হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর | Hariyе Jaoa Kali Kolom Question Answer | Class 10 Bengali | নিখিল সরকার | WBBSE

মাধ্যমিক বাংলা বিষয়ের ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধটি নিখিল সরকার ওরফে শ্রীপান্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা। এই প্রবন্ধে পুরনো দিনের কালি, বাঁশের কলম, খাগের কলম, পালকের কলম, ফাউন্টেন পেন, দোয়াত এবং লিপি-কুশলীদের কথা সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এই পোস্টে হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর সহজ বাংলায় দেওয়া হলো। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য MCQ, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর একসঙ্গে সাজানো হয়েছে।

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম – সংক্ষিপ্ত পরিচয়

প্রবন্ধ: হারিয়ে যাওয়া কালি কলম
রচয়িতা: শ্রীপান্থ
প্রকৃত নাম: নিখিল সরকার
শ্রেণি: দশম
বিষয়: বাংলা
বোর্ড: WBBSE

বহুনির্বাচনী প্রশ্নোত্তর

১. ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধটির লেখক কে?

(ক) পরশুরাম
(খ) শ্রীপান্থ
(গ) বনফুল
(ঘ) রবীন্দ্রনাথ

উত্তর: (খ) শ্রীপান্থ

২. শ্রীপান্থ কার ছদ্মনাম?

(ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
(খ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(গ) নিখিল সরকার
(ঘ) সুবোধ ঘোষ

উত্তর: (গ) নিখিল সরকার

৩. ‘কালি কলম মন, লেখে তিন জন’ কী?

(ক) ধাঁধা
(খ) প্রবাদ
(গ) উপকথা
(ঘ) রূপকথা

উত্তর: (খ) প্রবাদ

৪. ‘কালি কলম মন, লেখে তিন জন’ – এখানে তিন জন কারা?

উত্তর: কালি, কলম এবং মন।

৫. ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া?

(ক) বটতলা
(খ) যখন ছাপাখানা এল
(গ) কালি আছে কাগজ নেই, কলম আছে মন নেই
(ঘ) আজব নগরী

উত্তর: (গ) কালি আছে কাগজ নেই, কলম আছে মন নেই

৬. শ্রীপান্থ তাঁদের লেখালেখির অফিসকে কী বলেছেন?

(ক) লেখকের দফতর
(খ) লেখকের কারখানা
(গ) লেখালেখির দফতর
(ঘ) লেখার ঘর

উত্তর: (খ) লেখকের কারখানা

৭. শ্রীপান্থের অফিসে তাঁর সহকর্মীরা কী দিয়ে লেখালেখি করতেন?

(ক) ফাউন্টেন পেন
(খ) টাইপরাইটার
(গ) কম্পিউটার
(ঘ) পেন্সিল

উত্তর: (গ) কম্পিউটার

৮. শ্রীপান্থ ছোটোবেলায় কী দিয়ে কলম তৈরি করতেন?

(ক) পাখির পালক
(খ) বাঁশের সরু কঞ্চি
(গ) লোহার শলাকা
(ঘ) কাঠের টুকরো

উত্তর: (খ) বাঁশের সরু কঞ্চি

৯. ছোটোবেলায় লেখার পাত হিসেবে কী ব্যবহার করা হতো?

(ক) তালপাতা
(খ) কলাপাতা
(গ) খেজুরপাতা
(ঘ) তুলোট কাগজ

উত্তর: (খ) কলাপাতা

১০. কলমের মুখ চিরে দেওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: কালি যাতে একসঙ্গে বেশি বেরিয়ে না আসে এবং ধীরে ধীরে লেখা যায়, সেই জন্য কলমের মুখ চিরে দেওয়া হতো।

১১. ‘ক-অক্ষর গোমাংস’ বলতে কাকে বোঝানো হয়?

(ক) শিশুকে
(খ) অক্ষরজ্ঞানহীন ব্যক্তিকে
(গ) শিক্ষিত ব্যক্তিকে
(ঘ) লেখককে

উত্তর: (খ) অক্ষরজ্ঞানহীন ব্যক্তিকে

১২. কালি তৈরিতে প্রাবন্ধিককে কারা সাহায্য করতেন?

(ক) মা-পিসি-দিদিরা
(খ) বাবা-কাকা-দাদা
(গ) শিক্ষকরা
(ঘ) বন্ধুরা

উত্তর: (ক) মা-পিসি-দিদিরা

১৩. ত্রিফলা বলতে কী বোঝায়?

(ক) আমলকী, হরীতকী ও বহেড়া
(খ) আমলকী, সুপারি ও এলাচ
(গ) বহেড়া, সুপারি ও আমলকী
(ঘ) হরীতকী, এলাচ ও আমলকী

উত্তর: (ক) আমলকী, হরীতকী ও বহেড়া

১৪. শ্রীপান্থদের বাড়িতে রান্না হতো কীসের উনুনে?

(ক) গ্যাসের উনুনে
(খ) কাঠের উনুনে
(গ) কয়লার উনুনে
(ঘ) মাটির উনুনে

উত্তর: (খ) কাঠের উনুনে

১৫. কাঠের উনুনে রান্নার কড়াইয়ের তলা থেকে কালি কী দিয়ে তোলা হতো?

(ক) আমপাতা
(খ) লাউপাতা
(গ) ডুমুরপাতা
(ঘ) কাপড়

উত্তর: (খ) লাউপাতা

১৬. কড়াইয়ের তলা থেকে সংগ্রহ করা কালি কোথায় রাখা হতো?

(ক) তামার বাটিতে
(খ) পিতলের বাটিতে
(গ) পাথরের বাটিতে
(ঘ) কাচের বোতলে

উত্তর: (গ) পাথরের বাটিতে

১৭. ‘স্টাইলাস’ কী?

(ক) পালকের কলম
(খ) ব্রোঞ্জের শলাকা
(গ) বাঁশের কলম
(ঘ) ফাউন্টেন পেন

উত্তর: (খ) ব্রোঞ্জের শলাকা

১৮. পালকের কলমের ইংরেজি নাম কী?

(ক) Stylus
(খ) Quill
(গ) Reservoir
(ঘ) Cartridge

উত্তর: (খ) Quill

১৯. ‘কুইল’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: পালকের কলমকে কুইল বলা হয়।

২০. ফাউন্টেন পেনের পুরনো নাম কী ছিল?

(ক) ডট পেন
(খ) রিজার্ভার পেন
(গ) বল পেন
(ঘ) নিব পেন

উত্তর: (খ) রিজার্ভার পেন

২১. ফাউন্টেন পেনকে বাংলায় কী বলা হতো?

উত্তর: ঝরনা কলম।

২২. ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক কে?

(ক) টমাস এডিসন
(খ) লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান
(গ) অ্যালফ্রেড নোবেল
(ঘ) আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল

উত্তর: (খ) লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান

২৩. প্রাবন্ধিক প্রথম ফাউন্টেন পেন কোথা থেকে কিনেছিলেন?

(ক) শ্যামবাজার
(খ) বাগবাজার
(গ) কলেজ স্ট্রিট
(ঘ) লিন্ডসে স্ট্রিট

উত্তর: (গ) কলেজ স্ট্রিট

২৪. প্রাবন্ধিকের প্রথম ফাউন্টেন পেন কোন ব্র্যান্ডের ছিল?

(ক) Parker
(খ) Sheaffer
(গ) Pilot
(ঘ) Swan

উত্তর: (গ) Pilot

২৫. Pilot কোন দেশের কলম?

(ক) ভারতীয়
(খ) জাপানি
(গ) আমেরিকান
(ঘ) ইংরেজ

উত্তর: (খ) জাপানি

২৬. বল পেনের অপর নাম কী?

উত্তর: ডট পেন।

২৭. গোরুর শিং বা কচ্ছপের খোল দিয়ে কী তৈরি করা হতো?

উত্তর: উন্নত ধরনের কলমের নিব তৈরি করা হতো।

২৮. ‘সুলেখা’ কী?

(ক) একটি দোয়াত
(খ) এক ধরনের কালি
(গ) একটি কলম
(ঘ) একটি বই

উত্তর: (খ) এক ধরনের কালি

২৯. ‘তোমার সোনার দোয়াত কলম হোক’ – কারা এই আশীর্বাদ করতেন?

(ক) মাস্টারমশাই
(খ) গুরুজন
(গ) বুড়োবুড়িরা
(ঘ) বন্ধুরা

উত্তর: (গ) বুড়োবুড়িরা

৩০. সুভো ঠাকুরের দোয়াত কেমন ছিল?

(ক) রুপোর
(খ) সোনার
(গ) পিতলের
(ঘ) কাচের

উত্তর: (খ) সোনার

৩১. ‘ক্যালিগ্রাফিস্ট’ কাদের বলা হয়?

উত্তর: ওস্তাদ কলমবাজ বা লিপি-কুশলীদের ক্যালিগ্রাফিস্ট বলা হয়।

৩২. লিপি-কুশলীদের প্রধান কাজ কী ছিল?

উত্তর: সুন্দর হাতের লেখায় পুথি নকল করা।

৩৩. ‘Pen is mightier than the sword’-এর বাংলা কী?

উত্তর: ‘অসির চেয়ে মসি বড়ো’।

৩৪. কম্পিউটার কাদের জাদুঘরে পাঠানোর উপক্রম করেছে?

উত্তর: পুরনো কালি-কলমের ঐতিহ্যকে।

৩৫. আধুনিক যুগে নিবের কলম ব্যবহার করতেন কোন বিখ্যাত বাঙালি?

(ক) সত্যজিৎ রায়
(খ) শরৎচন্দ্র
(গ) বঙ্কিমচন্দ্র
(ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়

উত্তর: (ক) সত্যজিৎ রায়


অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধের রচয়িতা কে?

উত্তর: শ্রীপান্থ ওরফে নিখিল সরকার।

২. শ্রীপান্থের প্রকৃত নাম কী?

উত্তর: নিখিল সরকার।

৩. ‘কালি কলম মন, লেখে তিন জন’ – কথাটির অর্থ কী?

উত্তর: লেখার ক্ষেত্রে কালি, কলম এবং মনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে – এই তিনের সমন্বয়েই লেখা সম্পূর্ণ হয়।

৪. কোনো কিছু লেখার জন্য কী কী প্রয়োজন?

উত্তর: মন, কলম ও কালি প্রধানত প্রয়োজন। এছাড়া লেখা ধরে রাখার জন্য কাগজ, কাপড় বা পাতারও প্রয়োজন হতে পারে।

৫. ‘কিন্তু কলম কোথায়?’ – এই প্রশ্ন লেখকের মনে কেন এসেছিল?

উত্তর: লেখকের কর্মস্থলে সবাই কম্পিউটারে লিখতেন। একমাত্র লেখকের হাতেই কলম থাকত। তাই কলমের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মনে এই প্রশ্ন জেগেছিল।

৬. ‘লেখালেখির আপিস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: লেখকের কর্মস্থল সংবাদপত্রের অফিসকে ‘লেখালেখির আপিস’ বলা হয়েছে।

৭. সহকর্মীদের হাতে কলম থাকত না কেন?

উত্তর: তাঁরা কম্পিউটারের কিবোর্ড ব্যবহার করে লেখালেখির কাজ করতেন।

৮. ‘কালি নেই, কলম নেই, বলে আমি মুনশি’ – কথাটির অর্থ কী?

উত্তর: লেখার প্রয়োজনীয় উপকরণ না থাকা সত্ত্বেও নিজের লেখার দক্ষতা বা মুনশিয়ানা প্রকাশ করার ব্যঙ্গার্থে কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে।

৯. লেখক ছোটোবেলায় কীভাবে কলম তৈরি করতেন?

উত্তর: সরু বাঁশের কঞ্চি কেটে তার মাথা ছুঁচোলো করে কলম তৈরি করতেন। পরে কলমের মুখ চিরে দেওয়া হতো।

১০. শৈশবে ‘হোম-টাস্ক’ কীসে করা হতো?

উত্তর: কলাপাতা কাগজের মতো মাপ করে কেটে তার ওপর হোম-টাস্ক করা হতো।

১১. কলাপাতায় লেখা হোম-টাস্ক পরে কী করা হতো?

উত্তর: শিক্ষক দেখার পর পাতাগুলি ছিঁড়ে দেওয়া হতো এবং ছাত্ররা বাড়ি ফেরার পথে পুকুরে ফেলে দিত।

১২. ‘ক-অক্ষর গোমাংস’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: অক্ষরজ্ঞানহীন বা বিদ্যাহীন ব্যক্তিকে বোঝায়।

১৩. সহজ পদ্ধতিতে কালি কীভাবে তৈরি করা হতো?

উত্তর: কাঠের উনুনের কড়াইয়ের তলার কালি লাউপাতা দিয়ে ঘষে সংগ্রহ করা হতো। পরে তা জলে গুলে হরীতকী বা পোড়ানো আতপ চালের গুঁড়ো মেশানো হতো এবং ছেঁকে দোয়াতে রাখা হতো।

১৪. ত্রিফলা কী?

উত্তর: আমলকী, হরীতকী ও বহেড়ার সমন্বয়ে ত্রিফলা তৈরি।

১৫. ‘কুইল’ কী?

উত্তর: পালকের কলমকে কুইল বলা হয়।

১৬. ‘স্টাইলাস’ কী?

উত্তর: লেখার কাজে ব্যবহৃত ব্রোঞ্জের শলাকাকে স্টাইলাস বলা হয়।

১৭. ফাউন্টেন পেনের আদি নাম কী?

উত্তর: রিজার্ভার পেন।

১৮. ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক কে?

উত্তর: লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান।

১৯. বল পেনের আরেক নাম কী?

উত্তর: ডট পেন।

২০. ফাউন্টেন পেনের বাংলা নাম কী?

উত্তর: ঝরনা কলম।

২১. লেখক প্রথম কোন ফাউন্টেন পেন কিনেছিলেন?

উত্তর: জাপানি Pilot ফাউন্টেন পেন।

২২. সত্যজিৎ রায়ের একটি সুস্থ সুন্দর নেশা কী ছিল?

উত্তর: লিপিশিল্প বা সুন্দর হাতের লেখার চর্চা।

২৩. ক্যালিগ্রাফিস্ট কাদের বলা হয়?

উত্তর: দক্ষ ও সুন্দর হাতের লেখায় পারদর্শী লিপি-কুশলীদের ক্যালিগ্রাফিস্ট বলা হয়।

২৪. লিপি-কুশলীদের কাজ কী ছিল?

উত্তর: পুথি নকল করা এবং সুন্দর হাতের লেখায় লেখা তৈরি করা।

২৫. ইতিহাসে কলমের স্থান কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: বহু গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য, চিন্তা ও ঐতিহাসিক বক্তব্য কালি-কলমের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ হয়েছে। তাই কলমের ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্থায়ী।


রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

১. “সবাই এখানে লেখক। কিন্তু আমি ছাড়া কারও হাতে কলম নেই।” – বক্তব্যটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:
প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ যে সংবাদপত্রের দপ্তরে কাজ করতেন, সেখানে সকলেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে তাঁদের হাতে আর প্রচলিত কলম থাকত না। কম্পিউটারের কিবোর্ডে টাইপ করেই তাঁরা লেখার কাজ করতেন।

অন্যদিকে, লেখক ছিলেন পুরনো দিনের কালি ও কলমের প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত। তাই তাঁর হাতে এখনও কলম থাকত। এই বৈপরীত্য থেকেই তিনি বলেছেন, সবাই লেখক হলেও তাঁর সহকর্মীদের কারও হাতে কলম নেই।

উক্তিটির মধ্যে পুরনো কালি-কলমের যুগ এবং আধুনিক কম্পিউটার-নির্ভর লেখালেখির যুগের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে।

২. লেখকের ছেলেবেলায় কালি ও কলম কীভাবে তৈরি করা হতো?

উত্তর:
লেখকের শৈশবে কালি ও কলম নিজেরাই তৈরি করতে হতো। সরু বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম বানানো হতো। কলমের মাথা ছুঁচোলো করার পাশাপাশি তার মুখ চিরে দেওয়া হতো, যাতে কালি নিয়ন্ত্রিতভাবে বের হয়।

কালি তৈরির জন্য কাঠের উনুনে রান্না করা কড়াইয়ের তলার ঝুল-কালি সংগ্রহ করা হতো। লাউপাতা দিয়ে সেই কালি ঘষে তুলে পাথরের বাটিতে জলে গুলে নেওয়া হতো। কখনও হরীতকী বা ভাজা-পোড়া আতপ চালের গুঁড়ো মেশানো হতো। পরে তা ছেঁকে দোয়াতে রাখা হতো।

এভাবেই সামান্য উপকরণ ব্যবহার করে লেখক ও তাঁর সঙ্গীরা নিজেদের লেখার উপকরণ তৈরি করতেন।

৩. লেখকের প্রথম লেখালেখির আয়োজনের বর্ণনা দাও।

উত্তর:
লেখকের প্রথম লেখালেখির সময় আজকের মতো কাগজ, বলপেন বা কম্পিউটার ছিল না। বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি কলম, নিজের হাতে তৈরি কালি, মাটির দোয়াত এবং কলাপাতা ছিল তাঁদের লেখার প্রধান উপকরণ।

কলাপাতা কাগজের মতো মাপে কেটে নেওয়া হতো। সেই পাতায় ঘরে তৈরি কালি দিয়ে লেখা হতো। স্কুলে নিয়ে গেলে শিক্ষক লেখাগুলি দেখে পাতাগুলি আড়াআড়ি ছিঁড়ে দিতেন। বাড়ি ফেরার সময় ছাত্ররা সেই ছেঁড়া পাতা পুকুরে ফেলে দিত।

এইভাবে অত্যন্ত সাধারণ উপকরণের সাহায্যে তাঁদের প্রথম লেখালেখির সূচনা হয়েছিল।

৪. “তিল ত্রিফলা সিমুল ছালা…” – ভালো কালি তৈরির পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:
প্রাচীনকালে উৎকৃষ্ট কালি তৈরির জন্য তিল, ত্রিফলা ও সিমুল গাছের ছাল ব্যবহার করা হতো। ত্রিফলার মধ্যে ছিল আমলকী, হরীতকী ও বহেড়া।

এই উপকরণগুলি ছাগলের দুধের সঙ্গে মিশিয়ে লোহার পাত্রে রাখা হতো। এরপর লোহা দিয়ে সেই মিশ্রণ ঘষে কালি তৈরি করা হতো। এই পদ্ধতিতে তৈরি কালি অত্যন্ত স্থায়ী বলে মনে করা হতো।

তবে লেখকের শৈশবে এত উপকরণের আয়োজন করা সম্ভব ছিল না। তাই তাঁরা তুলনামূলক সহজ পদ্ধতিতে কালি তৈরি করতেন।

৫. ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কার সম্পর্কে যা জানো লেখো।

উত্তর:
ফাউন্টেন পেনের প্রাচীন নাম ছিল ‘রিজার্ভার পেন’। এর আবিষ্কারক ছিলেন লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান।

প্রয়োজনের তাগিদ থেকেই ফাউন্টেন পেন আবিষ্কারের ধারণা আসে। ব্যবসায়িক কাজে দোয়াত-কলম নিয়ে চলার সময় কালি পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যার কারণে একটি এমন কলমের প্রয়োজন অনুভূত হয়েছিল, যাতে আলাদা করে দোয়াত বহন করতে না হয়।

এই প্রয়োজন থেকেই এমন কলম তৈরির চেষ্টা শুরু হয়, যার মধ্যে কালি সংরক্ষণ করা যায় এবং লেখার সময় তা নিবের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে। পরবর্তীকালে এই আবিষ্কারই ফাউন্টেন পেনকে জনপ্রিয় করে তোলে।

৬. লিপি-কুশলীদের সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তর:
যাঁরা সুন্দর ও দক্ষ হাতের লেখায় পুথি নকল করতেন তাঁদের লিপি-কুশলী বা ক্যালিগ্রাফিস্ট বলা হতো। একসময় রাজদরবার ও জমিদারবাড়িতে তাঁদের যথেষ্ট সম্মান ছিল।

বাংলার রাজা-জমিদারেরা তাঁদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করতেন। সাধারণ মানুষও তাঁদের দিয়ে পুথি নকল করিয়ে নিতেন। তাঁদের হাতের লেখা ছিল অত্যন্ত সুন্দর এবং প্রতিটি অক্ষর ছিল পরিপাটি ও সুশৃঙ্খল।

তাঁদের পারিশ্রমিক সবসময় বেশি ছিল না। তবু লেখার শিল্পের প্রতি তাঁদের নিষ্ঠা ছিল গভীর। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সেই পেশা প্রায় বিলুপ্তির পথে গেলেও তাঁদের অবদান বাংলা ও ভারতীয় লেখার ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ।

৭. “কলমকে বলা হয় তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর” – কথাটির তাৎপর্য লেখো।

উত্তর:
‘Pen is mightier than the sword’ অর্থাৎ ‘অসির চেয়ে মসি বড়ো’ – এই ধারণার মাধ্যমে কলমের শক্তিকে বোঝানো হয়েছে।

তলোয়ার বা অস্ত্রের মাধ্যমে শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করা যায়, কিন্তু কলমের মাধ্যমে মানুষের চিন্তা, চেতনা ও সমাজকে প্রভাবিত করা যায়। একজন লেখকের একটি বক্তব্য বহু মানুষের মধ্যে নতুন চিন্তার জন্ম দিতে পারে।

ইতিহাসে বহু সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ তাঁদের লেখার মাধ্যমে সমাজে পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছেন। তাই প্রাবন্ধিকের কাছে কলম শুধু লেখার উপকরণ নয়, এটি চিন্তা ও পরিবর্তনের শক্তির প্রতীক।

৮. “আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে।” – কী কী অবলুপ্তির পথে এবং কেন?

উত্তর:
কঞ্চির কলম, খাগের কলম, পালকের কলম, ফাউন্টেন পেন, নানা ধরনের নিব, দোয়াত এবং পুরনো দিনের বিভিন্ন কালি ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।

এর প্রধান কারণ প্রযুক্তির পরিবর্তন। প্রথমে টাইপরাইটার লেখার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে। পরে কম্পিউটার লেখালেখিকে আরও সহজ করে দেয়। বর্তমানে মোবাইল ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় হাতে লেখার প্রয়োজন আরও কমেছে।

প্রাবন্ধিক মনে করেন, প্রযুক্তির সুবিধা মানুষকে দ্রুত কাজ করার সুযোগ দিলেও এর ফলে পুরনো কালি-কলমের সঙ্গে যুক্ত আবেগ, স্মৃতি ও শিল্পবোধ হারিয়ে যাচ্ছে।

পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ থেকে প্রস্তুতির সময় বিশেষভাবে মনে রাখবে:

  1. শ্রীপান্থের প্রকৃত নাম – নিখিল সরকার।
  2. ‘কালি কলম মন, লেখে তিন জন’ – কালি, কলম ও মন।
  3. কলম তৈরিতে ব্যবহৃত হতো – বাঁশের কঞ্চি।
  4. শৈশবে লেখার পাতা – কলাপাতা।
  5. ত্রিফলা – আমলকী, হরীতকী ও বহেড়া।
  6. পালকের কলম – Quill।
  7. ব্রোঞ্জের শলাকা – Stylus।
  8. ফাউন্টেন পেনের আদি নাম – Reservoir Pen।
  9. ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক – Lewis Edson Waterman।
  10. ফাউন্টেন পেনের বাংলা নাম – ঝরনা কলম।
  11. বল পেনের অপর নাম – ডট পেন।
  12. লিপি-কুশলীদের ইংরেজি নাম – Calligraphist।
  13. কলমের সঙ্গে যুক্ত বিখ্যাত প্রবাদ – Pen is mightier than the sword।
  14. আধুনিক যুগে নিবের কলম ব্যবহারকারী বিখ্যাত বাঙালি – সত্যজিৎ রায়।
  15. প্রবন্ধটির কেন্দ্রীয় বিষয় – পুরনো কালি-কলমের স্মৃতি, ঐতিহ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির কারণে তার বিলুপ্তি।

FAQs

প্রশ্নউত্তর
‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’-এর লেখক কে?শ্রীপান্থ বা নিখিল সরকার।
শ্রীপান্থের আসল নাম কী?নিখিল সরকার।
প্রবন্ধটি কোন শ্রেণির জন্য গুরুত্বপূর্ণ?মাধ্যমিক বা দশম শ্রেণির বাংলা।
ফাউন্টেন পেনের পুরনো নাম কী?রিজার্ভার পেন।
ফাউন্টেন পেন কে আবিষ্কার করেন?লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান।
কুইল কী?পালকের কলম।
স্টাইলাস কী?ব্রোঞ্জের লেখার শলাকা।
ত্রিফলা কী?আমলকী, হরীতকী ও বহেড়া।
বল পেনের অন্য নাম কী?ডট পেন।
ক্যালিগ্রাফিস্ট কাদের বলা হয়?লিপি-কুশলী বা দক্ষ কলমবাজদের।

উপসংহার

মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার জন্য হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর অধ্যায়টি ভালোভাবে প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধটিতে শুধু পুরনো দিনের লেখার উপকরণের বিবরণ নেই, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লেখকের শৈশবের স্মৃতি, কালি-কলমের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্যের হারিয়ে যাওয়ার আক্ষেপ।

উপরের MCQ, অতি সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তরগুলি ভালোভাবে পড়ে প্রস্তুতি নিলে এই অধ্যায়টি পরীক্ষার জন্য সহজে রিভিশন করা যাবে।

Leave a Comment