোধের জাগরণ গল্পটির গুরুত্বপূর্ণ দিক
৯. ব্রিটিশ শাসনের বৈষম্যমূলক আচরণ গল্পে স্পষ্টভাবে প্রকাশিত
১০. ‘পথের দাবী’ নামের সঙ্গে স্বাধীনতার সংগ্রামের গভীর সম্পর্ক রয়েছে

পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর FAQ

১. ‘পথের দাবী’ কার লেখা?

‘পথের দাবী’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।

২. সব্যসাচী মল্লিক কে?

সব্যসাচী মল্লিক ছিলেন একজন প্রতিভাবান বিপ্লবী এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে পারদর্শী ব্যক্তি। ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশে তিনি গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন।

৩. গিরীশ মহাপাত্র আসলে কে?

গিরীশ মহাপাত্র আসলে ছদ্মবেশী সব্যসাচী মল্লিক।

৪. অপূর্বর পিতার বন্ধু কে ছিলেন?

অপূর্বর পিতার বন্ধু ছিলেন নিমাইবাবু।

৫. ‘বুনো হাঁস’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?

‘বুনো হাঁস’ বলতে পুলিশের সন্দেহভাজন রাজদ্রোহী বা বিপ্লবীদের বোঝানো হয়েছে।

৬. অপূর্বের চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

অপূর্ব বুদ্ধিমান, সংবেদনশীল, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, দায়িত্বশীল এবং দেশপ্রেমিক চরিত্র।

৭. ‘পথের দাবী’ নামকরণ কেন সার্থক?

দেশের স্বাধীনতার জন্য বিপ্লবীদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাই রচনার মূল ভাব। তাই ‘পথের দাবী’ নামটি যথার্থ।

উপসংহার

মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর ভালোভাবে পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে MCQ, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ৩ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন এবং ৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্নগুলি বারবার অনুশীলন করলে পরীক্ষায় ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। এই অধ্যায়ের মাধ্যমে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একদিকে ঔপনিবেশিক শাসনের বৈষম্য তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে সামনে এনেছেন।

Leave a Comment