আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর | Class 10 Bengali | WBBSE

মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কবি শঙ্খ ঘোষ-এর লেখা এই কবিতায় যুদ্ধ, হিংসা, সাম্রাজ্যবাদ, সাধারণ মানুষের অসহায়তা এবং মানবিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

এই পোস্টে Ay Aro Bendhe Bendhe Thaki Class 10 Question Answer-এর MCQ, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ৩ নম্বরের প্রশ্ন এবং ৫ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় দেওয়া হলো। মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে এগুলি ভালোভাবে পড়ে নিলে প্রস্তুতি আরও ভালো হবে।

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার পরিচয়

বিষয়তথ্য
কবিতার নামআয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি
কবিশঙ্খ ঘোষ
মূল কাব্যগ্রন্থজলই পাষাণ হয়ে আছে
শ্রেণিদশম
বিষয়বাংলা
বোর্ডWBBSE
মূল ভাবযুদ্ধবিরোধিতা ও মানবিক ঐক্য

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি MCQ প্রশ্ন উত্তর

১. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটির রচয়িতা কে?

(ক) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
(খ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(গ) জয় গোস্বামী
(ঘ) শঙ্খ ঘোষ

উত্তর: (ঘ) শঙ্খ ঘোষ

২. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

(ক) নিহিত পাতালছায়া
(খ) পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ
(গ) দিনগুলি রাতগুলি
(ঘ) জলই পাষাণ হয়ে আছে

উত্তর: (ঘ) জলই পাষাণ হয়ে আছে

৩. মূল কাব্যগ্রন্থে ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি কত নম্বর কবিতা?

(ক) প্রথম
(খ) দশম
(গ) শেষ
(ঘ) বিংশ

উত্তর: (গ) শেষ

৪. ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ কাব্যগ্রন্থটি শঙ্খ ঘোষ কাদের উৎসর্গ করেছিলেন?

(ক) বাবা ও মাকে
(খ) প্রতিমা বিশ্বাসকে
(গ) অরিজিৎ ও রীণাকে
(ঘ) তিতির ও তাতারকে

উত্তর: (গ) অরিজিৎ ও রীণাকে

৫. শঙ্খ ঘোষের ছদ্মনাম কী?

(ক) নীললোহিত
(খ) মৌমাছি
(গ) রূপচাঁদ পক্ষী
(ঘ) কুন্তক

উত্তর: (ঘ) কুন্তক

৬. শঙ্খ ঘোষের প্রকৃত নাম কী?

(ক) প্রিয়দর্শী ঘোষ
(খ) চিত্রভানু ঘোষ
(গ) চিত্তরূপ ঘোষ
(ঘ) চিত্তপ্রিয় ঘোষ

উত্তর: (ঘ) চিত্তপ্রিয় ঘোষ

৭. ‘হিমানী’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) বরফ
(খ) পাহাড়
(গ) আগুন
(ঘ) লোহা

উত্তর: (ক) বরফ

৮. ‘আমাদের শিশুদের শব’ কোথায় ছড়িয়ে রয়েছে?

(ক) কাছে
(খ) দূরে
(গ) অনেক দূরে
(ঘ) কাছে দূরে

উত্তর: (ঘ) কাছে দূরে

৯. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’-এর অর্থ কী?

(ক) পরাধীনতাকে বরণ করা
(খ) স্বাধীনতাকে আহরণ করা
(গ) সবকিছু ভুলে যাওয়া
(ঘ) একতাবদ্ধ হয়ে থাকা

উত্তর: (ঘ) একতাবদ্ধ হয়ে থাকা

১০. ‘আমাদের ডান পাশে’ কী রয়েছে?

(ক) টাকা
(খ) বাঁধ
(গ) ধস
(ঘ) পথ

উত্তর: (গ) ধস

১১. গিরিখাত রয়েছে কোথায়?

(ক) উত্তরে
(খ) বাঁয়ে
(গ) দক্ষিণে
(ঘ) ডানপাশে

উত্তর: (খ) বাঁয়ে

১২. ‘আমাদের মাথায়’ কী রয়েছে?

(ক) আকাশ
(খ) মেঘ
(গ) বোমারু
(ঘ) চুল

উত্তর: (গ) বোমারু

১৩. ‘আমাদের ___ নেই কোনো’ – শূন্যস্থানে কী হবে?

(ক) অর্থ
(খ) পদ
(গ) পথ
(ঘ) রাস্তা

উত্তর: (গ) পথ

১৪. ‘পায়ে পায়ে ___ বাঁধ’ – শূন্যস্থানে কী হবে?

(ক) পাথরের
(খ) হিমানীর
(গ) শিকলের
(ঘ) বরফের

উত্তর: (খ) হিমানীর

১৫. ‘বোমারু’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) বোমা নিক্ষেপকারী বিমান
(খ) মহাকাশযান
(গ) ইউএফও
(ঘ) রকেট

উত্তর: (ক) বোমা নিক্ষেপকারী বিমান

১৬. ‘আমাদের ঘর কী হয়েছে?’

(ক) উড়ে গেছে
(খ) ভেঙে গেছে
(গ) ভেসে গেছে
(ঘ) ডুবে গেছে

উত্তর: (ক) উড়ে গেছে

১৭. ‘আমাদের ___ শব’ – শূন্যস্থানে কী হবে?

(ক) মানুষের
(খ) শিশুদের
(গ) পশুদের
(ঘ) আত্মীয়দের

উত্তর: (খ) শিশুদের

১৮. ‘এ-মুহূর্তে ___ না কি?’

(ক) মরে যাব
(খ) হারিয়ে যাব
(গ) কাঁদব
(ঘ) হাসব

উত্তর: (ক) মরে যাব

১৯. ‘আমাদের পথ ___’

(ক) নেই আর
(খ) উড়ে গেছে
(গ) পুড়ে গেছে
(ঘ) বাঁকা

উত্তর: (ক) নেই আর

২০. ‘আমাদের পথ নেই আর’ – এখানে ‘পথ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

(ক) কোনো উপায় নেই
(খ) কোনো খাদ্য নেই
(গ) বাসস্থান নেই
(ঘ) পোশাক নেই

উত্তর: (ক) কোনো উপায় নেই

২১. কবিতায় ‘পথ’ শব্দটি কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?

(ক) দু-বার
(খ) একবার
(গ) চারবার
(ঘ) তিনবার

উত্তর: (ক) দু-বার

২২. আমাদের চোখ-মুখ কোথায় ঢাকা পড়েছে?

(ক) ইতিহাসে
(খ) ভূগোলে
(গ) জামাকাপড়ে
(ঘ) রাস্তায়

উত্তর: (ক) ইতিহাসে

২৩. ‘আমাদের চোখমুখ ঢাকা’ কথাটির অর্থ কী?

(ক) আমরা অদৃশ্য
(খ) আমরা পরিচয়হীন
(গ) আমরা লাজুক
(ঘ) আমাদের পোশাক লম্বা

উত্তর: (খ) আমরা পরিচয়হীন

২৪. আমরা বারোমাস কীভাবে থাকি?

(ক) রাজা হয়ে
(খ) অসুখী হয়ে
(গ) ভিখারি হয়ে
(ঘ) ভবঘুরে হয়ে

উত্তর: (গ) ভিখারি হয়ে

২৫. যার বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে তা কী?

(ক) সাধারণ মানুষ
(খ) পৃথিবী
(গ) শিশুরা
(ঘ) নারীরা

উত্তর: (খ) পৃথিবী

২৬. পৃথিবী মরে গেছে বলে কবির আশঙ্কার প্রধান কারণ কী?

(ক) মানবিকতার অভাব
(খ) উদ্ধার আঘাত
(গ) পরমাণু বোমা বিস্ফোরণ
(ঘ) তেজস্ক্রিয়তা

উত্তর: (ক) মানবিকতার অভাব

২৭. আমরা কত মাস ভিখারি থাকি?

(ক) সাত মাস
(খ) আট মাস
(গ) ন-মাস
(ঘ) বারোমাস

উত্তর: (ঘ) বারোমাস

২৮. আমরা ‘দোরে দোরে’ ফিরেছি কেন?

(ক) সাহায্য প্রার্থনায়
(খ) ভ্রমণে
(গ) পাড়াবেড়ানি স্বভাবের জন্য
(ঘ) ঘরে থাকতে মন চায় না বলে

উত্তর: (ক) সাহায্য প্রার্থনায়

২৯. ‘পৃথিবী হয়তো গেছে মরে’ – এমন আশঙ্কার কারণ কী?

(ক) পৃথিবীতে আলো নেই
(খ) পৃথিবী নিস্তব্ধ
(গ) দুর্গত মানুষের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই
(ঘ) পৃথিবী পথ হারিয়েছে

উত্তর: (গ) দুর্গত মানুষের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

১. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটির কবি ও মূল কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।

উত্তর: ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটির কবি শঙ্খ ঘোষ এবং মূল কাব্যগ্রন্থের নাম ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’।

২. কবি কাদের ডাক দিয়েছেন?

উত্তর: কবি যুদ্ধবিধ্বস্ত, ছিন্নমূল ও অসহায় সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

৩. কথকের ডান পাশে কী আছে?

উত্তর: কথকের ডান পাশে ধস রয়েছে।

৪. কথকের বাঁ পাশে কী রয়েছে?

উত্তর: কথকের বাঁ পাশে গিরিখাত রয়েছে।

৫. কথকের মাথার ওপর কী রয়েছে?

উত্তর: কথকের মাথার ওপর বোমারু বিমান রয়েছে।

৬. ‘আমাদের মাথায় বোমারু’ বলার কারণ কী?

উত্তর: এই কথার মাধ্যমে কবি যুদ্ধসংকুল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির ছবি তুলে ধরেছেন।

৭. ‘ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে’ – কী ছড়ানো রয়েছে?

উত্তর: কাছে ও দূরে শিশুদের মৃতদেহ ছড়িয়ে রয়েছে।

৮. ‘আমাদের পথ নেই কোনো’ – কেন?

উত্তর: যুদ্ধ ও হিংসায় সাধারণ মানুষের জীবন এমন সংকটের মধ্যে পড়েছে যে তাদের সামনে বাঁচার কোনো নিরাপদ উপায় নেই।

৯. ‘আমাদের ঘর গেছে উড়ে’ – কথাটির অর্থ কী?

উত্তর: যুদ্ধের বোমাবর্ষণে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

১০. ‘আমরাও তবে এইভাবে এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?’ – এমন সংশয়ের কারণ কী?

উত্তর: যুদ্ধের ভয়াবহতা, শিশুদের মৃত্যু এবং চারপাশের বিপদের কারণে কবির মনে নিজেরাও মৃত্যুর শিকার হওয়ার আশঙ্কা জেগেছে।

১১. ‘আমাদের পথ নেই আর’ – তাহলে করণীয় কী?

উত্তর: পথ বন্ধ হয়ে গেলেও মানুষকে হতাশ না হয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং অন্যায় ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

১২. ‘বেঁধে বেঁধে থাকি’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ‘বেঁধে বেঁধে থাকি’ বলতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, পরস্পরের পাশে থেকে একসঙ্গে থাকার কথা বোঝানো হয়েছে।

১৩. কবিতার কোন অংশটি সবচেয়ে হৃদয়বিদারক?

উত্তর: ‘আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!’ – এই অংশটি সবচেয়ে হৃদয়বিদারক। কারণ যুদ্ধের কারণে নিষ্পাপ শিশুদের মৃত্যুর করুণ ছবি এখানে ফুটে উঠেছে।

১৪. ‘পথ’ শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

উত্তর: ‘পথ’ শব্দটি এখানে রাস্তা অর্থে নয়, বরং উপায় বা বাঁচার রাস্তা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

১৫. ‘পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: বরফ যেমন পথ চলায় বাধা সৃষ্টি করে, তেমনি যুদ্ধ ও হিংসা মানুষের জীবনযাত্রায় নানা বাধা সৃষ্টি করেছে। এই বাধাকেই ‘হিমানীর বাঁধ’ বলা হয়েছে।

১৬. ‘আমরা ভিখারি বারোমাস’ – এখানে ‘আমরা’ কারা?

উত্তর: এখানে ‘আমরা’ বলতে যুদ্ধবিধ্বস্ত, শোষিত ও আশ্রয়হীন সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়েছে।

১৭. ‘আমাদের চোখমুখ ঢাকা’ কেন বলা হয়েছে?

উত্তর: প্রচলিত ইতিহাসে সাধারণ মানুষের অবদান ও পরিচয় উপেক্ষিত হয়েছে। তাই তাদের চোখ-মুখ যেন ইতিহাসের পাতায় ঢাকা পড়ে আছে।

১৮. ‘আমাদের কথা কে-বা জানে’ – কাদের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: নির্যাতিত, নিপীড়িত, শোষিত ও আশ্রয়হীন সাধারণ মানুষের কথা বলা হয়েছে।

১৯. ‘তবু তো কজন আছি বাকি’ – এর মধ্যে কী বার্তা রয়েছে?

উত্তর: এর মধ্যে আশার বার্তা রয়েছে। যারা এখনও বেঁচে আছে, তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

২০. ‘আমাদের ইতিহাস নেই’ – কথাটির অর্থ কী?

উত্তর: প্রচলিত ইতিহাসে রাজা-রাজড়া ও ক্ষমতাবানদের কাহিনি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। সাধারণ মানুষের শ্রম ও সংগ্রাম উপেক্ষিত হয়েছে। তাই কবি বলেছেন, ‘আমাদের ইতিহাস নেই’।

২১. ‘আমরা ভিখারি বারোমাস’ কেন?

উত্তর: সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শোষণ, দারিদ্র্য ও বঞ্চনার শিকার। অন্ন, আশ্রয় ও নিরাপত্তার জন্য তাদের অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই তারা নিজেদের বারোমাসের ভিখারি বলে মনে করে।

২২. ‘আমরা ফিরেছি দোরে দোরে’ – এর অর্থ কী?

উত্তর: আশ্রয়, সাহায্য ও নিরাপত্তার সন্ধানে সাধারণ মানুষের এক দরজা থেকে অন্য দরজায় ঘুরে বেড়ানোর কথা বোঝানো হয়েছে।

২৩. ‘পৃথিবী হয়তো গেছে মরে’ – কেন বলা হয়েছে?

উত্তর: পৃথিবীতে মানবিকতা ও সহমর্মিতা কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে এমন নৈরাশ্য জন্মেছে যে পৃথিবী যেন মরে গেছে।

২৪. কবি কেন ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ বলেছেন?

উত্তর: যুদ্ধ, শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য কবি এই আহ্বান জানিয়েছেন।

৩ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর

১. ‘আমাদের ঘর গেছে উড়ে’ – কাদের ঘর এবং কেন উড়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: এখানে যুদ্ধবিধ্বস্ত সাধারণ মানুষের ঘরের কথা বলা হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী ও যুদ্ধবাজ শক্তির আক্রমণে বোমাবর্ষণের ফলে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে তারা নিজেদের আশ্রয় হারিয়ে উদ্বাস্তু ও নিরাশ্রয় হয়ে পড়ে। যুদ্ধ যে শুধু সৈন্যদের নয়, সাধারণ মানুষের জীবন ও বাসস্থানও ধ্বংস করে দেয়, কবি সেই সত্যটি তুলে ধরেছেন।

২. ‘আমাদের ডান পাশে ধস’ – ‘ধস’ বলতে কী বোঝায়? এর তাৎপর্য কী?

উত্তর: ‘ধস’ বলতে পাহাড় থেকে মাটি ও পাথরের স্তর নেমে আসাকে বোঝায়। কবিতায় এটি বিপদ ও আকস্মিক বিপর্যয়ের প্রতীক। যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনও এমন বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে, যেখানে তাদের চারপাশে শুধুই বিপদ। তাই ‘ধস’ শব্দটি যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের অসহায় পরিস্থিতিকে প্রকাশ করেছে।

৩. ‘আমাদের মাথায় বোমারু’ – বোমারু কী? এর উল্লেখ কেন?

উত্তর: বোমা নিক্ষেপকারী যুদ্ধবিমানকে বোমারু বলা হয়। কবি ‘বোমারু’ শব্দের মাধ্যমে যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন। আকাশ থেকে বোমা নিক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়, মানুষ মারা যায় এবং অসংখ্য মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। তাই যুদ্ধের আতঙ্ক বোঝাতে কবি বোমারুর উল্লেখ করেছেন।

৪. ‘পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ’ – কথাটির তাৎপর্য কী?

উত্তর: ‘হিমানী’ শব্দের অর্থ বরফ। বরফ যেমন পথ চলার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে, তেমনই যুদ্ধ ও হিংসা সাধারণ মানুষের জীবনকে বাধাগ্রস্ত করেছে। চারদিকে বিপদ, মাথার ওপর বোমারু বিমান এবং পায়ের নিচে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকায় মানুষ নিরাপদ পথ খুঁজে পাচ্ছে না। ‘হিমানীর বাঁধ’ তাই প্রতিকূলতা ও সংকটের প্রতীক।

৫. ‘আমাদের পথ নেই কোনো’ – ‘পথ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: এখানে ‘পথ’ বলতে শুধু রাস্তা বোঝানো হয়নি। ‘পথ’ বলতে বেঁচে থাকার উপায় বা নিরাপদ আশ্রয়ের পথ বোঝানো হয়েছে। একদিকে ধস, অন্যদিকে গিরিখাত, মাথার ওপর বোমারু বিমান এবং পায়ে পায়ে বাধা – এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দিশাহীন হয়ে পড়েছে। তাই কবি বলেছেন, তাদের কোনো পথ নেই।

৬. ‘আমাদের ইতিহাস নেই’ – কে এবং কেন বলেছেন?

উত্তর: শঙ্খ ঘোষ সাধারণ মানুষের পক্ষ নিয়ে এই কথা বলেছেন। প্রচলিত ইতিহাসে রাজা, শাসক ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের কীর্তি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু সভ্যতা নির্মাণকারী সাধারণ মানুষের শ্রম, ত্যাগ ও সংগ্রাম অনেক সময় উপেক্ষিত হয়েছে। এই কারণেই কবি বলেছেন, সাধারণ মানুষের যেন কোনো ইতিহাস নেই।

৭. ‘আমরা ফিরেছি দোরে দোরে’ – ‘আমরা’ কারা? তারা কেন দোরে দোরে ফিরেছে?

উত্তর: ‘আমরা’ বলতে যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারানো সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়েছে। আশ্রয়, খাদ্য, নিরাপত্তা ও সাহায্যের সন্ধানে তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। তাই তারা দোরে দোরে ফিরে বেড়িয়েছে।

৮. ‘পৃথিবী হয়তো গেছে মরে’ – কবি কেন এমন বলেছেন?

উত্তর: যুদ্ধ ও হিংসার কারণে পৃথিবী থেকে মানবিকতা ও সহমর্মিতা হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে। নিরপরাধ মানুষ ও শিশুরা যুদ্ধে প্রাণ হারাচ্ছে। এই মানবিক সংকট থেকেই কবির মনে হয়েছে, পৃথিবী হয়তো মরে গেছে।

৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর

১. ‘আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!’ – পঙ্‌ক্তি দুটির তাৎপর্য আলোচনা করো।

উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় যুদ্ধের ভয়াবহতার একটি অত্যন্ত করুণ ছবি এই পঙ্‌ক্তির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

যুদ্ধের সবচেয়ে অসহায় শিকার সাধারণ মানুষ। যুদ্ধবাজ শক্তির আক্রমণে মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। বহু মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। কিন্তু যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা এখানেই শেষ নয়। নিষ্পাপ শিশুরাও এর হাত থেকে রেহাই পায় না। বোমা ও হিংসার আঘাতে অসংখ্য শিশুর মৃত্যু ঘটে।

কবির কাছে এই দৃশ্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যে শিশুরা ভবিষ্যতের পৃথিবী গড়ে তুলবে, তাদেরই মৃতদেহ কাছে ও দূরে ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে যুদ্ধ শুধু বর্তমানকে ধ্বংস করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বিপন্ন করে।

এই পরিস্থিতি দেখে কবির মনে গভীর মৃত্যুভয় সৃষ্টি হয়। তিনি ভাবতে বাধ্য হন, অন্যদের মতো তাঁরাও কি এইভাবে মৃত্যুর মুখে পড়বেন? তাই উদ্ধৃত পঙ্‌ক্তি দুটির মাধ্যমে যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা এবং মানবতার বিপন্নতার ছবি প্রকাশিত হয়েছে।

২. ‘আমরাও তবে এইভাবে / এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?’ – এমন সংশয়ের কারণ কী?

উত্তর: কবিতায় কবি যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর এক ভয়াবহ ছবি তুলে ধরেছেন। চারদিকে বিপদের পরিবেশ। ডান পাশে ধস, বাঁ পাশে গিরিখাত, মাথার ওপর বোমারু বিমান এবং পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ। সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হল, নিষ্পাপ শিশুদের মৃতদেহ কাছে ও দূরে ছড়িয়ে রয়েছে। যুদ্ধের কোনো নিয়ম বা মানবিকতা নেই। ফলে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে না, পরের মুহূর্তে তাদের কী হবে।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই কবির মনে প্রশ্ন জেগেছে – অন্যদের মতো তাঁরাও কি এই মুহূর্তে মারা যাবেন? তাই উদ্ধৃত পঙ্‌ক্তিতে যুদ্ধের আতঙ্ক, অসহায়তা এবং মৃত্যুভয়ের প্রকাশ ঘটেছে।

৩. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ – কবি কাদের বেঁধে বেঁধে থাকতে বলেছেন এবং কেন?

উত্তর: শঙ্খ ঘোষ তাঁর কবিতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ও নিপীড়িত সাধারণ মানুষকে একত্র হয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘বেঁধে বেঁধে থাকা’ বলতে এখানে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং পরস্পরের পাশে দাঁড়ানো বোঝানো হয়েছে। যুদ্ধ, শোষণ, হিংসা ও সাম্রাজ্যবাদ সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে। তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, শিশুরা মারা গেছে এবং তারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

এই অবস্থায় একা কোনো মানুষ বা একটি ছোট গোষ্ঠীর পক্ষে বিপদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে। মানুষে মানুষে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ঐক্যের বন্ধন তৈরি করতে হবে।

কবির বিশ্বাস, ঐক্যবদ্ধ মানুষই অন্যায় ও ধ্বংসাত্মক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তাই তিনি বলেছেন, ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।’

৪. ‘আমাদের পথ নেই আর’ – ‘আমরা’ কারা? পথ নেই কেন? তাদের কর্তব্য কী?

উত্তর: কবিতায় ‘আমরা’ বলতে যুদ্ধবিধ্বস্ত, শোষিত, নিপীড়িত ও আশ্রয়হীন সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়েছে।

তাদের সামনে নিরাপদ পথ নেই। চারদিকে যুদ্ধ ও বিপদ। ডান পাশে ধস, বাঁ পাশে গিরিখাত, মাথার ওপর বোমারু বিমান এবং পায়ে পায়ে বাধা। তাদের ঘরবাড়িও ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে তারা কোথায় যাবে বা কীভাবে বাঁচবে তা বুঝতে পারছে না।

কিন্তু এই পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে বসে থাকা তাদের কর্তব্য নয়। বরং তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একে অপরের হাত ধরতে হবে এবং অন্যায়, যুদ্ধ ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

কবির মতে, মানুষের সম্মিলিত শক্তিই নতুন পথ তৈরি করতে পারে। তাই পথহীন অবস্থাতেও মানুষের প্রধান কর্তব্য হল ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

৫. ‘আমাদের কথা কে-বা জানে / আমরা ফিরেছি দোরে দোরে’ – বক্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: এই পঙ্‌ক্তিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত সাধারণ মানুষের অসহায়তার ছবি প্রকাশিত হয়েছে।

সাধারণ মানুষ সভ্যতার প্রকৃত নির্মাতা। তাদের শ্রম ও ঘামের ওপর সমাজ ও সভ্যতা দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু প্রচলিত ইতিহাস ও ক্ষমতার কাঠামোতে তাদের গুরুত্ব খুব কম। তাদের দুঃখ, কষ্ট ও সংগ্রামের কথা অনেক সময় কেউ মনে রাখে না।

যুদ্ধের কারণে তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেলে তারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। খাদ্য, নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের সন্ধানে এক দরজা থেকে অন্য দরজায় ঘুরতে হয়। তাদের নিজেদের কোনো নিরাপদ ঠিকানা থাকে না।

তাই ‘আমাদের কথা কে-বা জানে’ কথায় সাধারণ মানুষের উপেক্ষিত অবস্থার কথা এবং ‘দোরে দোরে’ কথায় তাদের আশ্রয় ও সাহায্যের জন্য ঘুরে বেড়ানোর চিত্র প্রকাশিত হয়েছে।

৬. ‘আমাদের ইতিহাস নেই’ – কথাটির যৌক্তিকতা আলোচনা করো।

উত্তর: ‘আমাদের ইতিহাস নেই’ কথাটি সাধারণ মানুষের ইতিহাসবিহীনতার দুঃখ প্রকাশ করে।

প্রচলিত ইতিহাসে সাধারণত রাজা, শাসক, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ঘটনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ইতিহাসের পেছনে যাঁরা শ্রম দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণা ও সংগ্রাম অনেক সময় সেখানে যথাযথভাবে স্থান পায় না।

একটি রাজপ্রাসাদ বা স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কৃতিত্ব সাধারণত শাসকের নামে পরিচিত হয়। কিন্তু সেই নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য শ্রমিকের পরিশ্রম ইতিহাসে একইভাবে আলোচিত হয় না।

এই কারণেই কবি সাধারণ মানুষের হয়ে বলেছেন, ‘আমাদের ইতিহাস নেই’। এর মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে উপেক্ষিত শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের অস্তিত্বকে সামনে এনেছেন।

৭. ‘আমরা ভিখারি বারোমাস’ – এর তাৎপর্য আলোচনা করো।

উত্তর: ‘আমরা ভিখারি বারোমাস’ পঙ্‌ক্তিতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘস্থায়ী বঞ্চনা ও অসহায়তার কথা প্রকাশিত হয়েছে।

সাধারণ মানুষই সমাজ ও সভ্যতার মূল নির্মাতা। তারা শ্রম দিয়ে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু অর্থনৈতিক বৈষম্য, শোষণ ও সামাজিক অবহেলার কারণে তাদের জীবনে স্থায়ী নিরাপত্তা আসে না।

যুদ্ধের পরিস্থিতিতে তাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা আরও বিপন্ন হয়ে পড়ে। খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তার জন্য তাদের অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই তারা নিজেদের ‘ভিখারি’ বলে অনুভব করে।

‘বারোমাস’ শব্দটি বোঝায় যে এই বঞ্চনা সাময়িক নয়। বছরের সব সময়ই তারা দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও অবহেলার মধ্যে জীবন কাটায়।

৮. ‘পৃথিবী হয়তো গেছে মরে’ – কবিতার আলোকে বক্তব্যটির তাৎপর্য লেখো।

উত্তর: ‘পৃথিবী হয়তো গেছে মরে’ কথাটির মধ্যে কবির গভীর হতাশা এবং মানবিক সংকটের ছবি ফুটে উঠেছে।

পৃথিবীতে যুদ্ধ, হিংসা, শোষণ ও স্বার্থের সংঘাত বেড়ে চলেছে। মানুষ মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা হারিয়ে ফেলছে। নিরপরাধ মানুষ এবং শিশুরা যুদ্ধের শিকার হচ্ছে। অথচ তাদের দুঃখের কথা জানার বা তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানুষও কমে যাচ্ছে।

এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের কাছে পৃথিবী যেন অর্থহীন হয়ে পড়েছে। পৃথিবী তখনই সত্যিকার অর্থে বেঁচে থাকে, যখন মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও ঐক্য থাকে।

তাই কবির বক্তব্য শুধু পৃথিবীর ধ্বংসের আশঙ্কা নয়, মানবিকতার মৃত্যুর আশঙ্কাও প্রকাশ করে।

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার মূল বক্তব্য

শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ মূলত যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কবিতা। কবি দেখিয়েছেন, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিকার সাধারণ মানুষ।

যুদ্ধের কারণে মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়, শিশুরা মারা যায়, মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের কথা ইতিহাসেও অনেক সময় যথাযথভাবে লেখা হয় না। তারা দারিদ্র্য ও বঞ্চনার মধ্যে জীবন কাটায়।

কিন্তু কবি শুধুমাত্র হতাশার কথা বলেননি। কবিতার শেষে তিনি ঐক্যের কথা বলেছেন। যত প্রতিকূলতাই আসুক, মানুষকে পরস্পরের পাশে দাঁড়াতে হবে। হাতে হাত রেখে মানবিক বন্ধন তৈরি করতে হবে।

এই ঐক্যই অন্যায় ও ধ্বংসাত্মক শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই কবিতার মূল বার্তা হল – মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানবিক পৃথিবী গড়ে তুলতে হবে।

পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

  1. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার মূল বক্তব্য আলোচনা করো।
  2. ‘আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে’ – পঙ্‌ক্তিটির তাৎপর্য লেখো।
  3. ‘আমাদের পথ নেই আর’ – ‘পথ’ শব্দটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
  4. ‘আমাদের ইতিহাস নেই’ – কবি কেন বলেছেন?
  5. ‘আমরা ভিখারি বারোমাস’ – বক্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।
  6. ‘পৃথিবী হয়তো গেছে মরে’ – কবি কেন এমন বলেছেন?
  7. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ – কবির এই আহ্বানের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো।
  8. কবিতায় যুদ্ধ ও সাধারণ মানুষের অসহায়তা কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে?

FAQs: আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার কবি কে?

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার কবি হলেন শঙ্খ ঘোষ।

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতা?

কবিতাটি শঙ্খ ঘোষের ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

‘বেঁধে বেঁধে থাকি’ বলতে কী বোঝায়?

‘বেঁধে বেঁধে থাকি’ বলতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এবং পরস্পরের পাশে থেকে থাকার কথা বোঝানো হয়েছে।

‘হিমানী’ শব্দের অর্থ কী?

‘হিমানী’ শব্দের অর্থ বরফ।

‘বোমারু’ বলতে কী বোঝায়?

বোমা নিক্ষেপকারী যুদ্ধবিমানকে বোমারু বলা হয়।

‘আমাদের পথ নেই আর’ – এখানে পথের অর্থ কী?

এখানে ‘পথ’ বলতে বাঁচার উপায় বা নিরাপদ পথ বোঝানো হয়েছে।

‘আমরা ভিখারি বারোমাস’ – এর অর্থ কী?

এই কথার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও অসহায়তার কথা বোঝানো হয়েছে।

উপসংহার

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি বিষয়। কবিতাটিতে যুদ্ধের ভয়াবহতা, সাধারণ মানুষের দুর্দশা এবং মানবিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

পরীক্ষার আগে MCQ এবং ছোট প্রশ্নগুলির পাশাপাশি ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখার অভ্যাস করলে ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে ‘আমাদের পথ নেই আর’, ‘আমাদের ইতিহাস নেই’, ‘আমরা ভিখারি বারোমাস’ এবং ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ – এই অংশগুলির ভাব ভালোভাবে বুঝে পড়া উচিত।

Leave a Comment