ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষ” অধ্যায়ে মানুষের উৎপত্তি, আদিম মানুষের জীবনযাত্রা, পাথরের হাতিয়ার, আগুনের ব্যবহার, শিকার, পশুপালন, কৃষিকাজ এবং প্রাচীন বসতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায়টি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পোস্টে Class 6 History Chapter 2 Question Answer হিসেবে পাঠ্যবইয়ের ভেবে দেখো খুঁজে দেখো, অতি সংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত, ৩ নম্বর এবং ৫ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় দেওয়া হলো।
ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষ: সংক্ষিপ্ত পরিচয়
আদিম মানুষের জীবন ছিল প্রকৃতিনির্ভর। প্রথমদিকে তারা শিকার এবং ফলমূল সংগ্রহ করে জীবনধারণ করত। ধীরে ধীরে তারা পাথরের হাতিয়ার তৈরি করতে শেখে এবং পরে আগুনের ব্যবহার শুরু করে। আগুনের ব্যবহার মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনে।
পরবর্তীকালে মানুষ পশুপালন ও কৃষিকাজ শেখে এবং যাযাবর জীবন ছেড়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। পাথরের হাতিয়ারের পরিবর্তন এবং বিভিন্ন প্রত্নস্থানের নিদর্শন থেকে আদিম মানুষের জীবন সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যায়।
ভেবে দেখো খুঁজে দেখো প্রশ্ন উত্তর
১) সঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো
১.১) আদিম মানুষ প্রথমে কী খেত?
(রান্না করা খাবার / পোড়া মাংস / কাঁচা মাংস ও ফলমূল)
উত্তর: কাঁচা মাংস ও ফলমূল।
১.২) আদিম মানুষের প্রথম হাতিয়ার কী ছিল?
(ভোঁতা পাথর / হালকা ছুঁচালো পাথর / পাথরের কুঠার)
উত্তর: ভোঁতা পাথর।
১.৩) আদিম মানুষের জীবনে প্রথম জরুরি আবিষ্কার কী?
(ধাতু / চাকা / আগুন)
উত্তর: আগুন।
২) ক-স্তম্ভের সঙ্গে খ-স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো
| ক-স্তম্ভ | খ-স্তম্ভ |
|---|---|
| কৃষিকাজ | নতুন পাথরের যুগ |
| পশুপালন | মাঝের পাথরের যুগে |
| ভীমবেটকা | মধ্যপ্রদেশ |
| হুন্সগি | কর্ণাটক |
৩.১) আদিম মানুষ যাযাবর ছিল কেন?
উত্তর: আদিম মানুষ তখন খাদ্য উৎপাদন করতে পারত না। শিকার এবং ফলমূল সংগ্রহ করেই তাদের জীবন চলত। খাদ্যের সন্ধানে তাদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হতো। তাই আদিম মানুষ যাযাবর জীবনযাপন করত।
৩.২) আগুন জ্বালাতে শেখার পর আদিম মানুষের কী কী সুবিধা হয়েছিল?
উত্তর: আগুনের ব্যবহার মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। এর ফলে –
- প্রচণ্ড শীত থেকে মানুষ নিজেদের রক্ষা করতে পারত।
- বন্যজন্তুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য আগুন ব্যবহার করা হতো।
- মানুষ কাঁচা খাবারের পরিবর্তে আগুনে ঝলসানো খাবার খেতে শুরু করে।
- আগুনের ব্যবহারে মানুষের জীবনযাপন অনেকটা সহজ হয়ে ওঠে।
৩.৩) আদিম মানুষ কেন জোট বেঁধেছিল? এর ফলে তার কী লাভ হয়েছিল?
উত্তর: আদিম মানুষের চারপাশে ছিল বন্যপ্রাণীর বিপদ। একা সেই বিপদের মোকাবিলা করা কঠিন ছিল। এছাড়া দলবদ্ধভাবে কাজ করলে শিকার ও অন্যান্য কাজ সহজে করা যেত।
জোটবদ্ধ থাকার ফলে –
- বন্যজন্তুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষা করা সহজ হয়।
- দলবদ্ধভাবে শিকার করা সম্ভব হয়।
- কৃষিকাজ ও পশুপালনের মতো কাজ করা সহজ হয়।
- মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়।
হাতেকলমে করো
৪.১) পাশের ছবিতে মানুষের প্রতিটি ধাপের মধ্যে কী কী পরিবর্তন দেখতে পাও?
উত্তর: ছবির ধাপগুলিতে মানুষের শারীরিক গঠনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
- প্রথম ধাপ: মাথা লম্বাটে এবং হাঁটার সময় শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে রয়েছে।
- দ্বিতীয় ধাপ: মাথার আকৃতি তুলনামূলক কম লম্বাটে এবং শরীর আগের তুলনায় কম ঝুঁকে রয়েছে।
- তৃতীয় ধাপ: মাথার আকৃতি আরও পরিবর্তিত হয়েছে এবং শরীর অনেকটা সোজা।
- চতুর্থ ধাপ: মাথার আকৃতি অনেকটা গোলাকার এবং শরীর প্রায় সোজা।
- পঞ্চম ধাপ: মাথা গোলাকার এবং হাঁটার সময় শরীর সোজা রয়েছে।
৪.২) ছবিদুটি থেকে আদিম মানুষের পাথরের হাতিয়ার তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে কী জানা যায়?
উত্তর: প্রথম ছবিতে দেখা যায়, আদিম মানুষ দুটি পাথর ঠুকে হাতিয়ার তৈরি করার চেষ্টা করছে। দ্বিতীয় ছবিতে দেখা যায়, ছোট পাথর দিয়ে অন্য পাথরে আঘাত করে সেটিকে ধারালো ও নির্দিষ্ট আকার দেওয়া হচ্ছে।
পাঠ্যবইয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর: প্রশ্ন মান – ১
১) কী নিয়ে মানুষের ইতিহাস রচিত হয়েছে?
উত্তর: মানুষ ও মানুষের কাজকর্ম নিয়ে।
২) লক্ষ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীর স্থলভাগ কিসে ঢাকা ছিল?
উত্তর: ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছিল।
৩) একমাত্র কোন প্রাণী হাতের বুড়ো আঙুলকে কোনো কিছু ধরার কাজে ব্যবহার করে?
উত্তর: মানুষ।
৪) এপ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া মানুষের পরিবারকে কী বলা হয়?
উত্তর: হোমিনিড।
৫) এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে পুরোনো আদিম মানুষের খোঁজ কোথায় পাওয়া গেছে?
উত্তর: পূর্ব আফ্রিকায়।
৬) ‘আদিম’ কথার অর্থ কী?
উত্তর: খুব পুরোনো।
৭) মানুষের মেরুদণ্ডের উপর কী আছে?
উত্তর: একটি বড় মস্তিষ্ক।
৮) মূলত কিসের আকার থেকে আদিম মানুষের নানারকম ভাগ করা হয়?
উত্তর: মস্তিষ্কের আকার থেকে।
৯) প্রথম এপ থেকে বিবর্তিত হওয়া মানুষ প্রজাতি কোনটি?
উত্তর: অস্ট্রালোপিথেকাস।
১০) অস্ট্রালোপিথেকাসের অর্থ কী?
উত্তর: এপ থেকে মানুষ।
১১) কোন প্রজাতির মানুষ প্রথম পাথরকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করত?
উত্তর: হোমো হাবিলিস।
১২) কোন প্রজাতির মানুষ প্রথম আগুনের ব্যবহার শিখেছিল?
উত্তর: হোমো ইরেকটাস।
১৩) কোন প্রজাতির মানুষ দুই পায়ে ভর করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারত?
উত্তর: হোমো ইরেকটাস।
১৪) প্রথম বুদ্ধিমান মানুষ প্রজাতি কোনটি?
উত্তর: হোমো স্যাপিয়েন্স।
১৫) হোমো হাবিলিস কথার অর্থ কী?
উত্তর: দক্ষ মানুষ।
১৬) হোমো ইরেকটাস কথার অর্থ কী?
উত্তর: সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারা মানুষ।
১৭) হোমো স্যাপিয়েন্স কথার অর্থ কী?
উত্তর: বুদ্ধিমান মানুষ।
১৮) ‘লুসি’ কী?
উত্তর: অস্ট্রালোপিথেকাস জাতীয় মানুষের কঙ্কাল।
১৯) লুসি কত খ্রিস্টাব্দে আবিষ্কৃত হয়?
উত্তর: ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে।
২০) আদিম মানুষ প্রথমে কী খেত?
উত্তর: কাঁচা মাংস ও ফলমূল।
২১) আদিম মানুষের প্রথম হাতিয়ার কী ছিল?
উত্তর: ভোঁতা পাথর।
২২) আদিম মানুষের জীবনে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার কী?
উত্তর: আগুন।
২৩) বনে লাগা আগুনকে কী বলা হয়?
উত্তর: দাবানল।
২৪) দাবানল কাকে বলে?
উত্তর: বনাঞ্চলে স্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে পড়া আগুনকে দাবানল বলা হয়।
২৫) কীভাবে আদিম মানুষ আগুন জ্বালাতে শিখেছিল?
উত্তর: চকমকি পাথর ঠুকে।
২৬) কিসের ব্যবহার আদিম মানুষের খাবার অভ্যাস বদলে দিয়েছিল?
উত্তর: আগুনের ব্যবহার।
২৭) প্রচণ্ড শীত ও বন্যজন্তুর আক্রমণ মোকাবিলা করার জন্য আদিম মানুষ কিসের ব্যবহার শুরু করেছিল?
উত্তর: আগুনের ব্যবহার।
২৮) পুরোনো পাথরের যুগের মানুষ কোথায় বাস করত?
উত্তর: গুহায় অথবা খোলা আকাশের নিচে।
২৯) পুরোনো পাথরের যুগে মানুষ ঠান্ডা থেকে বাঁচতে কী পরত?
উত্তর: পশুর চামড়া ও গাছের ছাল।
৩০) ভারতীয় উপমহাদেশে সবচেয়ে পুরোনো পাথরের অস্ত্রের সন্ধান কোথায় পাওয়া গেছে?
উত্তর: কাশ্মীরের সোয়ান উপত্যকায়।
৩১) কীসের ওপর ভিত্তি করে পুরোনো পাথরের যুগকে বিভিন্ন পর্বে ভাগ করা হয়?
উত্তর: পাথরের হাতিয়ার তৈরির কৌশলের ওপর ভিত্তি করে।
৩২) পুরোনো পাথরের যুগের মাঝের পর্বের প্রধান হাতিয়ার কী ছিল?
উত্তর: ছুরি।
৩৩) ভীমবেটকা গুহা কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: মধ্যপ্রদেশের ভূপালের কাছে।
৩৪) ভীমবেটকা কীসের নিদর্শন?
উত্তর: গুহাবসতির নিদর্শন।
৩৫) ভীমবেটকায় মানুষের সঙ্গে আর কার চিত্র দেখা যায়?
উত্তর: কুকুরের চিত্র।
৩৬) হুন্সগি উপত্যকার পাশ দিয়ে কী বয়ে গেছে?
উত্তর: কাথটা হাল্লা খাল।
৩৭) আলতামিরা গুহা কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: ইউরোপের স্পেনে।
৩৮) আলতামিরা গুহার ছাদে কীসের ছবি আঁকা ছিল?
উত্তর: বিশাল একটি ষাঁড়ের ছবি।
৩৯) ‘ট্যারো-ট্যারো’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ষাঁড়-ষাঁড়।
৪০) উত্তরপ্রদেশের কোথায় দুদিক ধারওয়ালা ছুরির সন্ধান পাওয়া গেছে?
উত্তর: সরাই নহর রাইতে।
৪১) কোথায় আট হাজার বছরের পুরোনো বন্য পশুর হাড় পাওয়া গেছে?
উত্তর: নর্মদা উপত্যকার আদমগড়ে।
৪২) রাজস্থানের কোথায় আদিম মানুষের বসতির সন্ধান পাওয়া গেছে?
উত্তর: বাগোড়ে।
৪৩) কোন যুগে আদিম মানুষ প্রথম কৃষিকাজ শেখে?
উত্তর: নতুন পাথরের যুগে।
৪৪) কোন যুগে মানুষ চাকার ব্যবহার শেখে?
উত্তর: নতুন পাথরের যুগে।
৪৫) আদিম মানুষের প্রথম ও সর্বশেষ গৃহপালিত পশুর নাম কী?
উত্তর: প্রথমে কুকুর এবং সর্বশেষে ঘোড়া।
শূন্যস্থান পূরণ করো: প্রশ্ন মান – ১
১) আদিম মানুষ প্রথমে ______ খেত।
উত্তর: কাঁচা মাংস ও ফলমূল।
২) দু-পায়ে ভর দিয়ে কোনোক্রমে দাঁড়াতে পারত ______ প্রজাতির মানুষ।
উত্তর: অস্ট্রালোপিথেকাস।
৩) আদিম মানুষের জীবনে প্রথম জরুরি আবিষ্কার হল ______।
উত্তর: আগুন।
৪) আদিম মানুষের প্রথম হাতিয়ার ছিল ______।
উত্তর: ভোঁতা পাথর।
৫) লুসির কঙ্কাল প্রায় ______ লক্ষ বছরের পুরোনো।
উত্তর: ৩২।
৬) মধ্যপ্রদেশের ______ উপত্যকায় এক লক্ষ তিরিশ হাজার বছরের পুরোনো মানুষের মাথার খুলি পাওয়া গেছে।
উত্তর: নর্মদা।
৭) পাকিস্তানের ______ মালভূমিতে পুরোনো পাথরের অস্ত্র পাওয়া গেছে।
উত্তর: পটোয়ার।
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো: প্রশ্ন মান – ১
১) প্রধানত কিসের আকার থেকেই আদিম মানুষের নানারকম ভাগ করা হয়?
(ক) মস্তিষ্কের
(খ) পায়ের
(গ) হাতের আঙুলের
(ঘ) মেরুদণ্ডের
উত্তর: (ক) মস্তিষ্কের।
২) এশিয়ার কোন দেশে পুরোনো মানুষের কঙ্কাল ও হাড়গোড় খুঁজে পাওয়া যায়?
(ক) চিন
(খ) ভারত
(গ) সুমাত্রা
(ঘ) জাপান
উত্তর: (ক) চিন।
৩) হোমো হাবিলিসের খাবার ছিল –
(ক) শক্ত বাদাম
(খ) কাঁচা মাংস
(গ) পোড়া মাংস
(ঘ) রান্না করা সবজি
উত্তর: (খ) কাঁচা মাংস।
৪) হাদার কোথায় অবস্থিত?
(ক) ইথিওপিয়ায়
(খ) লিবিয়ায়
(গ) সুদানে
(ঘ) সিরিয়ায়
উত্তর: (ক) ইথিওপিয়ায়।
৫) কোনটি আদিম মানুষের সংস্কৃতির অংশ ছিল না?
(ক) পাথরের ভোঁতা হাতিয়ার বানানো
(খ) গাছের ছাল গায়ে জড়ানো
(গ) পাথর ঠুকে আগুন জ্বালানো
(ঘ) পোড়া ইটের বাড়ি বানানো
উত্তর: (ঘ) পোড়া ইটের বাড়ি বানানো।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর: প্রশ্ন মান – ২
১) ‘এপ’ কাদের বলা হত? এদের আদি বাসস্থান কোথায়?
উত্তর: লক্ষ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে এক ধরনের বড় বানর ছিল, যাদের লেজ ছিল না। তাদের এপ বলা হতো। এদের আদি বাসস্থান ছিল আফ্রিকা মহাদেশের পূর্ব অংশের ঘন জঙ্গলে।
২) ‘লুসি’ কী?
উত্তর: ইথিওপিয়ার হাদার অঞ্চলে ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রালোপিথেকাসের একটি কঙ্কালের অংশ পাওয়া যায়। এটি প্রায় ৩২ লক্ষ বছর আগের একটি ছোট মেয়ের কঙ্কাল বলে মনে করা হয়। কঙ্কালটির নাম দেওয়া হয় ‘লুসি’।
৩) পাকিস্তান এবং হিমাচলপ্রদেশের কোথায় পুরোনো পাথরের হাতিয়ার মিলেছে?
উত্তর: পাকিস্তানের পটোয়ার মালভূমি এবং হিমাচলপ্রদেশের শিবালিক পর্বত অঞ্চলে পুরোনো পাথরের হাতিয়ার পাওয়া গেছে।
৪) ভীমবেটকা গুহা কোথায় অবস্থিত? কত খ্রিস্টাব্দে এখানে গুহার খোঁজ পাওয়া যায়?
উত্তর: ভীমবেটকা মধ্যপ্রদেশের ভূপালের কাছে অবস্থিত। ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে এখানে গুহার সন্ধান পাওয়া যায়।
৫) হুন্সগি উপত্যকা কোথায় অবস্থিত? এটি কী জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: হুন্সগি উপত্যকা কর্ণাটকের গুলবর্গা জেলার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এখানে পুরোনো পাথরের যুগের বিভিন্ন পাথরের হাতিয়ার পাওয়া গেছে। এই কারণে অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ।
৬) নতুন পাথরের যুগ কোন কোন দিক থেকে নতুন ছিল?
উত্তর: নতুন পাথরের যুগে হাতিয়ার আগের তুলনায় হালকা ও ধারালো হয়। এই সময় কৃষিকাজ, পশুপালন ও মাটির পাত্র তৈরির প্রচলন শুরু হয়। মানুষ ধীরে ধীরে যাযাবর জীবন ছেড়ে স্থায়ী বসতি গড়ে তুলতে শুরু করে।
৭) পাথরের যুগকে কয়টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়? কী কী?
উত্তর: পাথরের যুগকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়। এগুলি হলো –
- পুরোনো পাথরের যুগ
- মাঝের পাথরের যুগ
- নতুন পাথরের যুগ
৮) ভারতের কোথায় কোথায় হোমো ইরেকটাস প্রজাতির মানুষের উপস্থিতির চিহ্ন পাওয়া যায়?
উত্তর: কর্ণাটকের হুন্সগি উপত্যকা, রাজস্থানের দিদওয়ানা উপত্যকা এবং মহারাষ্ট্রের নেভাসায় হোমো ইরেকটাস প্রজাতির মানুষের উপস্থিতির চিহ্ন পাওয়া যায়।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর: প্রশ্ন মান – ৩
১) মস্তিষ্কের আকারের ওপর ভিত্তি করে আদিম মানুষকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়? কী কী?
উত্তর: মস্তিষ্কের আকারের ওপর ভিত্তি করে আদিম মানুষকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয় –
- অস্ট্রালোপিথেকাস: এপ থেকে মানুষ।
- হোমো হাবিলিস: দক্ষ মানুষ।
- হোমো ইরেকটাস: সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারা মানুষ।
- হোমো স্যাপিয়েন্স: বুদ্ধিমান মানুষ।
২) টীকা লেখো: লুসি
উত্তর: ইথিওপিয়ার হাদার অঞ্চলে ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রালোপিথেকাসের একটি কঙ্কালের অংশ পাওয়া যায়। কঙ্কালটি প্রায় ৩২ লক্ষ বছর আগের একটি ছোট মেয়ের বলে মনে করা হয়। এর নাম দেওয়া হয় ‘লুসি’। মানব বিবর্তনের ইতিহাসে লুসির কঙ্কাল একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
৩) পুরোনো পাথরের যুগে আদিম মানুষের জীবন কেমন ছিল?
উত্তর: পুরোনো পাথরের যুগে আদিম মানুষের জীবন ছিল কঠিন। তারা দলবদ্ধভাবে পশু শিকার করত এবং বনের ফলমূল সংগ্রহ করে খেত। শীত থেকে বাঁচতে পশুর চামড়া ও গাছের ছাল ব্যবহার করত। তারা গুহায় অথবা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করত।
৪) টীকা লেখো: ভীমবেটকা গুহা
উত্তর: মধ্যপ্রদেশের ভূপালের কাছে ভীমবেটকায় ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে বেশ কিছু গুহার সন্ধান পাওয়া যায়। এখানে প্রাচীন মানুষের বসতির নিদর্শন রয়েছে। গুহার দেয়ালে শিকারসহ বিভিন্ন প্রাণীর ছবি দেখা যায়। ছবিগুলিতে সাদা ও লাল রঙের ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
৫) টীকা লেখো: হুন্সগি উপত্যকা
উত্তর: কর্ণাটকের গুলবর্গা জেলার উত্তর-পশ্চিমে হুন্সগি উপত্যকা অবস্থিত। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে এখানে খনন করে পুরোনো পাথরের যুগের বিভিন্ন হাতিয়ার পাওয়া যায়। এর মধ্যে হাতকুড়ুল, ছোরা ও চাঁছুনির মতো হাতিয়ার ছিল। এই কারণে হুন্সগি উপত্যকা প্রাচীন মানুষের জীবন সম্পর্কে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
৬) মাঝের পাথরের যুগের মানুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল?
উত্তর: মাঝের পাথরের যুগে মানুষ আরও উন্নত ও ছোট হাতিয়ার তৈরি করতে শেখে। তারা শিকার ও ফলমূল সংগ্রহের পাশাপাশি পশুপালনের দিকে এগিয়ে যায়। আগুন ব্যবহার করে মাংস ঝলসে খেত। ধীরে ধীরে তারা ছোট ছোট বসতি তৈরি করতে শুরু করে।
৭) টীকা লেখো: বাগোড়
উত্তর: রাজস্থানের বাগোড়ে আদিম মানুষের বসতির চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রথমদিকে এখানকার মানুষ শিকার করে খাদ্য সংগ্রহ করত। পরবর্তীকালে তারা কিছু পশুপালনও শুরু করে। ধীরে ধীরে গৃহপালিত পশুর গুরুত্ব তাদের কাছে বৃদ্ধি পায়।
৮) আদিম মানুষ যাযাবর ছিল কেন?
উত্তর: আদিম মানুষ নিজের খাবার উৎপাদন করতে পারত না। তাদের খাদ্যের প্রধান উৎস ছিল শিকার ও বন থেকে সংগ্রহ করা ফলমূল। তাই খাদ্যের সন্ধানে তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হতো। এই কারণেই তারা যাযাবর জীবনযাপন করত।
৯) আদিম মানুষ কেন জোট বেঁধেছিল? এর ফলে কী লাভ হয়েছিল?
উত্তর: আদিম মানুষ বিভিন্ন কারণে দলবদ্ধভাবে বসবাস করত।
- দলবদ্ধভাবে পশু শিকার করা সহজ ছিল।
- বন্যজন্তুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষা করা যেত।
- বিভিন্ন কাজ একসঙ্গে করলে সময় ও শ্রম কম লাগত।
- পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তারা নিজেদের জীবনধারা গড়ে তুলতে পেরেছিল।
ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর: প্রশ্ন মান – ৫
১) অস্ট্রালোপিথেকাসের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো
উত্তর: অস্ট্রালোপিথেকাস ছিল মানব বিবর্তনের একটি প্রাচীন পর্যায়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো –
- এরা আনুমানিক ৪০ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ বছর আগে ছিল।
- এরা দু-পায়ে ভর দিয়ে কোনোক্রমে দাঁড়াতে পারত।
- শক্ত বাদাম ও শুকনো ফল চিবিয়ে খেত।
- এদের চোয়াল ছিল শক্ত ও সুগঠিত।
- গাছের ডাল ও পাথর বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করার চেষ্টা করত।
২) হোমো হাবিলিসের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো
উত্তর: হোমো হাবিলিসকে দক্ষ মানুষ বলা হয়। এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো –
- আনুমানিক ২৬ লক্ষ থেকে ১৭ লক্ষ বছর আগে এরা ছিল।
- এরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করত।
- ফলমূলের পাশাপাশি সম্ভবত কাঁচা মাংস খেত।
- পাথরকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত।
- একটি পাথর দিয়ে অন্য পাথরে আঘাত করে হাতিয়ার তৈরি করতে পারত।
৩) হোমো ইরেকটাসের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো
উত্তর: হোমো ইরেকটাসকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারা মানুষ বলা হয়। এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো –
- আনুমানিক ২০ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার বছর আগে এরা ছিল।
- এরা দু-পায়ে ভর করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারত।
- দলবদ্ধভাবে গুহায় বসবাস করত।
- শিকার করতে পারত এবং আগুনের ব্যবহার জানত।
- পাথরের বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার তৈরি করত।
৪) হোমো স্যাপিয়েন্সের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো
উত্তর: হোমো স্যাপিয়েন্সকে বুদ্ধিমান মানুষ বলা হয়। এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো –
- এরা আনুমানিক ২ লক্ষ ৩০ হাজার বছর আগে আবির্ভূত হয়েছিল।
- দলবদ্ধভাবে বড় পশু শিকার করত।
- বিভিন্ন কাজে আগুন ব্যবহার করত।
- পশুর মাংস আগুনে পুড়িয়ে খেত।
- পশুর চামড়া ব্যবহার করত।
- ছোট, তীক্ষ্ণ ও ধারালো পাথরের অস্ত্র তৈরি করতে পারত।
- বর্শার মতো পাথরের অস্ত্রও তৈরি করত।
৫) পুরোনো পাথরের যুগের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো
উত্তর: পুরোনো পাথরের যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো –
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০ লক্ষ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০ হাজার বছর পর্যন্ত এই যুগের বিস্তার ছিল।
- এই যুগের হাতিয়ার সাধারণত বড়, ভারী ও এবড়োখেবড়ো ছিল।
- মানুষ শিকার এবং বন থেকে ফলমূল সংগ্রহ করে জীবনধারণ করত।
- মানুষ গুহায় অথবা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করত।
- খাদ্য সংগ্রহের ওপর তাদের জীবন অনেকটাই নির্ভরশীল ছিল।
৬) মাঝের পাথরের যুগের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো
উত্তর: মাঝের পাথরের যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো –
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১০ হাজার থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৮ হাজার বছর পর্যন্ত এই যুগের বিস্তার ছিল।
- এই সময়ের হাতিয়ার তুলনামূলক ছোট, হালকা ও ধারালো ছিল।
- শিকার ও ফলমূল সংগ্রহের পাশাপাশি পশুপালনের সূচনা হয়।
- মানুষ ধীরে ধীরে ছোট ছোট বসতি তৈরি করতে শুরু করে।
- আগুনের ব্যবহারও এই সময় মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
৭) নতুন পাথরের যুগের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো
উত্তর: নতুন পাথরের যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো –
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৮ হাজার থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৪ হাজার বছর পর্যন্ত এই যুগের বিস্তার ছিল।
- এই যুগে তুলনামূলক হালকা ও ধারালো হাতিয়ার তৈরি করা হতো।
- পশুপালনের পাশাপাশি কৃষিকাজ শুরু হয়।
- মাটির পাত্র তৈরি করার প্রচলন হয়।
- মানুষ যাযাবর জীবন ছেড়ে স্থায়ী বসতি গড়ে তুলতে শুরু করে।
৮) আগুনের ব্যবহারের ফলে মানুষের জীবনে কী কী পরিবর্তন দেখা যায়?
উত্তর: আগুন আবিষ্কারের পর মানুষের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে।
- আগুন মানুষকে প্রচণ্ড শীত থেকে রক্ষা করত।
- বন্যজন্তুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য আগুন ব্যবহার করা হতো।
- মানুষ কাঁচা খাবারের পরিবর্তে আগুনে ঝলসানো খাবার খেতে শুরু করে।
- খাবার নরম হওয়ায় তা খাওয়া সহজ হয়।
- দীর্ঘ সময় ধরে আগুনের ব্যবহার মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনে।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এক নজরে
- প্রথম হাতিয়ার: ভোঁতা পাথর
- প্রথম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার: আগুন
- প্রথমে খাদ্য: কাঁচা মাংস ও ফলমূল
- পাথরের যুগ: পুরোনো, মাঝের ও নতুন পাথরের যুগ
- প্রথম পাথরের অস্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত: হোমো হাবিলিস
- আগুনের ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত: হোমো ইরেকটাস
- বুদ্ধিমান মানুষ: হোমো স্যাপিয়েন্স
- লুসি: অস্ট্রালোপিথেকাসের কঙ্কাল
- ভীমবেটকা: প্রাচীন গুহাবসতির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন
- নতুন পাথরের যুগ: কৃষিকাজ, পশুপালন ও স্থায়ী বসতির বিকাশ
উপসংহার
Class 6 History Chapter 2 Question Answer পড়লে ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা তৈরি হবে। পাথরের হাতিয়ার থেকে শুরু করে আগুনের ব্যবহার, শিকার, পশুপালন, কৃষিকাজ এবং স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার মাধ্যমে মানুষের জীবন কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, এই অধ্যায়ে তারই ধারাবাহিক আলোচনা রয়েছে।
পরীক্ষার আগে এই প্রশ্নোত্তরগুলি ভালোভাবে পড়ার পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের মূল অংশও অবশ্যই পড়ে নেবে।