পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার জন্য ‘অদল বদল’ গল্পের প্রশ্ন উত্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুজরাটি সাহিত্যিক পান্নালাল প্যাটেলের লেখা এই গল্পে অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্ব, আত্মত্যাগ, মানবিকতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুন্দর ছবি ফুটে উঠেছে।
এই পোস্টে Adol Bodol Class 10 Question Answer-এর গুরুত্বপূর্ণ MCQ, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, ৩ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং সামগ্রিক প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় দেওয়া হল। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এগুলি ভালোভাবে পড়ে রাখা যেতে পারে।
অদল বদল গল্পের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গল্পের নাম | অদল বদল |
| লেখক | পান্নালাল প্যাটেল |
| মূল ভাষা | গুজরাটি |
| বাংলা অনুবাদক | অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত |
| শ্রেণি | দশম |
| বোর্ড | WBBSE |
| বিষয় | বাংলা |
অদল বদল গল্পের MCQ প্রশ্ন উত্তর
১। পান্নালাল প্যাটেল কোন সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন?
- ১৯৮২ সালে
- ১৯৫২ সালে
- ১৯৫০ সালে
- ১৯৮৫ সালে
উত্তর: ৪. ১৯৮৫ সালে
২। পান্নালাল প্যাটেল কোন ভাষার সাহিত্যিক?
- বাংলা
- হিন্দি
- গুজরাটি
- মারাঠি
উত্তর: ৩. গুজরাটি
৩। ‘অদল বদল’ গল্পটি কোন ভাষা থেকে বাংলায় অনূদিত?
- হিন্দি
- গুজরাটি
- মারাঠি
- উর্দু
উত্তর: ২. গুজরাটি
৪। ‘অদল বদল’ গল্পের বাংলা অনুবাদক কে?
- অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: ১. অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত
৫। ‘অদল বদল’ গল্পের মূল ভাষা কী?
উত্তর: গুজরাটি।
৬। ‘অদল বদল’ গল্পের লেখক কে?
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেল।
৭। হোলির দিন গ্রামের ছেলেরা অমৃত ও ইসাবকে কী করতে বলেছিল?
উত্তর: কুস্তি লড়তে বলেছিল।
৮। গ্রামের ছেলেরা কোথায় জড়ো হয়েছিল?
উত্তর: নিমগাছের নীচে।
৯। ছেলেরা নিমগাছের নীচে কী করছিল?
উত্তর: একে অপরের দিকে ধুলো ছুড়ে খেলছিল।
১০। হোলি কোন ঋতুতে অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: বসন্ত ঋতুতে।
১১। ‘অদল বদল’ গল্পের দুই বন্ধু কারা?
উত্তর: অমৃত ও ইসাব।
১২। হোলির দিন অমৃত ও ইসাবের পরনে কী ছিল?
উত্তর: দুজনের গায়েই নতুন জামা ছিল।
১৩। অমৃত ও ইসাবের জামার মধ্যে কী মিল ছিল?
উত্তর: রং, মাপ ও কাপড়ের দিক থেকে জামা দুটির মধ্যে মিল ছিল।
১৪। অমৃত ও ইসাব কোথায় পড়ত?
উত্তর: একই স্কুলে একই শ্রেণিতে পড়ত।
১৫। অমৃত ও ইসাবের বাড়ির অবস্থান কেমন ছিল?
উত্তর: রাস্তার মোড়ে তাদের বাড়ি দুটি মুখোমুখি ছিল।
১৬। অমৃত ও ইসাবের বাবার পেশা কী ছিল?
উত্তর: দুজনের বাবাই চাষি ছিলেন।
১৭। তাদের বাবাদের জমির পরিমাণ কেমন ছিল?
উত্তর: দুজনের জমির পরিমাণ প্রায় সমান ছিল।
১৮। অমৃতের পরিবারে মোট কতজন সদস্য ছিল?
উত্তর: ছয়জন।
১৯। ইসাবের পরিবারে কতজন সদস্য ছিল?
উত্তর: দুজন।
২০। অমৃতের কয়জন ভাই ছিল?
উত্তর: তিনজন ভাই ছিল।
২১। অমৃত ও ইসাব কীভাবে এসে বসেছিল?
উত্তর: হাত ধরাধরি করে এসে তারা বসেছিল।
২২। অমৃত কী ঘোষণা করেছিল?
উত্তর: ইসাবের মতো জামা না পেলে সে স্কুলে যাবে না বলে ঘোষণা করেছিল।
২৩। ইসাবের জামা কীভাবে ছিঁড়েছিল?
উত্তর: খেতে কাজ করার সময় ইসাবের জামা ছিঁড়ে যায়।
২৪। নতুন জামা দেওয়ার আগে ইসাবের বাবা কী করেছিলেন?
উত্তর: তিনি ইসাবকে মারধর করেছিলেন।
২৫। অমৃতের মা নতুন জামার বায়না শুনে তাকে কার কাছে যেতে বলেছিলেন?
উত্তর: তার বাবার কাছে যেতে বলেছিলেন।
২৬। অমৃতের বাবা তাকে কোথা থেকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন?
উত্তর: ইসাবের বাবার গোয়ালঘর থেকে।
২৭। অমৃত কেন গোয়ালঘরে লুকিয়েছিল?
উত্তর: স্কুলে যাওয়া ও বাড়ি ফেরার বিষয়টি এড়িয়ে নতুন জামার জন্য সে ইসাবের গোয়ালঘরে লুকিয়েছিল।
২৮। অমৃত কেন কুস্তি লড়তে চাইছিল না?
উত্তর: নতুন জামা ছিঁড়ে যাওয়ার ভয়ে সে কুস্তি করতে চাইছিল না।
২৯। “ইসাবের মেজাজ চড়ে গেল” – এর অর্থ কী?
উত্তর: ইসাব রেগে গেল বা তার মেজাজ উত্তপ্ত হয়ে উঠল।
৩০। “ও মরিয়া হয়ে বলল” – ‘ও’ কে?
উত্তর: অমৃত।
৩১। “আমাকে বেঁধে রাখো!” – কে বলেছিল?
উত্তর: অমৃত।
৩২। “মেজাজ চড়ে গেল” – কার?
উত্তর: ইসাবের।
৩৩। অমৃতকে কুস্তি লড়ার জন্য কে চ্যালেঞ্জ করেছিল?
উত্তর: কালিয়া।
৩৪। ছেলেদের কাছে কুস্তির খেলাটি মজার হয়ে উঠেছিল কেন?
উত্তর: অমৃতকে কুস্তিতে মাটিতে পড়ে যেতে দেখে ছেলেরা মজা পেয়েছিল।
৩৫। ইসাব কালিয়াকে কীভাবে মাটিতে ফেলেছিল?
উত্তর: ল্যাং মেরে তাকে মাটিতে ফেলে দিয়েছিল।
৩৬। কালিয়ার সঙ্গে কুস্তির পর ছেলেরা কেন পালিয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: কালিয়ার বাবা-মা এসে তাদের মারতে পারেন, এই ভয়ে তারা পালিয়ে যায়।
৩৭। অমৃতের মা তাকে নতুন জামার ব্যাপারে কী করতে বলেছিলেন?
উত্তর: বাবার কাছে গিয়ে জামার কথা বলতে বলেছিলেন।
৩৮। অমৃত ও ইসাব কেন কুস্তির স্থান ছেড়ে চলে গিয়েছিল?
উত্তর: কালিয়ার বাবা-মায়ের ভয়ে তারা সেখান থেকে চলে যায়।
৩৯। “রণভূমি” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: যেখানে কুস্তি হয়েছিল সেই স্থানকে রণভূমি বলা হয়েছে।
৪০। অমৃত কী লক্ষ্য করেছিল?
উত্তর: সে লক্ষ্য করেছিল ইসাবের জামা ছিঁড়ে গেছে।
৪১। ছেঁড়া জামা দেখে অমৃত ও ইসাবের কী হয়েছিল?
উত্তর: তারা ভয়ে স্থির হয়ে গিয়েছিল।
৪২। ইসাবের বাবা ছেঁড়া জামা দেখলে কী করতেন?
উত্তর: তিনি ইসাবকে প্রচণ্ড মারতে পারতেন।
৪৩। ইসাবের বাবা নতুন জামার টাকা কোথা থেকে জোগাড় করেছিলেন?
উত্তর: মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা ধার করেছিলেন।
৪৪। ইসাবের জামার কতটা কাপড় ছিঁড়েছিল?
উত্তর: পকেটের কাছে প্রায় ছয় ইঞ্চি কাপড় ছিঁড়েছিল।
৪৫। ভয়ে অমৃতের কী অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর: তার বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
৪৬। অমৃত কী উপায় বের করেছিল?
উত্তর: জামা অদল-বদল করার প্রস্তাব দিয়েছিল।
৪৭। অমৃতের মনে কার ওপর ভরসা ছিল?
উত্তর: তার মায়ের ওপর।
৪৮। “আমাকে বাঁচানোর জন্য আমার মা আছে” – কে বলেছিল?
উত্তর: অমৃত।
৪৯। বাবা মারতে এলে অমৃত কোথায় আশ্রয় নিত?
উত্তর: মায়ের পিছনে লুকিয়ে পড়ত।
৫০। জামা বদল করার সময় ইসাব কেন ইতস্তত করছিল?
উত্তর: অমৃত ছেঁড়া জামা পরলে তারও বাবার হাতে মার খেতে হতে পারে, এই চিন্তায় ইসাব দ্বিধা করছিল।
৫১। জামা বদল করার ঠিক আগে তারা কী শব্দ শুনেছিল?
উত্তর: কাশির শব্দ শুনেছিল।
৫২। কাশির শব্দের পর ইসাবের বাবা কী করেছিলেন?
উত্তর: তিনি ছেলেদের উদ্দেশে ডাক দিয়েছিলেন।
৫৩। অমৃত ও ইসাব কোথায় জামা বদল করেছিল?
উত্তর: দুই বাড়ির মাঝের গলিতে জামা বদল করেছিল।
৫৪। অমৃত ছেঁড়া জামা পরে বাড়ি ফিরেও কেন মার খায়নি?
উত্তর: হোলির দিনে ছেলেদের জামাকাপড় টানাটানি ও ধস্তাধস্তির কারণে জামা ছিঁড়ে যাওয়া স্বাভাবিক বলে তার মা বিষয়টি ক্ষমা করে দেন।
৫৫। হোলির খেলায় জামা টানাটানি ছাড়াও কী হচ্ছিল?
উত্তর: ধাক্কাধাক্কি ও ঠেলাঠেলি হচ্ছিল।
৫৬। অমৃতের মা ছেঁড়া জামা দেখে কী করেছিলেন?
উত্তর: তিনি প্রথমে বিরক্ত হলেও পরে জামাটি সেলাই করে দেন।
৫৭। অমৃতের মা জামাটি কী দিয়ে মেরামত করেছিলেন?
উত্তর: সুঁচ ও সুতো দিয়ে।
৫৮। হোলির দিন ‘বুড়ির বাড়ি পোড়ানো’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: হোলির একটি প্রচলিত উৎসবের অংশ হিসেবে আগুন জ্বালিয়ে পুরোনো কাঠামো পোড়ানোর অনুষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে।
৫৯। কোন ছেলে বলেছিল, “তোরা অদল-বদল করেছিস”?
উত্তর: গ্রামের এক ছেলে অমৃত ও ইসাবের জামা বদলের বিষয়টি দেখে এই কথা বলেছিল।
৬০। জামা ঠিক করার পর অমৃত ও ইসাব কোথায় গিয়েছিল?
উত্তর: তারা হোলির আগুন ও আতশবাজি দেখতে গিয়েছিল।
৬১। ইসাবের বাবা অমৃতের সম্পর্কে কী বলেছিলেন?
উত্তর: তিনি বলেছিলেন, অমৃতের মতো একটি ছেলে পেলে তিনি একুশজন ছেলেকেও মানুষ করতে রাজি।
৬২। অমৃতের বয়স কত ছিল?
উত্তর: দশ বছর।
৬৩। ইসাবের বাবার শান্ত গলায় কথা শুনে অমৃত ও ইসাব ভয় পেয়েছিল কেন?
উত্তর: তারা মনে করেছিল, হাসান হয়তো সবকিছু জেনে গেছেন এবং ইচ্ছা করেই শান্তভাবে কথা বলছেন।
৬৪। ইসাবের বাবা কাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন?
উত্তর: তিনি দশ বছরের অমৃতকে জড়িয়ে ধরেছিলেন।
৬৫। হাসান অমৃতের মাকে কী বলে সম্বোধন করেছিলেন?
উত্তর: “বাহালি বৌদি” বলে সম্বোধন করেছিলেন।
৬৬। হাসানের গল্প শুনতে কারা জড়ো হয়েছিল?
উত্তর: পাড়ার মায়েরা ও গ্রামের লোকজন জড়ো হয়েছিল।
৬৭। ইসাবের বাবার নাম কী?
উত্তর: হাসান।
৬৮। ইসাবের বাবা কোন সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন?
উত্তর: তিনি পাঠান ছিলেন।
৬৯। হাসান কী পান করছিলেন?
উত্তর: তিনি হুঁকো টানছিলেন।
৭০। হাসান কোথায় বসে হুঁকো টানছিলেন?
উত্তর: সামনের বারান্দায় খাটিয়ায় বসে হুঁকো টানছিলেন।
৭১। “উনি ঘোষণা করলেন” – ‘উনি’ কে?
উত্তর: গ্রামের প্রধান।
৭২। অমৃত ও ইসাবের জামা বদলের গল্প কার কানে পৌঁছেছিল?
উত্তর: গ্রামের প্রধানের কানে পৌঁছেছিল।
৭৩। অমৃত ও ইসাব কেন আনন্দিত হয়েছিল?
উত্তর: তাদের নতুন নাম পাওয়ার কারণে তারা আনন্দিত হয়েছিল।
৭৪। গ্রামের প্রধান অমৃত ও ইসাবের নতুন নাম কী রেখেছিলেন?
উত্তর: অমৃতের নাম রাখেন ‘অদল’ এবং ইসাবের নাম রাখেন ‘বদল’।
অদল বদল গল্পের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
১। অমৃত ও ইসাবের পরিবারের প্রধান পার্থক্য কী?
উত্তর: অমৃতের পরিবারে ছয়জন সদস্য – সে, তার বাবা-মা ও তিন ভাই। ইসাবের পরিবারে ছিল মাত্র দুজন – ইসাব ও তার বাবা।
২। হোলির দিনে ছেলেরা কী খেলছিল?
উত্তর: তারা একে অপরের দিকে ধুলো ছুড়ে খেলছিল।
৩। “সব দিক থেকে একরকম” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: জামার রং, মাপ ও কাপড়ের মিলকে বোঝানো হয়েছে।
৪। বিপদের সময় তাদের বাবাদের কী করতে হতো?
উত্তর: প্রয়োজনে সুদে টাকা ধার করতে হতো।
৫। অমৃত ও ইসাবের বাবার পেশা কী?
উত্তর: দুজনেই চাষি ছিলেন।
৬। অমৃত ও ইসাবের বাড়ি কোথায় ছিল?
উত্তর: রাস্তার মোড়ে মুখোমুখি ছিল।
৭। “এতেও” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ইসাব নতুন জামা পাওয়ার আগে বাবার হাতে মার খেয়েছিল জেনেও অমৃত নিজের জামার দাবি থেকে পিছিয়ে যায়নি – এই বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে।
৮। নতুন জামা দেওয়ার আগে ইসাবের বাবা কী করেছিলেন?
উত্তর: ইসাবকে মারধর করেছিলেন।
৯। ইসাবের জামা কেন ছিঁড়েছিল?
উত্তর: খেতে কাজ করার সময় জামাটি ছিঁড়ে যায়।
১০। অমৃত কেন ইসাবের মতো জামা চেয়েছিল?
উত্তর: ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইসাব নতুন জামা পাওয়ায় অমৃতও একই রকম জামা পরতে চেয়েছিল।
১১। অমৃত যে সহজে হাল ছাড়ার ছেলে নয়, তা কীভাবে বোঝা যায়?
উত্তর: সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে, খাওয়া ছেড়ে দেয় এবং বাড়ি ফিরতেও অস্বীকার করে।
১২। কে অমৃতকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনেছিল?
উত্তর: অমৃতের বাবা তাকে ইসাবের বাবার গোয়ালঘর থেকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন।
১৩। অমৃতের মা কেন তাকে বাবার কাছে যেতে বলেছিলেন?
উত্তর: নতুন জামার দাবি নিয়ে বাবার কাছে কথা বলতে বলেছিলেন।
১৪। অমৃতের ‘ফতোয়া’ কী ছিল?
উত্তর: ইসাবের মতো জামা না পেলে সে স্কুলে যাবে না।
১৫। অমৃতের সঙ্গে কুস্তি করার জন্য কে এগিয়ে এসেছিল?
উত্তর: কালিয়া।
১৬। অমৃত তার মাকে কী করতে বলেছিল?
উত্তর: তাকে বেঁধে রাখতে বা মারতে বলেছিল, কিন্তু জামার ব্যবস্থা করতে বলেছিল।
১৭। গ্রামের ছেলেরা কেন অমৃত ও ইসাবকে কুস্তি করতে বলেছিল?
উত্তর: তাদের দেখতে একই রকম হওয়ায় ছেলেরা তাদের কুস্তি দেখতে মজা পেতে চেয়েছিল।
১৮। অমৃত বলেছিল “মা আমাকে ঠ্যাঙাবে” কেন?
উত্তর: নতুন জামা কুস্তি করতে গিয়ে ছিঁড়ে গেলে মা তাকে মারতে পারেন বলে সে ভয় পেয়েছিল।
১৯। অমৃত কেন স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছিল?
উত্তর: ইসাবের মতো নতুন জামা না পাওয়া পর্যন্ত স্কুলে যাবে না বলে জেদ করেছিল।
২০। অমৃত কেন নতুন জামা পরে খেলতে চাইছিল না?
উত্তর: জামাটি নষ্ট বা ময়লা হয়ে যাওয়ার ভয়ে।
২১। কালিয়া অমৃতকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: খোলা মাঠে কুস্তি লড়তে নিয়ে গিয়েছিল।
২২। অমৃত কেন কালিয়ার হাত থেকে নিজেকে ছাড়াতে চাইছিল?
উত্তর: সে কুস্তি করতে চাইছিল না বলে মুক্ত হতে চাইছিল।
২৩। কালিয়া অমৃতের সঙ্গে কুস্তিতে কী করেছিল?
উত্তর: অমৃতকে মাটিতে ফেলে দিয়েছিল।
২৪। কালিয়া অমৃতকে ফেলে দেওয়ার পর ছেলেরা কী বলেছিল?
উত্তর: তারা বলেছিল, “কালিয়া জিতেছে, অমৃত হেরে গেছে।”
২৫। কালিয়া কেন চিৎকার করছিল?
উত্তর: ইসাব তাকে ল্যাং মেরে মাটিতে ফেলে দিয়েছিল বলে।
২৬। অমৃত মাটিতে পড়ায় ছেলেরা কেন আনন্দ পেয়েছিল?
উত্তর: কুস্তির দৃশ্য তাদের কাছে মজার মনে হয়েছিল।
২৭। আরেকজন ছেলে কী বলে তাদের উৎসাহ দিয়েছিল?
উত্তর: “লড়ে যা তোরা, বেশ মজা হবে” বলেছিল।
২৮। গল্পের ঘটনা কখন শুরু হয়?
উত্তর: হোলির পড়ন্ত বিকেলে।
২৯। গ্রামের ছেলেরা কেন পালিয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: কালিয়ার বাবা-মা এসে মারতে পারেন বলে তারা ভয় পেয়েছিল।
৩০। ‘অদল বদল’ গল্পের বাংলা অনুবাদক কে?
উত্তর: অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।
৩১। ইসাবের জামার কোন অংশ ছিঁড়েছিল?
উত্তর: পকেটের কাছের প্রায় ছয় ইঞ্চি কাপড় ছিঁড়েছিল।
৩২। ইসাবের জামা কীভাবে ছিঁড়েছিল?
উত্তর: কালিয়ার সঙ্গে কুস্তির সময় জামাটি ছিঁড়ে যায়।
৩৩। “আমি ওইটা পরব” – অমৃত কী পরতে চেয়েছিল?
উত্তর: ইসাবের ছেঁড়া জামাটি পরতে চেয়েছিল।
৩৪। অমৃত ও ইসাব ভয়ে স্থির হয়ে গিয়েছিল কেন?
উত্তর: ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় তার বাবার মার খাওয়ার আশঙ্কায়।
৩৫। অমৃত কখন ইসাবের ছেঁড়া জামা দেখতে পেয়েছিল?
উত্তর: কুস্তির স্থান থেকে চলে আসার পর।
৩৬। “কাঠ হয়ে গেল” কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: ভয়ে একেবারে নিশ্চল বা স্থির হয়ে যাওয়া।
৩৭। অমৃত কী বুদ্ধি বের করেছিল?
উত্তর: দুই বন্ধুর জামা বদল করার কথা ভেবেছিল।
৩৮। অমৃত কাকে জামা বদলের কথা বলেছিল?
উত্তর: ইসাবকে।
৩৯। কোথায় তারা জামা বদল করেছিল?
উত্তর: দুই বাড়ির মাঝের গলিতে।
৪০। অমৃত নিজের বিপদের কথা কীভাবে এড়িয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: সে বলেছিল, তাকে রক্ষা করার জন্য তার মা আছেন।
৪১। ইসাব কী মনে করেছিল?
উত্তর: বাবা মারতে এলে অমৃত তার মায়ের কাছে আশ্রয় নেয় – এই কথা ইসাব জানত।
৪২। ইসাবের বাবা কেন তাকে মারতে পারতেন?
উত্তর: নতুন জামার জন্য টাকা ধার করে সেটি তৈরি করেছিলেন, তাই জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় তিনি খুব রেগে যেতে পারতেন।
৪৩। “যে যার বাড়ি চলে গেল” – কারা বাড়ি চলে গিয়েছিল?
উত্তর: অমৃত ও ইসাব।
৪৪। অমৃতের বুক ধড়ফড় করছিল কেন?
উত্তর: ছেঁড়া জামা পরে বাড়ি ফিরলে বাবা-মা কী বলবেন, সেই ভয়ে।
৪৫। অমৃতের মা ছেঁড়া জামা দেখে কী করেছিলেন?
উত্তর: তিনি পরে জামাটি সুঁচ-সুতো দিয়ে মেরামত করে দেন।
৪৬। জামা ঠিক হওয়ার পর তারা কী দেখতে গিয়েছিল?
উত্তর: হোলির আগুন ও আতশবাজি দেখতে গিয়েছিল।
৪৭। অমৃত ও ইসাবের ভয় কীভাবে দূর হয়েছিল?
উত্তর: অমৃতের মা তাকে ক্ষমা করে জামাটি ঠিক করে দেওয়ায় এবং ইসাবের জামা বদলে যাওয়ায় তাদের ভয় কেটে যায়।
৪৮। কে তাদের জামা বদল করতে দেখেছিল?
উত্তর: গ্রামের একটি ছেলে তাদের জামা বদল করতে দেখেছিল।
৪৯। সেই ছেলে কী বলেছিল?
উত্তর: সে বলেছিল, “তোরা অদল-বদল করেছিস।”
৫০। সেই ছেলেটিকে দেখে তারা কেন ভয় পেয়েছিল?
উত্তর: সে জামা বদলের কথা অন্যদের জানিয়ে দিতে পারে বলে তারা ভয় পেয়েছিল।
৫১। ইসাবের বাবার শান্ত গলা শুনে তারা কেন ভয় পেয়েছিল?
উত্তর: তারা মনে করেছিল, হাসান সব ঘটনা জেনে গেছেন।
৫২। অমৃত ও ইসাব কী মনে করেছিল?
উত্তর: হাসান হয়তো সব জেনেও শান্ত থাকার ভান করছেন।
৫৩। হাসান কোথায় বসেছিলেন?
উত্তর: সামনের বারান্দায় খাটিয়ায় বসেছিলেন।
৫৪। হাসান অমৃতের সঙ্গে কী করেছিলেন?
উত্তর: তিনি অমৃতকে ডেকে স্নেহভরে জড়িয়ে ধরেছিলেন।
৫৫। হাসান কখন অমৃত ও ইসাবকে ডাকেন?
উত্তর: তারা জামা ছেঁড়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছিল, তখন তিনি তাদের ডাকেন।
৫৬। অমৃতের কোন কথায় হাসানের মনে পরিবর্তন আসে?
উত্তর: “আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে” – এই কথাটি হাসানের হৃদয় স্পর্শ করে।
৫৭। হাসান অমৃতের মাকে কী বলে ডাকেন?
উত্তর: “বাহালি বৌদি।”
৫৮। হাসান অমৃতের মতো কয়জন ছেলেকে মানুষ করতে রাজি ছিলেন?
উত্তর: একুশজন।
৫৯। “আজ থেকে আপনার ছেলে আমার” – কে কাকে বলেছিলেন?
উত্তর: হাসান অমৃতের মাকে এই কথা বলেছিলেন।
৬০। হাসান কেন অমৃতের কথাকে ‘খাঁটি’ বলেছিলেন?
উত্তর: কারণ অমৃত কোনো স্বার্থ ছাড়াই বন্ধুকে বিপদ থেকে বাঁচাতে নিজের ভালো জামা দিয়ে দিয়েছিল।
৬১। হাসানের গল্প শুনতে কারা জড়ো হয়েছিল?
উত্তর: পাড়ার মায়েরা ও গ্রামের লোকজন।
৬২। ‘খাঁটি কথা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বন্ধুর জন্য অমৃতের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগকে বোঝানো হয়েছে।
৬৩। অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের গল্প শুনে গ্রামের মায়েদের কেমন লেগেছিল?
উত্তর: তাদের মন আনন্দ ও আবেগে ভরে গিয়েছিল।
৬৪। অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বে গ্রামের মানুষ কেন মুগ্ধ হয়েছিল?
উত্তর: তাদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ সবাইকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল।
৬৫। গ্রামের প্রধান কী ঘোষণা করেছিলেন?
উত্তর: অমৃতের নাম ‘অদল’ এবং ইসাবের নাম ‘বদল’ হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন।
৬৬। অমৃত ও ইসাবের নাম কীভাবে বদলে দেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: অমৃতের নতুন নাম হয় ‘অদল’ এবং ইসাবের নতুন নাম হয় ‘বদল’।
ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর: প্রশ্ন মান – ৩
১। ‘ছেলেদুটোর সবই একরকম, তফাত শুধু এই যে’ – ছেলে দুটি কারা? তাদের মধ্যে তফাত কোথায়?
উত্তর:
এখানে ‘ছেলেদুটি’ বলতে অমৃত ও ইসাবকে বোঝানো হয়েছে।
দুজন একই স্কুলে একই শ্রেণিতে পড়ত। তাদের বাড়ি রাস্তার মোড়ে মুখোমুখি ছিল। দুজনের বাবাই চাষি এবং তাদের জমির পরিমাণও প্রায় সমান ছিল।
তবে পরিবারের সদস্যসংখ্যার ক্ষেত্রে পার্থক্য ছিল। অমৃতের পরিবারে ছয়জন সদস্য – অমৃত, তার বাবা-মা ও তিন ভাই। ইসাবের পরিবারে ছিল মাত্র দুজন – ইসাব ও তার বাবা।
২। “দুজনের গায়েই সেদিনকার তৈরি নতুন জামা।” – ‘দুজন’ কারা? তাদের মধ্যে কী কী মিল ও অমিল ছিল?
উত্তর:
এখানে ‘দুজন’ বলতে অমৃত ও ইসাবকে বোঝানো হয়েছে।
তাদের জামার রং, মাপ ও কাপড় একই ধরনের ছিল। দুজন একই স্কুলে একই শ্রেণিতে পড়ত এবং তাদের বাড়িও মুখোমুখি ছিল। দুজনের বাবাই চাষি ছিলেন এবং জমির পরিমাণও প্রায় সমান।
তাদের প্রধান অমিল ছিল পরিবারের সদস্যসংখ্যায়। অমৃতের পরিবারে ছয়জন সদস্য থাকলেও ইসাবের পরিবারে ছিল মাত্র দুজন।
৩। “ও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিল।” – ‘ও’ কে? স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছিল কেন?
উত্তর:
এখানে ‘ও’ বলতে অমৃতকে বোঝানো হয়েছে।
ইসাবের নতুন জামা দেখে অমৃতও একই রকম জামা পাওয়ার জন্য মায়ের কাছে জেদ ধরে। মা তাকে অনেক বোঝালেও সে নিজের দাবি থেকে সরে আসেনি। শেষ পর্যন্ত নতুন জামা না পাওয়ার প্রতিবাদে সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
৪। “ইসাবের মেজাজ চড়ে গেল।” – কেন ইসাব রেগে গিয়েছিল? এর ফল কী হয়েছিল?
উত্তর:
কালিয়া জোর করে অমৃতকে কুস্তি লড়তে নিয়ে গিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। বন্ধুর এই অপমান দেখে ইসাব রেগে যায়।
সে কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি শুরু করে এবং ল্যাং মেরে কালিয়াকে মাটিতে ফেলে দেয়। কালিয়া চিৎকার করতে থাকে। ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ছেলেরা ভয়ে পালিয়ে যায়।
৫। “ব্যাপারটা ঘোরালো হয়ে পড়েছে।” – কোন ব্যাপারটি ঘোরালো হয়ে উঠেছিল? কেন? এর ফল কী হয়েছিল?
উত্তর:
ইসাব ও কালিয়ার কুস্তির ঘটনাটি ঘোরালো হয়ে উঠেছিল।
ইসাব কালিয়াকে ল্যাং মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়ার পর কালিয়া চিৎকার করতে থাকে। তার বাবা-মা এসে ছেলেদের মারতে পারেন, এই আশঙ্কায় সবাই পালিয়ে যায়। অমৃত ও ইসাবও কুস্তির স্থান ছেড়ে চলে যায়।
৬। “হঠাৎ অমৃতের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল।” – কী বুদ্ধি এসেছিল?
উত্তর:
ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ার পর অমৃত বুঝতে পারে যে, ছেঁড়া জামা পরে বাড়ি ফিরলে ইসাব তার বাবার হাতে মার খেতে পারে। তাই অমৃত জামা বদল করার বুদ্ধি বের করে।
সে নিজের ভালো জামাটি ইসাবকে দিয়ে ইসাবের ছেঁড়া জামাটি নিজে পরে নেয়। এতে ইসাবের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
৭। “কিন্তু আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।” – কার উক্তি? এই কথায় তার চরিত্রের কোন দিক প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর:
এই কথাটি অমৃতের।
এই উক্তির মাধ্যমে তার গভীর মাতৃভক্তি এবং বন্ধুর প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। অমৃত জানত, ছেঁড়া জামা পরে বাড়ি ফিরলে সে নিজেও মার খেতে পারে। তবুও ইসাবকে রক্ষা করার জন্য সে নিজের ভালো জামাটি দিয়ে দিয়েছিল।
৮। “ইসাব তবু ইতস্তত করছে।” – ইসাব কেন দ্বিধা করছিল? ‘তবু’ শব্দটির তাৎপর্য কী?
উত্তর:
ইসাব দ্বিধা করছিল কারণ অমৃত ছেঁড়া জামা পরে বাড়ি গেলে তারও বাবার হাতে মার খাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সে বন্ধুকে নিজের বিপদের মধ্যে ফেলতে চাইছিল না।
অমৃত বলেছিল, তার মা তাকে রক্ষা করবেন। কিন্তু ইসাবের মা নেই। এই কথা বলার পরও ইসাব সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়নি। তাই তার দ্বিধা বোঝাতে ‘তবু’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
৯। “উনি দশ বছরের অমৃতকে জড়িয়ে ধরলেন।” – ‘উনি’ কে? কেন অমৃতকে জড়িয়ে ধরলেন?
উত্তর:
‘উনি’ বলতে ইসাবের বাবা হাসানকে বোঝানো হয়েছে।
হাসান অমৃতের বন্ধুপ্রীতি ও আত্মত্যাগের ঘটনা জানতে পারেন। ইসাবকে বাবার মার থেকে বাঁচানোর জন্য অমৃত নিজের ভালো জামাটি দিয়ে ছেঁড়া জামাটি নিজে পরে নিয়েছিল। এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে হাসান অমৃতকে স্নেহভরে জড়িয়ে ধরেছিলেন।
১০। “ওরা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল।” – ‘ওরা’ কারা? কেন ভয় পেয়েছিল?
উত্তর:
‘ওরা’ বলতে অমৃত ও ইসাবকে বোঝানো হয়েছে।
কালিয়ার সঙ্গে কুস্তির সময় ইসাবের জামা ছিঁড়ে যায়। তার বাবা বিষয়টি জানতে পারলে তাকে প্রচণ্ড মারতে পারেন – এই ভয়েই দুজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।
১১। “ও আমাকে শিখিয়েছে খাঁটি জিনিস কাকে বলে।” – ‘ও’ কে? ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর:
‘ও’ বলতে অমৃতকে বোঝানো হয়েছে। কথাটি বলেছিলেন ইসাবের বাবা হাসান।
‘খাঁটি জিনিস’ বলতে নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগকে বোঝানো হয়েছে। অমৃত নিজের প্রিয় নতুন জামাটি বন্ধুকে দিয়ে ছেঁড়া জামাটি নিজে পরে নিয়েছিল। বন্ধুকে বাঁচানোর জন্য নিজের বিপদকেও সে গুরুত্ব দেয়নি। এই মানবিকতাকেই হাসান ‘খাঁটি জিনিস’ বলেছেন।
১২। “বাহালি বৌদি, আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।” – বাহালি বৌদি কে? বক্তা কে? প্রসঙ্গটি লেখো।
উত্তর:
‘বাহালি বৌদি’ হলেন অমৃতের মা। বক্তা হলেন ইসাবের বাবা হাসান।
ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ার পর অমৃত বন্ধুকে বাবার মার থেকে বাঁচাতে নিজের জামার সঙ্গে ইসাবের জামা বদল করে। অমৃত জানায়, তার মা তাকে রক্ষা করবেন। এই ঘটনা হাসান শুনতে পান। অমৃতের নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বে মুগ্ধ হয়ে তিনি অমৃতের মাকে বলেন, “আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।”
১৩। “এতে দুজনেরই ভয় কেটে গেল।” – দুজন কারা? কীভাবে ভয় কেটে গেল?
উত্তর:
দুজন হল অমৃত ও ইসাব।
ইসাবের জামা অমৃত পরে নেওয়ায় ইসাবের বাবার হাতে তার মার খাওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। অন্যদিকে অমৃতের মা ছেঁড়া জামা দেখে তাকে শাস্তি না দিয়ে জামাটি সেলাই করে দেন। ফলে অমৃতেরও শাস্তি পাওয়ার ভয় চলে যায়।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর: প্রশ্ন মান – ৫
১। “দুজনের গায়েই সেদিনকার তৈরি নতুন জামা।” – দুজন কারা? নতুন জামা পাওয়ার ইতিহাস বর্ণনা করো।
উত্তর:
এখানে ‘দুজন’ বলতে অমৃত ও ইসাবকে বোঝানো হয়েছে।
ইসাবের জামা খেতে কাজ করার সময় ছিঁড়ে যায়। এতে তার বাবা রেগে গিয়ে তাকে মারধর করেন। পরে ছেলের জন্য নতুন জামা তৈরি করতে তিনি মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা ধার করেন।
ইসাবের নতুন জামা দেখে অমৃতেরও একই ধরনের জামা পরার ইচ্ছা হয়। সে মায়ের কাছে নতুন জামার জন্য জেদ ধরে। মা তাকে বোঝালেও অমৃত নিজের দাবি ছাড়ে না।
নতুন জামা না পেয়ে অমৃত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়, খাওয়া ছেড়ে দেয় এবং বাড়ি ফিরতেও অস্বীকার করে। শেষ পর্যন্ত তার বাবা তাকে ইসাবের বাবার গোয়ালঘর থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।
অমৃতের জেদের কাছে শেষ পর্যন্ত তার বাবা-মাকে নতি স্বীকার করতে হয়। তার বাবাও সুদে টাকা ধার করে ইসাবের জামার মতো একটি নতুন জামা তৈরি করে দেন। ফলে হোলির দিনে দুই বন্ধুর পরনেই একই রকম নতুন জামা দেখা যায়।
২। “অমৃত সত্যি তার বাবা-মাকে খুব জ্বালিয়েছিল।” – অমৃত কীভাবে বাবা-মাকে জ্বালাতন করেছিল? শেষে তার মা কী করেছিলেন?
উত্তর:
ইসাবের নতুন জামা দেখে অমৃতও একই রকম জামার জন্য মায়ের কাছে বায়না ধরে। মা বোঝানোর চেষ্টা করলেও অমৃত জেদ ছাড়ে না। এমনকি নিজের পুরোনো জামার ছেঁড়া অংশ আরও ছিঁড়ে সে নতুন জামার প্রয়োজন বোঝানোর চেষ্টা করে।
মা যখন জানান যে, ইসাব নতুন জামা পাওয়ার আগে বাবার হাতে মার খেয়েছিল, তখনও অমৃত পিছিয়ে যায়নি। সে মার খেতেও রাজি ছিল।
এরপর সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে, খাওয়া বন্ধ করে এবং রাতে বাড়ি ফিরতেও অস্বীকার করে। শেষ পর্যন্ত বাবা তাকে গোয়ালঘর থেকে বাড়ি নিয়ে আসেন।
অবশেষে অমৃতের মা তার জেদের কাছে হার মানেন এবং তার বাবাকে নতুন জামা কিনে দিতে রাজি করান। অমৃত ইসাবের মতো একটি নতুন জামা পায়।
৩। “অমৃত দৃঢ়স্বরে বলল – ‘না, তাহলে মা আমাকে ঠ্যাঙাবে।’” – কোন প্রসঙ্গে অমৃত এই কথা বলেছিল? কেন দৃঢ়ভাবে আপত্তি করেছিল?
উত্তর:
হোলির দিনে অমৃত ও ইসাব একই ধরনের নতুন জামা পরে গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে খেলতে যায়। সেখানে কয়েকজন ছেলে তাদের কুস্তি লড়তে উৎসাহিত করে। কালিয়া অমৃতকে জোর করে কুস্তিতে নামাতে চায়।
অমৃত তখন কুস্তি করতে রাজি হয়নি। কারণ অনেক কষ্ট করে পাওয়া নতুন জামাটি কুস্তি করতে গিয়ে ছিঁড়ে যেতে পারে। জামা নষ্ট হলে তার মা তাকে শাস্তি দেবেন – এই ভয়েই অমৃত দৃঢ়ভাবে আপত্তি করেছিল।
৪। “আমাকে শিখিয়েছে খাঁটি জিনিস কাকে বলে” – ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? কে কাকে এই শিক্ষা দিয়েছিল?
উত্তর:
‘খাঁটি জিনিস’ বলতে সত্যিকারের বন্ধুত্ব, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগকে বোঝানো হয়েছে।
কালিয়ার সঙ্গে কুস্তির সময় ইসাবের জামা ছিঁড়ে যায়। ইসাবের বাবা ছেঁড়া জামা দেখলে তাকে মারতে পারেন। বন্ধুকে সেই বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য অমৃত নিজের নতুন জামাটি ইসাবকে দিয়ে দেয় এবং ছেঁড়া জামাটি নিজে পরে নেয়।
ইসাব প্রথমে এতে রাজি হয়নি। কারণ অমৃতও বাবার হাতে মার খেতে পারে। তখন অমৃত জানায়, তাকে রক্ষা করার জন্য তার মা আছেন। কিন্তু ইসাবকে রক্ষা করার মতো মা নেই।
এই ঘটনা ইসাবের বাবা হাসান দেখতে ও শুনতে পান। অমৃতের নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হন। তিনি বুঝতে পারেন, সত্যিকারের বন্ধুত্বে নিজের স্বার্থের চেয়ে বন্ধুর নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি বলেন, অমৃতই তাঁকে ‘খাঁটি জিনিস’ চিনতে শিখিয়েছে।
৫। “পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার গল্প শুনে তাদেরও বুক ভরে গেল।” – কার ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে? তাদের ভালোবাসার পরিচয় দাও।
উত্তর:
এখানে অমৃত ও ইসাবের গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে।
দুই বন্ধু একই স্কুলে পড়ত এবং সবসময় একে অপরের পাশে থাকত। কালিয়া যখন অমৃতকে জোর করে কুস্তি লড়তে নিয়ে গিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়, তখন ইসাব বন্ধুর অপমান সহ্য করতে পারেনি। সে কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়ে তাকে মাটিতে ফেলে দেয়।
এরপর দেখা যায়, কুস্তির সময় ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে গেছে। ইসাবের বাবা তাকে মারতে পারেন বুঝতে পেরে অমৃত নিজের নতুন জামাটি ইসাবকে দিয়ে ছেঁড়া জামাটি নিজে পরে নেয়।
এই ঘটনার মাধ্যমে তাদের বন্ধুত্বের গভীরতা প্রকাশ পায়। বিপদের সময় একজন অন্যজনকে রক্ষা করতে নিজের ক্ষতির কথাও ভাবেনি। তাদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই গ্রামের মানুষকে আবেগাপ্লুত করেছিল।
সামগ্রিক প্রশ্নোত্তর
১। ‘অদল বদল’ গল্পে ইসাবের বাবা হাসান একদিকে পিতৃহৃদয়ের প্রতীক, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দূত – গল্প অবলম্বনে আলোচনা করো।
উত্তর:
পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে ইসাবের বাবা হাসান একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তাঁর চরিত্রে পিতৃস্নেহ, আবেগ, মানবিকতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুন্দর প্রকাশ ঘটেছে।
পিতৃস্নেহ:
হাসান দরিদ্র কৃষক হওয়া সত্ত্বেও ইসাবের জন্য নতুন জামা তৈরি করতে সুদে টাকা ধার করেন। জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় রাগের বশে ছেলেকে মারলেও তার প্রতি তাঁর গভীর মমতা ছিল।
আবেগপ্রবণতা:
অমৃতের আত্মত্যাগের ঘটনা জানতে পেরে হাসান অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি দশ বছরের অমৃতকে জড়িয়ে ধরেন।
মানবিকতা:
অমৃতের মুখে বন্ধুর জন্য আত্মত্যাগের কথা শুনে হাসানের মনে পরিবর্তন আসে। তিনি বুঝতে পারেন, সত্যিকারের ভালোবাসা ধর্মের সীমা মানে না।
স্নেহ:
তিনি অমৃতের মাকে ‘বাহালি বৌদি’ বলে ডাকেন এবং বলেন, আজ থেকে অমৃতও তাঁর ছেলে। অমৃতের মতো ছেলে পেলে একুশজনকেও মানুষ করতে রাজি থাকার কথা বলেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি:
অমৃত ও ইসাব দুই ভিন্ন সম্প্রদায়ের পরিবারের সন্তান হলেও তাদের বন্ধুত্বে কোনো বিভেদ ছিল না। অমৃত বন্ধুর জন্য নিজের জামা পর্যন্ত দিয়ে দেয়। হাসানও সেই মানবিকতাকে আপন করে নেন।
তাই হাসান একই সঙ্গে একজন পিতার স্নেহময় হৃদয়ের প্রতীক এবং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতিনিধি।
২। ‘অদল বদল’ গল্প অবলম্বনে অমৃতের চরিত্র বিশ্লেষণ করো।
উত্তর:
অমৃত গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র। তার মধ্যে জেদ, বুদ্ধি, মাতৃভক্তি, বন্ধুপ্রীতি ও আত্মত্যাগের সুন্দর সমন্বয় রয়েছে।
জেদি:
নতুন জামা পাওয়ার জন্য অমৃত বাবা-মাকে যথেষ্ট জ্বালাতন করেছিল। স্কুলে যাওয়া ও খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল।
মাতৃভক্ত:
অমৃতের মায়ের প্রতি তার গভীর বিশ্বাস ছিল। সে মনে করত, বাবা তাকে মারলেও মা তাকে রক্ষা করবেন।
উপস্থিতবুদ্ধিসম্পন্ন:
ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ার পর অমৃত দ্রুত সমস্যার সমাধান বের করে। জামা বদল করার বুদ্ধি তার উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেয়।
প্রকৃত বন্ধু:
বন্ধুর বিপদের সময় অমৃত নিজের কথা না ভেবে ইসাবকে রক্ষা করে।
উদার ও ত্যাগী:
যে নতুন জামা পাওয়ার জন্য সে এত জেদ করেছিল, সেই জামাটিই শেষ পর্যন্ত বন্ধুকে দিয়ে দেয়। এটি তার অসাধারণ আত্মত্যাগের পরিচয়।
সব মিলিয়ে অমৃত একজন জেদি কিন্তু অত্যন্ত মানবিক, বুদ্ধিমান, মাতৃভক্ত এবং প্রকৃত বন্ধুর প্রতীক।
৩। ‘অদল বদল’ গল্প অবলম্বনে ইসাবের চরিত্র বিশ্লেষণ করো।
উত্তর:
ইসাব গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তার মধ্যে কর্মঠতা, বন্ধুপ্রীতি, সাহস, বিবেক ও সংবেদনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়।
মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত:
ইসাবের মা ছিল না। সে শুধু বাবার সঙ্গে থাকত। ফলে তার জীবনে মাতৃস্নেহের অভাব ছিল।
কর্মঠ:
ছোট বয়সেই তাকে বাবার সঙ্গে খেতে কাজ করতে হতো। কাজ করার সময়ই তার জামা ছিঁড়ে যায়।
প্রকৃত বন্ধু:
কালিয়া যখন অমৃতকে মাটিতে ফেলে দেয়, তখন ইসাব বন্ধুর অপমান সহ্য করতে পারেনি। সে কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়ে তাকে ফেলে দেয়।
শক্তিশালী:
ইসাব শারীরিকভাবে শক্তিশালী ছিল। কুস্তির সময় সে কালিয়াকে ল্যাং মেরে মাটিতে ফেলে দেয়।
বিবেকবান:
অমৃত জামা বদলের প্রস্তাব দিলে ইসাব প্রথমে রাজি হয়নি। কারণ অমৃতও ছেঁড়া জামা পরে বাবার হাতে মার খেতে পারে – এই বিষয়টি সে বুঝতে পেরেছিল।
সংবেদনশীল:
বন্ধুর ক্ষতি হোক, তা ইসাব চাইত না। তাই নিজের বিপদ থেকে বাঁচার সুযোগ থাকলেও সে অমৃতের বিপদের কথা ভেবে দ্বিধায় পড়েছিল।
অতএব, ইসাব একজন কর্মঠ, সাহসী, সংবেদনশীল ও প্রকৃত বন্ধুর প্রতীক।
৪। ‘অদল বদল’ গল্পে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি নতুন ছবি ফুটে উঠেছে – আলোচনা করো।
উত্তর:
‘অদল বদল’ গল্পের অন্যতম প্রধান বক্তব্য হল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিকতার জয়।
অমৃত ও ইসাব দুই ভিন্ন সম্প্রদায়ের পরিবারের সন্তান। কিন্তু তাদের বন্ধুত্বে ধর্মের কোনো বিভেদ নেই। তারা একই স্কুলে পড়ে, একসঙ্গে খেলাধুলা করে এবং বিপদের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।
গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল জামা অদল-বদল। ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ার পর অমৃত নিজের ভালো জামাটি বন্ধুকে দিয়ে দেয়। এর ফলে নিজেরও বিপদ হতে পারে জেনেও সে পিছিয়ে যায় না।
এই ঘটনা ইসাবের বাবা হাসানের হৃদয়ে পরিবর্তন আনে। তিনি অমৃতকে নিজের সন্তানের মতো গ্রহণ করেন এবং অমৃতের মাকে ‘বাহালি বৌদি’ বলে সম্বোধন করেন।
শেষে গ্রামের প্রধান অমৃত ও ইসাবের নাম পরিবর্তন করে ‘অদল’ ও ‘বদল’ রাখেন। এই নামের মধ্যেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক মিলনের ইঙ্গিত রয়েছে।
তাই গল্পের ‘অদল বদল’ শুধু জামা পরিবর্তনের ঘটনা নয়। এটি মানুষের হৃদয়ের পরিবর্তন এবং ধর্মীয় বিভেদ ভুলে একে অপরকে আপন করে নেওয়ার প্রতীক।
অদল বদল গল্পের মূলভাব
‘অদল বদল’ গল্পের মূল বক্তব্য হল সত্যিকারের বন্ধুত্ব, আত্মত্যাগ, মানবিকতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্ব দেখায় যে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা থাকলে ধর্ম বা সম্প্রদায়ের পার্থক্য কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। নিজের বিপদের কথা না ভেবে অমৃত বন্ধুকে রক্ষা করার জন্য নিজের প্রিয় জামাটি দিয়ে দেয়।
এই ছোট্ট ঘটনাই ইসাবের বাবা হাসানের হৃদয়ে পরিবর্তন আনে। তাই গল্পটি আমাদের শেখায়, মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মানবিকতা।
অদল বদল গল্প থেকে পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
- পান্নালাল প্যাটেল ছিলেন গুজরাটি ভাষার সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯৮৫ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন।
- গল্পের দুই প্রধান চরিত্র অমৃত ও ইসাব।
- অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্ব গল্পটির মূল কেন্দ্র।
- ইসাবের বাবা হাসানের চরিত্রে পিতৃস্নেহ ও মানবিকতার প্রকাশ রয়েছে।
- ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি হয়।
- অমৃত নিজের ভালো জামা বন্ধুকে দিয়ে ছেঁড়া জামাটি নিজে পরে নেয়।
- অমৃতের আত্মত্যাগ হাসানের হৃদয় পরিবর্তন করে।
- গল্পের শেষে অমৃতের নাম ‘অদল’ এবং ইসাবের নাম ‘বদল’ রাখা হয়।
- গল্পটির অন্যতম প্রধান বার্তা হল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
FAQs: অদল বদল গল্পের প্রশ্ন উত্তর
১। ‘অদল বদল’ গল্পের লেখক কে?
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেল।
২। ‘অদল বদল’ গল্পটি কোন ভাষা থেকে অনূদিত?
উত্তর: গুজরাটি ভাষা থেকে।
৩। ‘অদল বদল’ গল্পের বাংলা অনুবাদক কে?
উত্তর: অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।
৪। ‘অদল বদল’ গল্পের দুই বন্ধু কারা?
উত্তর: অমৃত ও ইসাব।
৫। অমৃত ও ইসাব কেন জামা অদল-বদল করেছিল?
উত্তর: ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় তার বাবা তাকে মারতে পারেন। বন্ধুকে সেই শাস্তি থেকে বাঁচানোর জন্য অমৃত নিজের ভালো জামাটি ইসাবকে দিয়ে ছেঁড়া জামাটি নিজে পরে নেয়।
৬। ‘অদল বদল’ গল্পের মূল বিষয় কী?
উত্তর: সত্যিকারের বন্ধুত্ব, আত্মত্যাগ, মানবিকতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
৭। অমৃতের নতুন নাম কী হয়েছিল?
উত্তর: অদল।
৮। ইসাবের নতুন নাম কী হয়েছিল?
উত্তর: বদল।
উপসংহার
পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ শুধু দুই বন্ধুর জামা পরিবর্তনের গল্প নয়। এটি বন্ধুত্ব, আত্মত্যাগ, ভালোবাসা এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির একটি সুন্দর কাহিনি। অমৃত ও ইসাবের সম্পর্ক আমাদের শেখায়, সত্যিকারের বন্ধুত্বে ধর্ম, সম্প্রদায় বা আর্থিক অবস্থার কোনো বিভেদ থাকে না।
মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই গল্পের MCQ, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, ৩ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন এবং ৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্নগুলি ভালোভাবে অনুশীলন করা গুরুত্বপূর্ণ।