Class 6 History Chapter 8 Question Answer | প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতিচর্চা

ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাসের অষ্টম অধ্যায় প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতিচর্চার নানা দিক অধ্যায়টি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অধ্যায়ে প্রাচীন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, সাহিত্য, ভাষা, লিপি, বিজ্ঞানচর্চা, চিকিৎসাবিদ্যা, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং শিল্পকলা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে Class 6 History Chapter 8 Question Answer-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির উত্তর সহজ ভাষায় দেওয়া হলো। এখানে ভেবে দেখো খুঁজে দেখো, ১ নম্বর, ২ নম্বর, ৩ নম্বর এবং ৫ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর রয়েছে।

প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতিচর্চার নানা দিক

ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস – অষ্টম অধ্যায়

Class 6 History Chapter 8 Question Answer

ভেবে দেখো খুঁজে দেখো প্রশ্ন উত্তর

১। বেমানান শব্দটি খুঁজে বের করো

১.১) নালন্দা, তক্ষশিলা, বলভী, পাটলিপুত্র

উত্তর: পাটলিপুত্র। কারণ নালন্দা, তক্ষশিলা ও বলভী ছিল বিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র বা মহাবিহার। পাটলিপুত্র মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন নগর ছিল।

১.২) ব্রাহ্মী, সংস্কৃত, খরোষ্ঠী, দেবনাগরী

উত্তর: সংস্কৃত। কারণ ব্রাহ্মী, খরোষ্ঠী ও দেবনাগরী হল লিপি, কিন্তু সংস্কৃত একটি ভাষা।

১.৩) রত্নাবলী, মৃচ্ছকটিকম, অর্থশাস্ত্র, অভিজ্ঞানশকুন্তলম

উত্তর: অর্থশাস্ত্র। কারণ বাকি তিনটি সাহিত্য বা নাট্যগ্রন্থ, কিন্তু অর্থশাস্ত্র মূলত রাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ক গ্রন্থ।

২। বাক্যগুলি ঠিক না ভুল লেখো

২.১) নালন্দা মহাবিহারে কেবল ব্রাহ্মণ ছাত্ররাই পড়াশোনা করতে পারত।

উত্তর: ভুল।

২.২) কম্বনের রামায়ণে রামকেই প্রধান করে দেখানো হয়েছে।

উত্তর: ভুল।

২.৩) বাগভট একজন চিকিৎসক ছিলেন।

উত্তর: ঠিক।

২.৪) কুষাণ যুগে গান্ধার শিল্পের উন্নতি হয়েছিল।

উত্তর: ঠিক।

৩। ক-স্তম্ভের সঙ্গে খ-স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো

ক-স্তম্ভখ-স্তম্ভ
মহাবলীপুরমরথের মতো মন্দির
গন্ধার শিল্পরীতিকুষাণ যুগ
গণিতবিদনাগার্জুন
মণিমেখলাইতামিল মহাকাব্য
অজন্তাগুহাচিত্র

৪। নিজের ভাষায় ভেবে লেখো

৪.১) প্রাচীন বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার মিল ও অমিল লেখো

উত্তর: প্রাচীন বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থা এবং বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে কিছু মিল ও পার্থক্য রয়েছে।

মিল:

  1. প্রাচীন বৌদ্ধ শিক্ষায় পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শরীরচর্চারও গুরুত্ব ছিল। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাতেও পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করা হয়।
  2. দরিদ্র ছাত্রদের জন্য বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রে সাহায্য বা বৃত্তির ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানেও বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীর জন্য বৃত্তি রয়েছে।
  3. প্রাচীনকালে শিক্ষকরা শিক্ষাদান করতেন এবং বর্তমানেও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পড়ান।

অমিল:

  1. প্রাচীন বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল না। বর্তমানে নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শিশুদের শিক্ষার অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত।
  2. তখন শিক্ষাব্যবস্থা মূলত গুরু ও শিষ্যের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে বিদ্যালয় ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
  3. বৌদ্ধ শিক্ষার্থীদের বিহার বা সংঘে থেকে পড়াশোনা করতে হতো। বর্তমানে ছাত্রছাত্রীরা বাড়িতে থেকেও বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারে।

৪.২) তোমার মতে একটি আদর্শ হাসপাতাল কেমন হওয়া উচিত?

উত্তর: আমার মতে একটি ভালো হাসপাতালের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার।

  1. হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া উচিত।
  2. পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ চিকিৎসক ও নার্স থাকা দরকার।
  3. আধুনিক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা উচিত।
  4. জরুরি ওষুধের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকা দরকার।
  5. রোগীদের জন্য যথেষ্ট শয্যা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকা উচিত।

৪.৩) বিহার ও স্তূপের মধ্যে পার্থক্য লেখো

উত্তর:

  1. বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বসবাস ও পড়াশোনার জন্য বিহার তৈরি করা হতো। স্তূপ বসবাসের জন্য তৈরি করা হতো না।
  2. বিহারে অনেকগুলি ঘর থাকত। স্তূপ সাধারণত অর্ধগোলাকার কাঠামোর মতো দেখতে হতো।
  3. স্তূপের চারপাশে প্রদক্ষিণের ব্যবস্থা থাকত এবং প্রবেশপথে তোরণ থাকত।
  4. বিহার ছিল মূলত শিক্ষা ও বসবাসের স্থান, আর স্তূপ ছিল ধর্মীয় স্মৃতিচিহ্ন।

৫। হাতেকলমে করো

প্রশ্ন: মাটি বা থার্মোকল দিয়ে চৈত্য, বিহার অথবা স্তূপের মডেল তৈরি করো।

উত্তর: এটি একটি ব্যবহারিক কাজ। শিক্ষার্থীরা নিজেরা মাটি, থার্মোকল বা অন্য উপযুক্ত উপকরণ দিয়ে মডেল তৈরি করবে।

পাঠ্যবইয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর – প্রশ্নমান ১

১) লেখার প্রচলন না থাকলে মানুষ কীভাবে পড়া মনে রাখত?

উত্তর: শুনে শুনে এবং মুখস্থ করে।

২) কোন লিপি এখনও সম্পূর্ণভাবে পড়া সম্ভব হয়নি?

উত্তর: হরপ্পার লিপি।

৩) বৈদিক শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যক্তিগত না দলগত ছিল?

উত্তর: ব্যক্তিগত ছিল।

৪) বৌদ্ধরা কোথায় শিক্ষা গ্রহণ করত?

উত্তর: বিহার বা সংঘে।

৫) নারী আচার্যকে কী বলা হতো?

উত্তর: আচার্যা।

৬) নারী উপাধ্যায়কে কী বলা হতো?

উত্তর: উপাধ্যায়া।

৭) প্রাচীন ভারতে লেখার ভাষা ও মুখের ভাষা কি একই ছিল?

উত্তর: সবসময় একই ছিল না, অনেক ক্ষেত্রে আলাদা ছিল।

৮) ঋকবেদের ভাষার নাম কী?

উত্তর: ছন্দস বা ছান্দস।

৯) ব্যাকরণ কেন তৈরি করা হয়?

উত্তর: ভাষার ব্যবহারকে নিয়মের মধ্যে আনার জন্য।

১০) অষ্টাধ্যায়ী কে রচনা করেন?

উত্তর: পাণিনি।

১১) পাণিনির ভাষা সংস্কারের ফলে কোন ভাষার বিকাশ ঘটে?

উত্তর: সংস্কৃত ভাষা।

১২) প্রাকৃত শব্দটির অর্থ কী থেকে এসেছে?

উত্তর: প্রকৃত বা স্বাভাবিক থেকে।

১৩) কোন ভাষা থেকে পালি ভাষার বিকাশ হয়েছিল?

উত্তর: ছন্দস ভাষার পরিবর্তনের মাধ্যমে পালির বিকাশ ঘটে।

১৪) প্রাকৃত ও পালি কাদের মুখের ভাষা ছিল?

উত্তর: সাধারণ মানুষের।

১৫) জৈন ধর্মের সাহিত্য প্রধানত কোন ভাষায় লেখা হয়েছিল?

উত্তর: প্রাকৃত ভাষায়।

১৬) বৌদ্ধ ধর্মের সাহিত্য প্রধানত কোন ভাষায় লেখা হয়েছিল?

উত্তর: পালি ভাষায়।

১৭) পালি ও প্রাকৃত ভাষায় লেখালেখি কখন থেকে শুরু হয়?

উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে।

১৮) ধর্মশাস্ত্রে কাদের শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা হতো?

উত্তর: ব্রাহ্মণদের।

১৯) অর্থশাস্ত্র কার রচনা?

উত্তর: কৌটিল্যের।

২০) নাট্যশাস্ত্র কার লেখা?

উত্তর: ভরতের।

২১) মহাভাষ্য কার রচনা?

উত্তর: পতঞ্জলির।

২২) পতঞ্জলির সময়ের দুজন বিখ্যাত সাহিত্যিকের নাম কী?

উত্তর: অশ্বঘোষ ও ভাস।

২৩) জৈনরা প্রাকৃতের পাশাপাশি কোন ভাষায় সাহিত্য রচনা করতেন?

উত্তর: অর্ধ-মাগধী ভাষায়।

২৪) গাথা সপ্তশতী কার রচনা?

উত্তর: সাতবাহন রাজা হালের রচনা।

২৫) দক্ষিণ ভারতে কোথায় সঙ্গম সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

উত্তর: মাদুরাইতে।

২৬) সঙ্গম বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: দক্ষিণ ভারতে অনুষ্ঠিত প্রাচীন সাহিত্য সম্মেলনকে সঙ্গম বলা হতো।

২৭) সঙ্গম সাহিত্য কোন ভাষার সাহিত্য?

উত্তর: তামিল ভাষার সাহিত্য।

২৮) প্রাচীন সঙ্গম সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ কী?

উত্তর: প্রাচীন তামিল কবিতার সংকলন।

২৯) প্রাচীন ভারতের চিকিৎসাবিদ্যার দুটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম লেখো।

উত্তর: চরক সংহিতা ও সুশ্রুত সংহিতা।

৩০) উপবেদ বলতে কী বোঝানো হতো?

উত্তর: চিকিৎসাশাস্ত্রকে।

৩১) গুপ্ত ও গুপ্ত-পরবর্তী যুগে সাহিত্যচর্চা মূলত কারা করতেন?

উত্তর: সমাজের উচ্চবর্গের মানুষ।

৩২) গুপ্তযুগের একজন বিখ্যাত কবি ও নাট্যকারের নাম লেখো।

উত্তর: কালিদাস।

৩৩) মৃচ্ছকটিকম নাটকের রচয়িতা কে?

উত্তর: শূদ্রক।

৩৪) মৃচ্ছকটিকম শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: মাটির তৈরি ছোট গাড়ি।

৩৫) মৃচ্ছকটিকম নাটকের প্রধান চরিত্র কে?

উত্তর: চারুদত্ত।

৩৬) বুদ্ধচরিত কার লেখা?

উত্তর: অশ্বঘোষের।

৩৭) ভাস কে ছিলেন?

উত্তর: একজন বিখ্যাত নাট্যকার।

৩৮) বিশাখদত্তের দুটি বিখ্যাত নাটকের নাম কী?

উত্তর: মুদ্রারাক্ষস ও দেবীচন্দ্রগুপ্তম।

৩৯) দশকুমারচরিত কার রচনা?

উত্তর: দণ্ডীর।

৪০) ভর্তৃহরি কে ছিলেন?

উত্তর: তিনি ছিলেন বিখ্যাত ব্যাকরণবিদ ও সাহিত্যিক।

৪১) অমরকোষ কে সংকলন করেন?

উত্তর: অমরসিংহ।

৪২) হর্ষবর্ধনের লেখা তিনটি নাটকের নাম কী?

উত্তর: নাগানন্দ, রত্নাবলী ও প্রিয়দর্শিকা।

৪৩) বাগভট কে ছিলেন?

উত্তর: তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত চিকিৎসাবিষয়ক লেখক।

৪৪) তামিল সাহিত্যের দুটি মহাকাব্যের নাম লেখো।

উত্তর: শিলপ্পাদিকারম ও মণিমেখলাই।

৪৫) কালিদাসের দুটি বিখ্যাত কাব্যের নাম লেখো।

উত্তর: মেঘদূতম ও কুমারসম্ভবম।

৪৬) কালিদাসের লেখা দুটি বিখ্যাত নাটকের নাম লেখো।

উত্তর: অভিজ্ঞানশকুন্তলম ও মালবিকাগ্নিমিত্রম।

৪৭) পঞ্চতন্ত্র কার লেখা এবং কোন ভাষায় রচিত?

উত্তর: বিষ্ণুশর্মার রচনা, সংস্কৃত ভাষায় লেখা।

৪৮) বিজ্ঞান শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: কোনো বিষয় সম্পর্কে বিশেষ ও সুশৃঙ্খল জ্ঞান।

৪৯) প্রযুক্তি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: জ্ঞানকে বাস্তব কাজে প্রয়োগ করার পদ্ধতি।

৫০) শল্য চিকিৎসায় কে বিশেষভাবে বিখ্যাত ছিলেন?

উত্তর: সুশ্রুত।

৫১) সুশ্রুত শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: যিনি ভালোভাবে শুনেছেন।

৫২) চরক শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: যিনি ঘুরে বেড়ান।

৫৩) জীবক কে ছিলেন?

উত্তর: বুদ্ধের সময়ের একজন বিখ্যাত চিকিৎসক।

৫৪) শবব্যবচ্ছেদ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: মৃতদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরীক্ষা বা মড়াকাটা।

৫৫) নাগার্জুন কে ছিলেন?

উত্তর: একজন প্রাচীন গণিতবিদ ও পণ্ডিত।

৫৬) আর্যভট্টের পরবর্তী সময়ের একজন বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানীর নাম কী?

উত্তর: বরাহমিহির।

৫৭) পঞ্চসিদ্ধান্তিকা কার রচনা?

উত্তর: বরাহমিহিরের।

৫৮) ব্রহ্মসিদ্ধান্ত কার লেখা?

উত্তর: ব্রহ্মগুপ্তের।

৫৯) সংখ্যা হিসেবে শূন্যের ব্যবহারের সঙ্গে কোন ভারতীয় গণিতজ্ঞের নাম বিশেষভাবে যুক্ত?

উত্তর: আর্যভট্ট।

৬০) কৃষিপরাশর গ্রন্থে কী নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?

উত্তর: কৃষিবিজ্ঞান নিয়ে।

৬১) অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি তৈরির কাজ কারা করতেন?

উত্তর: কামাররা।

৬২) সুশ্রুত সংহিতায় প্রধান যন্ত্র হিসেবে কোনটিকে বলা হয়েছে?

উত্তর: হাতকে।

৬৩) পল্লব যুগে রথের মতো দেখতে পাথরের মন্দির কোথায় তৈরি হয়েছিল?

উত্তর: মহাবলীপুরমে।

৬৪) গান্ধার মহাজনপদের রাজধানী কোথায় ছিল?

উত্তর: তক্ষশিলা।

৬৫) তক্ষশিলার কয়েকজন বিখ্যাত ছাত্রের নাম লেখো।

উত্তর: জীবক, পাণিনি ও চাণক্য।

৬৬) প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত মহাবিহারগুলির নাম কী?

উত্তর: নালন্দা, তক্ষশিলা, বিক্রমশীল ও বলভী।

৬৭) মোগলমারি বৌদ্ধবিহার কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: প্রত্নতাত্ত্বিক ডঃ অশোক দত্ত।

৬৮) পশ্চিম মেদিনীপুরের কোথায় মোগলমারি বৌদ্ধবিহার আবিষ্কৃত হয়েছে?

উত্তর: দাঁতন শহরের কাছে মোগলমারিতে।

৬৯) প্রাচীন ভারতে প্রধানত কী কী লিপির ব্যবহার ছিল?

উত্তর: খরোষ্ঠী ও ব্রাহ্মী লিপি।

৭০) খরোষ্ঠী লিপি কোন দিক থেকে লেখা হতো?

উত্তর: ডান দিক থেকে বাঁ দিকে।

৭১) ব্রাহ্মী লিপি কোন দিক থেকে লেখা হতো?

উত্তর: বাঁ দিক থেকে ডান দিকে।

৭২) রামায়ণের রচয়িতা কে?

উত্তর: বাল্মীকি।

৭৩) রামায়ণের প্রধান চরিত্র কারা?

উত্তর: রাম, সীতা ও রাবণ।

৭৪) রামায়ণ কয়টি খণ্ডে বিভক্ত?

উত্তর: সাতটি কাণ্ডে।

৭৫) জয়কাব্য কী?

উত্তর: মহাভারতের প্রাচীন নামগুলির মধ্যে জয় বা জয়কাব্য উল্লেখযোগ্য।

৭৬) কোন মহাকাব্যকে পঞ্চমবেদ বলা হয়?

উত্তর: মহাভারতকে।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর – প্রশ্নমান ২

১) গুরুকুল ব্যবস্থা কাকে বলে?

উত্তর: বৈদিক যুগে শিক্ষার্থীরা গুরুর বাড়িতে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করত। গুরু ছিলেন শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র এবং ছাত্ররা তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয় শিখত। এই গুরু-শিষ্যভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থাকে গুরুকুল ব্যবস্থা বলা হয়।

২) প্রাকৃত কাকে বলা হতো?

উত্তর: বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের কথ্য ভাষা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়ে নানা রূপ নেয়। এই স্বাভাবিক বা কথ্য ভাষাগুলিকে প্রাকৃত বলা হতো। ‘প্রাকৃত’ শব্দটির সঙ্গে প্রকৃত বা স্বাভাবিকের ধারণা যুক্ত।

৩) ধর্মশাস্ত্রে কী ধরনের বিষয় আলোচনা করা হতো?

উত্তর: ধর্মশাস্ত্রে সমাজের বর্ণ ও জাতিব্যবস্থা, ধর্মীয় নিয়ম, সামাজিক কর্তব্য এবং রাজনীতি সম্পর্কিত নানা বিষয় আলোচনা করা হতো।

৪) স্মৃতিশাস্ত্রে কী নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?

উত্তর: স্মৃতিশাস্ত্রে সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিয়ম, পারিবারিক জীবন এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আলোচনা পাওয়া যায়।

৫) মহাবিহার সম্পর্কে কী জানো?

উত্তর: বড় ও বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলিকে মহাবিহার বলা হতো। দেশ-বিদেশের ছাত্ররা সেখানে শিক্ষা গ্রহণ করতে আসত। নালন্দা, তক্ষশিলা, বিক্রমশীল ও বলভী ছিল উল্লেখযোগ্য মহাবিহার।

৬) মুদ্রারাক্ষস নাটকের বিষয় কী?

উত্তর: নন্দবংশের পতনের পর চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুদ্রারাক্ষস নাটকের কাহিনি গড়ে উঠেছে। এর রচয়িতা বিশাখদত্ত।

৭) দেবীচন্দ্রগুপ্তম নাটকের বিষয় কী?

উত্তর: গুপ্ত রাজা রামগুপ্ত, তাঁর ভাই চন্দ্রগুপ্ত এবং শকরাজার সঙ্গে সংঘাতকে কেন্দ্র করে দেবীচন্দ্রগুপ্তম-এর কাহিনি গড়ে উঠেছে। এর রচয়িতা বিশাখদত্ত।

৮) তামিল সাহিত্যে মহাকাব্য বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: তামিল অঞ্চলে দীর্ঘ আখ্যানধর্মী কবিতার প্রচলন শুরু হলে এই ধরনের দীর্ঘ কবিতাগুলিকে মহাকাব্য বলা হতো। তামিল সাহিত্যে শিলপ্পাদিকারম ও মণিমেখলাই উল্লেখযোগ্য মহাকাব্য।

৯) কম্বনের রামায়ণ সম্পর্কে লেখো

উত্তর: কম্বন তামিল ভাষায় রামায়ণের একটি বিখ্যাত রূপ রচনা করেন। তাঁর রচনায় মূল রামায়ণের পাশাপাশি অনেক নতুন কাহিনি ও ভাবনা যুক্ত হয়েছিল। তাঁর রচনায় রাবণের চরিত্রও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

১০) স্থাপত্য নির্মাণের কারিগরি জ্ঞান নষ্ট হয়নি কেন?

উত্তর: প্রাচীন সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিক কারণে বিভিন্ন স্থাপত্য নির্মাণের প্রয়োজন ছিল। মন্দির, মঠ, স্তূপ ইত্যাদির নির্মাণের সঙ্গে দক্ষ কারিগরদের কাজ জড়িত ছিল। তাই স্থাপত্য নির্মাণের কারিগরি জ্ঞান দীর্ঘদিন ধরে টিকে ছিল।

১১) সুঙ্গ-কুষাণ যুগের ভাস্কর্যের প্রধান বিষয় কী ছিল?

উত্তর: এই যুগের ভাস্কর্যে বুদ্ধের জীবন, বৌদ্ধ ধর্ম এবং ধর্মীয় কাহিনি বিশেষভাবে ফুটে উঠেছিল। পাশাপাশি প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন দৃশ্যও ভাস্কর্যে দেখা যায়।

১২) গান্ধার ও মথুরা শিল্পরীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: উভয় শিল্পরীতিতেই বুদ্ধের জীবন ও বৌদ্ধ ধর্মের বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গান্ধার শিল্পে গ্রিক ও রোমান শিল্পের প্রভাব স্পষ্ট, আর মথুরা শিল্পে লাল পাথরের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়।

১৩) দেবনাগরী লিপি কী?

উত্তর: ব্রাহ্মী লিপির ক্রমবিকাশের মাধ্যমে উত্তর ভারতে যে লিপির বিকাশ ঘটে তার একটি রূপ হলো দেবনাগরী। পরবর্তীকালে সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষা লেখার ক্ষেত্রে এই লিপির ব্যাপক ব্যবহার হয়।

১৪) বিশল্যকরণী কী?

উত্তর: অস্ত্রোপচারের পরে ক্ষতস্থান থেকে শল্য বা কাঁটা বের করা এবং ক্ষত নিরাময়ের কাজে ব্যবহৃত বিশেষ ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতিকে বিশল্যকরণী বলা হয়।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা ভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর – প্রশ্নমান ৩

১) আচার্য ও উপাধ্যায় সম্পর্কে লেখো

উত্তর: প্রাচীন বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থায় আচার্য ও উপাধ্যায় ছিলেন দুই ধরনের শিক্ষক।

  1. আচার্যের বাড়িতে থেকেই ছাত্ররা শিক্ষা গ্রহণ করত।
  2. আচার্য সাধারণত বিনা বেতনে ছাত্রদের পড়াতেন এবং ছাত্ররা গুরুর বিভিন্ন কাজে সাহায্য করত।
  3. নারী আচার্যকে আচার্যা বলা হতো।
  4. উপাধ্যায়রা সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট বিষয় পড়াতেন এবং শিক্ষাদানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিতেন।
  5. নারী উপাধ্যায়কে উপাধ্যায়া বলা হতো।

২) বিদ্যারম্ভ কী?

উত্তর: প্রাচীন ভারতে শিশুর আনুষ্ঠানিকভাবে লেখাপড়া শুরু করার একটি অনুষ্ঠান ছিল বিদ্যারম্ভ। সাধারণত ছোট বয়সে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুর অক্ষর পরিচয় শুরু হতো। ‘বিদ্যারম্ভ’ শব্দের অর্থ বিদ্যার সূচনা।

৩) চরক সংহিতা সম্পর্কে লেখো

উত্তর: চরক সংহিতা প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এতে বিভিন্ন রোগ, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং বহু ঔষধি উদ্ভিদ সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। একটি আদর্শ হাসপাতাল কেমন হওয়া উচিত, সেই সম্পর্কেও এই গ্রন্থে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়।

৪) সুশ্রুত সংহিতা সম্পর্কে লেখো

উত্তর: সুশ্রুত সংহিতা প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। বিশেষ করে শল্যচিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে এই গ্রন্থের গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত বেশি। এতে বিভিন্ন রোগ, ঔষধি, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত নানা যন্ত্রের বিবরণ পাওয়া যায়।

৫) প্রাচীন ভারতের খনি ও ধাতুবিজ্ঞান সম্পর্কে লেখো

উত্তর: প্রাচীন ভারতে ধাতু ব্যবহারের যথেষ্ট উন্নতি ঘটেছিল। বিভিন্ন অস্ত্র, মুদ্রা, গয়না ও মূর্তি তৈরিতে ধাতুর ব্যবহার করা হতো। দিল্লির মেহরৌলির লোহার স্তম্ভ প্রাচীন ভারতীয় ধাতুবিদ্যার উন্নতির একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।

৬) কারিগরি শিল্পচর্চা বিজ্ঞানচর্চা থেকে আলাদা হয়ে গেল কেন?

উত্তর: প্রাচীন ভারতে দক্ষ কারিগররা হাতের কাজের মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতেন। সুশ্রুত সংহিতায় হাতকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হলেও কিছু ধর্মীয় ও সামাজিক ধারণায় কারিগরদের কাজকে নিচু চোখে দেখা হতো। এই সামাজিক বৈষম্যের কারণে ধীরে ধীরে কারিগরি কাজ ও বিদ্যাচর্চার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

৭) প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের শিল্পচর্চা সম্পর্কে লেখো

উত্তর: প্রাচীন মানুষের শিল্পচর্চার সূচনা গুহাচিত্র থেকে। পরে মানুষ কাঠ, মাটি, ইট ও পাথর ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থাপত্য নির্মাণ শুরু করে। মন্দির, স্তূপ, বিহার, চৈত্য, ভাস্কর্য ও চিত্রকলার মাধ্যমে শিল্পচর্চা আরও উন্নত হয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন কারিগরি শিল্পও বিকশিত হয়েছিল।

৮) প্রাচীন সমাজে স্থাপত্য প্রধানত কী কী কাজে ব্যবহৃত হতো?

উত্তর: প্রাচীন সমাজে স্থাপত্য মূলত দুই ধরনের প্রয়োজন পূরণ করত।

  1. ধর্মীয় আচার, উপাসনা ও ধর্মীয় স্মৃতি রক্ষার জন্য মন্দির, স্তূপ, চৈত্য ও বিহার তৈরি করা হতো।
  2. রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজনে প্রাসাদ, দুর্গ, বাড়ি এবং অন্যান্য বড় স্থাপত্য নির্মাণ করা হতো।

৯) টীকা লেখো: অজন্তা গুহাচিত্র

উত্তর: অজন্তা গুহাচিত্র প্রাচীন ভারতীয় চিত্রকলার একটি অসাধারণ নিদর্শন। গুহার দেওয়ালে মানুষ, পশুপাখি, গাছপালা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কাহিনির দৃশ্য আঁকা হয়েছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান থেকে রং তৈরি করে এই চিত্রগুলি আঁকা হয়েছিল।

১০) বিহার ও স্তূপের পার্থক্য লেখো

উত্তর: বিহার ছিল বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বসবাস ও শিক্ষার স্থান। সাধারণত বিহারে একাধিক কক্ষ থাকত। অন্যদিকে স্তূপ ছিল ধর্মীয় স্মৃতিচিহ্ন, যা সাধারণত অর্ধগোলাকার আকৃতির হতো। স্তূপের চারপাশে প্রদক্ষিণের ব্যবস্থা থাকত।

১১) টীকা লেখো: প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের লিপি

উত্তর: প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রাহ্মী ও খরোষ্ঠী দুটি গুরুত্বপূর্ণ লিপির প্রচলন ছিল। খরোষ্ঠী ডান দিক থেকে বাঁ দিকে লেখা হতো। ব্রাহ্মী লেখা হতো বাঁ দিক থেকে ডান দিকে। পরবর্তীকালে ব্রাহ্মী লিপির বিভিন্ন পরিবর্তিত রূপ থেকে বহু ভারতীয় লিপির বিকাশ ঘটে।

ব্যাখ্যা ভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর – প্রশ্নমান ৫

১) বৈদিক শিক্ষা ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো

উত্তর: বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল:

  1. শিক্ষাব্যবস্থা মূলত গুরু-শিষ্য সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
  2. ছাত্ররা গুরুর কাছে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করত।
  3. বেদ, ছন্দ, কাব্য ও ব্যাকরণের পাশাপাশি জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত ও অন্যান্য বিষয় পড়ানো হতো।
  4. ক্ষত্রিয়দের জন্য যুদ্ধবিদ্যা, শাসনকার্য ও বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয় শেখানো হতো।
  5. বৈশ্যদের ব্যবসা, কৃষি ও পশুপালনের সঙ্গে সম্পর্কিত জ্ঞান দেওয়া হতো।
  6. শূদ্রদের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পেশাভিত্তিক কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ ছিল।

২) বৈদিক যুগে কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে লেখো

উত্তর: বৈদিক যুগে কারিগরি শিক্ষা মূলত অভিজ্ঞ কারিগরের কাছ থেকে হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে অর্জিত হতো।

  1. অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে শিক্ষার্থী দক্ষ কারিগরের কাছে যেত।
  2. শিক্ষার্থী সাধারণত কারিগর-গুরুর কাছে থেকে কাজ শিখত।
  3. গুরুর কর্মশালায় বাস্তব কাজ করতে করতে দক্ষতা অর্জন করা হতো।
  4. শিক্ষা শেষ করার পর কেউ গুরুর কর্মশালায় কাজ করত।
  5. আবার অনেকে গুরুর অনুমতি নিয়ে নিজস্ব কর্মশালা তৈরি করত।

৩) বৌদ্ধবিহারের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে লেখো

উত্তর: বৌদ্ধবিহারগুলি শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ছিল না, এগুলি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্রও ছিল।

  1. প্রথমদিকে মৌখিক শিক্ষার গুরুত্ব ছিল, পরে লেখার ব্যবহারও বৃদ্ধি পায়।
  2. ছাত্ররা বিহার বা সংঘে থেকে পড়াশোনা করত।
  3. ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কৃষি, চিকিৎসা ও প্রশাসন সম্পর্কিত বিষয় পড়ানো হতো।
  4. শরীরচর্চা, কুস্তি, তীর-তরবারি চালানো ও বিভিন্ন খেলাধুলারও ব্যবস্থা ছিল।
  5. ছাত্রদের বিভিন্ন ব্যবহারিক কাজ শেখানো হতো।
  6. মেধা যাচাইয়ের পর ছাত্রদের ভর্তি নেওয়া হতো এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সাহায্যের ব্যবস্থা ছিল।

৪) গুপ্তযুগের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে লেখো

উত্তর: গুপ্তযুগে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছিল।

  1. গুরুর বাড়িতে থেকে পড়াশোনার পুরনো ব্যবস্থা তখনও চালু ছিল।
  2. বিভিন্ন রাজা ও শাসক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করতেন।
  3. ভাষা, লিপি ও বৈদিক সাহিত্য ছিল শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
  4. কাব্য, ব্যাকরণ, জ্যোতিষ, নাটক, আইন ও রাজনীতি পড়ানো হতো।
  5. যুদ্ধবিদ্যা ও অন্যান্য ব্যবহারিক বিষয়ও শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

৫) নালন্দা মহাবিহার সম্পর্কে লেখো

উত্তর: নালন্দা ছিল প্রাচীন ভারতের অন্যতম বিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র। গুপ্তযুগে এর বিকাশ ঘটে এবং পরবর্তীকালে হর্ষবর্ধন ও পাল রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি আরও সমৃদ্ধ হয়।

  1. দেশ-বিদেশের বহু ছাত্র নালন্দায় পড়াশোনা করতে আসত।
  2. ধর্ম বা বর্ণের চেয়ে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও জ্ঞানকে গুরুত্ব দেওয়া হতো।
  3. ভর্তি হওয়ার জন্য কঠিন পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল।
  4. শিক্ষা, থাকা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বিশেষ সুবিধা পেত।
  5. চিন, তিব্বত, কোরিয়া, সুমাত্রা ও জাভা থেকেও শিক্ষার্থীরা এখানে আসত।
  6. শীলভদ্রের মতো বিখ্যাত পণ্ডিতরা এখানে শিক্ষকতা করেছেন।

৬) তক্ষশিলা মহাবিহার সম্পর্কে লেখো

উত্তর: গান্ধার মহাজনপদের রাজধানী ছিল তক্ষশিলা। বিভিন্ন দেশ ও জাতির মানুষের যোগাযোগের ফলে তক্ষশিলা ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়।

  1. বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছাত্ররা এখানে পড়তে আসত।
  2. যোগ্যতার ভিত্তিতে ছাত্রদের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হতো।
  3. ইতিহাস, দর্শন, চিকিৎসা, হিসাবশাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হতো।
  4. মৌখিকভাবে ছাত্রদের জ্ঞান যাচাই করা হতো।
  5. রাজা ও ধনী ব্যবসায়ীদের দান-অনুদানে শিক্ষাকেন্দ্রের খরচ চলত।
  6. জীবক, পাণিনি ও চাণক্য ছিলেন তক্ষশিলার উল্লেখযোগ্য ছাত্র।

৭) বিক্রমশীলা মহাবিহার সম্পর্কে লেখো

উত্তর: পাল রাজা ধর্মপাল বিক্রমশীলা মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এটি প্রাচীন ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র ছিল।

  1. দেশ-বিদেশের বহু ছাত্র এখানে পড়াশোনা করতে আসত।
  2. ভর্তির ক্ষেত্রে যোগ্যতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো।
  3. বৌদ্ধ ধর্মশাস্ত্রের পাশাপাশি দর্শন, ন্যায়, তর্ক ও ব্যাকরণ পড়ানো হতো।
  4. দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ও শ্রীধরের মতো পণ্ডিতদের সঙ্গে এই শিক্ষাকেন্দ্রের নাম যুক্ত।
  5. বৌদ্ধ জ্ঞানচর্চার প্রসারে বিক্রমশীলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

৮) টীকা লেখো: মোগলমারি বৌদ্ধবিহার

উত্তর: পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন শহরের কাছে মোগলমারিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।

  1. প্রত্নতাত্ত্বিক ডঃ অশোক দত্ত এই বৌদ্ধবিহার আবিষ্কারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
  2. এটি পশ্চিমবঙ্গে আবিষ্কৃত গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধবিহারগুলির মধ্যে অন্যতম।
  3. সুবর্ণরেখা নদী এই অঞ্চলের কাছ দিয়ে প্রবাহিত।
  4. প্রাচীন যোগাযোগপথের কাছাকাছি হওয়ায় স্থানটির গুরুত্ব ছিল।
  5. বাংলায় বৌদ্ধ শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিস্তারের প্রমাণ হিসেবে মোগলমারি গুরুত্বপূর্ণ।

৯) টীকা লেখো: প্রাচীন ভারতের শিক্ষা

উত্তর: প্রাচীন ভারতে বৈদিক শিক্ষার মূল ভিত্তি ছিল গুরু-শিষ্য সম্পর্ক। ছাত্ররা গুরুর বাড়িতে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করত।

  1. শিক্ষার ক্ষেত্রে মৌখিক পদ্ধতির বিশেষ গুরুত্ব ছিল।
  2. গুরু মুখে মুখে শিক্ষা দিতেন এবং ছাত্ররা শুনে তা মনে রাখত।
  3. পড়াশোনার পাশাপাশি শরীরচর্চাও করা হতো।
  4. আচার্য ও উপাধ্যায় ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক।
  5. আচার্য সাধারণত গুরুকুলে থেকে ছাত্রদের শিক্ষা দিতেন।
  6. উপাধ্যায়রা নির্দিষ্ট বিষয় পড়াতেন এবং পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন।

১০) প্রাচীন বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার মিল ও অমিল লেখো

উত্তর: প্রাচীন বৌদ্ধ শিক্ষা ও বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে কিছু মিল রয়েছে।

মিল:

  1. উভয় ব্যবস্থাতেই বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হয়।
  2. শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের গুরুত্ব ছিল।
  3. পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যান্য দক্ষতা অর্জনের সুযোগ ছিল।

অমিল:

  1. প্রাচীন বৌদ্ধ শিক্ষায় বিহার ছিল প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র, বর্তমানে বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
  2. তখন শিক্ষার্থীদের অনেক সময় শিক্ষাকেন্দ্রে থেকেই পড়তে হতো, এখন বাড়িতে থেকেও শিক্ষা নেওয়া যায়।
  3. আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা অনেক বেশি বিস্তৃত ও সর্বজনীন।

১১) প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের সাহিত্যচর্চার বিবরণ দাও

উত্তর: প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে সংস্কৃত, পালি, প্রাকৃত ও তামিলসহ বিভিন্ন ভাষায় সাহিত্যচর্চা হয়েছিল।

  1. ঋকবেদের ভাষা ছিল ছন্দস বা ছান্দস।
  2. পাণিনি অষ্টাধ্যায়ী রচনা করে সংস্কৃত ব্যাকরণের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
  3. পতঞ্জলির মহাভাষ্য সংস্কৃত ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
  4. জৈন সাহিত্য প্রাকৃত ও অর্ধ-মাগধী ভাষায় এবং বৌদ্ধ সাহিত্য পালি ভাষায় রচিত হয়।
  5. দক্ষিণ ভারতে সঙ্গম সাহিত্যের বিকাশ ঘটে।
  6. চরক সংহিতা ও সুশ্রুত সংহিতার মতো চিকিৎসাবিষয়ক গ্রন্থ রচিত হয়।
  7. কালিদাস, অশ্বঘোষ, ভাস, শূদ্রক ও বিশাখদত্তের মতো সাহিত্যিকদের রচনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

১২) মৌর্য ও গুপ্ত যুগের সাহিত্যচর্চার বিবরণ দাও

উত্তর: মৌর্য ও গুপ্ত যুগে ভারতীয় সাহিত্যচর্চার যথেষ্ট বিকাশ ঘটে।

মৌর্য যুগ:

  1. কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
  2. জৈন ও বৌদ্ধ সাহিত্যও এই সময়ে বিকশিত হয়।
  3. পতঞ্জলির ব্যাকরণচর্চা ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

গুপ্ত যুগ:

  1. সংস্কৃত সাহিত্য এই সময়ে বিশেষ সমৃদ্ধ হয়।
  2. কালিদাসের কাব্য ও নাটক ভারতীয় সাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে।
  3. বিজ্ঞান, চিকিৎসা, গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার ওপরও বিভিন্ন গ্রন্থ রচিত হয়।
  4. মহাভারত ও পুরাণের বিভিন্ন অংশের সংকলন ও সম্পাদনার কাজও এই সময়ে এগিয়ে যায়।

১৩) গুপ্তযুগে বিজ্ঞানের অগ্রগতির পরিচয় দাও

উত্তর: গুপ্তযুগে গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিশেষ উন্নতি হয়।

  1. আর্যভট্ট ছিলেন এই যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী।
  2. তিনি পৃথিবীর ঘূর্ণন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেন।
  3. গণনা ও জ্যোতির্বিদ্যায় তাঁর কাজ পরবর্তী বিজ্ঞানচর্চায় প্রভাব ফেলে।
  4. বরাহমিহির জ্যোতির্বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করেন।
  5. তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ পঞ্চসিদ্ধান্তিকা।
  6. ব্রহ্মগুপ্ত গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
  7. তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ব্রহ্মসিদ্ধান্ত।

১৪) জাতিভেদ প্রথা কঠোর হওয়ায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চায় কী সমস্যা হয়েছিল?

উত্তর: কঠোর জাতিভেদ ও সামাজিক বিধিনিষেধ চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরবিদ্যার উন্নতির পথে কিছু বাধা তৈরি করেছিল।

  1. কিছু ধর্মীয় ধারণার কারণে রোগের চিকিৎসার বদলে পূর্বজন্মের কর্মফলকে গুরুত্ব দেওয়া হতো।
  2. চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু খাদ্য গ্রহণ সামাজিক বা ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে সমস্যাজনক হয়ে উঠত।
  3. শবব্যবচ্ছেদ চিকিৎসাশাস্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও মৃতদেহ স্পর্শের ওপর সামাজিক নিষেধাজ্ঞা ছিল।
  4. চিকিৎসাবিদ্যার বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে প্রচলিত সামাজিক নিয়মের সংঘাত দেখা দিয়েছিল।

১৫) প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা সম্পর্কে লেখো

উত্তর: প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা যথেষ্ট উন্নত ছিল।

  1. জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থে গণিতের বিভিন্ন ধারণার উল্লেখ পাওয়া যায়।
  2. পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতির চর্চা ছিল।
  3. জৈনরা গণিতকে সংখ্যায়নের সঙ্গে যুক্ত করে দেখতেন।
  4. শিক্ষায় গণিতের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল।
  5. মহাবীর প্রমুখ পণ্ডিত গণিতচর্চায় অবদান রাখেন।
  6. নাগার্জুনের নামও প্রাচীন গণিতচর্চার সঙ্গে যুক্ত।

১৬) প্রাচীন ভারতে জ্যোতির্বিজ্ঞানচর্চা সম্পর্কে লেখো

উত্তর: প্রাচীন ভারতে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে মানুষের যথেষ্ট জ্ঞান ছিল।

  1. আর্যভট্ট সময়, গ্রহ ও নক্ষত্রের গতিবিধি নিয়ে গবেষণা করেন।
  2. পৃথিবীর আকৃতি ও নিজের অক্ষের ওপর তার ঘূর্ণন সম্পর্কে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মত দেন।
  3. চন্দ্রগ্রহণের বৈজ্ঞানিক কারণ সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।
  4. বরাহমিহির বৃষ্টিপাত, আবহাওয়া ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করেন।
  5. ব্রহ্মগুপ্তও গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

১৭) প্রাচীন ভারতের পরিবেশচিন্তা সম্পর্কে লেখো

উত্তর: প্রাচীন সমাজে বন, গাছপালা ও পশুপাখির গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের ধারণা ছিল।

  1. বন থেকে খাদ্য, কাঠ ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সম্পদ পাওয়া যেত।
  2. অর্থশাস্ত্রে বন রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
  3. সম্রাট অশোক কিছু পশুপাখি হত্যা নিষিদ্ধ করেছিলেন।
  4. কৃষি ও নগরায়ণের বিস্তারের ফলে অরণ্য ধ্বংসও বাড়তে থাকে।
  5. বট ও অশ্বত্থের মতো কিছু গাছকে পবিত্র মনে করে রক্ষা করার প্রচলন হয়।

১৮) মৌর্য আমলের শিল্পচর্চা সম্পর্কে লেখো

উত্তর: মৌর্য যুগে পাথরের ব্যবহার করে শিল্প ও স্থাপত্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়।

  1. এই সময়ে পাথরের ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের বহু নিদর্শন তৈরি হয়।
  2. অশোকের আমলে বিভিন্ন স্তম্ভ নির্মিত হয়।
  3. পাহাড় কেটে গুহা নির্মাণের প্রচলন ছিল।
  4. বৌদ্ধদের জন্য বিভিন্ন স্তূপ নির্মাণ করা হয়।
  5. সাঁচি ও অন্যান্য স্থানে মৌর্য যুগের শিল্পের নিদর্শন পাওয়া যায়।
  6. বস্ত্র ও ধাতুশিল্পও যথেষ্ট উন্নত ছিল।

১৯) মৌর্য শিল্পের পাথরের স্তম্ভ সম্পর্কে লেখো

উত্তর: অশোকের সময় নির্মিত পাথরের স্তম্ভ মৌর্য শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

  1. সাধারণত একটি বড় পাথর থেকেই স্তম্ভ তৈরি করা হতো।
  2. স্তম্ভগুলি মাটিতে দৃঢ়ভাবে বসানো থাকত।
  3. অনেক স্তম্ভে বিভিন্ন বার্তা বা নির্দেশ খোদাই করা হয়েছিল।
  4. স্তম্ভের মাথায় সিংহ, ষাঁড়, হাতি প্রভৃতি প্রাণীর মূর্তি দেখা যায়।
  5. সারনাথের সিংহস্তম্ভ মৌর্য শিল্পের একটি বিখ্যাত উদাহরণ।

২০) সুঙ্গ-কুষাণ-সাতবাহন যুগের শিল্পচর্চা সম্পর্কে লেখো

উত্তর: মৌর্য যুগের পর শিল্পচর্চায় পাথরের পাশাপাশি পোড়ামাটির ব্যবহারও বৃদ্ধি পায়।

  1. সাধারণ মানুষের জীবন ও ধর্মীয় বিষয় শিল্পে ফুটে উঠতে থাকে।
  2. স্তূপ, চৈত্য ও বিহারের মতো বৌদ্ধ স্থাপত্যের বিকাশ হয়।
  3. ভাস্কর্যে ধর্মীয় কাহিনি ও সাধারণ জীবনের বিভিন্ন দৃশ্য দেখা যায়।
  4. সাধারণ মানুষের দান ও সহযোগিতায় বহু ধর্মীয় স্থাপত্য গড়ে ওঠে।
  5. ফলে শিল্পচর্চা শুধু রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।

২১) গুপ্ত আমলের শিল্পচর্চার বিবরণ দাও

উত্তর: গুপ্তযুগে স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও চিত্রকলার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়।

  1. এই সময়ে মন্দির নির্মাণের একটি সুস্পষ্ট ধারা গড়ে ওঠে।
  2. ইট ও পাথর উভয় উপকরণ ব্যবহার করে মন্দির তৈরি করা হয়।
  3. দেওঘরের দশাবতার মন্দির এই যুগের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
  4. মন্দিরের গায়ে দেবদেবীর মূর্তি ও বিভিন্ন কাহিনি খোদাই করা হতো।
  5. অজন্তার গুহাচিত্র প্রাচীন ভারতীয় চিত্রকলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
  6. বস্ত্র, চর্ম, মৃৎশিল্প ও ধাতুশিল্পও এই সময়ে উন্নত হয়।

Class 6 History Chapter 8 Question Answer: পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

এই অধ্যায় থেকে পরীক্ষায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে পড়বে:

  1. বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থা ও গুরুকুল ব্যবস্থা।
  2. বৌদ্ধবিহারের শিক্ষা ব্যবস্থা।
  3. নালন্দা, তক্ষশিলা ও বিক্রমশীলা মহাবিহার।
  4. প্রাচীন ভারতের সাহিত্য ও ভাষার বিকাশ।
  5. চরক সংহিতা ও সুশ্রুত সংহিতা।
  6. আর্যভট্ট, বরাহমিহির ও ব্রহ্মগুপ্তের অবদান।
  7. ব্রাহ্মী ও খরোষ্ঠী লিপি।
  8. মৌর্য, সুঙ্গ, কুষাণ ও গুপ্ত যুগের শিল্পচর্চা।
  9. অজন্তা গুহাচিত্র।
  10. বিহার ও স্তূপের পার্থক্য।

FAQs: Class 6 History Chapter 8 Question Answer

Class 6 History Chapter 8-এর নাম কী?

ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাসের অষ্টম অধ্যায়ের নাম প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতিচর্চার নানা দিক

Class 6 History Chapter 8 থেকে কী কী পড়তে হবে?

এই অধ্যায়ে শিক্ষা, সাহিত্য, ভাষা, লিপি, চিকিৎসা, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, পরিবেশচিন্তা এবং শিল্পচর্চা সম্পর্কে পড়তে হবে।

নালন্দা মহাবিহার কেন বিখ্যাত?

নালন্দা ছিল প্রাচীন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র। দেশ-বিদেশের বহু শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করতে আসত।

প্রাচীন ভারতে কোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ লিপি প্রচলিত ছিল?

প্রধান দুটি লিপি ছিল ব্রাহ্মী ও খরোষ্ঠী

চরক ও সুশ্রুত সংহিতা কী নিয়ে লেখা?

দুটি গ্রন্থই প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কিত। সুশ্রুত সংহিতায় বিশেষভাবে শল্যচিকিৎসার বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনা পাওয়া যায়।

প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত গণিতজ্ঞ কারা?

আর্যভট্ট, ব্রহ্মগুপ্ত, মহাবীর প্রমুখ গণিতচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।

উপসংহার

Class 6 History Chapter 8 Question Answer শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অধ্যায়ের মাধ্যমে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, লিপি এবং শিল্পচর্চার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাস পরীক্ষার আগে উপরের ১, ২, ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্নোত্তরগুলি ভালোভাবে অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের প্রস্তুতি আরও সহজ হবে।

Leave a Comment