মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুবোধ ঘোষের লেখা এই গল্পে হরিদার বিচিত্র জীবন, তাঁর বহুরূপী পেশা, শিল্পীর আত্মসম্মান, দারিদ্র্য, স্বাধীনচেতা মনোভাব এবং জগদীশবাবুর অর্থের অহংকার সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
এই পোস্টে Bohurupi Class 10 Question Answer অধ্যায়ের MCQ, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় দেওয়া হল। মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে এই প্রশ্নগুলি ভালোভাবে পড়লে প্রস্তুতি অনেকটাই সহজ হবে।
বহুরূপী গল্প এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গল্পের নাম | বহুরূপী |
| লেখক | সুবোধ ঘোষ |
| শ্রেণি | দশম |
| বিষয় | বাংলা |
| বোর্ড | WBBSE |
| প্রধান চরিত্র | হরিদা |
| গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র | জগদীশবাবু, ভবতোষ, অনাদি, কথক |
| প্রধান বিষয় | বহুরূপী শিল্প, দারিদ্র্য, আত্মসম্মান ও মানবিকতা |
বহুরূপী গল্পের MCQ প্রশ্ন উত্তর
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো
১. ‘বহুরূপী’ শব্দের অর্থ কী?
ক) অত্যন্ত মূল্যবান
খ) বহুমুখী প্রতিভাবিশিষ্ট
গ) বহুরূপ বিশিষ্ট
ঘ) নানা মূর্তি বা রূপ ধারণকারী
উত্তর: ঘ) নানা মূর্তি বা রূপ ধারণকারী
২. যার বাড়িতে সন্ন্যাসীর আগমন ঘটেছিল তিনি কে?
ক) জগদীশবাবু
খ) হরি
গ) কাশীনাথ
ঘ) ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব
উত্তর: ক) জগদীশবাবু
৩. জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসী কোথায় থাকতেন?
ক) কৈলাসে
খ) তিব্বতে
গ) হিমালয়ে
ঘ) হিমগিরিতে
উত্তর: গ) হিমালয়ে
৪. জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত সন্ন্যাসীর সারা বছরের খাদ্য কী ছিল?
ক) একটি সুপারি
খ) একটি আপেল
গ) একটি নারকেল
ঘ) একটি হরীতকী
উত্তর: ঘ) একটি হরীতকী
৫. হিমালয় থেকে আসা সন্ন্যাসীর বয়স আনুমানিক কত বলা হয়েছিল?
ক) একশো বছরের বেশি
খ) হাজার বছরের বেশি
গ) পাঁচশো বছরের বেশি
ঘ) দুশো বছরের বেশি
উত্তর: খ) হাজার বছরের বেশি
৬. সন্ন্যাসী চলে যাওয়ার পর হরিদা আক্ষেপ করেছিলেন কেন?
ক) সন্ন্যাসীর পদধূলি নিতে পারেননি
খ) সন্ন্যাসীকে দেখতে পারেননি
গ) সন্ন্যাসীকে ভণ্ড প্রমাণ করতে পারেননি
ঘ) সন্ন্যাসীর পদসেবা করতে পারেননি
উত্তর: ক) সন্ন্যাসীর পদধূলি নিতে পারেননি
৭. হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীকে বিদায় দেওয়ার সময় জগদীশবাবু কত টাকা দিয়েছিলেন?
ক) একশো
খ) একশো এক
গ) পাঁচশো
ঘ) পাঁচশো এক
উত্তর: ক) একশো
৮. “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস” – এখানে দুর্লভ জিনিসটি কী?
ক) কাঠের খড়ম
খ) পায়ের ধুলো
গ) একশো টাকার নোট
ঘ) সন্ন্যাসীর হাসি
উত্তর: খ) পায়ের ধুলো
৯. সন্ন্যাসী কাকে পায়ের ধুলো দিয়েছিলেন?
ক) হরিদাকে
খ) জগদীশবাবুকে
গ) অনাদিকে
ঘ) ভবতোষকে
উত্তর: খ) জগদীশবাবুকে
১০. হরিদার ঘরে কখন আড্ডা বসত?
ক) সকালে
খ) সন্ধ্যায়
গ) সকাল-সন্ধ্যায়
ঘ) দুপুরে
উত্তর: গ) সকাল-সন্ধ্যায়
১১. পাগলবেশী হরিদার গলায় কী ছিল?
ক) মণিমুক্তার মালা
খ) সোনার হার
গ) কৌটোর মালা
ঘ) ছেঁড়া কাপড়
উত্তর: গ) কৌটোর মালা
১২. জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর নতুন কাঠের খড়মে কী লাগিয়েছিলেন?
ক) সোনার রং
খ) সোনার বোল
গ) সোনার তারকা
ঘ) সোনার পালক
উত্তর: খ) সোনার বোল
১৩. সন্ন্যাসীকে বিদায় দেওয়ার সময় জগদীশবাবু কী দিয়েছিলেন?
ক) কাঠের খড়ম
খ) সোনার আংটি
গ) ধর্মগ্রন্থ
ঘ) একশো টাকার নোট
উত্তর: ঘ) একশো টাকার নোট
১৪. “অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন” – কে চুপ করেছিলেন?
ক) হরিদা
খ) কথক
গ) জগদীশবাবু
ঘ) সন্ন্যাসী
উত্তর: ক) হরিদা
১৫. “হরিদার জীবনে সত্যিই একটা ___ আছে।”
ক) ছন্দ
খ) বৈচিত্র্য
গ) নাটকীয় বৈচিত্র্য
ঘ) মজা
উত্তর: গ) নাটকীয় বৈচিত্র্য
১৬. “___ করতে হরিদার প্রাণের মধ্যেই যেন একটা বাধা আছে।”
ক) রোজগার
খ) পরোপকার
গ) কাজ
ঘ) নাটক
উত্তর: গ) কাজ
১৭. চাকরি করা হরিদার পক্ষে সম্ভব নয় কেন?
ক) তিনি চাকরি পান না
খ) একই কাজ বারবার করা তাঁর পছন্দ নয়
গ) তিনি কাজে মন দিতে পারেন না
ঘ) তাঁর চাকরির প্রয়োজন নেই
উত্তর: খ) একই কাজ বারবার করা তাঁর পছন্দ নয়
১৮. হরিদার জীবনে নাটকীয় বৈচিত্র্য এনেছিল তাঁর কী?
ক) শখ
খ) খোলামেলা স্বভাব
গ) পরোপকারী স্বভাব
ঘ) পেশা
উত্তর: ঘ) পেশা
১৯. ‘ভাতের হাঁড়ির দাবি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) ক্ষুধা নিবারণ
খ) হাঁড়ি ভরতি রাখা
গ) জীবিকার প্রয়োজন
ঘ) জনপ্রিয়তা লাভ
উত্তর: ক) ক্ষুধা নিবারণ
২০. হরিদা কীভাবে ভাতের হাঁড়ির দাবি মেটাতেন?
ক) নাটকে অভিনয় করে
খ) বহুরূপীর সাজ দেখিয়ে
গ) সার্কাসে খেলা দেখিয়ে
ঘ) যাত্রায় গান গেয়ে
উত্তর: খ) বহুরূপীর সাজ দেখিয়ে
২১. কথকদের চার বন্ধুর আড্ডার স্থান কোথায় ছিল?
ক) চায়ের দোকানে
খ) চকের বাসস্ট্যান্ডে
গ) কথকের বাড়িতে
ঘ) হরিদার ঘরে
উত্তর: ঘ) হরিদার ঘরে
২২. কথকরা চা, চিনি ও দুধ নিজেরাই নিয়ে আসত কেন?
ক) হরিদা চা খেতেন না
খ) হরিদার বাড়িতে চায়ের জোগান ছিল না
গ) বাড়ির লোকের নিষেধ ছিল
ঘ) হরিদা কৃপণ ছিলেন
উত্তর: খ) হরিদার বাড়িতে চায়ের জোগান ছিল না
২৩. জগদীশবাবুর বাড়িতে সন্ন্যাসী কতদিন ছিলেন?
ক) পাঁচদিন
খ) তিনদিন
গ) সাতদিন
ঘ) ন-দিন
উত্তর: গ) সাতদিন
২৪. ‘বড়ো মানুষের কাণ্ডের খবর’ – বড়ো মানুষ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
ক) জগদীশবাবু
খ) নিমাইবাবু
গ) শ্রীপাখ
ঘ) কাউকেই নয়
উত্তর: ক) জগদীশবাবু
২৫. “থাকলে একবার গিয়ে পায়ের ধুলো নিতাম” – কে এ কথা বলেছিলেন?
ক) জগদীশবাবু
খ) হরিদা
গ) অনাদি
ঘ) ভবতোষ
উত্তর: খ) হরিদা
২৬. চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে হরিদা কী সেজেছিলেন?
ক) ভূত
খ) পাগল
গ) পুলিশ
ঘ) বাইজি
উত্তর: খ) পাগল
২৭. “খুব হয়েছে হরি, এবার সরে পড়ো” – কে বলেছিল?
ক) ভবতোষ
খ) অনাদি
গ) কাশীনাথ
ঘ) জনৈক বাসযাত্রী
উত্তর: গ) কাশীনাথ
২৮. চকের বাসস্ট্যান্ডে হরিদা কী সেজেছিলেন?
ক) উন্মাদ পাগল
খ) রূপসি বাইজি
গ) বিরাগী সন্ন্যাসী
ঘ) ছদ্মবেশী পুলিশ
উত্তর: ক) উন্মাদ পাগল
২৯. হরিদা কখন পাগল সেজেছিলেন?
ক) সকালে
খ) দুপুরবেলায়
গ) বিকেলে
ঘ) সন্ধ্যায়
উত্তর: খ) দুপুরবেলায়
৩০. বহুরূপী গল্পে কাশীনাথ কে?
ক) বাসের ড্রাইভার
খ) দোকানদার
গ) গল্পকথকের বন্ধু
ঘ) সন্ন্যাসী
উত্তর: ক) বাসের ড্রাইভার
৩১. গল্প শুনে কে খুব গম্ভীর হয়ে গিয়েছিলেন?
ক) জগদীশবাবু
খ) বিরাগী
গ) হরিদা
ঘ) গল্পকথক
উত্তর: গ) হরিদা
৩২. সন্ধ্যার আলো-আঁধারে হরিদা কোন সাজ নিয়েছিলেন?
ক) পাগলের
খ) বাইজির
গ) সন্ন্যাসীর
ঘ) কাপালিকের
উত্তর: খ) বাইজির
৩৩. সারাদিন বিভিন্ন রূপ ধরে ঘুরেও হরিদার রোজগার কত হতো?
ক) দু-তিন টাকার বেশি নয়
খ) তিন-চার টাকার বেশি নয়
গ) পাঁচ-ছয় টাকার বেশি নয়
ঘ) সাত-আট টাকার বেশি নয়
উত্তর: ক) দু-তিন টাকার বেশি নয়
৩৪. হরিদা নকল পুলিশ সেজে কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন?
ক) স্কুলের ভিতরে
খ) ময়দানে
গ) দয়ালবাবুর আমবাগানে
ঘ) দয়ালবাবুর লিচুবাগানে
উত্তর: ঘ) দয়ালবাবুর লিচুবাগানে
৩৫. ছাত্রদের রক্ষা করার জন্য মাস্টারমশাই কত টাকা ঘুস দিয়েছিলেন?
ক) পাঁচ টাকা
খ) এক টাকা
গ) আট আনা
ঘ) বারো আনা
উত্তর: গ) আট আনা
৩৬. নকল পুলিশকে ঘুস দিয়েছিলেন কে?
ক) হরিদা
খ) কাশীনাথ
গ) স্কুলের মাস্টারমশাই
ঘ) কেউ নয়
উত্তর: গ) স্কুলের মাস্টারমশাই
৩৭. নকল পুলিশ সেজে হরিদা কত ঘুস নিয়েছিলেন?
ক) চার আনা
খ) আট আনা
গ) এক টাকা
ঘ) দু-টাকা
উত্তর: খ) আট আনা
৩৮. “ছদ্মবেশে সেদিন হরিদার রোজগার মন্দ হয়নি” – ছদ্মবেশটি কী ছিল?
ক) বাইজির
খ) পুলিশের
গ) পাগলের
ঘ) ভিখারির
উত্তর: ক) বাইজির
৩৯. হরিদা বাইজি সেজে কখন বেরিয়েছিলেন?
ক) সকালে
খ) সন্ধ্যায়
গ) দুপুরে
ঘ) বিকেলে
উত্তর: খ) সন্ধ্যায়
৪০. “এবার মারি তো হাতি, লুটি তো ___” – শূন্যস্থানে কী হবে?
ক) খনি
খ) ব্যাংক
গ) ভাণ্ডার
ঘ) কোশাগার
উত্তর: গ) ভাণ্ডার
৪১. বাইজি বেশে হরিদার হাতে কী ছিল?
ক) বীণা
খ) ফুলসাজি
গ) ফুলের তোড়া
ঘ) পানের ডিবে
উত্তর: খ) ফুলসাজি
৪২. বাইজির ছদ্মবেশে হরিদার রোজগার কত হয়েছিল?
ক) আট টাকা
খ) আট টাকা দশ আনা
গ) দশ টাকা
ঘ) দশ টাকা আট আনা
উত্তর: খ) আট টাকা দশ আনা
৪৩. দোকানদার কোন সাজ দেখে হেসে ফেলেছিল?
ক) পাগলের
খ) রূপসি বাইজির
গ) পুলিশের
ঘ) বাউলের
উত্তর: খ) রূপসি বাইজির
৪৪. দয়ালবাবুর কীসের বাগানে হরিদা পুলিশ সেজেছিলেন?
ক) আমবাগানে
খ) লিচুবাগানে
গ) ফুলবাগানে
ঘ) কাঁঠালবাগানে
উত্তর: খ) লিচুবাগানে
৪৫. নকল পুলিশ হরিদা কতজন স্কুলছেলেকে ধরেছিলেন?
ক) চারজন
খ) পাঁচজন
গ) ছয়জন
ঘ) আটজন
উত্তর: ক) চারজন
৪৬. সপ্তাহে হরিদা বহুরূপী সেজে কতদিন বাইরে বের হতেন?
ক) একদিন
খ) দুদিন
গ) চারদিন
ঘ) পাঁচদিন
উত্তর: ক) একদিন
৪৭. কোন সাজে হরিদার সবচেয়ে বেশি রোজগার হয়েছিল?
ক) রূপসি বাইজি
খ) রাক্ষস
গ) হনুমান
ঘ) দেবী কালী
উত্তর: ক) রূপসি বাইজি
৪৮. পুলিশ সেজে হরিদা কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন?
ক) জগদীশবাবুর বাড়িতে
খ) চকের বাসস্ট্যান্ডে
গ) দয়ালবাবুর লিচুবাগানে
ঘ) চায়ের দোকানে
উত্তর: গ) দয়ালবাবুর লিচুবাগানে
৪৯. ভবতোষ-অনাদির ধারণায় জগদীশবাবু কত টাকা বকশিশ দিতে পারেন?
ক) চার আনা
খ) পাঁচ আনা
গ) একশো টাকা
ঘ) দশ টাকা
উত্তর: খ) পাঁচ আনা
৫০. ভবতোষ-অনাদিরা হরিদাকে বকশিশ হিসেবে কী দিতে পারে?
ক) টাকা
খ) পয়সা
গ) বিড়ি
ঘ) সিগারেট
উত্তর: ঘ) সিগারেট
৫১. ভবতোষ-অনাদিরা জগদীশবাবুর বাড়িতে কেন গিয়েছিল?
ক) দেখা করতে
খ) স্পোর্টের চাঁদা নিতে
গ) আড্ডা দিতে
ঘ) হুমকি দিতে
উত্তর: খ) স্পোর্টের চাঁদা নিতে
৫২. বহুরূপী সেজে সারাদিনে হরিদার উপার্জন কত হতো?
ক) এক-দু টাকা
খ) দু-তিন টাকা
গ) চার-পাঁচ টাকা
ঘ) দশ টাকা
উত্তর: খ) দু-তিন টাকা
৫৩. হরিদা জগদীশবাবুর কাছ থেকে কীভাবে মোটা টাকা আদায় করতে চেয়েছিলেন?
ক) কথকদের খেলা দেখিয়ে
খ) সন্ন্যাসী সেজে
গ) বাইজি সেজে
ঘ) জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখিয়ে
উত্তর: ঘ) জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখিয়ে
৫৪. জগদীশবাবু ধনী হলেও কেমন ছিলেন?
ক) অসৎ
খ) কৃপণ
গ) দাম্ভিক
ঘ) বিনয়ী
উত্তর: খ) কৃপণ
৫৫. হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে কখন গিয়েছিলেন?
ক) বিকেলে
খ) সন্ধ্যায়
গ) দুপুরে
ঘ) সকালে
উত্তর: খ) সন্ধ্যায়
৫৬. কথকরা কেন জগদীশবাবুর বাড়িতে উপস্থিত ছিল?
ক) মজা দেখার জন্য
খ) স্পোর্টের চাঁদা তুলতে
গ) পুজোর চাঁদা তুলতে
ঘ) নিমন্ত্রণ করতে
উত্তর: খ) স্পোর্টের চাঁদা তুলতে
৫৭. জগদীশবাবু চমকে উঠেছিলেন কেন?
ক) ভূত দেখেছিলেন
খ) অদ্ভুত সাজের এক বিরাগীকে দেখে
গ) বিরাগী টাকা নিতে চাননি বলে
ঘ) সন্ন্যাসী তাঁকে পদধূলি দিয়েছিলেন বলে
উত্তর: খ) অদ্ভুত সাজের এক বিরাগীকে দেখে
৫৮. বিরাগী সেজে হরিদা যেদিন জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলেন, সেদিন সন্ধ্যা কেমন ছিল?
ক) অপূর্ব
খ) চমৎকার
গ) অন্ধকার
ঘ) দুর্যোগপূর্ণ
উত্তর: খ) চমৎকার
৫৯. বিরাগীবেশী হরিদার পায়ে কী ছিল?
ক) জুতো
খ) খড়ম
গ) চটি
ঘ) ধুলো
উত্তর: ঘ) ধুলো
৬০. বিরাগীর মতে পরম সুখ কী?
ক) সংসার না ত্যাগ করা
খ) ঈশ্বরের সাধনা করা
গ) সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া
ঘ) পরমাত্মার দর্শন লাভ
উত্তর: গ) সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া
৬১. “সেটা পূর্বজন্মের কথা” – পূর্বজন্মে কী ছিল?
ক) রাগ
খ) ঘৃণা
গ) ঈশ্বরভক্তি
ঘ) ভালোবাসা
উত্তর: ক) রাগ
৬২. বিরাগীর ঝোলার মধ্যে কোন বই ছিল?
ক) গীতা
খ) মহাভারত
গ) কোরান
ঘ) উপনিষদ
উত্তর: ক) গীতা
৬৩. “আমি মহারাজ নই, আমি এই সৃষ্টির মধ্যে…”
ক) এক বিস্ময়
খ) এক মহা বিপর্যয়
গ) এক ইতিহাস
ঘ) এককণা ধূলি
উত্তর: ঘ) এককণা ধূলি
৬৪. “ওসব হলো সুন্দর সুন্দর এক-একটি বঞ্চনা” – ‘ওসব’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) ধন-জন-যৌবন
খ) সংসারের মায়া
গ) বাড়িঘর
ঘ) টাকার থলি
উত্তর: ক) ধন-জন-যৌবন
৬৫. ‘রিপু’ শব্দের অর্থ কী?
ক) শত্রু
খ) হিংসা
গ) বন্ধু
ঘ) মায়া
উত্তর: ক) শত্রু
৬৬. ‘রাগ’ কী ধরনের বিষয়?
ক) প্রবৃত্তি
খ) রিপু
গ) আচরণ
ঘ) অনুভূতি
উত্তর: খ) রিপু
৬৭. বিরাগী কোন রিপু নেই বলে জগদীশবাবুকে জানান?
ক) কাম
খ) ক্রোধ
গ) মদ
ঘ) মাৎসর্য
উত্তর: খ) ক্রোধ
৬৮. “সেটা পূর্বজন্মের কথা” – এখানে পূর্বজন্মের কথা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) বিরাগীর সংসারজীবন
খ) বিরাগী নির্মোহ ছিলেন না
গ) বিরাগী রাগের অধীন ছিলেন
ঘ) বিরাগী কাউকে পদধূলি দিতেন না
উত্তর: গ) বিরাগী রাগের অধীন ছিলেন
৬৯. বিরাগী জগদীশবাবুর কাছে কী চেয়েছিলেন?
ক) অর্থ
খ) নিশাযাপনের স্থান
গ) জল
ঘ) খাদ্য
উত্তর: গ) জল
৭০. লিচুবাগানে ভবতোষের কেন বিরাগীকে হরিদা বলে মনে হয়নি?
ক) কণ্ঠস্বর হরিদার মতো ছিল না
খ) ভাষা হরিদার পক্ষে বলা সম্ভব নয়
গ) আচরণ হরিদার মতো ছিল না
ঘ) হরিদা এমন আচরণ করতে পারতেন না
উত্তর: ক) কণ্ঠস্বর হরিদার মতো ছিল না
৭১. জগদীশবাবু বিরাগীকে কত টাকা প্রণামি দিতে চেয়েছিলেন?
ক) এক হাজার টাকা
খ) পাঁচশো টাকা
গ) একশো এক টাকা
ঘ) একশো টাকা
উত্তর: গ) একশো এক টাকা
৭২. জগদীশবাবুর সম্পত্তির পরিমাণ কত ছিল?
ক) বারো লক্ষ টাকা
খ) কুড়ি লক্ষ টাকা
গ) আঠারো লক্ষ টাকা
ঘ) এগারো লক্ষ টাকা
উত্তর: ঘ) এগারো লক্ষ টাকা
৭৩. “আমার অপরাধ হয়েছে” – কে বলেছিলেন?
ক) মাস্টারমশাই
খ) হরিদা
গ) ভবতোষ
ঘ) জগদীশবাবু
উত্তর: ঘ) জগদীশবাবু
৭৪. “আমি এই সৃষ্টির মধ্যে এককণা ধূলি” – কে বলেছিলেন?
ক) হরিদা
খ) মহারাজ
গ) জগদীশবাবু
ঘ) কেউ নয়
উত্তর: ক) হরিদা
৭৫. “আপনার কাছে এটা আমার প্রাণের অনুরোধ” – অনুরোধটি কী ছিল?
ক) পায়ের ধুলো চাওয়া
খ) বিরাগীকে নিজের বাড়িতে রাখতে চাওয়া
গ) উপদেশ শুনতে চাওয়া
ঘ) হরীতকী চাওয়া
উত্তর: খ) বিরাগীকে নিজের বাড়িতে রাখতে চাওয়া
৭৬. “না না, হরিদা নয়। হতেই পারে না” – কে বলেছিলেন?
ক) ভবতোষ
খ) সুবোধ
গ) জগদীশবাবু
ঘ) অনাদি
উত্তর: ক) ভবতোষ
৭৭. বিরাগীর মতে ধন-জন-যৌবন কী?
ক) মিথ্যা
খ) অনর্থের মূল
গ) অন্তহীনতার নামান্তর
ঘ) এক-একটি বঞ্চনা
উত্তর: ঘ) এক-একটি বঞ্চনা
৭৮. “আমাদের দেখতে পেয়েই লজ্জিতভাবে হাসলেন” – কে হাসলেন?
ক) ভবতোষ
খ) জগদীশবাবু
গ) সন্ন্যাসী
ঘ) হরি
উত্তর: ঘ) হরি
৭৯. “এটা কী কাণ্ড করলেন, হরিদা?” – কে বলেছিলেন?
ক) ভবতোষ
খ) অনাদি
গ) পরিতোষ
ঘ) অতীন
উত্তর: খ) অনাদি
৮০. হরিদার ঘরে কতজন আড্ডা দিত?
ক) পাঁচজন
খ) চারজন
গ) তিনজন
ঘ) ছয়জন
উত্তর: খ) চারজন
৮১. হরিদা কী ধরনের খেলা দেখাবেন বলেছিলেন?
ক) ভয়ংকর
খ) দারুণ
গ) চমৎকার
ঘ) জবর
উত্তর: ঘ) জবর
৮২. “হরিদার উনানের আগুন তখন বেশ ___ হয়ে জ্বলছে।”
ক) উজ্জ্বল
খ) গনগনে
গ) টিমটিমে
ঘ) ফ্যাকাশে
উত্তর: খ) গনগনে
৮৩. হরিদার উনুনের হাঁড়িতে কী ফুটছিল?
ক) জল
খ) চাল
গ) ভাত
ঘ) তরকারি
উত্তর: খ) চাল
৮৪. “আপনি তাহলে সত্যিই বের হয়েছিলেন! আপনিই বিরাগী?” – কে বলেছিলেন?
ক) শিবতোষ
খ) ভবতোষ
গ) অনাদি
ঘ) লেখক
উত্তর: খ) ভবতোষ
৮৫. বিরাগীবেশী হরিদার সাদা উত্তরীয় কোথায় পড়েছিল?
ক) তক্তপোশের উপর
খ) আলনায়
গ) বাক্সের উপর
ঘ) মাদুরের উপর
উত্তর: ঘ) মাদুরের উপর
৮৬. “তাতে যে আমার ___ নষ্ট হয়ে যায়।”
ক) ভেক
খ) ঢং
গ) রূপ
ঘ) সাজ
উত্তর: খ) ঢং
৮৭. হরি বিরাগী সেজে টাকা নেননি কেন?
ক) তাহলে তাঁর ঢং নষ্ট হয়ে যাবে
খ) মাথা নিচু হয়ে যাবে
গ) শিল্পকলার অবমাননা হবে
ঘ) শিল্পপ্রতিভা স্বীকৃতি পাবে না
উত্তর: ক) তাহলে তাঁর ঢং নষ্ট হয়ে যাবে
৮৮. “হরিদার একথার সঙ্গে তর্ক চলে না” – কোন কথার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে?
ক) বকশিশ দাবি করার কথা
খ) বহুরূপীর জীবন সম্পর্কে কথা
গ) বিরাগী হয়ে টাকা নিলে ঢং নষ্ট হবে
ঘ) সোনা মাড়িয়ে যাওয়ার কথা
উত্তর: গ) বিরাগী হয়ে টাকা নিলে ঢং নষ্ট হবে
৮৯. “যাবই তো। না গিয়ে উপায় কী?” – কোথায় যাওয়ার কথা বলা হয়েছে?
ক) বাসস্ট্যান্ডে
খ) দয়ালবাবুর লিচুবাগানে
গ) জগদীশবাবুর বাড়িতে
ঘ) তীর্থভ্রমণে
উত্তর: গ) জগদীশবাবুর বাড়িতে
৯০. হরিদা আবার জগদীশবাবুর বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন কেন?
ক) ক্ষমা চাইতে
খ) বকশিশ দাবি করতে
গ) ভিক্ষা চাইতে
ঘ) খড়ম নিতে
উত্তর: খ) বকশিশ দাবি করতে
৯১. “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না” – হরিদার ভুল কী ছিল?
ক) বহুরূপী সাজা
খ) সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো না নেওয়া
গ) জগদীশবাবুর বাড়ি যাওয়া
ঘ) জগদীশবাবুর দেওয়া টাকা গ্রহণ না করা
উত্তর: ঘ) জগদীশবাবুর দেওয়া টাকা গ্রহণ না করা
৯২. জগদীশবাবুর কাছ থেকে বড়োজোর আট আনা বা দশ আনা বকশিশ পাওয়া যেতে পারে – কে ভেবেছিল?
ক) গল্পকথক
খ) অনাদি
গ) ভবতোষ
ঘ) কাশীনাথ
উত্তর: গ) ভবতোষ
বহুরূপী গল্পের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন মান – ১
১. “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস” – দুর্লভ জিনিসটি কী?
উত্তর: দুর্লভ জিনিসটি হল হিমালয় থেকে আগত সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো।
২. “শুনেছেন, হরিদা, কী কাণ্ড হয়েছে?” – কোন ঘটনাকে ‘কাণ্ড’ বলা হয়েছে?
উত্তর: জগদীশবাবুর বাড়িতে হিমালয়ের গুহাবাসী এক সন্ন্যাসীর সাতদিন অবস্থান করাকে ‘কাণ্ড’ বলা হয়েছে।
৩. “খুব উঁচু দরের সন্ন্যাসী” – কেন তাঁকে উঁচু দরের বলা হয়েছে?
উত্তর: তিনি হিমালয়ের গুহায় থাকেন, সারা বছরে একটি হরীতকী খান এবং তাঁর বয়স হাজার বছরের বেশি বলে কথিত ছিল। তাই তাঁকে উঁচু দরের সন্ন্যাসী বলা হয়েছে।
৪. সন্ন্যাসী জগদীশবাবুকে পায়ের ধুলো দিতে বাধ্য হলেন কীভাবে?
উত্তর: জগদীশবাবু সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম সন্ন্যাসীর সামনে ধরেছিলেন। খড়ম পরার জন্য সন্ন্যাসী পা বাড়ালে জগদীশবাবু সেই সুযোগে তাঁর পায়ের ধুলো নেন।
৫. হরিদার পেশা কী?
উত্তর: হরিদার পেশা হল বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে বহুরূপী সেজে অর্থ উপার্জন করা।
৬. জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসী সম্পর্কে কী জানা যায়?
উত্তর: তিনি হিমালয়ের গুহায় থাকতেন, সারা বছরে একটি হরীতকী খেতেন এবং তাঁর বয়স হাজার বছরের বেশি বলে প্রচার ছিল।
৭. হরিদার হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফুটত কেন?
উত্তর: হরিদা বাঁধাধরা চাকরি করতেন না এবং সপ্তাহে মাত্র একদিন বহুরূপী সেজে উপার্জন করতেন। তাই তাঁর সংসারে অভাব লেগেই থাকত।
৮. গল্প শুনে হরিদা গম্ভীর হয়ে গেলেন কেন?
উত্তর: জগদীশবাবুর ধর্মবিশ্বাস ও অর্থসম্পদের কথা শুনে হরিদার মনে সেখানে গিয়ে বেশি অর্থ উপার্জনের পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল।
৯. হরি কেন কোথাও চাকরি করতেন না?
উত্তর: একঘেয়ে ও নিয়মে বাঁধা কাজ হরিদার স্বাধীনচেতা শিল্পীসত্তার পছন্দ ছিল না।
১০. হরি কীভাবে জীবনযাপন করতেন?
উত্তর: বহুরূপী সেজে যে সামান্য অর্থ উপার্জন করতেন, তা দিয়েই কষ্টে জীবন কাটাতেন।
১১. হরি কীভাবে ভাতের হাঁড়ির দাবি পূরণ করতেন?
উত্তর: বিভিন্ন রূপ ধারণ করে মানুষের মনোরঞ্জন করে সামান্য অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে তিনি অন্নসংস্থানের চেষ্টা করতেন।
১২. হরিদার হাঁড়িতে কখনও শুধু জল ফুটত কেন?
উত্তর: তাঁর আয় ছিল অল্প এবং নিয়মিত কোনো চাকরি ছিল না। তাই অনেক সময় খাবারের অভাবে হাঁড়িতে শুধু জলই ফুটত।
১৩. হরিদা কে?
উত্তর: হরিদা সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। তিনি একজন দরিদ্র কিন্তু প্রতিভাবান বহুরূপী শিল্পী।
১৪. সারা বছর সন্ন্যাসী কী খেতেন?
উত্তর: তিনি সারা বছরে মাত্র একটি হরীতকী খেতেন।
১৫. “বাঃ, এ তো বেশ মজার ব্যাপার” – কোন ব্যাপারকে বলা হয়েছে?
উত্তর: সন্ন্যাসীকে খড়ম পরানোর সময় জগদীশবাবু তাঁর পায়ের ধুলো সংগ্রহ করেছিলেন। এই ঘটনাকেই মজার ব্যাপার বলা হয়েছে।
১৬. সন্ন্যাসীকে বিদায় দেওয়ার সময় জগদীশবাবু কী দিয়েছিলেন?
উত্তর: জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর ঝোলায় একশো টাকার একটি নোট দিয়ে দিয়েছিলেন।
১৭. “চা চিনি আর দুধ আমরাই নিয়ে আসি” – ‘আমরা’ বলতে কারা?
উত্তর: গল্পকথক, ভবতোষ, অনাদি এবং তাঁদের আর-এক সঙ্গীকে বোঝানো হয়েছে।
১৮. জগদীশবাবু কীভাবে সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো পেয়েছিলেন?
উত্তর: সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম সন্ন্যাসীর সামনে ধরলে তিনি পা বাড়ান। সেই সময় জগদীশবাবু তাঁর পায়ের ধুলো সংগ্রহ করেন।
১৯. জগদীশবাবু সন্ন্যাসীকে কী উপহার দিয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি সন্ন্যাসীকে সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম উপহার দিয়েছিলেন।
২০. হরিদার ঘরে কারা আড্ডা দিত?
উত্তর: গল্পকথক, অনাদি, ভবতোষ এবং তাঁদের আর-এক বন্ধু হরিদার ঘরে আড্ডা দিত।
২১. হরিদার আক্ষেপের কারণ কী?
উত্তর: হিমালয় থেকে আসা সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো নিতে না পারায় হরিদা আক্ষেপ করেছিলেন।
২২. হরিদা কোথায় থাকতেন?
উত্তর: শহরের একটি সরু গলির ভিতরের ছোট ঘরে হরিদা থাকতেন।
২৩. হরিদার কোন ধরনের কাজ অপছন্দ ছিল?
উত্তর: অফিসের বাঁধাধরা কাজ বা দোকানের বিক্রিওয়ালার মতো একঘেয়ে কাজ তাঁর অপছন্দ ছিল।
২৪. হরিদার কীসে আপত্তি ছিল না?
উত্তর: অভাব ও একঘেয়েমি সহ্য করতে তাঁর আপত্তি ছিল না, কিন্তু বাঁধাধরা চাকরি করতে আপত্তি ছিল।
২৫. চকের বাসস্ট্যান্ডে আতঙ্কের হল্লা কেন উঠেছিল?
উত্তর: হরিদা পাগলের ছদ্মবেশে ইট হাতে বাসযাত্রীদের দিকে তেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
২৬. বাসযাত্রীদের কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তর: কেউ ভয় পেয়েছিল, কেউ পয়সা ছুড়েছিল, আবার পরে হরিদার আসল পরিচয় জানতে পেরে কেউ হেসেছিল এবং কেউ বিস্মিত হয়েছিল।
২৭. বাইজি সেজে হরিদা কী করেছিলেন?
উত্তর: তিনি সন্ধ্যায় ঘুঙুর পরে রূপসি বাইজির সাজে শহরের পথে ঘুরেছিলেন এবং দোকানদারদের কাছ থেকে বকশিশ নিয়েছিলেন।
২৮. হরিদা পুলিশ সেজে কাদের ধরেছিলেন?
উত্তর: তিনি দয়ালবাবুর লিচুবাগানে লিচু চুরি করতে আসা চারজন স্কুলছেলেকে ধরেছিলেন।
২৯. মাস্টারমশাই কী করেছিলেন?
উত্তর: তিনি নকল পুলিশ হরিদার কাছে অনুরোধ করে এবং আট আনা ঘুস দিয়ে ছাত্রদের মুক্ত করেছিলেন।
৩০. মাস্টারমশাই হরিদার ওপর রাগ করেননি কেন?
উত্তর: হরিদার অভিনয় ও পুলিশ সাজের দক্ষতা দেখে তিনি বরং মুগ্ধ হয়েছিলেন।
৩১. হরিদার জীবনের বহুরূপের খেলা কী?
উত্তর: কখনও পাগল, কখনও বাইজি, বাউল, কাপালিক, কাবুলিওয়ালা, কেরামিন সাহেব, পুলিশ বা বিরাগী সেজে তিনি মানুষের সামনে অভিনয় করতেন।
৩২. কোন সাজে হরিদার বেশি রোজগার হয়েছিল?
উত্তর: বাইজি সাজে তাঁর বেশি রোজগার হয়েছিল।
৩৩. অনেকের মুগ্ধ চোখের মোহভঙ্গ হয়েছিল কেন?
উত্তর: রূপসি বাইজি আসলে হরিদা – এই সত্য জানতে পেরে তাদের মোহভঙ্গ হয়েছিল।
৩৪. দোকানদার বাইজি সেজে হরিদাকে কী দিয়েছিল?
উত্তর: দোকানদার তাঁকে একটি সিকি বকশিশ দিয়েছিল।
৩৫. কেরামিন সাহেবের সাজে হরিদার পোশাক কেমন ছিল?
উত্তর: হ্যাট, কোট ও প্যান্টালুন ছিল তাঁর পোশাক।
৩৬. কাবুলিওয়ালার সাজে হরিদার কী থাকত?
উত্তর: তাঁর কাঁধে একটি বোঁচকা থাকত এবং তিনি বুড়ো কাবুলিওয়ালার বেশ নিতেন।
৩৭. মাস্টারমশাই হরিদার প্রশংসা করেছিলেন কেন?
উত্তর: হরিদা এত নিখুঁতভাবে পুলিশের সাজ নিয়েছিলেন যে মাস্টারমশাই তাঁর অভিনয় দক্ষতায় মুগ্ধ হয়েছিলেন।
৩৮. “এবারের মতো মাপ করে দিন ওদের” – কে বলেছিলেন?
উত্তর: স্কুলের মাস্টারমশাই নকল পুলিশ হরিদাকে এই কথা বলেছিলেন।
৩৯. স্কুলের ছেলেরা ভয়ে কেঁদেছিল কেন?
উত্তর: তারা লিচু চুরি করতে গিয়ে নকল পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল। শাস্তির ভয়ে তারা কেঁদেছিল।
৪০. পুলিশ সেজে হরিদা কী করেছিলেন?
উত্তর: তিনি লিচুবাগানে দাঁড়িয়ে চারটি ছেলেকে চুরি করতে দেখে ধরে ফেলেছিলেন এবং পরে আট আনা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেন।
৪১. বহুরূপী কাকে বলে?
উত্তর: যাঁরা বিভিন্ন রূপ ধারণ করে মানুষের মনোরঞ্জন করেন এবং সেই অভিনয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেন, তাঁদের বহুরূপী বলা হয়।
৪২. গল্পে ‘চমৎকার ঘটনা’ কোনটি?
উত্তর: হরিদা রূপসি বাইজির সাজে সন্ধ্যায় শহরের রাস্তায় বেরিয়ে মানুষের মনে বিস্ময় ও মুগ্ধতা সৃষ্টি করেছিলেন – এই ঘটনাই চমৎকার ঘটনা।
৪৩. “আমাদের সন্দেহ মিথ্যা নয়” – কোন সন্দেহ?
উত্তর: হরিদা সন্ন্যাসীর গল্প শুনে জগদীশবাবুর বাড়িতে কোনো নতুন কাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করছেন – এই সন্দেহ।
৪৪. কথকের মনে হয়েছিল হরিদা তাদের খেলা দেখিয়ে লাভবান হবেন না কেন?
উত্তর: কথক জানত তারা চারজনই খুব সাধারণ অবস্থার মানুষ। তাই তাদের কাছ থেকে হরিদার বেশি কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল না।
৪৫. “তোমরা সেখানে থেকো” – সেখানে কী দেখতে বলা হয়েছিল?
উত্তর: জগদীশবাবুর বাড়িতে হরিদার জবর খেলা দেখতে বলা হয়েছিল।
৪৬. সন্ন্যাসীর গল্প শুনে হরিদা কোথায় খেলা দেখানোর পরিকল্পনা করেছিলেন?
উত্তর: তিনি জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়ে খেলা দেখানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।
৪৭. “কিন্তু ওতেই বা কী হবে?” – কীসের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: বাইজি সেজে আট টাকা দশ আনা উপার্জনের কথা বলা হয়েছে। এই সামান্য টাকা দিয়ে দীর্ঘদিন চলা সম্ভব নয়।
৪৮. হরিদা কার কাছ থেকে মোটা টাকা আদায় করতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: জগদীশবাবুর কাছ থেকে।
৪৯. জগদীশবাবুর সম্পত্তির পরিমাণ কত?
উত্তর: এগারো লক্ষ টাকা।
৫০. বিরাগীর হাতে কী ছিল?
উত্তর: বিরাগীর হাতে একটি ঝোলা ছিল। সেই ঝোলায় একটি গীতা ছিল।
৫১. বিরাগীকে হরিদা নয় বলে মনে হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: তাঁর গভীর কণ্ঠস্বর, ভাষার ধরন এবং গম্ভীর আচরণ হরিদার পরিচিত স্বভাবের সঙ্গে মেলেনি।
৫২. জগদীশবাবু বিরাগীকে দেখে চমকে উঠেছিলেন কেন?
উত্তর: সাদা উত্তরীয়, সাদা থান, সাদা চুল, ধুলো মাখা পা ও ঝোলা হাতে অদ্ভুত বিরাগীর আবির্ভাব তাঁকে চমকে দিয়েছিল।
৫৩. কথকেরা কেন চমকে উঠেছিল?
উত্তর: বিরাগীর অদ্ভুত চেহারা ও সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তির মতো আচরণ দেখে তারা চমকে উঠেছিল।
৫৪. জগদীশবাবুর চোখ অপলক হয়ে গিয়েছিল কেন?
উত্তর: অদ্ভুত, শান্ত, উজ্জ্বল ও উদাত্ত চেহারার বিরাগীকে দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলেন।
৫৫. বিরাগীর পোশাক কেমন ছিল?
উত্তর: তাঁর শরীরের ঊর্ধ্বাংশ অনাবৃত ছিল, গায়ে সাদা উত্তরীয়, পরনে সাদা থান, মাথায় সাদা চুল এবং পায়ে ধুলো ছিল।
৫৬. জগদীশবাবু বিরাগীর কাছে কী প্রার্থনা করেছিলেন?
উত্তর: তিনি বিরাগীকে তাঁর বাড়িতে কয়েকদিন থাকার অনুরোধ করেছিলেন এবং তাঁর সেবা করার সুযোগ চেয়েছিলেন।
৫৭. জগদীশবাবুর বাড়ির আগন্তুক কে ছিলেন?
উত্তর: আগন্তুক ছিলেন বিরাগীর ছদ্মবেশী হরিদা।
৫৮. বিরাগী নিজের মনে হাসলেন কেন?
উত্তর: নিজের অভিনয়ের সাফল্য এবং জগদীশবাবু তাঁকে সত্যিকারের বিরাগী মনে করছেন দেখে তিনি মনে মনে হাসলেন।
৫৯. “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?” – কেন বলা হয়েছিল?
উত্তর: জগদীশবাবু নিজের অর্থসম্পদের অহংকারে বারান্দা থেকে নিচে নেমে বিরাগীকে অভ্যর্থনা করেননি। তাই তাঁকে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল।
৬০. “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?” – কাকে বলা হয়েছিল?
উত্তর: জগদীশবাবুকে এই কথা বলা হয়েছিল।
৬১. “এটা আমার প্রাণের অনুরোধ” – অনুরোধটি কী?
উত্তর: জগদীশবাবু বিরাগীকে তাঁর বাড়িতে কয়েকদিন থাকার অনুরোধ করেছিলেন।
৬২. জগদীশবাবু কিছু দিতে চাইলে বিরাগী কী বলেছিলেন?
উত্তর: বিরাগী বলেছিলেন ঈশ্বরই সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা, তাই জগদীশবাবুর কাছে তাঁর কিছু চাওয়ার নেই।
৬৩. বিরাগী কী উপদেশ দিয়েছিলেন?
উত্তর: ধন, জন ও যৌবন স্থায়ী নয়। এগুলি মানুষকে বঞ্চিত করে। তাই পরমাত্মার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করাই প্রকৃত সম্পদ।
৬৪. বিরাগীর মতে পরম সুখ কী?
উত্তর: জাগতিক সুখের সব বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়াই পরম সুখ।
৬৫. বিরাগীবেশে হরিদা জগদীশবাবুর কাছে কী চেয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি ঠান্ডা জল চেয়েছিলেন।
৬৬. “আমার অপরাধ হয়েছে” – কোন অপরাধ?
উত্তর: জগদীশবাবু বিরাগীকে অভ্যর্থনা জানাতে বারান্দা থেকে নিচে নেমে আসেননি। এটিকেই তিনি অপরাধ বলে মনে করেছিলেন।
৬৭. জগদীশবাবু কত টাকা বিরাগীকে দিতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: একশো এক টাকা।
৬৮. বিরাগী তীর্থযাত্রা করতে চাননি কেন?
উত্তর: তাঁর মতে নিজের বুকের মধ্যেই সব তীর্থ রয়েছে। তাই আলাদা করে তীর্থভ্রমণের প্রয়োজন নেই।
৬৯. জগদীশবাবু বাড়িতে থাকতে বললে বিরাগী কী বলেছিলেন?
উত্তর: তিনি বলেছিলেন, খোলা আকাশ ও পৃথিবীর মাটিতে থাকার সুযোগ থাকতে তিনি দালানবাড়ির বন্ধনে থাকতে চান না।
৭০. বিরাগী সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে কী বলেছিলেন?
উত্তর: তিনি বলেছিলেন, যেমন অনায়াসে ধুলো মাড়িয়ে চলে যেতে পারেন, তেমনই অনায়াসে সোনাও মাড়িয়ে যেতে পারেন।
৭১. “আমাদের দেখতে পেয়েই লজ্জিতভাবে হাসলেন” – কে?
উত্তর: হরিদা।
৭২. হরিদা লজ্জিতভাবে হাসলেন কেন?
উত্তর: তাঁর অভিনয়ের কৃতিত্ব দেখে এবং বন্ধুরা তাঁকে চিনে ফেলেছে বুঝে তিনি লজ্জিতভাবে হাসেন।
৭৩. হরিদার ‘ভুল’ কী ছিল?
উত্তর: জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা গ্রহণ না করাকে তাঁর ভুল বলা হয়েছে।
৭৪. “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়” – কেন বলেছিলেন?
উত্তর: বিরাগীর সাজে থেকে অর্থ গ্রহণ করলে সেই চরিত্রের নিরাসক্ত ভাব নষ্ট হয়ে যেত। তাই তিনি টাকা নেননি।
৭৫. ভবতোষের অনুমান অনুযায়ী হরিদা কত বকশিশ পেতে পারেন?
উত্তর: বড়োজোর আট আনা বা দশ আনা।
৭৬. অনাদি কোন কাণ্ডের কথা বলেছিল?
উত্তর: জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা বিরাগী সেজে হরিদা গ্রহণ না করায় অনাদি বিস্মিত হয়েছিল।
৭৭. হরিদার অদ্ভুত কথা কী ছিল?
উত্তর: বিরাগীর সাজে টাকা নিলে তাঁর ‘ঢং’ নষ্ট হয়ে যাবে – এই কথাই অদ্ভুত বলে মনে হয়েছিল।
৭৮. “হরিদার একথার সঙ্গে তর্ক চলে না” – কোন কথা?
উত্তর: বিরাগীর সাজে টাকা গ্রহণ করলে তাঁর ঢং নষ্ট হয়ে যাবে – এই কথার সঙ্গে তর্ক চলে না।
৭৯. হরিদা কীভাবে তাঁর ঢং বজায় রেখেছিলেন?
উত্তর: জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা গ্রহণ না করে তিনি বিরাগীর নিরাসক্ত চরিত্র বজায় রেখেছিলেন।
৮০. হরি প্রণামির টাকা নেননি কেন?
উত্তর: তিনি নিজের অভিনীত বিরাগী চরিত্রের প্রতি এতটাই নিষ্ঠাবান ছিলেন যে অর্থ গ্রহণ করলে তাঁর চরিত্রের আদর্শ নষ্ট হবে বলে মনে করেছিলেন।
৮১. “যাবই তো। না গিয়ে উপায় কী?” – কেন না গিয়ে উপায় ছিল না?
উত্তর: বহুরূপী সেজে উপার্জন করাই হরিদার জীবিকার প্রধান উপায়। তাই দারিদ্র্যের কারণে তাঁকে আবার জগদীশবাবুর কাছে বকশিশ চাইতে যেতে হতো।
৮২. ভবতোষ চমকে উঠেছিল কেন?
উত্তর: বিরাগীবেশী ব্যক্তি আসলে হরিদা ছিলেন – এই সত্য জানতে পেরে ভবতোষ চমকে ওঠে।
৮৩. “ভাতের হাঁড়ি মাঝে মাঝে শুধু জল ফুটিয়েই সারা হবে” – এর অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হল হরিদার দারিদ্র্য এত গভীর যে অনেক সময় তাঁর খাবার জোটে না।
৮৪. “খাঁটি মানুষ তো নয়, এই বহুরূপীর জীবন এর বেশি কী আশা করতে পারে?” – কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: হরিদা বুঝেছিলেন যে একজন সাধারণ বহুরূপীর কাছে বিপুল অর্থ পাওয়ার আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর পেশা অনুযায়ী সামান্য বকশিশই তাঁর প্রাপ্য।
বহুরূপী গল্পের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন মান – ৩
১. ‘আক্ষেপ করেন হরিদা’ – হরিদা কে? তাঁর আক্ষেপের কারণ কী?
উত্তর: হরিদা সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রধান চরিত্র। তিনি অত্যন্ত দরিদ্র এবং তাঁর পেশা হল বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে অর্থ উপার্জন করা।
জগদীশবাবুর বাড়িতে হিমালয় থেকে আসা এক আশ্চর্য সন্ন্যাসীর সাতদিন থাকার কথা শুনে হরিদা অত্যন্ত কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। তিনি জানতে পারেন সন্ন্যাসীর বয়স হাজার বছরের বেশি, তিনি সারা বছরে মাত্র একটি হরীতকী খান এবং তাঁর পায়ের ধুলো অত্যন্ত দুর্লভ। কিন্তু সন্ন্যাসী ইতিমধ্যেই চলে যাওয়ায় হরিদা তাঁর পায়ের ধুলো নিতে পারেননি। এই কারণেই তিনি আক্ষেপ করেন।
২. “বড়ো মানুষের কাণ্ডের খবর আমি কেমন করে শুনব?” – বক্তা কে? কোন কাণ্ডের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: বক্তা হলেন হরিদা।
জগদীশবাবুর বাড়িতে হিমালয়ের এক আশ্চর্য সন্ন্যাসী সাতদিন অবস্থান করেছিলেন। তাঁর পায়ের ধুলো পাওয়ার জন্য জগদীশবাবু সোনার বোল লাগানো খড়ম ব্যবহার করেন এবং বিদায়ের সময় একশো টাকা দেন। এই ঘটনাকেই বড়ো মানুষের কাণ্ড বলা হয়েছে।
৩. “খুব উঁচু দরের সন্ন্যাসী” – তাঁর পরিচয় দাও।
উত্তর: জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীকে অত্যন্ত উচ্চস্তরের সাধু বলে মনে করা হয়েছিল। তিনি হিমালয়ের গুহায় থাকেন, সারা বছরে মাত্র একটি হরীতকী খান এবং তাঁর বয়স হাজার বছরের বেশি বলে প্রচার ছিল। তাঁর পায়ের ধুলোও অত্যন্ত দুর্লভ বলে সবাই মনে করত।
৪. হরিদার জীবিকা কী? কেন তাঁর হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফুটত?
উত্তর: হরিদার জীবিকা ছিল বহুরূপী সেজে মানুষের মনোরঞ্জন করে অর্থ উপার্জন করা।
হরিদা বাঁধাধরা কোনো চাকরি করতেন না। অফিসের নিয়মিত কাজ বা দোকানের বিক্রিওয়ালার মতো একঘেয়ে কাজ তাঁর পছন্দ ছিল না। সপ্তাহে বড়োজোর একদিন বহুরূপী সেজে বেরিয়ে অল্প কিছু টাকা উপার্জন করতেন। তাই তাঁর সংসারে অভাব লেগেই থাকত এবং অনেক সময় ভাতের বদলে হাঁড়িতে শুধু জল ফুটত।
৫. “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস” – কোন জিনিসের কথা বলা হয়েছে? তা দুর্লভ কেন?
উত্তর: এখানে হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলোর কথা বলা হয়েছে।
সন্ন্যাসীকে অত্যন্ত উচ্চস্তরের সাধু বলে প্রচার করা হয়েছিল। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতেন না। জগদীশবাবুই কৌশলে সোনার বোল লাগানো খড়ম তাঁর সামনে রেখে পা বাড়াতে বাধ্য করান এবং সেই সময় তাঁর পায়ের ধুলো সংগ্রহ করেন। তাই সেটিকে দুর্লভ জিনিস বলা হয়েছে।
৬. “হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে” – এমন বলার কারণ কী?
উত্তর: হরিদার জীবন ছিল সাধারণ মানুষের মতো একঘেয়ে নয়। তিনি কখনও পাগল, কখনও বাইজি, কখনও পুলিশ, কখনও কাবুলিওয়ালা, কেরামিন সাহেব বা বিরাগীর সাজ নিতেন। প্রতিটি চরিত্রে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে মানিয়ে নিতে পারতেন।
তাঁর জীবনে কখনও মানুষের হাসি, কখনও ভয়, কখনও বিস্ময় এবং কখনও মুগ্ধতা দেখা দিত। তাই তাঁর বহুরূপীর জীবনকে নাটকীয় বৈচিত্র্যময় বলা হয়েছে।
৭. “কাজ করতে হরিদার প্রাণের মধ্যেই যেন একটা বাধা আছে” – কেন?
উত্তর: হরিদা ছিলেন স্বাধীনচেতা এবং শিল্পীস্বভাবের মানুষ। অন্যের অধীনে থেকে নিয়ম মেনে প্রতিদিন একই কাজ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। অর্থাভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি বাঁধাধরা চাকরি বেছে নেননি। স্বাধীনভাবে নিজের শিল্পকে প্রকাশ করার আকাঙ্ক্ষাই তাঁকে সাধারণ কাজ থেকে দূরে রেখেছিল।
৮. “একঘেয়ে কাজ করতে ভয়ানক আপত্তি” – কার কথা বলা হয়েছে? কারণ কী?
উত্তর: হরিদার কথা বলা হয়েছে। হরিদা স্বাধীনচেতা শিল্পী ছিলেন। ঘড়ির কাঁটা মেনে প্রতিদিন একই কাজ করা তাঁর স্বভাবের সঙ্গে মিলত না। তাই তিনি অনিশ্চিত হলেও বৈচিত্র্যময় বহুরূপীর পেশাকে বেছে নিয়েছিলেন।
৯. “আতঙ্কের হল্লা” বলতে কী বোঝানো হয়েছে? বাসস্ট্যান্ডে কী ঘটেছিল?
উত্তর: ‘আতঙ্কের হল্লা’ বলতে বাসযাত্রীদের ভয়ে চিৎকার ও হইচইকে বোঝানো হয়েছে।
হরিদা একদিন পাগলের সাজে চকের বাসস্ট্যান্ডে হাজির হন। মুখে লালা, লাল চোখ, গলায় কৌটোর মালা এবং হাতে ইট নিয়ে তিনি বাসযাত্রীদের দিকে তেড়ে যান। ফলে যাত্রীরা ভয়ে চিৎকার শুরু করে। পরে কাশীনাথের কথায় বোঝা যায়, তিনি আসলে বহুরূপী হরিদা।
১০. “খুব হয়েছে হরি, এবার সরে পড়ো” – বক্তা কে? কখন বলেছিলেন?
উত্তর: বক্তা বাসচালক কাশীনাথ।
হরিদা পাগলের সাজে বাসযাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে বাসের পরিবেশ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। তখন কাশীনাথ তাঁকে ধমক দিয়ে সরে যেতে বলেন।
১১. হরিদার জীবনের বহুরূপের খেলার পরিচয় দাও।
উত্তর: হরিদা ছিলেন দক্ষ বহুরূপী। তিনি কখনও পাগল, কখনও বাইজি, কখনও বাউল, কাপালিক, কাবুলিওয়ালা, কেরামিন সাহেব, পুলিশ কিংবা বিরাগী সেজেছেন।
পাগল সেজে তিনি বাসযাত্রীদের ভয় দেখিয়েছিলেন। বাইজি সেজে শহরের মানুষকে মুগ্ধ করেছিলেন। পুলিশ সেজে চারজন স্কুলছেলেকে ধরেছিলেন। আবার বিরাগীর সাজে জগদীশবাবুর সামনে এমন অভিনয় করেছিলেন যে তিনি সত্যিই একজন সাধু বলে মনে করেছিলেন।
১২. “কিছু দোকানদার হেসে ফেলে – হরির কাণ্ড” – কী কাণ্ড?
উত্তর: সন্ধ্যায় হরিদা রূপসি বাইজির সাজে ঘুঙুরের শব্দ তুলে শহরের রাস্তায় বেরিয়েছিলেন। তিনি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ফুলের সাজি এগিয়ে দিতেন এবং দোকানদাররা তাঁকে বকশিশ দিত। তাঁর এই অভিনয় দেখে কেউ মুগ্ধ হয়, কেউ হাসে। এই ঘটনাকেই ‘হরির কাণ্ড’ বলা হয়েছে।
১৩. বাইজি সেজে হরিদার রোজগার ভালো হয়েছিল কেন?
উত্তর: বাইজির সাজে হরিদার অভিনয় ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। সন্ধ্যার আলো, ঘুঙুরের শব্দ, সাজসজ্জা এবং তাঁর অভিনয় শহরের মানুষকে মুগ্ধ করেছিল। অনেক দোকানদার তাঁকে বকশিশ দিয়েছিল। ফলে সেদিন তাঁর মোট আট টাকা দশ আনা রোজগার হয়েছিল।
১৪. পুলিশ সেজে হরিদা কীভাবে মাস্টারমশাইকে বোকা বানিয়েছিলেন?
উত্তর: হরিদা দয়ালবাবুর লিচুবাগানে পুলিশ সেজে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চারটি স্কুলছেলে লিচু চুরি করতে এসে তাঁর হাতে ধরা পড়ে। ছেলেরা ভয়ে কেঁদে ফেললে মাস্টারমশাই এসে তাদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। হরিদা নিজেকে সত্যিকারের পুলিশ হিসেবে উপস্থাপন করে শেষ পর্যন্ত আট আনা ঘুস নেন এবং ছেলেদের ছেড়ে দেন।
১৫. “বড়ো চমৎকার আজকে এই সন্ধ্যার চেহারা” – কোন সন্ধ্যার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: যে সন্ধ্যায় হরিদা বিরাগীর সাজে জগদীশবাবুর বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, সেই সন্ধ্যার কথা বলা হয়েছে।
সন্ধ্যাটি ছিল শান্ত, স্নিগ্ধ ও মনোরম। চাঁদের আলো, ফুরফুরে বাতাস এবং গাছের পাতার মৃদু শব্দ পরিবেশকে আরও সুন্দর করে তুলেছিল।
১৬. “তবে কিছু উপদেশ শুনিয়ে যান” – কে কার কাছে উপদেশ চেয়েছিলেন?
উত্তর: জগদীশবাবু বিরাগীর কাছে উপদেশ চেয়েছিলেন।
বিরাগী তাঁকে বোঝান যে ধন, জন ও যৌবন স্থায়ী নয়। এগুলি সুন্দর হলেও মানুষকে বঞ্চিত করে। প্রকৃত সম্পদ হল পরমাত্মাকে লাভ করা এবং তাঁর সঙ্গে অন্তরের সম্পর্ক স্থাপন করা।
১৭. “আপনার কাছে এটা আমার প্রাণের অনুরোধ” – অনুরোধকারী কে? কী অনুরোধ করেছিলেন?
উত্তর: অনুরোধকারী ছিলেন জগদীশবাবু। তিনি বিরাগীকে তাঁর বাড়িতে কয়েকদিন থাকার অনুরোধ করেছিলেন, যাতে তিনি তাঁর সেবা করতে পারেন।
কিন্তু বিরাগী প্রকৃতির মুক্ত পরিবেশে থাকতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি জগদীশবাবুর প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।
১৮. “আমি এই সৃষ্টির মধ্যে এককণা ধূলি” – বক্তা কে? তাৎপর্য কী?
উত্তর: বক্তা হলেন বিরাগীর ছদ্মবেশী হরিদা।
জগদীশবাবুর অর্থের অহংকারের বিপরীতে হরিদা নিজেকে সৃষ্টির এক তুচ্ছ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে অর্থসম্পদ মানুষের প্রকৃত মহত্ত্বের মাপকাঠি নয়।
১৯. “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?” – কাকে বলা হয়েছিল এবং কেন?
উত্তর: জগদীশবাবুকে এই কথা বলা হয়েছিল।
তিনি বিরাগীকে বারান্দা থেকেই অভ্যর্থনা করেছিলেন, কিন্তু তাঁর কাছে নেমে আসেননি। অর্থসম্পদের অহংকার তাঁকে বিনয় ও মানবিকতার স্বাভাবিক আচরণ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। তাই বিরাগী তাঁকে প্রশ্নটি করেন।
২০. “আমার অপরাধ হয়েছে। আপনি রাগ করবেন না” – বক্তা কে?
উত্তর: বক্তা জগদীশবাবু।
বিরাগীকে যথাযথ সম্মান দেখাতে না পারায় জগদীশবাবু নিজের ভুল বুঝতে পারেন। তাঁর অর্থের অহংকারের কারণে তিনি বিরাগীকে নিচে নেমে অভ্যর্থনা করেননি। তাই তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।
২১. “আমার বুকের ভিতরেই যে সব তীর্থ” – বক্তা কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: বিরাগীবেশী হরিদা বলেছেন, প্রকৃত তীর্থ মানুষের অন্তরের মধ্যেই অবস্থিত। বাহ্যিক তীর্থভ্রমণ বা অর্থের সাহায্যে আধ্যাত্মিকতা অর্জন করা যায় না। এই কথার মাধ্যমে তিনি জাগতিক মোহ ও বাহ্যিক আড়ম্বরকে তুচ্ছ করেছেন।
২২. “ভাতের হাঁড়ি মাঝে মাঝে শুধু জল ফুটিয়েই সারা হবে” – কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: হরিদা জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা গ্রহণ করেননি। অথচ তাঁর জীবিকা ছিল অত্যন্ত অনিশ্চিত। সপ্তাহে মাত্র একদিন বহুরূপী সেজে অল্প অর্থ উপার্জন করতেন। ফলে টাকা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর দারিদ্র্য আরও বজায় রাখবে – এই অর্থেই কথাটি বলা হয়েছে।
২৩. “এটা কী কাণ্ড করলেন, হরিদা?” – কোন কাণ্ড?
উত্তর: বিরাগী সেজে হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে একশো এক টাকা প্রণামি পাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেই টাকা গ্রহণ না করে চলে আসেন। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাই ‘কাণ্ড’।
২৪. “কী অদ্ভুত কথা বললেন হরিদা” – অদ্ভুত কথাটি কী?
উত্তর: হরিদা বলেছিলেন, বিরাগী সেজে টাকা গ্রহণ করলে তাঁর ‘ঢং নষ্ট হয়ে যাবে’। একজন দরিদ্র মানুষ হয়েও এত বড় অঙ্কের টাকা প্রত্যাখ্যান করায় কথাটি সবার কাছে অদ্ভুত মনে হয়েছিল।
২৫. “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়” – ‘ঢং’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এখানে ‘ঢং’ বলতে শুধু বাহ্যিক ছদ্মবেশ নয়, সেই চরিত্রের মানসিকতা ও আদর্শকেও বোঝানো হয়েছে। বিরাগী চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য হল নিরাসক্তি। তাই টাকা গ্রহণ করলে তাঁর বিরাগীর চরিত্রটি মিথ্যা হয়ে যেত।
২৬. “হরিদার উনানের আগুন তখন বেশ গনগনে হয়ে জ্বলছে” – এর তাৎপর্য কী?
উত্তর: হরিদার উনানের আগুন তাঁর জীবনের মৌলিক খাদ্যচাহিদার প্রতীক। একদিকে তিনি বিরাগীর মতো জাগতিক অর্থকে তুচ্ছ করেছেন, অন্যদিকে তাঁর বাস্তব জীবনে খাবারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই আধ্যাত্মিক আদর্শ ও বাস্তব জীবনের ক্ষুধার মধ্যে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে, উনানের আগুন তার প্রতীক।
বহুরূপী গল্পের রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
১. “গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা” – গল্পটি কী ছিল? হরিদা গম্ভীর হলেন কেন?
উত্তর: কথক ও তাঁর বন্ধুরা হরিদাকে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা এক আশ্চর্য সন্ন্যাসীর গল্প শোনায়। সন্ন্যাসী নাকি হিমালয়ের গুহায় থাকেন, সারা বছরে মাত্র একটি হরীতকী খান এবং তাঁর বয়স হাজার বছরের বেশি। জগদীশবাবু তাঁর পায়ের ধুলো পাওয়ার জন্য সোনার বোল লাগানো খড়ম ব্যবহার করেছিলেন এবং বিদায়ের সময় একশো টাকা দিয়েছিলেন।
এই গল্প শুনে হরিদা গম্ভীর হয়ে যান। কারণ তিনি বুঝতে পারেন, জগদীশবাবুর ধর্মবিশ্বাস এবং অর্থসম্পদের কারণে তাঁর কাছ থেকে মোটা টাকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই হরিদা সেখানে একটি বিশেষ ছদ্মবেশে গিয়ে অভিনয় করার পরিকল্পনা করেন।
হরিদার জীবনে বৈচিত্র্যের অভাব ছিল না। তিনি কখনও পাগল, কখনও বাইজি, কখনও পুলিশ, কখনও কাবুলিওয়ালা, আবার কখনও বিরাগী সেজেছেন। এই পেশা তাঁকে নিয়মিত আয় না দিলেও স্বাধীনতা ও সৃষ্টিশীলতার সুযোগ দিয়েছিল।
২. “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস” – দুর্লভ জিনিসটি কী? কে কীভাবে তা পেয়েছিলেন?
উত্তর: দুর্লভ জিনিসটি হল হিমালয় থেকে আগত সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো।
জগদীশবাবুর বাড়িতে সাতদিন অবস্থানকারী সন্ন্যাসীকে সবাই অত্যন্ত উচ্চস্তরের সাধু বলে মনে করত। তিনি হিমালয়ের গুহায় থাকেন, সারা বছরে মাত্র একটি হরীতকী খান এবং তাঁর বয়স হাজার বছরের বেশি – এমন কথাই প্রচলিত ছিল।
জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো পাওয়ার জন্য বিশেষ কৌশল নেন। তিনি একটি কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর সামনে ধরেন। সন্ন্যাসী খড়ম পরার জন্য পা বাড়ালে জগদীশবাবু সেই সুযোগে তাঁর পায়ের ধুলো সংগ্রহ করেন।
এইভাবে জগদীশবাবু এমন একটি জিনিস লাভ করেন, যা অন্য কেউ সহজে পায়নি। বিদায়ের সময় তিনি সন্ন্যাসীর ঝোলায় একশো টাকার নোটও দিয়ে দেন।
৩. “খুব হয়েছে হরি, এবার সরে পড়ো” – বক্তা কে? প্রসঙ্গ ও প্রতিক্রিয়া লেখো।
উত্তর: বক্তা বাসচালক কাশীনাথ।
একদিন দুপুরে হরিদা পাগলের ছদ্মবেশে চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে উপস্থিত হন। তাঁর মুখে লালা, চোখ লাল, গলায় কৌটোর মালা এবং হাতে থান ইট ছিল। তিনি বাসের যাত্রীদের দিকে তেড়ে গেলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
যাত্রীরা ভয়ে চিৎকার করতে থাকে। কেউ কেউ তাঁকে শান্ত করার জন্য পয়সা ছুড়ে দেয়। পরে কাশীনাথ হরিদাকে চিনতে পারেন এবং ধমক দিয়ে সরে যেতে বলেন।
হরিদার আসল পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার পর কেউ হাসে, কেউ বিরক্ত হয় এবং কেউ তাঁর অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়। এই ঘটনায় তাঁর অভিনয়ের দক্ষতা স্পষ্ট হয়।
৪. “অথচ আপনি একেবারে খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো সব তুচ্ছ করে সরে পড়লেন” – হরিদার আচরণ আলোচনা করো।
উত্তর: হরিদা ছিলেন একজন দরিদ্র বহুরূপী। তাঁর জীবনে অর্থের অভাব ছিল, তবুও বিরাগীর সাজ ধারণ করার পর তিনি চরিত্রটির সঙ্গে সম্পূর্ণ একাত্ম হয়ে যান।
জগদীশবাবু তাঁর কথাবার্তা ও আচরণে মুগ্ধ হয়ে একশো এক টাকা প্রণামি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হরিদা সেই অর্থ স্পর্শও করেননি। তিনি বুঝেছিলেন, বিরাগীর চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য হল জাগতিক সম্পদের প্রতি অনাসক্তি।
হরিদা বলেছিলেন, তিনি যেমন অনায়াসে ধুলো মাড়িয়ে চলে যেতে পারেন, তেমনই সোনাও মাড়িয়ে যেতে পারেন। একজন দরিদ্র মানুষের কাছে এত বড় অঙ্কের টাকা প্রত্যাখ্যান করা সহজ ছিল না। কিন্তু শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা ও আত্মসম্মানের কারণে তিনি তা করেছিলেন।
এই ঘটনায় বোঝা যায়, হরিদা শুধু বাহ্যিকভাবে বহুরূপী ছিলেন না। তিনি যে চরিত্রে অভিনয় করতেন, সেই চরিত্রের মানসিকতাকেও নিজের মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করতেন।
৫. “খাঁটি মানুষ তো নয়, এই বহুরূপীর জীবন এর বেশি কী আশা করতে পারে?” – বক্তা কে? তাৎপর্য কী?
উত্তর: বক্তা হরিদা।
জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগীর সাজে গিয়ে হরিদার উদ্দেশ্য ছিল বেশি টাকা উপার্জন করা। জগদীশবাবু তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে একশো এক টাকা প্রণামি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হরিদা সেই টাকা গ্রহণ করেননি।
হরিদা জানতেন, তাঁর মতো একজন বহুরূপীকে কেউ বিপুল অর্থ দেবে না। তাঁর পেশার সঙ্গে সামান্য বকশিশই স্বাভাবিকভাবে যুক্ত। তাই তিনি নিজেকে ‘খাঁটি মানুষ’ বা প্রকৃত বিরাগী বলে দাবি না করলেও বাস্তবে তাঁর কাজ তাঁকে প্রকৃত বিরাগীর মর্যাদায় উন্নীত করেছে।
এই ঘটনায় হরিদার আত্মসম্মান, শিল্পনিষ্ঠা ও নির্লোভ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
৬. “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না” – হরিদার ভুল কী? এর পরিণতি কী?
উত্তর: হরিদার ভুল ছিল জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা গ্রহণ না করা।
হরিদার জীবন ছিল চরম দারিদ্র্যে ভরা। সপ্তাহে মাত্র একদিন বহুরূপী সেজে তিনি সামান্য টাকা উপার্জন করতেন। অনেক সময় তাঁর বাড়িতে খাবারও জুটত না।
জগদীশবাবুর কাছ থেকে একশো এক টাকা পাওয়া তাঁর জীবনে বিরাট পরিবর্তন আনতে পারত। কিন্তু বিরাগীর চরিত্রের প্রতি নিষ্ঠা বজায় রাখতে তিনি সেই অর্থ প্রত্যাখ্যান করেন।
ফলে বাস্তব জীবনে তাঁর দারিদ্র্য থেকেই যায়। ভবতোষ ও অনাদির চোখে এটি ছিল এমন একটি সুযোগ নষ্ট করা, যা অদৃষ্ট সহজে ক্ষমা করবে না।
৭. “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়” – উক্তির প্রসঙ্গ ও হরিদার মনোভাব আলোচনা করো।
উত্তর: হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগীর ছদ্মবেশে গিয়েছিলেন। যাওয়ার আগে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল জগদীশবাবুর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করা। কিন্তু বিরাগীর চরিত্রে অভিনয় শুরু করার পর তিনি সম্পূর্ণ বদলে যান।
জগদীশবাবু তাঁকে একশো এক টাকা দিতে চাইলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। বন্ধুরা কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকা নিলে তাঁর ‘ঢং’ নষ্ট হয়ে যাবে।
এখানে ‘ঢং’ শুধু পোশাক বা ছদ্মবেশ নয়। হরিদার কাছে এটি চরিত্রের মানসিকতা ও আদর্শের সঙ্গে যুক্ত। বিরাগী অর্থের প্রতি অনাসক্ত। তাই টাকা গ্রহণ করলে তাঁর অভিনয়ের সত্যতা নষ্ট হয়ে যেত।
হরিদা দরিদ্র হলেও শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ছিল। তাঁর আত্মসম্মান ও শিল্পনিষ্ঠাই তাঁকে সেই একশো এক টাকা প্রত্যাখ্যান করতে সাহায্য করেছিল।
বহুরূপী গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র
হরিদা
হরিদা গল্পের প্রধান চরিত্র। তিনি দরিদ্র হলেও অত্যন্ত প্রতিভাবান বহুরূপী শিল্পী। বাঁধাধরা চাকরি তাঁর পছন্দ নয়। বিভিন্ন রূপ ধারণ করে মানুষের মনোরঞ্জন করাই তাঁর জীবিকা।
জগদীশবাবু
জগদীশবাবু একজন ধনী ব্যক্তি। তাঁর বিপুল সম্পত্তি থাকলেও তিনি কৃপণ এবং অর্থের অহংকারে আক্রান্ত। সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো পাওয়ার জন্য তাঁর প্রবল আগ্রহ এবং বিরাগীর প্রতি তাঁর আচরণের মাধ্যমে তাঁর চরিত্র প্রকাশ পেয়েছে।
ভবতোষ
ভবতোষ গল্পকথকের বন্ধুদের একজন। হরিদার নানা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সে কৌতূহলী। হরিদা জগদীশবাবুর দেওয়া টাকা না নেওয়ায় সে বিশেষভাবে বিস্মিত হয়।
অনাদি
অনাদি হরিদার ঘরে আড্ডা দেওয়া বন্ধুদের একজন। হরিদার কাজকর্ম নিয়ে সে আলোচনা করে এবং বিরাগীর ছদ্মবেশের রহস্য জানার পর বিস্মিত হয়।
বহুরূপী গল্পের মূলভাব
সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রধান বিষয় শুধু একজন বহুরূপী শিল্পীর জীবন নয়। এর মধ্যে দারিদ্র্য, শিল্পীর স্বাধীনতা, আত্মসম্মান, অর্থের অহংকার এবং মানবিকতার প্রশ্নও রয়েছে।
হরিদা অর্থের অভাবে কষ্ট পেলেও নিজের শিল্পীসত্তাকে বিক্রি করেননি। বিরাগীর চরিত্রে অভিনয় করার সময় তিনি জগদীশবাবুর দেওয়া বিপুল অর্থ প্রত্যাখ্যান করেন। এতে তাঁর শিল্পনিষ্ঠা ও আত্মসম্মান প্রকাশ পায়।
অন্যদিকে জগদীশবাবুর অর্থসম্পদ তাঁকে সবসময় সুখী বা মহৎ করে তুলতে পারেনি। গল্পটি তাই বাহ্যিক সম্পদের চেয়ে মানুষের অন্তরের মূল্যকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
পরীক্ষার জন্য বহুরূপী গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
- হরিদার চরিত্র আলোচনা করো।
- ‘বহুরূপী’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
- হরিদার জীবনে নাটকীয় বৈচিত্র্য কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে?
- হরিদা কেন বাঁধাধরা চাকরি পছন্দ করতেন না?
- জগদীশবাবুর চরিত্র আলোচনা করো।
- “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়” – উক্তিটির তাৎপর্য লেখো।
- হরিদা কেন জগদীশবাবুর একশো এক টাকা গ্রহণ করেননি?
- গল্পে হরিদার শিল্পীসত্তার পরিচয় দাও।
- হরিদা ও জগদীশবাবুর চরিত্রের পার্থক্য আলোচনা করো।
- ‘বহুরূপী’ গল্পে দারিদ্র্য ও আত্মসম্মানের দ্বন্দ্ব আলোচনা করো।
বহুরূপী গল্পের FAQs
১. বহুরূপী গল্পের লেখক কে?
উত্তর: ‘বহুরূপী’ গল্পের লেখক সুবোধ ঘোষ।
২. বহুরূপী গল্পের প্রধান চরিত্র কে?
উত্তর: গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা।
৩. হরিদার পেশা কী?
উত্তর: হরিদা একজন বহুরূপী। বিভিন্ন সাজ ধারণ করে মানুষের মনোরঞ্জন করে তিনি অর্থ উপার্জন করতেন।
৪. জগদীশবাবুর সম্পত্তি কত ছিল?
উত্তর: গল্পে জগদীশবাবুর সম্পত্তির পরিমাণ এগারো লক্ষ টাকা বলা হয়েছে।
৫. সন্ন্যাসী সারা বছরে কী খেতেন?
উত্তর: তিনি সারা বছরে মাত্র একটি হরীতকী খেতেন বলে গল্পে উল্লেখ আছে।
৬. হরিদা কেন চাকরি করতেন না?
উত্তর: নিয়মে বাঁধা একঘেয়ে চাকরি হরিদার স্বাধীনচেতা শিল্পীসত্তার পছন্দ ছিল না।
৭. বাইজি সেজে হরিদা কত টাকা উপার্জন করেছিলেন?
উত্তর: আট টাকা দশ আনা।
৮. হরিদা পুলিশ সেজে কাদের ধরেছিলেন?
উত্তর: দয়ালবাবুর লিচুবাগানে লিচু চুরি করতে আসা চারজন স্কুলছেলেকে।
৯. জগদীশবাবু বিরাগীকে কত টাকা দিতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: একশো এক টাকা।
১০. হরিদা টাকা নেননি কেন?
উত্তর: বিরাগীর ছদ্মবেশে টাকা গ্রহণ করলে তাঁর ‘ঢং’ বা চরিত্রের নিরাসক্ত ভাব নষ্ট হয়ে যেত বলে তিনি টাকা নেননি।
উপসংহার
মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার জন্য বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির অংশ। হরিদার বিচিত্র জীবন, তাঁর শিল্পীসত্তা, দারিদ্র্য, আত্মসম্মান এবং জগদীশবাবুর অর্থের অহংকার – প্রতিটি বিষয় থেকেই পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে।
তাই শুধু MCQ নয়, অতি সংক্ষিপ্ত, ব্যাখ্যামূলক এবং রচনাধর্মী প্রশ্নগুলিও ভালোভাবে পড়ে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। ProshnoUttor.in-এ মাধ্যমিক ও বিভিন্ন শ্রেণির বাংলা বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।