মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার জন্য সিন্ধুতীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৈয়দ আলাওলের বিখ্যাত কাব্য পদ্মাবতী-র পদ্মা-সমুদ্র খণ্ড থেকে নেওয়া এই কাব্যাংশে সমুদ্রকন্যা পদ্মা, পদ্মাবতী এবং তাঁর চার সখীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনি এগিয়েছে।
এই পোস্টে সিন্ধুতীরে কবিতার MCQ প্রশ্ন উত্তর, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন এবং ৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় দেওয়া হলো।
সিন্ধুতীরে কবিতার পরিচয়
- কবির নাম: সৈয়দ আলাওল
- কাব্য: পদ্মাবতী
- কাব্যের অংশ: পদ্মা-সমুদ্র খণ্ড
- কাব্যাংশ: সিন্ধুতীরে
- রচনার সময়কাল: সপ্তদশ শতক
- ভাষা: মধ্য বাংলা
- ছন্দ: ত্রিপদী
সিন্ধুতীরে কবিতার MCQ প্রশ্ন উত্তর
১. ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতার রচয়িতা কে?
(ক) দৌলত কাজী
(খ) বাহরাম খান
(গ) সৈয়দ আলাওল
(ঘ) মাগন ঠাকুর
উত্তর: (গ) সৈয়দ আলাওল
২. ‘সিন্ধুতীরে’ কোন কাব্যের অংশ?
(ক) লোরচন্দ্রাণী
(খ) পদ্মাবতী
(গ) সতীময়না
(ঘ) তোহ্ফা
উত্তর: (খ) পদ্মাবতী
৩. ‘সিন্ধুতীরে’ কোন খণ্ডের অন্তর্গত?
(ক) সিংহল-দ্বীপ খণ্ড
(খ) দেশ যাত্রা খণ্ড
(গ) পদ্মা-সমুদ্র খণ্ড
(ঘ) পদ্মাবতী-বিয়োগ খণ্ড
উত্তর: (গ) পদ্মা-সমুদ্র খণ্ড
৪. সৈয়দ আলাওল কোন রাজসভা অলংকৃত করেছিলেন?
(ক) পঞ্চকোট রাজসভা
(খ) কৃষ্ণনগর রাজসভা
(গ) মল্লরাজসভা
(ঘ) রোসাঙ রাজসভা
উত্তর: (ঘ) রোসাঙ রাজসভা
৫. নিচের কোনটি সৈয়দ আলাওলের রচনা নয়?
(ক) নাগাষ্টক
(খ) সেকেন্দারনামা
(গ) তোহ্ফা
(ঘ) সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী
উত্তর: (ক) নাগাষ্টক
৬. ‘সিন্ধুতীরে’ কোন ভাষায় রচিত?
(ক) প্রাচীন বাংলা
(খ) মধ্য বাংলা
(গ) আধুনিক বাংলা
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (খ) মধ্য বাংলা
৭. সৈয়দ আলাওলের সময়কাল কোনটি?
(ক) সপ্তদশ শতাব্দী
(খ) ষোড়শ শতাব্দী
(গ) অষ্টাদশ শতাব্দী
(ঘ) ত্রয়োদশ শতাব্দী
উত্তর: (ক) সপ্তদশ শতাব্দী
৮. ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচিত হয়েছিল কোন সময়ে?
(ক) ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৬৪৫ থেকে ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে
(গ) ১৬৬২ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৬৭২ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (খ) ১৬৪৫ থেকে ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে
৯. আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা কোনটি?
(ক) সপ্ত পয়কর
(খ) সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী
(গ) তোহ্ফা
(ঘ) পদ্মাবতী
উত্তর: (ঘ) পদ্মাবতী
১০. আলাওলের প্রথম রচনা কোনটি?
(ক) পদ্মাবতী
(খ) সেকেন্দারনামা
(গ) সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী
(ঘ) সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জমাল
উত্তর: (ক) পদ্মাবতী
১১. ‘কন্যারে ফেলিল যথা’ – এখানে কন্যাটি কে?
(ক) পদ্মাবতী
(খ) ময়না
(গ) চন্দ্রাবতী
(ঘ) চন্দ্রাণী
উত্তর: (ক) পদ্মাবতী
১২. “জলের মাঝারে তথা” – জলের মধ্যে কী ছিল?
(ক) পাহাড়
(খ) সাপ
(গ) প্রাসাদ
(ঘ) নগরী
উত্তর: (ঘ) নগরী
১৩. ‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’ কথাটির অর্থ কী?
(ক) বস্ত্র
(খ) সুতো
(গ) পুত্র
(ঘ) কন্যা
উত্তর: (ঘ) কন্যা
১৪. ‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) লক্ষ্মী
(খ) পদ্মা
(গ) উমা
(ঘ) বারুণী
উত্তর: (খ) পদ্মা
১৫. ‘নাহি তথা’ – সেখানে কী নেই?
(ক) সুখ-দুঃখ
(খ) আনন্দ-বেদনা
(গ) দুঃখক্লেশ
(ঘ) হাসিকান্না
উত্তর: (গ) দুঃখক্লেশ
১৬. “অতি মনোহর দেশ” কোথায় অবস্থিত?
(ক) সিন্ধুতীরে
(খ) সিংহলে
(গ) পুরীতে
(ঘ) নদীতীরে
উত্তর: (ক) সিন্ধুতীরে
১৭. “উপরে ___ এক ফল ফুলে অতিরেক” – শূন্যস্থানে কী হবে?
(ক) পাহাড়
(খ) পর্বত
(গ) গিরি
(ঘ) উপত্যকা
উত্তর: (খ) পর্বত
১৮. পদ্মা কার কন্যা?
(ক) দেবকন্যা
(খ) হিমালয়কন্যা
(গ) সিংহলকন্যা
(ঘ) সমুদ্রকন্যা
উত্তর: (ঘ) সমুদ্রকন্যা
১৯. ‘সিন্ধু’ বলতে কী বোঝায়?
(ক) সমুদ্র বিশেষ
(খ) নদী বিশেষ
(গ) সংগীতের রাগ
(ঘ) পাকিস্তানের প্রদেশ
উত্তর: (ক) সমুদ্র বিশেষ
২০. ‘টঙ্গি’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) টাঙানো
(খ) প্রাসাদ
(গ) ধ্বজা
(ঘ) রথ
উত্তর: (খ) প্রাসাদ
২১. সমুদ্রতীরে উদ্যান কে তৈরি করেছিলেন?
(ক) বিজয়া
(খ) পদ্মা
(গ) পদ্মাবতী
(ঘ) লক্ষ্মী
উত্তর: (খ) পদ্মা
২২. ‘টঙ্গি’ কী দিয়ে সাজানো ছিল?
(ক) বনফুলে
(খ) আলোকসজ্জায়
(গ) সোনা দিয়ে
(ঘ) ব্রোঞ্জ দিয়ে
উত্তর: (গ) সোনা দিয়ে
২৩. সমুদ্রকন্যা পদ্মা কখন পিত্রালয়ে থাকতেন?
(ক) দিবাকালে
(খ) প্রত্যূষকালে
(গ) গোধূলিবেলায়
(ঘ) নিশিকালে
উত্তর: (ঘ) নিশিকালে
২৪. সিন্ধুতীরের পর্বত কেমন ছিল?
(ক) ঘরবাড়িতে পূর্ণ
(খ) ফল-ফুলে সজ্জিত
(গ) পশুপাখিতে ভরা
(ঘ) জল-মানুষে পূর্ণ
উত্তর: (খ) ফল-ফুলে সজ্জিত
২৫. “তার পাশে রচিল উদ্যান” – উদ্যানটি কোথায় ছিল?
(ক) সমুদ্রের পাশে
(খ) দিব্যপুরীর পাশে
(গ) পর্বতের পাশে
(ঘ) টঙ্গির পাশে
উত্তর: (গ) পর্বতের পাশে
২৬. “দেখি দিব্যস্থান” – কোথায় দিব্যস্থান দেখা গিয়েছিল?
(ক) সমুদ্রের মাঝারে
(খ) পর্বতের ভিতরে
(গ) জলের মাঝারে
(ঘ) সিন্ধুতীরে
উত্তর: (ঘ) সিন্ধুতীরে
২৭. ‘হেম’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) উজ্জ্বল
(খ) রঙিন
(গ) সোনা
(ঘ) নকল
উত্তর: (গ) সোনা
২৮. ‘মাঞ্জস’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) ভেলা
(খ) জাহাজ
(গ) বজরা
(ঘ) লহর
উত্তর: (ক) ভেলা
২৯. ‘প্রত্যূষ’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) রাত্রি
(খ) দ্বিপ্রহর
(গ) অপরাহ্ণ
(ঘ) ভোর
উত্তর: (ঘ) ভোর
৩০. ‘মাঞ্জস’ কোথায় দাঁড়িয়েছিল?
(ক) সিন্ধুতীরে
(খ) যমুনাতীরে
(গ) পদ্মাতীরে
(ঘ) ব্রহ্মপুত্র তীরে
উত্তর: (ক) সিন্ধুতীরে
৩১. ‘তুরিত’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) সত্বর
(খ) ধীর
(গ) তড়িৎ
(ঘ) তুরঙ্গ
উত্তর: (ক) সত্বর
৩২. পদ্মাবতীকে কতজন সখীসহ উদ্ধার করা হয়?
(ক) দুজন
(খ) তিনজন
(গ) চারজন
(ঘ) পাঁচজন
উত্তর: (গ) চারজন
৩৩. ‘বালা’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) সঙ্গিনী
(খ) সখী
(গ) কন্যা
(ঘ) দুখিনি
উত্তর: (গ) কন্যা
৩৪. পদ্মাবতীর রূপ কাকে হার মানাতে পারে?
(ক) রম্ভাকে
(খ) মেনকাকে
(গ) লক্ষ্মীকে
(ঘ) গান্ধারিকে
উত্তর: (ক) রম্ভাকে
৩৫. পদ্মা কী দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন?
(ক) উদ্যানের রূপ দেখে
(খ) পদ্মাবতীর রূপ দেখে
(গ) বৃক্ষের রূপ দেখে
(ঘ) সমুদ্রের রূপ দেখে
উত্তর: (খ) পদ্মাবতীর রূপ দেখে
৩৬. বিদ্যাধরি কেন স্বর্গচ্যুত হয়েছিল?
(ক) স্বেচ্ছায়
(খ) মুনির অভিশাপে
(গ) ইন্দ্রের অভিশাপে
(ঘ) অসাবধানতায়
উত্তর: (গ) ইন্দ্রের অভিশাপে
৩৭. ‘বেথানিত’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) দৃষ্টিগোচর
(খ) বেদনাযুক্ত
(গ) ব্যথায় নত
(ঘ) অসংবৃত
উত্তর: (ঘ) অসংবৃত
৩৮. “বাহুরক কন্যার জীবন” – কন্যাটি কে?
(ক) বিদ্যাধরি
(খ) পদ্মা
(গ) পদ্মাবতী
(ঘ) অপ্সরা
উত্তর: (খ) পদ্মা
৩৯. অচেতন কন্যাদের কীভাবে সুস্থ করা হয়েছিল?
(ক) তন্ত্র-মন্ত্র-মহৌষধি দিয়ে
(খ) ফল-মূল দিয়ে
(গ) কন্দ-শিকড় দিয়ে
(ঘ) শুধু ভেষজ ওষুধ দিয়ে
উত্তর: (ক) তন্ত্র-মন্ত্র-মহৌষধি দিয়ে
৪০. “তুরিত গমনে আসি” – কে এসেছিলেন?
(ক) রত্নসেন
(খ) পদ্মাবতী
(গ) হীরামন
(ঘ) পদ্মা
উত্তর: (ঘ) পদ্মা
৪১. কন্যার শ্বাস কেমন ছিল?
(ক) অতি দ্রুত
(খ) অতি কষ্টে
(গ) ধীর লয়ে
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (খ) অতি কষ্টে
৪২. পদ্মার মনে কী জেগেছিল?
(ক) দ্বেষ
(খ) মমতা
(গ) স্নেহ
(ঘ) করুণা
উত্তর: (গ) স্নেহ
৪৩. ‘বাও’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) বায়ু
(খ) প্রণাম
(গ) বজ্র
(ঘ) আঘাত
উত্তর: (ক) বায়ু
৪৪. ‘চিতে’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) জীবনে
(খ) অন্তরে
(গ) শরীরে
(ঘ) নির্জনে
উত্তর: (খ) অন্তরে
৪৫. পদ্মাবতীর অবস্থা দেখে পদ্মার মনে কোন ঘটনার কথা এসেছিল?
(ক) শকুন্তলার অভিশাপ
(খ) বিদ্যাধরীর ইন্দ্রশাপ
(গ) পিতার অভিশাপ
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (খ) বিদ্যাধরীর ইন্দ্রশাপ
৪৬. ‘পোতলি’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) পুত্র
(খ) পোটলা
(গ) পুতুল
(ঘ) ছবি
উত্তর: (গ) পুতুল
৪৭. “দুখিনীরে করিয়া স্মরণ” – দুখিনী কে?
(ক) রাজার কন্যা
(খ) পদ্মা
(গ) সখী
(ঘ) চন্দ্রাণী
উত্তর: (খ) পদ্মা
৪৮. পদ্মা কেন ঈশ্বরের কাছে নিরাশ না করার প্রার্থনা করেছিলেন?
(ক) পদ্মাবতীর প্রাণরক্ষা করতে চেয়েছিলেন
(খ) সমুদ্রে কেউ কষ্ট পাক তা চাননি
(গ) সামুদ্রিক ঝড় চাননি
(ঘ) সখীদের প্রাসাদে পাঠাতে চেয়েছিলেন
উত্তর: (ক) পদ্মাবতীর প্রাণরক্ষা করতে চেয়েছিলেন
৪৯. পঞ্চকন্যার চিকিৎসা কতক্ষণ চলেছিল?
(ক) তিন দণ্ড
(খ) চার দণ্ড
(গ) পাঁচ দণ্ড
(ঘ) দু-দণ্ড
উত্তর: (খ) চার দণ্ড
৫০. ‘ছেকে’ শব্দের গদ্যরূপ কী?
(ক) সেঁকে
(খ) শেকে
(গ) ছেকে
(ঘ) ছ্যাঁকা দিয়ে
উত্তর: (ক) সেঁকে
৫১. পদ্মা কার কৃপা চেয়েছিলেন?
(ক) ইন্দ্র
(খ) সমুদ্রপতি
(গ) মাগন গুণী
(ঘ) নিরঞ্জন
উত্তর: (ঘ) নিরঞ্জন
৫২. সখীদের নির্দেশ কে দিয়েছিলেন?
(ক) পদ্মা
(খ) বিদ্যাধরি
(গ) পদ্মাবতী
(ঘ) আলাওল
উত্তর: (ক) পদ্মা
৫৩. ‘শ্রীযুক্ত মাগন’ কে ছিলেন?
(ক) ইন্দ্র
(খ) পদ্মার পিতা
(গ) আলাওলের পৃষ্ঠপোষক
(ঘ) মোহন্ত
উত্তর: (গ) আলাওলের পৃষ্ঠপোষক
৫৪. কবিতার শেষে কাকে স্মরণ করা হয়েছে?
(ক) ধর্মদেবতা
(খ) ঈশ্বর
(গ) মাগন গুণী
(ঘ) আল্লাহ
উত্তর: (গ) মাগন গুণী
৫৫. পদ্মাবতী কার পুণ্যফলে জীবন ফিরে পাবেন বলে উল্লেখ আছে?
(ক) নিজের কর্মফলে
(খ) পিতার পুণ্যফলে
(গ) রত্নসেনের বিচক্ষণতায়
(ঘ) পদ্মার বুদ্ধিতে
উত্তর: (খ) পিতার পুণ্যফলে
৫৬. কবিতার শেষে কবির আত্মপরিচয় দেওয়ার রীতিকে কী বলা হয়?
(ক) গৌরচন্দ্রিকা
(খ) উপসংহার
(গ) উপস্থাপনা
(ঘ) ভণিতা
উত্তর: (ঘ) ভণিতা
৫৭. এক দণ্ড বলতে কত মিনিট বোঝায়?
(ক) ২৪ মিনিট
(খ) ২৫ মিনিট
(গ) ১৫ মিনিট
(ঘ) ১০ মিনিট
উত্তর: (ক) ২৪ মিনিট
৫৮. ‘আছয়’ শব্দের গদ্যরূপ কী?
(ক) আশ্রয়
(খ) আছে
(গ) ছত্র
(ঘ) ছড়াছড়ি
উত্তর: (খ) আছে
৫৯. তন্ত্র-মন্ত্র ও মহৌষধি দিয়ে কাদের বাঁচানো হয়েছিল?
(ক) লক্ষ্মীকে
(খ) ভদ্রাবতীকে
(গ) পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখীকে
(ঘ) লীলাবতীকে
উত্তর: (গ) পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখীকে
৬০. “হীন ___ সুরচন” – শূন্যস্থানে কী হবে?
(ক) কাজি
(খ) আলাওল
(গ) জয়দেব
(ঘ) গোবিন্দদাস
উত্তর: (খ) আলাওল
৬১. ‘বেকত’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) ব্যক্তি
(খ) ব্যক্ত
(গ) বক্তা
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (খ) ব্যক্ত
সিন্ধুতীরে অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
১. সৈয়দ আলাওল কে ছিলেন?
সৈয়দ আলাওল সপ্তদশ শতকের আরাকান রাজসভার একজন বিশিষ্ট কবি ছিলেন।
২. ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটি কে লিখেছেন?
‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশের রচয়িতা হলেন সৈয়দ আলাওল।
৩. ‘সিন্ধুতীরে’ কোন কাব্যের অংশ?
এটি সৈয়দ আলাওলের পদ্মাবতী কাব্যের পদ্মা-সমুদ্র খণ্ডের অংশ।
৪. আলাওল কোন রাজদরবারের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন?
তিনি আরাকান বা রোসাঙ রাজদরবারের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।
৫. ‘পদ্মাবতী’ কাব্যটি কোন রচনাকে অনুসরণ করে লেখা?
মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ কাব্যকে অনুসরণ করে আলাওল ‘পদ্মাবতী’ রচনা করেন।
৬. ‘সিন্ধুতীরে’ নামটি কারা দিয়েছেন?
দশম শ্রেণির ‘সাহিত্য সঞ্চয়ন’ গ্রন্থের সম্পাদকমণ্ডলী এই নামটি দিয়েছেন।
৭. ‘সিন্ধুতীরে’ কোন ছন্দে রচিত?
কাব্যাংশটি ত্রিপদী ছন্দে রচিত।
৮. পদ্মাবতীকে কোথায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল?
সমুদ্রের মধ্যবর্তী একটি দ্বীপে পদ্মাবতীকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
৯. ‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
সমুদ্ররাজার কন্যা পদ্মাকে ‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’ বলা হয়েছে।
১০. দিব্যস্থানটি কেমন ছিল?
দিব্যস্থানটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও স্বর্গের মতো মনোরম।
১১. পদ্মার উদ্যান কোথায় ছিল?
একটি সুউচ্চ, ফল-ফুলে ভরা পর্বতের পাশে পদ্মার উদ্যান ছিল।
১২. পদ্মা কোথায় থাকতেন?
সোনা ও রত্নে সজ্জিত টঙ্গি বা প্রাসাদে পদ্মা বসবাস করতেন।
১৩. পদ্মাবতী ও পদ্মা কি একই ব্যক্তি?
না। পদ্মাবতী সিংহলরাজ গন্ধর্বসেনের কন্যা, আর পদ্মা হলেন সমুদ্রের কন্যা।
১৪. ‘মাঞ্জস’ বলতে কী বোঝায়?
‘মাঞ্জস’ বলতে ভেলা বা মান্দাস বোঝানো হয়েছে।
১৫. মাঞ্জসটি কে দেখতে পেয়েছিলেন?
সমুদ্রকন্যা পদ্মা প্রথম মাঞ্জসটি দেখতে পান।
১৬. পদ্মার মনে কৌতূহল কেন হয়েছিল?
নির্জন সৈকতে একটি ভেলা দেখে পদ্মার মনে কৌতূহল জেগেছিল।
১৭. ভেলায় কাকে দেখা গিয়েছিল?
ভেলায় অচেতন অবস্থায় পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখীকে দেখা গিয়েছিল।
১৮. পদ্মাবতীর চার সখীর নাম কী?
চন্দ্রপ্রভা, বিজয়া, রোহিণী ও বিধুমালা ছিলেন পদ্মাবতীর চার সখী।
১৯. পদ্মাবতীর রূপ দেখে পদ্মা কী মনে করেছিলেন?
পদ্মা মনে করেছিলেন, তিনি হয়তো ইন্দ্রের অভিশাপে স্বর্গচ্যুত কোনো বিদ্যাধরী।
২০. পদ্মাবতী কীভাবে অচেতন হয়েছিলেন?
ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড়ের কারণে পদ্মাবতী ও তাঁর সখীরা অচেতন হয়ে পড়েছিলেন।
২১. ‘বেথানিত’ শব্দের অর্থ কী?
‘বেথানিত’ অর্থ এলোমেলো বা অগোছালো।
২২. ‘বাও’ শব্দের অর্থ কী?
‘বাও’ শব্দের অর্থ বাতাস বা বায়ু।
২৩. ‘নিরঞ্জন’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
‘নিরঞ্জন’ বলতে পরম দয়ালু ঈশ্বরকে বোঝানো হয়েছে।
২৪. পদ্মা সখীদের কী নির্দেশ দিয়েছিলেন?
পদ্মা অচেতন কন্যাদের উদ্ধার করে বাগানে নিয়ে এসে চিকিৎসা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
২৫. কীভাবে পদ্মাবতী ও তাঁর সখীদের জ্ঞান ফিরেছিল?
আগুনের তাপ, মন্ত্র-তন্ত্র, মহৌষধি এবং সেবা-শুশ্রূষার মাধ্যমে তাঁদের জ্ঞান ফিরেছিল।
২৬. মাগন গুণী কে ছিলেন?
মাগন গুণী ছিলেন আরাকান রাজদরবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠপোষক এবং আলাওলের কাব্যচর্চার সহায়ক।
২৭. আলাওল নিজেকে ‘হীন’ বলেছেন কেন?
জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ অনুসরণ করে কাব্য রচনা করার কারণে বিনয় প্রকাশ করতে আলাওল নিজেকে ‘হীন’ বলেছেন।
সিন্ধুতীরে ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর
১. “কন্যারে ফেলিল যথা” – কন্যাটি কে এবং কোথায় তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল?
এখানে কন্যাটি হলেন সিংহলরাজ গন্ধর্বসেনের কন্যা পদ্মাবতী। রত্নসেনের সঙ্গে চিতোরে ফেরার পথে ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়ে তিনি চার সখীসহ বিপদের মধ্যে পড়েন। ভেলা ভেঙে যাওয়ার পর তাঁরা সমুদ্রের মধ্যে ভাসতে ভাসতে একটি মনোরম দ্বীপে পৌঁছান। সেই স্থানটি ছিল সমুদ্রকন্যা পদ্মার বাসস্থান।
২. ‘দিব্যপুরী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
সমুদ্রের মাঝখানে যে সুন্দর দ্বীপে পদ্মাবতী ও তাঁর সখীরা এসে পৌঁছেছিলেন, সেখানেই পদ্মার বাসস্থান ছিল। উঁচু পাহাড়, ফুল-ফলসমৃদ্ধ উদ্যান, সুন্দর প্রাসাদ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কারণে সেই স্থানকে ‘দিব্যপুরী’ বলা হয়েছে।
৩. “অতি মনোহর দেশ” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
সিন্ধুতীরের দেশটি ছিল প্রাকৃতিক ও নৈতিক সৌন্দর্যে ভরা। সেখানে ছিল সুউচ্চ পর্বত, ফল-ফুলে ভরা উদ্যান এবং মনোরম প্রাসাদ। মানুষের জীবনেও ছিল সততা, ন্যায় ও ধর্মপরায়ণতা। দুঃখকষ্টের অনুপস্থিতির কারণে স্থানটি স্বর্গের মতো মনে হয়েছিল।
৪. “নিপতিতা চেতন রহিত” – কে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন এবং কেন?
সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতী এবং তাঁর চার সখী সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়ে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। রত্নসেনের সঙ্গে যাত্রার সময় প্রবল ঝড়ে তাঁদের নৌযান ধ্বংস হয়ে যায়। পরে তাঁরা একটি ভেলায় আশ্রয় নিলেও সেটিও ভেঙে যায়। শেষ পর্যন্ত অচেতন অবস্থায় তাঁরা সিন্ধুতীরে এসে পৌঁছান।
৫. “বিস্মিত হইল বালা” – বালা কে এবং কেন বিস্মিত হয়েছিলেন?
এখানে ‘বালা’ বলতে সমুদ্রকন্যা পদ্মাকে বোঝানো হয়েছে। তিনি ভোরবেলা সখীদের সঙ্গে বাগানে যাওয়ার সময় সমুদ্রতীরে অচেতন পদ্মাবতী ও তাঁর সখীদের দেখতে পান। বিশেষ করে পদ্মাবতীর অসাধারণ সৌন্দর্য দেখে পদ্মা বিস্মিত হয়েছিলেন।
৬. “অনুমান করে নিজ চিতে” – পদ্মা কী অনুমান করেছিলেন?
অচেতন পদ্মাবতীর অপরূপ সৌন্দর্য দেখে পদ্মার মনে হয়েছিল, তিনি সাধারণ কোনো নারী নন। সম্ভবত ইন্দ্রের অভিশাপে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত কোনো বিদ্যাধরী পৃথিবীতে এসে পড়েছেন বলে পদ্মা মনে করেছিলেন।
৭. “বেথানিত হইছে কেশ বেশ” – এর অর্থ কী?
‘বেথানিত’ অর্থ এলোমেলো বা অগোছালো। সামুদ্রিক ঝড়ের তাণ্ডবে পদ্মাবতীর চুল ও পোশাক সম্পূর্ণ এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। সেই অবস্থাই তাঁর বিপদের প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়েছিল।
৮. “বিধি মোরে না কর নৈরাশ” – কে বলেছেন এবং কেন?
এই কথা সমুদ্রকন্যা পদ্মা বলেছেন। অচেতন পদ্মাবতী ও তাঁর সখীদের দেখে তিনি তাঁদের জীবন রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। তাই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, যেন তাঁদের বাঁচানোর ব্যাপারে তিনি নিরাশ না হন।
৯. “শ্রীযুত মাগন গুণী” – মাগন গুণী কে?
মাগন গুণী ছিলেন আরাকান রাজদরবারের একজন বিশিষ্ট পৃষ্ঠপোষক। আলাওলের সাহিত্যচর্চা ও কাব্যরচনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই কবি কাব্যের শেষে তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন।
সিন্ধুতীরে রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
১. “সমুদ্রনৃপতি সুতা” বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? পদ্মার পরিচয় এবং সিন্ধুতীরের স্বর্গীয় স্থানের বর্ণনা দাও।
‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’ বলতে সমুদ্ররাজার কন্যা পদ্মাকে বোঝানো হয়েছে। আলাওলের কাব্যে পদ্মা সমুদ্রের কন্যা হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন।
পদ্মার বাসস্থান ছিল সমুদ্রের মাঝখানে অবস্থিত এক অপূর্ব সুন্দর স্থান। সেখানে ছিল সুউচ্চ পর্বত, নানা ফল-ফুলে ভরা উদ্যান এবং সুন্দর প্রাসাদ। প্রাসাদটি সোনা ও রত্নে সজ্জিত ছিল। স্থানটির মানুষের মধ্যে ছিল সততা, ন্যায়, ধর্মপরায়ণতা ও শালীনতা। দুঃখ-কষ্টের অনুপস্থিতির কারণে সমগ্র স্থানটি স্বর্গের মতো মনে হয়েছিল।
২. “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ” – কন্যাটি কে? তিনি কোথায় থাকতেন?
এখানে কন্যাটি হলেন সমুদ্রকন্যা পদ্মা। তিনি সমুদ্রতীরবর্তী এক সুন্দর প্রাসাদে বসবাস করতেন। প্রাসাদের পাশে ছিল সুউচ্চ পর্বত এবং তার চারপাশে ছিল নানা ধরনের ফুল ও ফলের বাগান। সোনা ও রত্নে সাজানো সেই প্রাসাদ ও মনোরম উদ্যান পদ্মার বাসস্থানকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছিল।
৩. “অতি মনোহর দেশ” – দেশটির সৌন্দর্য বর্ণনা করো।
সিন্ধুতীরের দেশটি ছিল প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যে ভরা। সেখানে সুউচ্চ পর্বত, ফুল-ফলে ভরা উদ্যান এবং সুগন্ধময় পরিবেশ ছিল। পদ্মার জন্য নির্মিত প্রাসাদ ছিল সোনা ও রত্নে সজ্জিত।
শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, সেখানকার মানুষের চরিত্রও ছিল সুন্দর। তারা সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ ও ধর্মপরায়ণ ছিল। দুঃখকষ্টের অনুপস্থিতি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কারণে কবি স্থানটিকে ‘অতি মনোহর দেশ’ বলেছেন।
৪. “পঙ্খকন্যা পাইলা চেতন” – পঙ্খকন্যা কারা? কেন তাঁরা অচেতন হয়েছিলেন? কীভাবে জ্ঞান ফিরেছিল?
‘পঙ্খকন্যা’ বলতে পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখীকে বোঝানো হয়েছে। তাঁরা হলেন চন্দ্রপ্রভা, বিজয়া, রোহিণী ও বিধুমালা।
রত্নসেনের সঙ্গে যাত্রার সময় তাঁরা ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়েছিলেন। ঝড়ে তাঁদের নৌযান ধ্বংস হয়ে যায় এবং তাঁরা ভেলার সাহায্যে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন। প্রচণ্ড বিপদের কারণে তাঁরা অচেতন হয়ে পড়েন।
সমুদ্রকন্যা পদ্মা তাঁদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন। তাঁর নির্দেশে তাঁদের বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। আগুনের তাপ দেওয়া হয় এবং মন্ত্র-তন্ত্র ও মহৌষধির সাহায্যে চিকিৎসা করা হয়। দীর্ঘ সেবা-শুশ্রূষার পর তাঁদের জ্ঞান ফিরে আসে।
৫. “দেখিয়া রূপের কলা” – কে কার রূপ দেখেছিলেন? এরপর কী করেছিলেন?
সমুদ্রকন্যা পদ্মা অচেতন পদ্মাবতীর অপরূপ সৌন্দর্য দেখেছিলেন। পদ্মাবতীর রূপ এতই অসাধারণ ছিল যে পদ্মার মনে হয়েছিল, স্বর্গের অপ্সরা রম্ভাও তাঁর কাছে হার মানতে পারেন।
পদ্মা মনে করেছিলেন, এই নারী হয়তো ইন্দ্রের অভিশাপে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত কোনো বিদ্যাধরী। তাঁর করুণ অবস্থা দেখে পদ্মার মনে মমতা জেগে ওঠে। তিনি সখীদের নির্দেশ দেন কন্যাদের উদ্ধার করে বাগানে নিয়ে আসতে। এরপর তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং ঈশ্বরের কাছে তাঁদের জীবন রক্ষার জন্য প্রার্থনা করেন।
৬. “চিকিৎসিমু প্রাণপণ” – উক্তিটির মাধ্যমে পদ্মার চরিত্রের কী পরিচয় পাওয়া যায়?
“চিকিৎসিমু প্রাণপণ” কথার মাধ্যমে পদ্মার মানবিক ও সহানুভূতিশীল চরিত্র প্রকাশ পেয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ অপরিচিত কয়েকজন নারীকে বিপদে পড়ে থাকতে দেখে তাঁদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।
পদ্মাবতীর প্রাণ তখন প্রায় নিঃশেষ হয়ে এসেছিল। তবুও পদ্মা আশা হারাননি। তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন এবং নিজের সখীদের নিয়ে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আগুনের তাপ, ওষুধ এবং মন্ত্র-তন্ত্রের সাহায্যে তাঁদের সুস্থ করার চেষ্টা করেন। অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতা পদ্মার মহান মানবিক চরিত্রের পরিচয় দেয়।
৭. “বাহুরক কন্যার জীবন” – ‘বাহুরক’ শব্দের অর্থ কী? কীভাবে কন্যার জীবন ফিরে এসেছিল?
‘বাহুরক’ অর্থ ফিরে আসুক বা ফিরে আসা। এখানে অচেতন পদ্মাবতীর জীবন ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে।
সামুদ্রিক ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখী অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। পদ্মা তাঁদের উদ্ধার করে বাগানে নিয়ে আসেন। তাঁদের শরীরে অল্প প্রাণের অস্তিত্ব বুঝতে পেরে তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন। পরে আগুনের তাপ, মন্ত্র-তন্ত্র, মহৌষধি এবং নিয়মিত সেবা-শুশ্রূষার মাধ্যমে তাঁদের চিকিৎসা করা হয়। শেষ পর্যন্ত পদ্মাবতী ও তাঁর সখীরা চেতনা ফিরে পান।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
- সিন্ধু – সমুদ্র
- সুতা – কন্যা
- হেম – সোনা
- মাঞ্জস – ভেলা
- প্রত্যূষ – ভোর
- তুরিত – সত্বর
- বাও – বায়ু
- চিতে – অন্তরে
- বেথানিত – এলোমেলো/অসংবৃত
- পোতলি – পুতুল
- নিরঞ্জন – ঈশ্বর
- বাহুরক – ফিরে আসুক
- আছয় – আছে
- ভণিতা – কবির আত্মপরিচয় বা আত্মউল্লেখ
FAQ: সিন্ধুতীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর
| প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|
| ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতার কবি কে? | সৈয়দ আলাওল |
| ‘সিন্ধুতীরে’ কোন কাব্যের অংশ? | পদ্মাবতী |
| কোন খণ্ড থেকে নেওয়া হয়েছে? | পদ্মা-সমুদ্র খণ্ড |
| পদ্মা কে? | সমুদ্ররাজার কন্যা |
| পদ্মাবতী কার কন্যা? | সিংহলরাজ গন্ধর্বসেনের কন্যা |
| পদ্মাবতীর চার সখীর নাম কী? | চন্দ্রপ্রভা, বিজয়া, রোহিণী ও বিধুমালা |
| ‘মাঞ্জস’ কী? | ভেলা |
| ‘তুরিত’ অর্থ কী? | সত্বর |
| ‘প্রত্যূষ’ অর্থ কী? | ভোর |
| পদ্মাবতী ও তাঁর সখীরা কীভাবে সুস্থ হয়েছিলেন? | চিকিৎসা, আগুনের তাপ, মন্ত্র-তন্ত্র ও মহৌষধির মাধ্যমে |
উপসংহার
সিন্ধুতীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাব্যাংশে সৈয়দ আলাওল একদিকে যেমন সমুদ্রকন্যা পদ্মার অপূর্ব বাসস্থান ও প্রকৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে বিপদগ্রস্ত পদ্মাবতী ও তাঁর সখীদের উদ্ধারের মাধ্যমে মানবিকতা, মমতা ও সহানুভূতির পরিচয় দিয়েছেন।
মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে MCQ, শব্দার্থ, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং রচনাধর্মী প্রশ্নগুলি বারবার অনুশীলন করলে এই অধ্যায়টি ভালোভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব।