প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর | Proloyollas Class 10 Question Answer | কাজী নজরুল ইসলাম | WBBSE

মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজী নজরুল ইসলামের এই কবিতায় ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন সৃষ্টির আগমন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, তারুণ্যের শক্তি এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বিশেষভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

এই প্রতিবেদনে Proloyollas Class 10 Question Answer, MCQ, ১ নম্বরের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ৩ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন এবং ৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় দেওয়া হল। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা এখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি অনুশীলন করতে পারবে।

প্রলয়োল্লাস কবিতা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
কবিতার নামপ্রলয়োল্লাস
কবিকাজী নজরুল ইসলাম
কাব্যগ্রন্থঅগ্নিবীণা
প্রকাশকাল১৯২২ খ্রিস্টাব্দ
কবির পরিচিতিবিদ্রোহী কবি
প্রথম প্রকাশপ্রবাসী পত্রিকা
মূল ভাবধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন সৃষ্টির আহ্বান

প্রলয়োল্লাস কবিতার MCQ প্রশ্ন উত্তর

১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

ক) ফণীমনসা
খ) অগ্নিবীণা
গ) সঞ্চিতা
ঘ) সাম্যবাদী

উত্তর: খ) অগ্নিবীণা

২. ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় কোন সালে?

ক) ১৯১৭
খ) ১৯১৯
গ) ১৯২০
ঘ) ১৯২২

উত্তর: ঘ) ১৯২২

৩. ‘প্রলয়োল্লাস’ ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের কত নম্বর কবিতা?

ক) প্রথম
খ) দ্বিতীয়
গ) পঞ্চম
ঘ) দ্বাদশ

উত্তর: ক) প্রথম

৪. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা কবি কোথা থেকে লিখেছিলেন?

ক) আলমোড়া
খ) শিলাইদহ
গ) করাচি
ঘ) কুমিল্লা

উত্তর: ঘ) কুমিল্লা

৫. কাজী নজরুল ইসলাম কোন নামে বিশেষভাবে পরিচিত?

ক) কিশোর কবি
খ) বিপ্লবী কবি
গ) দুঃখবাদী কবি
ঘ) বিদ্রোহী কবি

উত্তর: ঘ) বিদ্রোহী কবি

৬. ‘প্রলয়োল্লাস’ প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

ক) মোসলেম ভারত
খ) বিচিত্রা
গ) ভারতবর্ষ
ঘ) প্রবাসী

উত্তর: ঘ) প্রবাসী

৭. ‘প্রলয়োল্লাস’ শব্দের অর্থ কী?

ক) উদ্দাম আনন্দ
খ) ধ্বংসের আনন্দ
গ) ভয়ংকর রুদ্ররূপ
ঘ) হট্টগোল

উত্তর: খ) ধ্বংসের আনন্দ

৮. ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর!’ পঙ্‌ক্তিটি কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?

ক) ১৭ বার
খ) ১৮ বার
গ) ১৯ বার
ঘ) ২০ বার

উত্তর: গ) ১৯ বার

৯. ‘ওই নূতনের কেতন ওড়ে ___ ঝড়’ – শূন্যস্থানে কী হবে?

ক) মহাদেবের
খ) স্বাধীনতার
গ) কালবৈশাখীর
ঘ) সর্বনাশের

উত্তর: গ) কালবৈশাখীর

১০. ‘কেতন’ শব্দের অর্থ কী?

ক) জয়টীকা
খ) পতাকা
গ) শিখা
ঘ) ওড়না

উত্তর: খ) পতাকা

১১. ‘আসছে এবার’ – কে আসছে?

ক) বর্গির দল
খ) ইংরেজ শাসক
গ) প্রলয়ংকর শিব
ঘ) পাঠানের দল

উত্তর: গ) প্রলয়ংকর শিব

১২. ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ কাকে বোঝায়?

ক) ইউরোপ
খ) অস্ট্রেলিয়া
গ) ভারত
ঘ) আমেরিকা

উত্তর: ক) ইউরোপ

১৩. অনাগত কোন নেশায় উন্মত্ত?

ক) মদের নেশায়
খ) শিল্পচর্চার নেশায়
গ) সৃষ্টির নেশায়
ঘ) প্রলয়-নেশায়

উত্তর: ঘ) প্রলয়-নেশায়

১৪. ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ কীভাবে অর্গলমুক্ত হয়?

ক) লাথি মেরে
খ) ধমক হেনে
গ) কামান দেগে
ঘ) ধাক্কা মেরে

উত্তর: খ) ধমক হেনে

১৫. ‘নৃত্য পাগল’ কে?

ক) ব্রহ্মা
খ) বিষ্ণু
গ) মহেশ্বর
ঘ) দেবী কালী

উত্তর: গ) মহেশ্বর

১৬. মহাকালের রূপ কেমন?

ক) চণ্ডরূপ
খ) শান্তরূপ
গ) বরাভয়রূপ
ঘ) আনন্দরূপ

উত্তর: ক) চণ্ডরূপ

১৭. বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে কে আসছে?

ক) শংকর
খ) ভয়ংকর
গ) দিগম্বর
ঘ) শুভংকর

উত্তর: খ) ভয়ংকর

১৮. ‘হাসছে ভয়ংকর’ – কেন?

ক) স্বাধীনতা আসার জন্য
খ) সিন্ধুপারের সিংহদ্বার ভেঙে যাওয়ায়
গ) মৃত্যুকে জয় করার জন্য
ঘ) মশাল জ্বালানোর জন্য

উত্তর: খ) সিন্ধুপারের সিংহদ্বার ভেঙে যাওয়ায়

১৯. ‘ঝামর’ শব্দের অর্থ কী?

ক) ঝামাপাথর
খ) বৃক্ষ
গ) ঝামার মতো বিবর্ণ
ঘ) ঝাঁকড়া

উত্তর: গ) ঝামার মতো বিবর্ণ

২০. কেশের ঝাপটায় কী দোলে?

ক) বাতাস
খ) গগন
গ) গাছের পাতা
ঘ) চরাচর

উত্তর: খ) গগন

২১. ‘সর্বনাশী জ্বালামুখী’ বলা হয়েছে কাকে?

ক) সূর্য
খ) আগ্নেয়গিরি
গ) ধূমকেতু
ঘ) চন্দ্র

উত্তর: গ) ধূমকেতু

২২. ধূমকেতু তার কী দোলায়?

ক) চামর
খ) পুচ্ছ
গ) পাখনা
ঘ) চামর ঢুলায়

উত্তর: ঘ) চামর ঢুলায়

২৩. ‘বিশ্ব পাতার বক্ষ কোলে’ কী দোলে?

ক) কৃপাণ
খ) মুক্তাহার
গ) পতাকা
ঘ) তির-ধনুক

উত্তর: ক) কৃপাণ

২৪. ‘অট্টরোলের হট্টগোল’ স্তব্ধ করে দেয় কাকে?

ক) চরাচর
খ) মহাকাল
গ) গগনতল
ঘ) গিরিশিখর

উত্তর: ক) চরাচর

২৫. ‘অট্টরোল’ শব্দের অর্থ কী?

ক) মেঘের গর্জন
খ) প্রবল আওয়াজ
গ) অট্টহাস্য
ঘ) আনন্দ

উত্তর: খ) প্রবল আওয়াজ

২৬. ‘বহ্নিজ্বালা’ কার?

ক) বৃহস্পতির
খ) মঙ্গলের
গ) চাঁদের
ঘ) রবির

উত্তর: ঘ) রবির

২৭. ‘দ্বাদশ রবি’র নয়ন কেমন?

ক) ভয়াল
খ) মনোরম
গ) অসহ্য
ঘ) স্নিগ্ধ

উত্তর: ক) ভয়াল

২৮. ‘দ্বাদশ রবি’ বলতে কী বোঝায়?

ক) বারোটি সূর্য
খ) দুপুরের সূর্য
গ) শক্তিশালী নক্ষত্র
ঘ) বিশেষ নক্ষত্র

উত্তর: ক) বারোটি সূর্য

২৯. দিগন্তের কান্না কোথায় লুটায়?

ক) নয়নকোটায়
খ) ব্রস্ত জটায়
গ) কেশের দোলায়
ঘ) প্রলয়-নেশায়

উত্তর: খ) ব্রস্ত জটায়

৩০. ‘ব্রস্ত জটায়’ কী বর্ণ দেখা যায়?

ক) লাল
খ) নীলাভ
গ) পিঙ্গল
ঘ) হলুদ

উত্তর: গ) পিঙ্গল

৩১. ‘তাহার নয়নজলে’ – শূন্যস্থানে কী হবে?

ক) সিন্ধু
খ) ইন্দু
গ) হিন্দু
ঘ) বিন্দু

উত্তর: ঘ) বিন্দু

৩২. ‘সপ্ত মহাসিন্ধু’ কোথায় দোলে?

ক) জটাজালে
খ) পদতলে
গ) নয়নজলে
ঘ) কপোলতলে

উত্তর: ঘ) কপোলতলে

৩৩. ‘কপোল’ শব্দের অর্থ কী?

ক) কপাল
খ) জগৎ
গ) গণ্ডদেশ
ঘ) চিবুক

উত্তর: গ) গণ্ডদেশ

৩৪. ‘তাহারি বিপুল বাহুর পর’ কী আছে?

ক) ধূমকেতু
খ) বজ্রশিখার মশাল
গ) বিশ্বমায়ের আঁচল
ঘ) বিশ্বমায়ের আসন

উত্তর: ঘ) বিশ্বমায়ের আসন

৩৫. ‘জয় প্রলয়ংকর’ বলে কে হাঁকে?

ক) জয় নিরংকার
খ) জয় প্রলয়ংকর
গ) জয় রুদ্রশংকর
ঘ) জয় দিগম্বর

উত্তর: খ) জয় প্রলয়ংকর

৩৬. ‘মাভৈঃ’ শব্দের অর্থ কী?

ক) রণে ভঙ্গ দেওয়া
খ) ভয় পাওয়া
গ) উপেক্ষা করা
ঘ) ভয় না পাওয়া

উত্তর: ঘ) ভয় না পাওয়া

৩৭. ‘জগৎ জুড়ে ___ এবার ঘনিয়ে আসে’ – শূন্যস্থানে কী হবে?

ক) প্রলয়
খ) বিনাশ
গ) সর্বনাশ
ঘ) রাত্রি

উত্তর: ক) প্রলয়

৩৮. ‘জরায়-মরা মুমূর্ষুদের’ প্রাণ কোথায় লুকিয়ে আছে?

ক) ব্রস্ত জটায়
খ) মহানিশায়
গ) কালবৈশাখী ঝড়ে
ঘ) বিনাশে

উত্তর: ঘ) বিনাশে

৩৯. মহানিশার শেষে কী আসবে?

ক) জ্বালামুখী
খ) মহাকাল সারথি
গ) ঊষা
ঘ) চিরসুন্দর

উত্তর: গ) ঊষা

৪০. ‘দিগম্বর’ কে?

ক) বিষ্ণু
খ) ব্রহ্মা
গ) অগ্নি
ঘ) শিব

উত্তর: ঘ) শিব

৪১. দিগম্বরের জটায় কী হাসে?

ক) ধূমকেতু
খ) শিশু-চাঁদ
গ) নবীনের দল
ঘ) স্বর্গের গঙ্গা

উত্তর: খ) শিশু-চাঁদ

৪২. ‘ভরবে এবার ঘর’ – ঘর কীসে ভরবে?

ক) বাতাসে
খ) সুগন্ধে
গ) আলোতে
ঘ) অন্ধকারে

উত্তর: গ) আলোতে

৪৩. মহাকাল সারথির চাবুক কিসের মতো?

ক) বজ্রের মতো
খ) উল্কার মতো
গ) সাপের মতো
ঘ) রক্ত-তড়িতের মতো

উত্তর: ঘ) রক্ত-তড়িতের মতো

৪৪. ‘রক্ত-তড়িৎ চাবুক’ কে হানেন?

ক) দিগম্বর
খ) মহাকাল সারথি
গ) কালবৈশাখী
ঘ) ধূমকেতু

উত্তর: খ) মহাকাল সারথি

৪৫. ‘হ্রেষা’ কী?

ক) কুকুরের ডাক
খ) বিড়ালের ডাক
গ) ময়ূরের ডাক
ঘ) ঘোড়ার ডাক

উত্তর: ঘ) ঘোড়ার ডাক

৪৬. ‘হ্রেষার কাঁদন’ কোথায় রণিত হয়?

ক) বজ্রগানে, ঝড়-তুফানে
খ) নীল খিলানে
গ) অন্ধকূপে
ঘ) ব্রস্ত জটায়

উত্তর: ক) বজ্রগানে, ঝড়-তুফানে

৪৭. ‘ক্ষুরের দাপট’ কোথায় লাগে?

ক) গগনতলে
খ) পাষাণ স্তূপে
গ) শিশু-চাঁদে
ঘ) তারায়

উত্তর: ঘ) তারায়

৪৮. ক্ষুরের দাপটে উল্কা ছোটে কোথায়?

ক) পাষাণ স্তূপে
খ) নীল খিলানে
গ) গগনতলে
ঘ) ঝড়-তুফানে

উত্তর: খ) নীল খিলানে

৪৯. ‘নীল খিলান’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

ক) নীল রঙের খিলান
খ) নীল দরজা
গ) নীল আকাশ
ঘ) নীল সেতু

উত্তর: গ) নীল আকাশ

৫০. ‘বন্ধ কূপ’ কীসের?

ক) মন্দিরের
খ) লোকালয়ের
গ) পরিত্যক্ত বাড়ির
ঘ) অন্ধ কারার

উত্তর: ঘ) অন্ধ কারার

৫১. দেবতা কোথায় বাঁধা?

ক) মাটির ঘরে
খ) যজ্ঞ-যূপে
গ) শূন্য দেবালয়ে
ঘ) কারাকক্ষে

উত্তর: খ) যজ্ঞ-যূপে

৫২. দেবতাকে কবি কী বলেছেন?

ক) বরাভয়দাতা
খ) মহাকাল সারথি
গ) কাল ভয়ংকর
ঘ) পাষাণ স্তূপ

উত্তর: ঘ) পাষাণ স্তূপ

৫৩. ‘দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যূপে’ – দেবতা আসলে কে?

ক) মহাদেব
খ) ব্রহ্মা
গ) দেশমাতৃকা
ঘ) দেশনেতা

উত্তর: গ) দেশমাতৃকা

৫৪. ‘এই তো রে তার আসার সময়’ – কার আসার সময়?

ক) স্বাধীনতা
খ) ব্রিটিশ শক্তি
গ) মহাকাল সারথি
ঘ) চিরসুন্দর

উত্তর: গ) মহাকাল সারথি

৫৫. কবি কার রথের শব্দ শুনেছেন?

ক) মহাকালের
খ) যুদ্ধের
গ) রাজশক্তির
ঘ) দেবীর

উত্তর: ক) মহাকালের

৫৬. ‘মহাকাল’ কাকে বোঝায়?

ক) মহান কাল
খ) দীর্ঘকাল
গ) মহাদেব
ঘ) নিরবচ্ছিন্ন কাল

উত্তর: গ) মহাদেব

৫৭. ‘ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?’ – এখানে ভয়ের কথা বলা হয়েছে।

ক) ভয়
খ) রাগ
গ) ক্ষোভ
ঘ) আনন্দ

উত্তর: ক) ভয়

৫৮. প্রলয়কে কবি কী বলেছেন?

ক) সৃষ্টির আনন্দ
খ) ভয়ংকরের হাসি
গ) নূতন সৃজন-বেদন
ঘ) নূতনের কেতন

উত্তর: গ) নূতন সৃজন-বেদন

৫৯. অসুন্দরকে ছেদন করতে কে আসছে?

ক) ভয়ংকর
খ) প্রলয়ংকর
গ) শুভংকর
ঘ) নবীন

উত্তর: ঘ) নবীন

৬০. অসুন্দরের অবস্থা কেমন?

ক) প্রাণময়
খ) প্রাণহীন
গ) গতিহারা
ঘ) জীবনহারা

উত্তর: ঘ) জীবনহারা

৬১. ‘তাই সে এমন কেশে বেশে’ – ‘সে’ কে?

ক) প্রলয়
খ) মহাকাল
গ) নবীন
ঘ) প্রবীণ

উত্তর: গ) নবীন

৬২. প্রলয় কীভাবে আসছে?

ক) পৈশাচিক হাসিতে
খ) মধুর হেসে
গ) অট্টহাসিতে
ঘ) মৃদু হেসে

উত্তর: খ) মধুর হেসে

৬৩. ‘ভেঙে আবার গড়তে জানে’ কে?

ক) ধ্বংস
খ) নবীন
গ) চিরসুন্দর
ঘ) প্রবীণ

উত্তর: গ) চিরসুন্দর

৬৪. ‘চিরসুন্দর’ কাকে বলা হয়েছে?

ক) কবিকে
খ) মহাকালকে
গ) নবীনকে
ঘ) বিশ্বমাতাকে

উত্তর: খ) মহাকালকে

৬৫. মহাকালের খেলা কী?

ক) ভাঙা-গড়া
খ) শুধু ধ্বংস
গ) ঝড় তোলা
ঘ) রথ চালানো

উত্তর: ক) ভাঙা-গড়া

৬৬. কবি সবাইকে কী করতে বলেছেন?

ক) বিদ্রোহ করতে
খ) সব মেনে নিতে
গ) প্রতিবাদ করতে
ঘ) জয়ধ্বনি করতে

উত্তর: ঘ) জয়ধ্বনি করতে

৬৭. ভাঙা-গড়ার খেলায় কী নেই?

ক) আনন্দ
খ) দুঃখ
গ) ডর
ঘ) অভয়

উত্তর: গ) ডর

৬৮. কবি কাদের প্রদীপ তুলতে বলেছেন?

ক) সন্তানদের
খ) বধূদের
গ) পিতাদের
ঘ) কন্যাদের

উত্তর: খ) বধূদের

৬৯. সুন্দরের আগমন কোন বেশে?

ক) কাল ভয়ংকরের বেশে
খ) মহানুভবতার বেশে
গ) গৈরিক বেশে
ঘ) শান্তির বেশে

উত্তর: ক) কাল ভয়ংকরের বেশে

৭০. কাল ভয়ংকরের বেশে সুন্দর কী করতে আসে?

ক) নতুন করে গড়তে
খ) সব ধ্বংস করতে
গ) ঝড়ে উড়িয়ে দিতে
ঘ) ভাঙন রুখতে

উত্তর: খ) সব ধ্বংস করতে

৭১. কাল ভয়ংকরের বেশে কে আসে?

ক) কালবৈশাখী
খ) বিশ্বমাতা
গ) সুন্দর
ঘ) মহাকালের চণ্ড

উত্তর: গ) সুন্দর

প্রলয়োল্লাস কবিতার অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা-র অন্তর্গত।

২. কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ প্রথম প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

৩. ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ – কবি কাদের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন?

উত্তর: কবি পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী মানুষ এবং বিশেষত তরুণ সমাজকে জয়ধ্বনি করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

৪. কবি কোথায় ‘নূতনের কেতন’ উড়তে দেখেছেন?

উত্তর: কবি কালবৈশাখীর প্রচণ্ড ঝড়ের মধ্যে নূতনের কেতন উড়তে দেখেছেন।

৫. কালবৈশাখীকে ‘নূতনের কেতন’ বলা হয়েছে কেন?

উত্তর: কালবৈশাখী পুরাতন ও জীর্ণতাকে ধ্বংস করে নতুন সৃষ্টির পথ তৈরি করে। তাই তাকে নতুনের পতাকার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

৬. ‘প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল’ কে?

উত্তর: এখানে মহাদেবের রুদ্র ও প্রলয়ংকর রূপকে বোঝানো হয়েছে।

৭. ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ বলতে কবির কল্পনায় ইংল্যান্ড তথা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কেন্দ্রকে বোঝানো হয়েছে।

৮. ‘মৃত্যুগহন অন্ধকূপ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: অন্ধকার, অনিশ্চিত ও মৃত্যুময় অবস্থাকে কবি ‘মৃত্যুগহন অন্ধকূপ’ বলেছেন।

৯. ‘মহাকালের চণ্ড’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: মহাকালের চণ্ড রূপ বলতে ধ্বংসের দেবতা মহাদেবের রুদ্ররূপকে বোঝানো হয়েছে।

১০. ‘মাভৈঃ’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘মাভৈঃ’ শব্দের অর্থ ভয় কোরো না বা অভয়বাণী।

১১. ‘দ্বাদশ রবি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: ‘দ্বাদশ রবি’ বলতে পৌরাণিক ধারণার বারোটি সূর্যকে বোঝানো হয়েছে।

১২. ‘সপ্ত মহাসিন্ধু’ কী?

উত্তর: পৌরাণিক ধারণা অনুযায়ী লবণ, ইক্ষুরস, সুরা, দধি, ক্ষীর, স্বাদূদক ও ঘৃত – এই সাত প্রকার সমুদ্রকে সপ্ত মহাসিন্ধু বলা হয়েছে।

১৩. ‘বিশ্বমায়ের আসন’ কোথায়?

উত্তর: কবিতায় মহাকালের বিপুল বাহুর উপর বিশ্বমায়ের আসনের কল্পনা করা হয়েছে।

১৪. ‘প্রলয়ংকর’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: এখানে তাণ্ডবলীলারত মহাদেবের প্রলয়ংকর রূপকে বোঝানো হয়েছে।

১৫. চরাচর স্তব্ধ কেন?

উত্তর: প্রলয়ের ভয়ংকর রূপে সমগ্র বিশ্ব আতঙ্কিত ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছে বলে কবি কল্পনা করেছেন।

১৬. ‘জরায়-মরা মুমূর্ষুদের প্রাণ লুকানো’ কোথায়?

উত্তর: কবির কল্পনায় তাদের প্রাণ বিনাশের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

১৭. ‘মহানিশা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: পরাধীনতা ও অন্ধকারময় সময়কে ‘মহানিশা’ বলা হয়েছে।

১৮. ‘আসবে ঊষা অরুণ হেসে’ – এর অর্থ কী?

উত্তর: দীর্ঘ অন্ধকারের শেষে নতুন আলো ও স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছে।

১৯. ‘দিগম্বর’ কে?

উত্তর: দিগম্বর হলেন দেবাদিদেব মহাদেব।

২০. ‘শিশু-চাঁদ’ কীসের প্রতীক?

উত্তর: শিশু-চাঁদ নতুন আলো, নতুন যুগ এবং অন্ধকারের অবসানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

২১. মহাকাল সারথির কাজ কী?

উত্তর: মহাকাল সারথি রথ পরিচালনা করেন এবং রক্ত-তড়িৎ চাবুকের আঘাতে রথের ঘোড়াগুলিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যান।

২২. ‘ক্ষুরের দাপট’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: মহাকালের রথের ঘোড়ার অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছুটে চলাকেই ‘ক্ষুরের দাপট’ বলা হয়েছে।

২৩. ‘নীল খিলান’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: নীল খিলান বলতে নীল আকাশকে বোঝানো হয়েছে।

২৪. ‘দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যূপে’ – এর তাৎপর্য কী?

উত্তর: কবির কল্পনায় দেবতা তথা দেশমাতৃকা পরাধীনতার বন্ধনে আবদ্ধ। এই চিত্রের মাধ্যমে দেশের শৃঙ্খলিত অবস্থাকে প্রকাশ করা হয়েছে।

২৫. ‘ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?’ – কবি কেন বলেছেন?

উত্তর: কারণ ধ্বংসের পরেই নতুন সৃষ্টির পথ তৈরি হয়। তাই ধ্বংসকে শুধু ভয়ের বিষয় হিসেবে না দেখে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখতে বলা হয়েছে।

২৬. ‘প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন’ – এর অর্থ কী?

উত্তর: পুরাতনের ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুন সৃষ্টি সম্ভব। সেই সৃষ্টির জন্য যে কষ্ট ও পরিবর্তন দরকার, সেটিই ‘সৃজন-বেদন’।

২৭. ‘আসছে নবীন’ – নবীন কী করতে আসছে?

উত্তর: নবীন জীবনহারা ও অসুন্দর পুরাতনকে দূর করে নতুনের জন্য পথ তৈরি করতে আসছে।

২৮. ‘নবীন’ কাদের প্রতীক?

উত্তর: কবিতার ভাব অনুসারে নবীন তারুণ্য ও নতুন প্রজন্মের শক্তির প্রতীক।

২৯. প্রলয় হেসে আসে কেন?

উত্তর: কারণ প্রলয়ের মধ্যেই নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ধ্বংসের মধ্যেও ভবিষ্যৎ সৃষ্টির আনন্দ রয়েছে।

৩০. ‘চিরসুন্দর’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: কবিতায় মহাকালের সৃষ্টিশীল ও ধ্বংসাত্মক শক্তিকেই ‘চিরসুন্দর’ বলা হয়েছে।

৩ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

১. ‘ওই নূতনের কেতন ওড়ে’ – ‘নূতনের কেতন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: ‘কেতন’ শব্দের অর্থ পতাকা। কবি কালবৈশাখীর প্রচণ্ড রূপের মধ্যেও নতুন যুগের আগমনের বার্তা দেখতে পেয়েছেন। ঝড় যেমন পুরাতন ও জীর্ণ পাতা ঝরিয়ে দেয়, তেমনই ধ্বংস পুরাতনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সৃষ্টির পথ পরিষ্কার করে। তাই কালবৈশাখীর মধ্যে উড়তে থাকা পতাকা নতুনের প্রতীক।

২. ‘প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল’ কে? তিনি কী করবেন?

উত্তর: ‘প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল’ বলতে মহাদেবের রুদ্র ও তাণ্ডবময় রূপকে বোঝানো হয়েছে। কবির কল্পনায় এই শক্তি জীর্ণ, পুরাতন ও অন্যায়কে ধ্বংস করবে। পরাধীনতার বন্ধন ভেঙে নতুন যুগের সূচনার জন্য এই প্রলয়কে প্রয়োজনীয় বলে দেখানো হয়েছে।

৩. ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ধমক হেনে ভাঙলো আগল’ – তাৎপর্য কী?

উত্তর: ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ বলতে ইংল্যান্ড তথা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কেন্দ্রকে বোঝানো হয়েছে। কবি কল্পনা করেছেন যে প্রবল বিদ্রোহী শক্তি সেই শক্তির দরজায় আঘাত করে তার বন্ধন ভেঙে দিচ্ছে। এর মধ্যে অত্যাচারী শাসনের বিরুদ্ধে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।

৪. ‘হাসছে ভয়ংকর’ – ভয়ংকর কীভাবে হাসছে?

উত্তর: ভয়ংকর এখানে ধ্বংসের শক্তির প্রতীক। তার হাসির মধ্যে পুরাতন ও অত্যাচারী ব্যবস্থার পতনের উল্লাস রয়েছে। কবির কল্পনায় ধ্বংসের শক্তি নিজের কাজে সফল হয়ে অট্টহাস্যে ফেটে পড়ছে।

৫. ‘সর্বনাশী জ্বালামুখী ধূমকেতু’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: ধূমকেতু একটি পুচ্ছবিশিষ্ট জ্যোতিষ্ক। কবিতায় তার অগ্নিময় ও আকস্মিক আবির্ভাবকে অমঙ্গল ও বিপর্যয়ের প্রতীকে ব্যবহার করা হয়েছে। কবি এর মাধ্যমে প্রচণ্ড পরিবর্তন ও পুরাতন ব্যবস্থার পতনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

৬. ‘অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ চরাচর’ – চরাচর স্তব্ধ কেন?

উত্তর: প্রলয়ের ভয়ংকর শক্তির আবির্ভাবে সমগ্র বিশ্ব যেন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ধ্বংসের প্রচণ্ড শব্দ, রুদ্ররূপ এবং অস্থির পরিবেশের ফলে চরাচর স্তব্ধ হয়ে গেছে বলে কবি কল্পনা করেছেন।

৭. ‘ভয়াল তাহার নয়নকটায়’ – ‘ভয়াল’ শব্দের তাৎপর্য কী?

উত্তর: ‘ভয়াল’ অর্থ ভয়ংকর। কবি প্রলয়শক্তির চোখে এমন তীব্রতা ও ধ্বংসের আগুন কল্পনা করেছেন, যা পুরাতন ও অন্যায়কে ধ্বংস করতে সক্ষম। তাই এই শক্তির চোখকে ‘ভয়াল’ বলা হয়েছে।

৮. ‘এবার মহানিশার শেষে আসবে ঊষা অরুণ হেসে’ – তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: মহানিশা এখানে অন্ধকার ও পরাধীনতার প্রতীক। দীর্ঘ অন্ধকারের পর যেমন ভোর আসে, তেমনই পরাধীনতার অবসানের পরে স্বাধীনতা ও নতুন জীবনের সূচনা হবে – এই আশাবাদ কবিতার পঙ্‌ক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে।

৯. ‘দিগম্বরের জটায় হাসে শিশু-চাঁদের কর’ – অর্থ কী?

উত্তর: দিগম্বর হলেন মহাদেব। তাঁর জটাজালে শিশু-চাঁদের আলো হাসছে – এই পৌরাণিক চিত্রের মাধ্যমে কবি অন্ধকারের মধ্যে নতুন আলোর আবির্ভাব দেখিয়েছেন। এখানে নতুন যুগের আশার প্রতীক হিসেবে চাঁদের আলো ব্যবহৃত হয়েছে।

১০. ‘মহাকাল-সারথি’ কে? তাঁর আগমনের কারণ কী?

উত্তর: মহাকাল-সারথি বলতে মহাদেবের প্রলয়ংকর রূপকে বোঝানো হয়েছে। অন্যায়, জড়তা, পুরাতন ও অত্যাচারী শক্তিকে ধ্বংস করে নতুন যুগের পথ তৈরি করাই তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য বলে কবি কল্পনা করেছেন।

১১. ‘ক্ষুরের দাপট তারায় লেগে উল্কা ছোটায় নীল খিলানে’ – ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: কবির কল্পনায় মহাকালের রথের ঘোড়াগুলি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছুটছে। তাদের ক্ষুরের আঘাতে যেন স্ফুলিঙ্গ ছিটকে আকাশে উল্কার মতো ছুটে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বিপুল গতি ও প্রবল শক্তির চিত্র ফুটে উঠেছে।

১২. ‘দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যূপে পাষাণ-স্তূপে’ – কবির বক্তব্য কী?

উত্তর: কবির কল্পনায় দেবতা অর্থাৎ দেশমাতৃকা পরাধীনতার বন্ধনে আবদ্ধ। যজ্ঞ-যূপ ও পাষাণের সঙ্গে বাঁধা থাকার চিত্রের মাধ্যমে দেশের অসহায় ও শৃঙ্খলিত অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।

১৩. ‘ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?’ – ধ্বংসকে ভয় না পাওয়ার কারণ কী?

উত্তর: ধ্বংস সবসময় শেষের প্রতীক নয়। অনেক সময় পুরাতন ও জীর্ণ ব্যবস্থার ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুন সৃষ্টির পথ খুলে যায়। তাই কবি ধ্বংসকে ভয় না পেয়ে তার অন্তর্নিহিত সৃষ্টিশক্তিকে উপলব্ধি করতে বলেছেন।

১৪. ‘আসছে নবীন – জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন’ – তাৎপর্য কী?

উত্তর: নবীন বলতে নতুন প্রজন্ম ও নতুন শক্তিকে বোঝানো হয়েছে। তারা জীর্ণ, অসুন্দর ও অচল ব্যবস্থাকে সরিয়ে নতুন জীবনের পথ তৈরি করবে। তাই নবীনের আগমন পরিবর্তন ও নবসৃষ্টির প্রতীক।

১৫. ‘প্রলয় বয়েও আসছে হেসে’ – হাসির কারণ কী?

উত্তর: প্রলয় বাহ্যিকভাবে ধ্বংসের প্রতীক হলেও তার ভিতরে নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। পুরাতনের অবসানের পর নতুনের জন্ম হবে বলেই প্রলয় যেন হাসিমুখে এগিয়ে আসছে।

১৬. ‘ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর’ – অর্থ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: চিরসুন্দর বলতে মহাকালের সৃষ্টিশীল শক্তিকে বোঝানো হয়েছে। তিনি পুরাতন ও জীর্ণকে ধ্বংস করে সেই ধ্বংসস্তূপের উপর নতুন সৃষ্টি গড়ে তোলেন। তাই ভাঙা ও গড়া এখানে পরস্পরবিরোধী নয়, বরং একই পরিবর্তন-প্রক্রিয়ার দুটি দিক।

৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর

১. ‘প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন’ – প্রলয়কে কবি ‘নূতন সৃজন-বেদন’ বলেছেন কেন?

উত্তর:

কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ধ্বংস এবং সৃষ্টির সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কবি প্রলয়কে শুধু ধ্বংসের প্রতীক হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে প্রলয়ের ভিতরেই নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে।

যে কোনো নতুন সৃষ্টির আগে পুরাতন ও জীর্ণ ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। তাই কবিতায় কালবৈশাখীর ঝড়, মহাকালের রুদ্ররূপ, ধূমকেতু, বজ্রশিখা এবং প্রবল গতির মতো নানা চিত্রের মাধ্যমে ধ্বংসের আবহ তৈরি করা হয়েছে।

‘সৃজন-বেদন’ বলতে নতুন কিছু সৃষ্টি করার জন্য যে কষ্ট, ত্যাগ ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তাকে বোঝানো হয়েছে। কবির মতে, পুরাতনকে আঁকড়ে ধরে থাকলে নতুনের জন্ম সম্ভব নয়। তাই প্রলয় পুরাতনকে সরিয়ে নতুনের জন্য জায়গা তৈরি করে।

পরাধীন ভারতের প্রেক্ষাপটেও এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অত্যাচার, শোষণ, অন্যায় ও পরাধীনতার অবসানের মধ্য দিয়েই স্বাধীন ও নতুন ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে পারে – কবিতায় এই আশাবাদ প্রকাশ পেয়েছে। তাই কবি প্রলয়কে ‘নূতন সৃজন-বেদন’ বলেছেন।

২. ‘ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর’ – চিরসুন্দর কে? তাঁর ভাঙা-গড়ার তাৎপর্য আলোচনা করো।

উত্তর:

‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় চিরসুন্দর বলতে মহাকাল তথা মহাদেবের সৃষ্টিশীল ও ধ্বংসাত্মক শক্তিকে বোঝানো হয়েছে।

মহাকাল একদিকে ধ্বংসের প্রতীক। তাঁর রুদ্ররূপ পুরাতন, জীর্ণ ও অন্যায়কে নিশ্চিহ্ন করে। অন্যদিকে সেই ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুন সৃষ্টির সূচনা হয়। তাই কবির কাছে মহাকাল কেবল ধ্বংসকারী নন, তিনি নতুন যুগের নির্মাতাও।

কালবৈশাখীর ঝড় যেমন পুরাতন পাতা ঝরিয়ে নতুন পল্লবের জন্য পরিবেশ তৈরি করে, তেমনই সমাজ ও ইতিহাসের ক্ষেত্রেও পুরাতন ও অচল ব্যবস্থার পতনের পর নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।

কবিতায় মহাকালের রথ, রক্ত-তড়িৎ চাবুক, দ্রুতগামী অশ্ব, বজ্রধ্বনি এবং প্রলয়ের নানা চিত্রের মাধ্যমে পরিবর্তনের প্রবল শক্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

অতএব, ‘ভাঙা’ এখানে নিছক ধ্বংস নয় এবং ‘গড়া’ শুধু নির্মাণ নয়। ভাঙার মধ্য দিয়েই গড়ার পথ তৈরি হয়। এই চিরন্তন পরিবর্তনের শক্তির কারণেই কবি মহাকালকে ‘চিরসুন্দর’ বলেছেন।

পরীক্ষার জন্য প্রলয়োল্লাস কবিতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নিচের বিষয়গুলি বিশেষভাবে অনুশীলন করা উচিত:

  1. প্রলয়োল্লাস কবিতার মূলভাব
  2. ‘নূতনের কেতন’ কথাটির তাৎপর্য
  3. ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ এর অর্থ
  4. ‘মহাকাল-সারথি’ পরিচয়
  5. ‘মাভৈঃ’ শব্দের অর্থ
  6. ‘মহানিশা’ ও ‘ঊষা’র প্রতীকী অর্থ
  7. ধ্বংস ও সৃষ্টির সম্পর্ক
  8. ‘প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন’ ব্যাখ্যা
  9. ‘আসছে নবীন’ কথাটির তাৎপর্য
  10. ‘চিরসুন্দর’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে
  11. ‘ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?’ – বক্তব্যের তাৎপর্য
  12. কবিতায় পৌরাণিক উপাদানের ব্যবহার

প্রলয়োল্লাস কবিতার মূলভাব

‘প্রলয়োল্লাস’ মূলত ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন সৃষ্টির আহ্বানের কবিতা। কবি দেখিয়েছেন, সমাজ ও জীবনের জীর্ণতা দূর করতে কখনও কখনও প্রবল পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। প্রলয়ের ভয়ংকর রূপের মধ্যেও তিনি নতুন জীবনের সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছেন।

কবিতায় মহাকাল, মহাদেব, কালবৈশাখী, ধূমকেতু, বজ্র, রথ এবং ঝড়ের মতো শক্তিশালী প্রতীকের মাধ্যমে পরিবর্তনের তীব্রতা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘ঊষা’, ‘শিশু-চাঁদ’ ও ‘নূতনের কেতন’ নতুন আশা ও নতুন যুগের প্রতীক।

এই কারণে কবিতার কেন্দ্রীয় বক্তব্য হল – পুরাতনের ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুনের সৃষ্টি সম্ভব।

Frequently Asked Questions

প্রলয়োল্লাস কবিতার কবি কে?

উত্তর: প্রলয়োল্লাস কবিতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

প্রলয়োল্লাস কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতা?

উত্তর: এটি ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।

প্রলয়োল্লাস কবিতার মূল বক্তব্য কী?

উত্তর: ধ্বংসের মধ্য দিয়ে পুরাতনের অবসান ঘটিয়ে নতুন ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের বার্তাই কবিতার মূল বক্তব্য।

‘মাভৈঃ’ অর্থ কী?

উত্তর: ‘মাভৈঃ’ অর্থ ভয় কোরো না।

‘নীল খিলান’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: নীল খিলান বলতে নীল আকাশকে বোঝানো হয়েছে।

‘চিরসুন্দর’ কাকে বলা হয়েছে?

উত্তর: কবিতায় মহাকাল তথা মহাদেবের সৃষ্টিশীল রূপকে চিরসুন্দর বলা হয়েছে।

উপসংহার

আশা করি প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর | Proloyollas Class 10 Question Answer | WBBSE এই নোটটি মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে MCQ, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন এবং রচনাধর্মী প্রশ্নগুলি বারবার অনুশীলন করলে কবিতাটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি ভালোভাবে প্রস্তুত করা যাবে।

প্রলয়োল্লাস কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হল – ধ্বংসের মধ্যেও নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। তাই কবি প্রলয়ের ভয়ংকর রূপের মধ্যেও নতুন যুগের আশার আলো দেখতে পেয়েছেন।

Leave a Comment